মানবতাবাদী কবিতা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
মানবতাবাদী কবিতা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

মঙ্গলবার, ২২ জুলাই, ২০২৫

এঞ্জেল মাহরিন ম্যাম

 এঞ্জেল মাহরিন ম্যাম

- সাকিব জামাল

বাংলাদেশের নাইটিঙ্গেল
এঞ্জেল মাহরিন,
আপনার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা
আর আজীবনের ঋণ।

বাঁচাতে গিয়ে ছাত্র-ছাত্রী
নিজেই হলেন লাশ!
মানবতা ও আত্মত্যাগের
এক অম্লান ইতিহাস।

আপনি বাঁচবেন হৃদয়ে হৃদয়ে,
ভাস্বর চিরদিন,
জান্নাতের পাখি হয়ে থাকুন
এঞ্জেল মাহরিন।
-------

শনিবার, ২৭ মার্চ, ২০২১

জলের কোন জাত নাই

 জলের কোন জাত নাই!

- সাকিব জামাল


জলের কোন রঙ নাই। 

               জলের কোন জাত নাই!

জল পিপাসায় কাতর কাউকে- 

               আঘাত করা ধর্মে নাই!



ইতিহাস স্বাক্ষী।

জলকষ্টে যারাই মারতে চেয়েছে মানুষ,

ভালো থাকে নি তারা কখনো পরে!

প্রকৃতির বিচার অলৌকিক,

ঘটে হঠাৎ হঠাৎ করে।        



হও সাবধান!

                গাও মনুষ্যত্বের গান। 

জলের জন্য কেউ কেড়ো না-

                    অন্য কারও প্রাণ।

বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২০

জোতির্ময় ভালোবাসা

 

জোতির্ময় ভালোবাসা

- সাকিব জামাল

এসো, ভালোবাসো। আমি প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি-
আমরা প্রবেশ করবো এক 'জোতির্ময়' গুহায়!
যেখানে দেয়ালে দেয়ালে ফুল হয়ে ফোটে-
আসমানী তারার দল। শুদ্ধতার আলো ছড়ায়।


তুমি কি জানো? জাগতিক কামনার জলে-
ভেসে ভেসে আসা অন্ধকার,
হৃদয়ের উপরে জমে অদৃশ্য করে দেয় প্রেম!
নদীর মতো নাব্যতা হারায় মনের গভীরতা।
স্রোতহীন হয়ে পড়ে জনকল্যাণচিন্তা।
মানুষ তখন, পৃথিবীর সহচর প্রাণীদের থেকে অভিন্ন!
ভুলে যায় আত্মপরিচয়।
এমন ভয় আমার, আমাকে নিয়ে হয়।
এমন ভয় আমার, তোমাকে নিয়েও হয়!


এসো, দূর করি ভয়। ঐশ্বরিক প্রেমে, জোতির্ময় ছোঁয়ায়!


মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২০

হরিজন পল্লীগীতি!

 

হরিজন পল্লীগীতি!

সাকিব জামাল

গতকাল রাতে, আমি আকাশে ভেসে বেড়েছি কিছুক্ষণ
আনন্দ শেষে, ক্লান্তি নামে, মেঘ করে মনে-
আমি গলে গলে ক্ষয়ে পরি!
রাস্তায় জ্বলছিলো সরকারি ল্যামপোস্ট,
সে আলোয় নিজেকে দেখি- বৃষ্টির ফোটা, পৃষ্ঠটানে বৃত্তবন্দি-
গোলাকার, স্বরূপ পরিবর্তনের চেস্টা যেখানে দুঃসাধ্য!
চিকচিক রোশনাই ছিলো স্বল্পস্থায়ী স্বপ্নের মতো!
তারপর, আরো আরো নিম্নমুখী অভিকর্ষজ বলে-
আমাকে ফেলে দেয় পথের ধুলোয়,
পদদলিত হতে থাকি অবিরত!
অদূরে হরিজন পল্লী। ভেসে আসে আজন্ম দুঃখের সুর।
আমি শুনি সে গান, আর কেউ শোনে কিনা জানি না!

বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২০

বাজাও অষ্টমীর বাঁশি

 

বাজাও অষ্টমীর বাঁশি

- সাকিব জামাল

দুর্বার আঁধার ফের এসেছে পৃথিবীর বুকে,
থামাতে পারছে না কেউ!
দিন দিন মানুষেরা হারিয়ে ফেলেছে বোধ।
মানবিক আচরণ বিলুপ্তির পথে।
ত্রাসের আঁধারে গ্রাস হয়ে যাচ্ছে সব।
যেন কুরুক্ষেত্র সর্বত্র, চলছে যুদ্ধ।
দুঃসময়ে মানবতা।
লঙ্ঘিত মানবাধিকার।


কে হবে ত্রাতা এই সময়ে,
কে হবে আঁধার তাড়ানোর অবতার?
অসুর বধ করে, রক্ষা করতে হবে মনভূমি।
শান্তির সুর চাই। চাই পবিত্র হোক পৃথিবী।


রাধা-কৃষ্ণের উত্তরসূরি সকল,
দ্রুত এসো, চলছে অষ্টমীর তিথি...
জ্বালাও আলোর বীথি। বাজাও বাঁশি কৃষ্ণের।
অষ্টমীর বাঁশির সুরে- আঁধার কেটে যাক ফের।।


মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২০

লজ্জাসাম্য

লজ্জাসাম্য

- সাকিব জামাল

বাহারি ফুলবাগানে ভ্রমণকাহিনীর মুখরোচক গল্পে-
দেখেই 'তেঁতুল' লোভে জিভে আসতে নেই জল!
আত্মনিয়ন্ত্রণে পুরুষ, মহাপুরুষ।
'লজ্জা' বিশেষ্যে লিঙ্গান্তরে
একতরফা নারীর উপরে চাপিয়ে দেবার চেষ্টা-
নির্ঘাত ভুল। অসম আচরণ।
সাম্যের গানে- লজ্জাবতীরা মাথা উঁচু করে বাঁচুক,
যখন তখন ছুঁয়ে তাকে চুপসে দিতে নেই!
পরিশীলিত চিন্তায় 'লজ্জা' ভ্রমরেরও থাকুক।


শুধু ফুলের নয়,
ভ্রমরের অভিধানেও লজ্জা থাকে, থাকতে হয়।


রবিবার, ৩১ মে, ২০২০

আসুক সুকান্ত সময়!

আসুক সুকান্ত সময়!

- সাকিব জামাল

তামাম দুনিয়ায় প্রান্তরে প্রান্তরে জনচিত্রে
মুহুর্মুহু মানবতার বার্তা বেজে উঠুক, ছড়িয়ে পড়ুক  
আঠারো বছর বয়সের দুর্বার গতিতে...
ফিরে ফিরে আসুক সবার উদ্দীপ্ত নিউরনে
বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ার তাড়া।
অবাক পৃথিবী তাকিয়ে দেখুক,
'মানবতার কল্যাণে নিবেদিত সাম্যবাদী সমাজ'
যেমন সময়চিত্র খুঁজেছেন আমৃত্যু আমার কবি সুকান্ত!


আসুক সুকান্ত সময় পৃথিবীর বুকে, অবারিত মানবপ্রেমে।


---
উৎসর্গঃ কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যকে।

বৃহস্পতিবার, ৭ মে, ২০২০

করোনাযুদ্ধ এবং পূর্বপুরুষদের কথা

করোনাযুদ্ধ এবং পূর্বপুরুষদের কথা

তোমার পূর্বপুরুষদের কথা ভাবো-
দুঃখ কমে আসবে, পাবে সংগ্রামী শক্তি ।
বেশিদিন আগের কথা না!
তোমার পূর্বপুরুষ প্লেগ মোকাবিলা করেছে ।
তোমার পূর্বপুরুষ বসন্ত মোকাবিলা করেছে ।
মোকাবিলা করেছে কলেরা, যক্ষ্মা ।
মোকাবিলা করেছে শত শত ভয়ঙ্কর ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়াসহ কতো কতো জীবাণু!
তুমি সাহস রাখো মনে তোমার পূর্ব পুরুষদের মতো ।
অবশ্য তাদেরও কিছু কিছু স্বপ্ন ভেঙেছে, কিছু কিছু প্রিয়জন হারিয়েছে!
কিন্তু থেমে যায়নি পথচলা...
সভ্যতা ধ্বংস হতে দেয়নি তারা!


