বৃহস্পতিবার, ২৬ জুলাই, ২০১৮

সপ্তঢঙে চুমু তোমায়

এখন সময় কেবলই তোমার-আমার,
সপ্তঢঙে চুমু তোমায় প্রেমের উপহার !
সপ্তরঙে সাজানো, সপ্তসুরে বাজানো-
দু:সময় তাড়ানো- যুগল ভালোবাসার ।

                     (এক)
সা রে গা মা পা দা নি ভায়োলিনে বাজুক,
দেয়াল ঘিষে দাড়াও - ঠোটে-ঠোট সাজুক ।
                       (দুই)
থেমে যাক হঠাৎ বেসুরে ঝগড়ায়- শব্দ দূষণ,
তাল ফেরাতে তোমার কপালে সিক্ত নিবেদন!
                       (তিন)
নিস্তব্দ সময়ে তুমি, আমি নির্জনতায়-
এসময়ে একই উপহার বরাদ্ধ ঠোটের পাতায়!
                       (চার)
চকলেট-আইসক্রিম না দিয়ে ভাগ পারবেনা খেতে-
মনে রেখ, সেই সময়ে দু যুগল ঠোট ওঠবে মেতে!
                      (পাঁচ)
কোন কারণে তোমার কান্নার জল সইতে পারবো না-
কথা থাকলো, মুছে দিবো হাত দিয়ে, ঠোটে থামবো না!
                       (ছয়)
হঠাৎ হঠাৎ নানা ছলে সুযোগ করে বের -
রাখবো ইচ্ছেমতো তোমায় ঠোটে ধরে পুন:পুন ফের !
                       (সাত)
সর্বাঙ্গে চুমুর খেলা রঙেঢঙে চলবে জীবনভর-
চলবে সময়, চলবে তোমার-আমার স্পর্শকাতর আদর!!!

পুনশ্চ : এখন সময় কেবলই তোমার-আমার,
সপ্তঢঙে চুমু তোমায় প্রেমের উপহার ।।

আমি বহিরাগত নই

তোমার বুকে আমি বহিরাগত নই-
সময়ের প্রয়োজনে বাহিরে আগত মাত্র!
সুযোগ পেলেই তোমার জমিনে ফিরে আসবো-
এ আমার অধিকার ।

সাত সমুদ্র পাড়ি দেবার মত কঠিন প্রতিযোগিতায়-
যোগ্যতাবলে স্থান করে নিয়েছিলাম ভালোবাসার চত্ত্বরে!
তারপর ভালোবাসাবাসি দীর্ঘসময় ।
সুখ-দু:খের মেলবন্ধনে তোমাকে দিয়েছি ঠাই চিরদিনের জন্য এই অন্তরে ।
আজ অস্বীকার করতে চাও- ভালোবাসার সে ক্ষণ?
এ অবিচার প্রেমের জগতে - কিভাবে করবো গ্রহণ?

তোমাকে ভুলে থাকা সম্ভব নয়! সম্ভব কি করে আমাকে- ভুলে থাকা তোমার?
সত্যিকার ভালোবাসায় প্রাক্তন বলে কিছু নাই! সুযোগ নেই আমাকে বহিরাগত বলার!

অবশেষে বাষ্প মেঘ জল

অবশেষে বাষ্পমেঘজল - তোর পৃথিবী ভ্রমণ,
সে অপেক্ষায় চাতক মন- ছিলো, ছিলো দীর্ঘক্ষণ ।
তোর ভেজা দেহের মাটির ঘ্রাণে সময় ডুবে থাক-
চলুক - চাষবাস, বপন-রোপন, ফসল উৎপাদন - ভুলে রাখঢাক!
সিক্ত দেহের মিত্র হোক মন!
কোন বিরাম ঘড়ির আজ নেই প্রয়োজন!

ইতিহাস শোন্ -
তোর প্রতিক্ষায় আমার দীর্ঘশ্বাস যন্ত্রণার আগুনে পুড়ে বাষ্প হয়েছিলো !
তোর প্রতিক্ষায় আমার ক্লান্ত মন বাষ্প শীতল করে মেঘ করেছিলো !
তোর প্রতিক্ষায় আমার অশ্রুসজল চোখ মেঘের সাথে বিনিময় করে জল তাকে দিয়েছিলো!
অবশেষে বাষ্পমেঘজল - তোর পৃথিবী ভ্রমণ!
কোন বিরাম ঘড়ির আজ নেই প্রয়োজন!

সিক্ত দেহের মিত্র হোক মন!
বাঁচুক- তোর বুকে ভালোবাসার ফুল ফোটানোর সবুজ বনায়ন ।।

আইজ কন্যা পাগল করছে লো

কন্যা খোঁপায় ফুল দেছে লো,
কন্যা কানে দুল দেছে লো,
কন্যা পায়ে নুপুর পড়ছে লো,
আহা.... দেখে ভারি সুন্দর লাগছে লো-
আইজ কন্যা পাগল করছে লো ।।


কন্যার চোখে লাজ ভরা গো-
ক্যামন ক্যামন কইরা চায়,
গালে টোলের ভাজ পড়া গো-
মনে বড় দাগ কাইটা যায় ।
ঠোটে বুঝি তার গোলাপ ফুটছে লো ।।
আহা....দেখে ভারি সুন্দর লাগছে লো-
আইজ কন্যা পাগল করছে লো ।।


হলদে রাংঙা কোমল দেহ গো-
লাল শাড়ি দেছে তাহার গায়,
তার রূপে জ্বলা আগুন দেইখা গো-
আইজ এই পরান পুইড়া যায় ।।
মন কয় ওরে লইয়া ঘর কইরবো লো-
আহা....দেখে ভারি সুন্দর লাগছে লো-
আইজ কন্যা পাগল করছে লো ।।

বোকা প্রেমিক

বোকা প্রেমিক

সাকিব জামাল

বিভ্রান্তিকর মাংসাশী নৃত্যে বেকুব ভ্রমর ভেবেছিলো,
ফুলের পাপড়ি যুগলে অনায়াসে প্রবেশ করবে তার জিভ-
পাবে ঠোটে ঠোটে ছোঁয়া!
বোকা প্রেমিক জানে না- মোড়কে অন্ধকার বিষ,
জানে না, দুই বৈদ্যুতিক তারের মাঝ পথ দিয়ে পাড়ি দেবার বাসনায়-
কতো বাদুড় মৃত্যুমুখী হয় ।

জানে না বোকা প্রেমিক, নগ্নতায়: নাগিনীর বাস!
সদা দৃশ্যমান নাভীশৃঙ্গ: মৃত্যুকুপ!
উজ্বলরূপ আগ্নেয়গিরি ত্বক: দৃষ্টি হরণকারী!

নীতিহীনতা সর্বত্র- ফুলেল পৃথিবী এখন নগ্নালয়!
লোভাতুর মাছি ভনভন করে । চলে- বাজারিদের পুজি-রুজির পাঠ উৎসব ।
বোকা প্রেমিক, জৈবিক প্রেম ক্ষ্যান্ত দাও! ক্ষ্যান্ত দাও বৈষয়িক পুজির লোভ!

করো জঙ্গলে জঙ্গলে সুশীল পাখি হয়ে 'মানবিক' কলরব ।