বৃহস্পতিবার, ২৮ আগস্ট, ২০১৪

‍নি:সঙ্গতার অবসান


চাদনী রাত
পরিপূর্ণ জোছনা
আমি আর তুমি
বসে আছি
নির্জন নদীর তীরে ।
অদূরে কাশফুল
যেন সাদা বসনে 
প্রেমের দেবী
দেখতে দেখতে
মাথা রাখ
আমার কোলে তুমি ।
আমি হাত বুলিয়ে দেই
তোমার এলোকেশে
তুমি বাঁকা নয়নে
আমার দিকে তাকিয়ে
কুটি কুটি হেসে ।
আমি গল্প বলি
প্রেমের গল্প
ভালোবাসার গল্প
শুনে রোমাঞ্চিত তুমি ।
নদীর কলকল তান
পাখিদের মিলনের গান
তোমার আমার অন্তরঙ্গতা
নি:সঙ্গতার হলো অবসান ।

বর্ষায় দেবী বরন

আকাশ ছেয়ে মেঘ আর বরষা এলো যে ধরিয়া
এমনি মধুর লগনে এ কোন দেবী এলো মোর ঘরে
ক্ষমা চাহি, নাই যে মোর কিছু- বলি তোমার তরে
কি দিয়া নেব আমি ওগো তোমায় বরিয়া !
এই দেখ দেবী কদম এনেছি, এনেছি ফো‍টে ফুল বরষায় যত
মেঘের কাছে অঝোর বৃষ্টি চেয়েছি, চেয়েছি সারা রাত সে সুর
হৃদয়ে অফুরন্ত ভালোবাসা এনেছি, হারিয়ে যেতে বহুদুর
এসো তবে মোর কাছে- এক হই আমি, তুমি আর বর্ষা - রবে দুরে আর কত ?

গাঁয়ের বালিকা

আঁকা-বাকা মেঠো পথে
লাল শাড়ি পড়িয়া
কে যায় গো হেলেদুলে
হিঁয়ায় নাচন তুলিয়া ।
নুপুর বাজে তার রুন ঝুনঝুন
হৃদয় মোর হলো যে খুন
উদাসী মন মোর পাগল হলো
পেতে কাছে গাঁয়ের সে বালিকা ।
রিনিঝিনি কাঁকনে সুর তার
ছন্দ তোলে হে মনে বারবার
রূপের বাহারে ব্যাকুল হৃদয়
নিতে হবে যে তারে বরিয়া ।
এলোমেলো তার কালোকেশে হায়
বায়ু যে নিত্য দোল খেলে যায়
মন বড় চায় চুলে হাত দিয়ে
আদর করি বসে নিরালায় ।
লাজে ভরা তার হাসিমাখা মুখে
মাদকতাপূর্ণ নেশাভরা চোখে
প্রেমের ভুবনে কেটে যায় রেশ
উদাসী করিল সে আমাকে বেশ ।

কাঙ্ক্ষিত মানবী

অনিন্দ্য সুন্দরী তুমি
কাঙ্ক্ষিত রূপসী
অপরূপা হে তুমি
নন্দিত মানসী ।
উপমাহীনা যৌবনা তুমি
অন্য নারীর হিংসে
তোমার কথার সুর বাজে
শত পুরুষের বংশে ।
মোর কল্পনার মানবী তুমি
পবিত্র প্রেমের মুর্তি
শাশ্বত শতদল তুমি
গাই যে তোমার স্তুতি ।
হে সুন্দরী প্রিয়তমা
স্বপ্নময়ী অবয়ব
কলঙ্কহীন প্রতিকৃতি
কাঙ্ক্ষিত মানবী ।

তখন, এখন, যখন

একাকীত্ব নিয়ে বহু থেকেছি
হতাশায়, বিসন্নতায় অনেক ভুগেছি
রঙিন স্বপ্নগুলো ধুসর হয়ে যেত
বেঁচে থাকতে ইচ্ছে করতো না
তখন তুমি ছিলে না ।
এখন তুমি আছো
তাই ভালো আছি
জীবনও চলছে স্বাভাবিক
মন-প্রাণ তাও স্বাপ্নিক 
সুখের সংঞ্জা খুজে পেয়েছি ।
যখন তুমি থাকবেনা
আমি কি করে থাকব
এ পৃথিবীর 'পরে
উড়ে যাব গোধুলী বেলার ধুলির ন্যায়
কোন এক হৃদয় বিদারক ঝড়ে ।