মন বলে, চলমান এ করোনাযুদ্ধে-
তুমিও জিতবে তোমার পূর্বপুরুষদের মতো ।

বৃহস্পতিবার, ৩০ জানুয়ারি, ২০২০

সরস্বতী, জাগ্রত করো 'সুবোধ' এখনই!

সরস্বতী, জাগ্রত করো 'সুবোধ' এখনই!


হে শ্বেতপদ্মবসনা, দেবী সরস্বতী, শুভ্র রাজহংস বাহনে চড়ে-
এসো, শুভ লগনে- এসো, এসো প্রতি বাঙলির ঘরে ঘরে।
বাণী অর্চনা নাও, অর্ঘ্য-অঞ্জলি নাও, প্রাণখোলা ভালোবাসায়-
কাউকে দিওনা ফিরায়ে, বাঙালি যে আজ- সুবোধ শূণ্য প্রায়!
বোধ শূণ্য বাঙালি বোঝেনা- বুদ্ধি, বিদ্যা, শিল্পকলার মানে!
কেবল, পড়াশুনায় 'আত্মকেন্দ্রিক অর্থিক প্রেম সাধনা' জানে!
চিন্তার এ বাঁক ঘুরিয়ে দাও তুমি- ললিত বাণীর সুমধুর সুরে,
মানব কল্যাণে জ্ঞান প্রয়োগই পুজো, বাকি সব যাক দূরে।
শুভ্রতা খুঁজে পাক সবাই, চলুক- সজ্ঞানে মানবতার জয়ঢাক,
তোমার আশীষে- অন্তর জাগ্রত হোক, 'সুবোধ' জিতে যাক!

সোমবার, ৪ নভেম্বর, ২০১৯

পৃথিবী অথবা প্রিয়তমার জন্য


একদিন, পৃথিবী অথবা প্রিয়তমার জন্য-
একটি স্বতন্ত্র পাণ্ডুলিপির খোঁজে বেড়িয়েছিলাম,
কতকটা পথ হেটে, ক্লান্ত দেহে যখন-
বৃক্ষতলে তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে বসেছিলাম দু'পা ছড়িয়ে,
তখন সূর্য ময়ূখ জাগিয়ে দিলো- বিষণ্ণতায় মগ্ন হলো মন!
হঠাৎ পাখির গান, গাছের ডালে-
উপরে তাকিয়ে দেখি- সাদা কবুতরযুগল। ভালোবাসায় লিপ্ত।
ভাবি, ওদের পৃথিবী কী আনন্দময়!
অজান্তেই তখন, মনের ভিতর সূর্যজ্ঞান সম্বনিতা বলে উঠলো-
"তোমার পৃথিবী অথবা প্রিয়তমার জন্য প্রকৃষ্ট পাণ্ডুলিপি: ভালোবাসার জাগগান।"
দেখো, তোমার পৃথিবীও অনুরূপ আনন্দময়!
--------------
ইংরেজি অনুবাদ
--------------
For the world or For the beloved ones


One day, I am, For the world or for the beloved ones-
Looking for a unique manuscript,
Walking on the ways, when the body feel tired-
Under a tree, I took rest and relaxed two leg,
Then the sun rays woke me up- the mind was engulfed in sadness!
Suddenly I heard the coo of birds, on a branch of the tree-
On the tree – I saw, a white pigeon couple is indulged fully in love.
I pondered about, what a joyful world they have!
Unconsciously, then, in my mind, the provoking mentor uttered a prophetic saying:
"The Manuscript for the world or for the beloved ones: The awaking song of Love."
Then, Feel, like the pigeon couple, your world is also joyful!

সোমবার, ২১ অক্টোবর, ২০১৯

জেগে ওঠো সব মা

মা....
জেগে ওঠো সব মা।
তোমার ছেলে, তোমার মেয়ে-
বিপথে আজ যায় যে চলে!
তুমি কি দেখো না,
তুমি কি বোঝ না?
মা....
জেগে ওঠো সব মা।।

মারামারি, হানাহানি-
চলছে ভীষণ আজ,
মানবতা হারিয়ে সবাই-
নষ্ট করছে সমাজ।।
খুন, ধর্ষণ, রাহাজানি
আজ নিত্য ঘটনা!
জেগে ওঠো সব মা।
মা....
জেগে ওঠো সব মা।।

