মঙ্গলবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯

যার কাছে যা আছে- তা ই সুন্দর!

হাটছিলো পথিক,
ভাবনাভরা মাথায়, ভাবলো ধরে সময় ক্ষণিক-
নারকেল গাছ: চিকন, লম্বা অথচ কতো বড় ফল, কতো বড় বড় নারকেল, ডাব!
অসুন্দর বোধহয়! এমন গাছে- এমন ছাঁপ!
ক্লান্ত পথিক,
চোখে দেখে বটবৃক্ষ । এতক্ষণে কন্ঠ রুক্ষ, বিশ্রাম দরকার ।
বটের ছাঁয়ায় বসে মায়ায়- ভাবে, কতো বড় গাছ- অথচ কতো ছোট ফল!
অসুন্দর বোধহয়! এ কোন অমিলের ছল!
হঠাৎ বসলো পাখি ডালে কয়েকটি পর পর-
পড়লো বটের ফল পথিকের মাথার উপর।
ভাবে পথিক-
বাঁচলাম আজ । যদি বটে ধরতো ডাব- কি যে হতো হাল?
ভাবে পথিক-
যার কাছে যা আছে- তা ই সুন্দর, তা ই রূপমাময়ী, তা ই 'কামাল' । 
সুন্দর- অসুন্দর: মেলে ডানা পাখির মত পছন্দের প্রিয় এক এক ডাল!

ফুলের ভুলসন্ধি

বিরহ বাসরে, অন্যায় আসরে-
প্রিয়জন করে বন্দি,
বদলে ফেলে প্রজাপতিটা ফের-
ফুল করে ভুলসন্ধি!
বোঝেনা এসব, ফুল বোঝেনা-
বিরহের কি যে বেদনা ।।
কাঁদিয়ে এক মন, অন্য মনে-
সুখ যে পাওয়া যায়না ।।

বিরহ বানে চোখে জল আনে-
প্রেমিক করে হাহাকার,
কতো ফুলে নিয়ত এই ভুলে-
মনে বানায় কারাগার! 
বোঝেনা এসব, ফুল বোঝেনা-
বিরহের কি যে বেদনা ।।
কাঁদিয়ে এক মন, অন্য মনে-
সুখ যে পাওয়া যায়না ।।

এক মন ভেঙে অন্য মনে-
প্রেমের মন্দির হয়না,
পরসন্ধির প্রজাপতিরা-
সত্যের কথন কয়না!
বোঝেনা এসব, ফুল বোঝেনা-
বিরহের কি যে বেদনা ।।
কাঁদিয়ে এক মন, অন্য মনে-
সুখ যে পাওয়া যায়না ।।

বসন্ত এসেছে- কে বলেছে?

বসন্ত এসেছে- কে বলেছে?
ফুল? 
       -সে তো সব ঋতুতেই ফোটে- কোন না কোন গুলবাগে!
পাখি?
      -সে তো সব ঋতুতেই গায়- কোন না কোন সুর-রাগে!
এসবের কিছুই  বসন্ত আনে না- এ মনে।
তুমি না সাজলে, না ভালোবাসলে, না থাকলে পাশে-
                                   বসন্ত কি করে আসে?
তুমি যদি বলো-
                 " ফোটবে তুমি ফুলের মতন,
                   গাইবে গান পাখির মতন,
                   ভালোবাসবে যখন তখন ।"
                  -তবেই বসন্ত এসেছে!
না বললে - বসন্ত না । সুতরাং তুমিই আমার বসন্ত । 
                                    -অনন্তকালের বসন্ত ।

তুমিঃ অধিকার আদায়ে- আমার দ্রোহের গান, কন্ঠে ফোটা রুদ্র পলাশ ।

ভালোবাসার দিনক্ষণ- হুটহাট!

ভালোবাসার দিনক্ষণ- হুটহাট!

শুরু করছি সময় দিয়ে । সময় বহমান । সাথে জীবন বহমান । সাথে বহমান মন । 
মনের সাথে মন মিলে যাবার ক্ষণ সেও বহমান । পরিবর্তন প্রিয় । মনে মন মিলবে কার কখন- কে বলতে পারে? পারেনা!
ভালোবাসার দিনক্ষণ নির্দিষ্ট করাও তাই সাজে না!
ফ্রেব্রুযারি'র চোদ্দ তারিখ-
নানা ইতিহাসের- সেগুলোর সাথে ভালোবাসা আছে । প্রেম আছে । মানবতা আছে ।
এখনকার রোমিও-জুলিয়েটরা কতকটা জানে? জানেনা!
ভালোবাসা মানে- কামনা, বাসনা না!
থাক, থাক, সে সসব কথা! যদি যুগলজনমের প্রেমের কথাও বলো-
ভালোবাসার দিনক্ষণ- হুটহাট! হঠাৎ করে হয়ে যায় অথবা হঠাৎ করে থেমে যায়! 
সময়-নিয়ম এর চিরদিনই বুঝি রয়ে যায় এলোমেলো ।

যাবজ্জীবন বিরহ

যখন বললে- আর সম্ভব না । চালিয়ে নেয়া প্রেম । মানছে না-
পরিবার, আত্মীয়জন । মানছে না এমন কি তোমারও মন!
শুরুতে যেমন চেয়েছিলে-
আমি তেমনই ছিলাম । এলোমেলো । বাউন্ডুলে । গম্ভীরতার গভীরতাহীন!
কবিদের মত তারছেঁড়া- এসব কারনেই ভালো লাগতো তোমার আমাকে ভীষণ!
এখন ভালো লাগছে না !
অভ্যেস পরিবর্তন করতে চাপ প্রয়োগ করছো পরাশক্তির মত ।
ও হবে না- আমাকে দিয়ে । আমি বলেছি- ভবঘুরে হবার বাসনা আমার !
তুমি হেসে দিয়ে বললে- তাহলে আর সম্ভব না !
তুমি নিয়মে বন্দি হয়ে যাচ্ছো দিন দিন-
আর আমি অপ্রিয় হচ্ছি তার প্রতিক্রিয়ায় ।
বললাম আমি- ঠিক আছে । যখন মিল হলোনা, "তাই করো যা বলে তোমার মন" -
এটিই ছিলো ভালোবাসার জীবনে আমার প্রথম দ্রোহের উচ্চারণ ।
বিচারে- তোমার প্রেম-আদালতে বিরহ দন্ডপ্রাপ্ত হলাম আমি ।
এরপর বিদায় দুজনের । চোখের আড়াল । মনের আড়াল । ভিন্নতার দিনকাল ।
প্রকৃতির আচরণ দেখে মনে হয়- তোমার ওখানে বসন্ত এসেছে ।
আর আমি সেই আগের মতই আগের সব অভ্যেসের দাস, বলি-
"কি আর হবে- বসন্ত ফিরে এলে?
আমিতো বন্দি যাবজ্জীবন- বিরহ শীতের জেলে ।"