বৃহস্পতিবার, ১৮ জানুয়ারি, ২০১৮

ভাবোরে মন ভাবো নিরালে

ভাবোরে মন ভাবো নিরালে
বসে এই জগৎ সংসারে,
ডানের পাল্লা - বামের পাল্লা
নিক্তি নাঁচে কোন ভারে ।।


ডানের পাল্লা হলে ভারী
চির সুখী শেষ বিচারে,
আনন্দে কাটবে পরজনম
সফল বলি তোমারে ।।


বামের পাল্লা হলে ভারী
জীবন দু:খে ভরারে,
ব্যর্থ তোমার মানব জনম
বিফল জগতে আসারে ।।


সময় থাকতে ওরে মানব
সঠিক পথে তোরে নামারে,
কর্মগুণে এই জীবনের মানে
বাকী সব হবে ঝুটারে  ।।

ভ্রমে ভ্রমন : হয়না সাধন

মনের মানুষ মনেই রইল,
রঙের চোখ দেখলো না !
খুজে খুজে হয়রান হইল,
অন্তরপানে চাইল না !


অান্ধার রাইতে সূর্য খোজে
কেন এই ভ্রমে ভ্রমন,
দিনের ঘুমে চাইয়া দেখে
চান্দে লাগছে গ্রহণ !
ভ্রমে, ভ্রমে জীবন সারা-
আসল পথ চিনল না ।।


মরুর দেশে জল খোজে
বৃথা ঘোরে মন পবন,
সাগর কুলে খেজুর তলে
ছায়া করে অন্বেষণ !
এমন করে জনম গেলো-
সাধের চাওয়া মিটল না ।।


অলীক কান্ধে বাস্তব লুকায়
সত্য ঢাকে মিথ্যা বাজন,
জলের মৎস ডাঙায় উজায়
ভদ্দর লোক করে পলায়ন !
ধরায় পেতে এমন আসন-
কোনই সাধন হইল না ।।

কী চমৎকার দেখা গেলো

ইংরেজি নববর্ষের উৎসব করে মাতাল বাঙালি !
বাজিয়ে হিন্দি গান - বুঝলামনা এ কোন মিতালী !


হিজাব পরে নাচে নারী হল রুম দিলো কাপিয়ে !
পটকা ফাটিয়ে মাহল্লায় তরুন বেড়ালো দাপিয়ে !


নানা ঢংঙে, রঙে বেহাল মানুষ কথা বলে অসংলগ্ন !
কেউ কেউ আবার বুলি ছাড়ে বৈশ্বিক তালে তাল মিলানোর জন্য !


অপসংস্কৃতির বেসুরে বাজলো অনেকের বারোটা !
কায়মনে বাঙালি ছাড়া কেউ বোঝেনা এর জ্বালাটা !


কবিতায় আর কি বলবো-  বলি, কী চমৎকার দেখা গেলো !
হুজুগে বাঙালি আমরা আবার একবার প্রমাণ হলো!

এই কাঁচা মাটির ঘর

এই কাঁচা মাটির ঘর,
জানি, হইবে একদিন পর,
কি কামাইলা ভাবোরে মন
বইসা এ দুনিয়ার উপর ।।


কতক্ষন আর এই বাহাদুরি,
উড়াইবে মন রঙিন ঘুড়ি,
নিইভা গেলে চোখের আলো-
হইব আন্ধার বসত ঘর ।।


হায়রে নিশ্বাসে বিশ্বাস কতো
ভবে সুখ দুঃখর সময় তত
দম ফুরাইলে এই জীবনে
কোন কুল হইব তোর ।।


বসত কইরা মাটির ঘরে
সাজাও জনম পুণ্য করে
যতন কইরা রতন মিলাও
বানাও সাদা রূপ অন্তর ।।

সে তুমি, কেবলই তুমি

আমার আকাশে সব দিগঙ্গনার একইরূপ প্রতিমা- সে তুমি, কেবলই তুমি!
এই চোখ দুটো, ঐ নীল চোখ যুগলে নিয়ত খোঁজে ভালোবাসার প্রিয় স্বপ্নভুমি ।


দৈবিক-জৈবিক, স্থায়ী-অস্থায়ী এমন কতো সব তরঙ্গমালার দোলাচাল - সেসব ভাবিনা!
তোমার যা ইচ্ছে তাই! আমি চাই শুধু একবার ঠাই! বাকিটা? পরখ করেই দেখোনা!


আত্মবিশ্বাসের পারদ তুঙ্গে আমার!
নাও যত খুশি পরীক্ষা, আছে নেবার!


এই গোটা হৃদয়ের পুরোটাজুড়ে- সে তুমি, কেবলই তুমি!
আমার বিশ্বাসের সবটাই আস্তায় ভরা- পাব তোমার উপহার- তুমি!


সে তুমি!
কেবলই তুমি!


কল্পনার রঙ তুলিতে আঁকা যে তুমি,
বাস্তবতার ভাবনায়ও সে তুমি, কেবলই তুমি ।


ভাবি, তোমার-আমার যুগল হবার জন্যেই - এ জনম দেয়া বিধাতার ।
আছে সাধ্য কার? - এই চেতনায় আমার চিড় ধরাবার ।


বিপদগ্রস্থ আবাস চাইনা হোক দুজনার,
কোন কারনেই না, হোক দুই গোলার্ধ- বিরহী বাসিন্দার!


অধিকার অথবা নাই অধিকার!
তোমার এবং আমার-
সমান সমান,
ভালোবাসার কিংবা ভালো না বাসার!
মেনে নিয়েই বলছি -
আমার আকাশের সব দিগন্তের পবিত্র প্রতিমা-
সে তুমি, কেবলই তুমি ।