তোমার ছেলে, তোমার মেয়ে,
তুমি যদি করো ঠিক,
সব পরিবার থাকবে সুখে-
সমাজ চলবে সঠিক।।
সবার জীবনের শিক্ষাগুরু-
তুমিই সে প্রথমা।
জেগে ওঠো সব মা।
মা....
জেগে ওঠো সব মা।।

সময়ের কবিতা

সময়ের কবিতা


হে বিশ্ব মানবতা,
রইল একটি খোলা চিঠি- সময়ের কবিতা!
বেঁচে থাকার জন্য আমাদের আছে কেবল একটাই গ্রহ,
শান্তিপূর্ণ রাখো এটি, রাখো ছন্দময় ছড়ার মতো।
অন্যের প্রতি শত্রুতার ভাব- মুছে ফেল তোমার,
চিন্তা করো, কীভাবে মানবতা- হবে নিশ্চিত সবার।
সবার জন্য- সাম্য এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করো তুমি,
প্রমান করো নিজেকে সর্বশক্তিমানের সেরা জীব। সময় এখনই!

---------------
ইংরেজি অনুবাদ
---------------
Poetry of Time

To all human being of the world,
It is  open letter- Poetry of Time!
We have only one planet to live,
Keep it peaceful with rhythmic rhyme.
Erase your antagonistic feelings towards others,
Above all, think, how to confirm humanity.
Make sure equality and justice to all,
Its now, Proof yourself the best creature of Almighty.

হও শান্তির সৈনিক

আঁধার রাতে চাঁদ আলো ছড়াক...
আঁধার দিনে হাসুক- সূর্য,
সব কন্ঠে বাজুক শান্তির গান...
কোন কন্ঠে নয়- রণতূর্য!
আদিমতাপ্রসূত যুদ্ধের দিন শেষ।
এখনতো মানুষ- মানবিক যুগে করবে প্রবেশ।
               মসজিদের মিনারে ধ্বনিত- "হাইয়া আলাল ফালাহ"
               প্রতিধ্বনিত হোক মূখে-মনে বারবার।
               মন্দিরের ঘন্টা ধ্বনির সাথের বানী- "ওম শান্তি, শান্তি"
               প্রতিধ্বনিত হোক মূখে-মনে বারবার।
               গীর্জার প্রার্থনা বানী- "গড ব্লেস আস অল"
               প্রতিধ্বনিত হোক মূখে-মনে বারবার।
               প্যাগোডার প্রার্থনা বানী- "সব্বে সত্তা সুখিতা ভবন্তু"
               প্রতিধ্বনিত হোক মূখে-মনে বারবার।
সব ধর্মমতেই, সাম্প্রদায়িক সহিংসতা অযৌক্তিক।
হও শান্তির সৈনিক, হও মানবিক।।

বুধবার, ২ অক্টোবর, ২০১৯

প্রসঙ্গ কন্যা শিশু দিবস

একুশ শতক এখন-
এইসময়ে এসেও আলাদাভাবে "কন্যা শিশু দিবস" নেই প্রয়োজন!
সচেতনা বাড়াতে-
শুধুমাত্র "বিশ্ব শিশু দিবস"-ই যথেষ্ট বোধকরি।
লিঙ্গ বৈষম্য কমাতে যেয়ে, কর্মকান্ডকে লিঙ্গান্তর করা-
বৈষম্যের ক্ষেত্র স্থানান্তর করে মাত্র, সমতা আনে না।
ছেলে শিশু বা মেয়ে শিশুর জন্য আলাদা দিন নয়, আলাদা ভাবনা নয়।
সব শিশুই ভালো থাকুক। হোক শিশুদের অধিকারের জয়, হোক সমতার জয়।।

মঙ্গলবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

যেভাবে আমার পৃথিবী সাজে

আমার দীর্ঘশ্বাস যখন মিশিয়ে নিলো বাতাস,
আমার মনের দু:খের কথা আকাশ গেলো জেনে,
জানার পরে, রোদ ঝলমল দিনে, নিয়ম আর না মেনে,
ডেকে বলে,"মেঘবালিকা কই?
বানিয়ে দিলাম তোকে আজ দখিনে বাতাস সই,
আয় ছুটে আয়,
ওর আঙিনায়।"
তাড়াহুড়ো মেঘবালিকার আসতে হয় না দেরি,
আসতে পথে নিয়ে আসে সব বাষ্প করে ফেরি!
ধীরে ধীরে রূপ ধরে নেয় কালো থেকে কালো।
বলে, "আকাশ, এবার তোমার দ্বিতীয় আদেশ বলো।"
আকাশ বলে, "নিজেকে করো ক্ষয়। বৃষ্টির ফোঁটায় দেরি করো না আর।
হোক পৃথিবীর বুকে নতুন করে  সবুজেরই বাহার!
কিছুদিন পরে, ফোটে ফুল, সৌরভ ছড়ায়, অলি করে গান,
নিষেক শেষে বেড়ে চলে নব নব প্রাণ।
জাগগানে কোরাস চলে ভালোবাসার সূচনায়।
আমার মনের দু:খ তখন নিমিষে উবে যায়।

এভাবেই মজলুমের দীর্ঘশ্বাস থেকে পৃথিবী সাজে।।

বৃহস্পতিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

রক্তকলম

কালো রঙের কালিতে- ফোটে না স্বাধীনতার ফুল!
এই কলমে কাশ্মীর নিয়ে কবিতা লেখা বেমানান,
কাশ্মীর নিয়ে তাই কি কবিতা লিখবো? কলম বলে-
ওখানকার জনগন- প্রতিদিন রক্ত দিয়ে লিখে যাচ্ছে কতো শত কবিতা,
সে কবিতামালা বোঝার ক্ষমতা আমাদের হোক!
যুগ যুগান্তর ধরে সেখানে জন্ম নিচ্ছে কবিতা- সন্তানহারা মায়ের,
যুগ যুগান্তর ধরে সেখানে জন্ম নিচ্ছে কবিতা- স্বামীহারা বিধবার।
যুগ যুগান্তর ধরে সেখানে জন্ম নিচ্ছে কবিতা- মাহারা সন্তানের,
যুগ যুগান্তর ধরে সেখানে জন্ম নিচ্ছে কবিতা- সন্তানহারা বাবার।
এমন অসংখ্য কবিতা সেথায় রক্তকলমে লেখা-
'হরি সিং শাসনামল' থেকে আজ পর্যন্ত এমন চিত্রই আমাদের দেখা।
স্বাধীনতার পক্ষের রক্তকলমে সৃষ্টি হয়- উত্তম কবিতা।
স্বাধীনতা বিরোধী পক্ষের রক্তকলমে সৃষ্টি হয়- নিকৃষ্ট কবিতা।
প্রার্থনা, কাশ্মীরে রক্তকলমে- উত্তম কবিতার জন্ম হোক।
আর সেসব কবিতা সহজে বোঝার ক্ষমতা আমাদের সকলেরই হোক!

মঙ্গলবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

আমাজনে পোড়ে মানবের সুখ!

আমাজন জ্বলে- 
                  জ্বলে পৃথিবীর বুক!
জেনে রেখো মানব, 
এই আগুনেই যাচ্ছে পুড়ে- 
                তোমার আগামীর বহু সুখ!
সবুজই পৃথিবীর প্রাণ, 
        অক্সিজেন-কার্বন ডাই অক্সাইডের- নিরন্তর সাম্যতায়:
        চলে সবুজ ফুসফুসেই অবিরত ধারায়- 
মানবের বেঁচে থাকার গান।
সবুজই পৃথিবীর প্রাণ।। সবুজই পৃথিবীর প্রাণ।।
সে ফুসফুস যদি পোড়ে আগুনে- 
                                    হবে নিশ্চিত ক্যান্সার! 
তুমি বাঁচবে না, বাঁচবে না পৃথিবী-
               চলমান সভ্যতা হবে ধ্বংসস্তুপের সম্ভার!

কবিতার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র!

যুগ যুগ ধরে, সভ্যতার শুরু থেকেই-
বারবার কবিতাকে মেরে ফেলার ষড়যন্ত্র করে দুর্বৃত্তরা!
কথাটি আশ্চর্যজনক নয়! ষড়যন্ত্র তত্ত্বও নয়! সত‌্যিকার ষড়যন্ত্রই হয়!
পরিসরের ওপর ভিত্তি করে বার্কুনের শ্রেণীবিন্যাসের-
ঘটনাকেন্দ্রিক ষড়যন্ত্র, সাংগঠনিক ষড়যন্ত্র, তীব্র ষড়যন্ত্র- সবই হয়!
যারা নিজের ভাষায় মানবতার কল্যাণে কথা বলে তারা- সবাই কবি। 
এবং তাদের কর্মই কবিতা- উপস্থাপনের ধরণ যেমনই হোক। 
এদের উপর আঘাত আসেনি কবে?
তবে সব ষড়যন্ত্রই ব্যর্থ হয়, হবে...

আজ হোক অথবা কাল হোক-
মজলুমের কন্ঠস্বরের ধ্বনি- প্রতিধ্বনিত হবেই!
কবিতা বেঁচে থাকবে অনন্তকাল।

বুধবার, ১৪ আগস্ট, ২০১৯

মানবতার কোন সীমানা নেই!

কাশ্মীর কেন? ফিলিস্তিন কেন? রাখাইন কেন? কোথাও-
"মানবতার কোন সীমানা নেই।"
পৃথিবীর বুকের সীমানাগুলো রাজনৈতিক মাত্র!
মানবাধিকারের বিচারে- 
                              নেই স্থান-কাল-পাত্র।
শুধু তাই নয়- প্রাণীদেরও অধিকার আছে, 
                 -প্রকৃতিরও অধিকার আছে,  
                              -অধিকার আছে সবার বেঁচে থাকার। 
কে তুমি? 
             কি তোমার প্রয়োজন? 
                                      -কেড়ে নেবার এসব অধিকার?
কে তুমি?  মরনঘাতি কোন জীবানু? 
                    নাকি অসুরের প্রেতাত্মা?
                                             নাকি ইশ্বর সবার!
না, না, এসব কিছুই না! 
তুমিও মানুষ- আমিও মানুষ, পৃথিবীর সব জনপদের সবাই মানুষ!
তবে কেন- অন্যকে বিনা কারনে মৃত্যুর মূখে ঠেলে দেবার চক্রান্ত করো বারবার! 
ক্ষান্ত দাও মানুষের অধিকার হরণের খেলা- বন্ধ করো শুধু নিজ স্বার্থ উদ্ধার!

শোন হে রাজনীতিবিদ, চরমপন্থী, ধর্মান্ধ, উগ্র জাতীয়তাবাদের ধারক-
অন্যের অধিকার হরণ করো যদি- তবে তুমি মানবতার ঘাতক, নিকৃষ্ঠ মনের বাহক।
ভালোবাসা না থাকলে ওটা মন না, মন না থাকলে সে মানুষ না!
বিশ্বের বুকে যারা তোমরা নিজেদের মানুষ বলে দাবী করো-
সবার মূখেই- একই আওয়াজ হোকঃ
         "মানবতার কোন সীমানা নেই" 
                  -মানবতার জয় হোক।

তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলছে...

তোমরা বুঝছো নাকি বুঝছো না- অঁচিরেই বাজছে বিশ্বের বারোটা!
তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলছে, দিন দিন বাড়ছে তার ঘনঘটা!
প্রথম বা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মত নয় তার রূপ,
অর্থনৈতিক বৈষম্য বাড়ানোই এই যুদ্ধের স্বরূপ।
অন্যের সম্পদ কুক্ষিগত করে নিজের আয়ত্বে নেয়াই এই যুদ্ধের লক্ষ্য-
প্রভাবশালী দেশ, প্রভাবশালী ব্যক্তি- এই যুদ্ধে আমজনতার প্রতিপক্ষ!
যুদ্ধ চলমান...যুদ্ধে বিজয়ী হতে মরিয়া মোড়ল দেশগুলো সব-
যে করেই হোক, বিশ্ব অর্থনীতির চাবিকাঠী হাতে রাখতেই হবে- সবার একই রব।
ছল-চাতুরি করে তারা আমজনতার চোখে দিচ্ছে ধুলো নিয়ত-
এই যুদ্ধের রূপ যাতে বুঝতে না পারে- থাকে যেন চোখ বন্ধ, কানে ভরা তুলো, না জাগে যেন সময় গড়াক যত!

চোখ কান খোলো, জাগো, আওয়াজ তোলো, জানান দাও তোমার অধিকারের বারতা- 
এটিই এইসময়ের যুদ্ধবিরোধী কবিতা!
--------------
উৎসর্গ: আমার বন্ধু এস কে ওমর ফারুক'কে ।