রবিবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

মেয়ে ঘাসফুল

একটি ঘাসফুল- এক রঙিন প্রজাপতির সাথে দেখা করতেই জনমের শুরু তার এমনটি কখনো ভাবেনি। অনেক কিছু শিখে নিয়েছিল পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র থেকে। জীবনকে স্বাধীনভাবে সাজানোর স্বপ্নে কাটতো দিনরাত।
সময় বয়ে যায়- ঘাসফুলও যৌবন পায়। স্বপ্নরা এতদিনে বেশ বড় হয়ে ওঠে।
সমাজের লোক কানাঘুষো শুরু করে- আইবুড়ি হলো! জাত গেলো, সমাজ বাঁচাও!
সবার চাপে- বিয়ের পিড়ি! ঘাসফুলের স্বপ্ন শরতের কুয়াশা নেকাবে ঢাকে। আর আসেনি বসন্ত কোন দিন।
মেয়ে ঘাসফুল: আগন্তুক পথিকের পদপরশে চলে শেষবেলার প্রস্তুতি।

মনে মেঘ করেছে

মনে মেঘ করেছে-
সমুদ্র সমুদ্র জল ভেসে বেড়ায় চোখের দুই আকাশে,
সে আকাশ ভেঙে হয়তো এখনই নামবে ফোঁটায় ফোঁটা মিলে বহতা নদী-
তবে ক্ষমতা নেই এর হৃদয়মুরুর সাইমুম থামানোর!
বিরহের নিম্মচাপ-
                 ভয়ঙ্কর ভীষণ শূণ্যতা: ঝড় হবেই।
ইট ভাঙা মেশিনের মত- ভেঙে চুড়ে গুরো গুরো করে দেয় জীবনের সুখ!
মনে মেঘ করেছে- ঘন কালো,
একলা জীবনে তাই- সুখ নাই, দুঃখই ভালো, দুঃখই ভালো!
সুখ তোমারই হোক ।

ফিজিক্স অব এক্স

একসময় "স্মৃতি" হয়ে যাবো তোমার!
তবে দু:খ করি না!
জানি, সবকিছুরই শেষ পরিনতি-
কৃষ্ণগহ্বর।
ভালোবাসা যখন ঘটনা দিগন্তে প্রবেশ করে-
আলো আর বিচ্ছুরিত হয় না।
বিরহ বেদনার বহুমাত্রিক আকর্ষণে-
আঁধার হয় বাসঘর।।
একসময় "স্মৃতি" হয়ে যাবো তোমার!

মঙ্গলবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

শাড়ির ভাঁজে ভাঁজে

শাড়ির ভাঁজে ভাঁজে- কি দেখো তুমি?
ঢেউ অথবা পর্বতমালা! পিঠ কতোটুকু ঢাকা অথবা খোলা!
তুমি এও দেখতে পারো- নাভীকুপ: পেশীবহুলতা অথবা টানটান-
দেখতে পারো- কুঁচি পড়া নাকি গ্রাম্য সাজে সাজানো শাড়ি খান!
দেখতে পারো তুমি- ব্লাউজ হাতাকাটা নাকি হাতের কবজি পর্যন্ত-
দেখতে পারো- শাড়ির নিচে ছায়া লুকানো নাকি দুই-তিন আঙ্গুল ছায়া নিচে বিস্তৃত!
তোমার ব্যাপার, এসব দেখে-
হতে পারো তুমি-রুচিশীল ভালোবাসায় বিদগ্ধ অথবা কামোদ্দীপ্ত!
তবে একটু চেস্টা করলেই তুমি দেখতে পারো,শাড়ির ভাঁজে ভাঁজে-
কেমন করে ভালোবাসা সাজে, সাজে মায়া মমতা- সাজে ঐতিহ্য তার মাঝে।
দাদীর শাড়ির ভাঁজে, নানীর শাড়ির ভাঁজে- 
কতো লুকিয়ে রেখেছে তারা তোমার ছেলেবেলার খাবার- চকলেট, বাদাম, বুট, ইত্যাদি।
মায়ের শাড়ির ভাঁজে, আঁচলের নিচে লুকিয়ে-
পেয়েছো তুমি কতো ভালোবাসা, মায়া, নিরাপত্তার সুখ- পথচলার নির্দেশ নিরবধি।
বোনেদের শাড়ির ভাঁজে, খালামনিদের শাড়ির ভাঁজে-
কোমারে লুকানো ছিলো পয়সার থলি- তোমাকে নিয়ে ঘুরতে যেত মেলায়। 
বড়বেলায় প্রিয়তমার শাড়ির ভাজে-
কতো সুখ, কতো দুঃখ লুকিয়ে রেখেছো তুমি- গল্প,কবিতা,গানের ভাষায়!
শাড়ির ভাঁজের এসব কথা তোমায় কি কখনো ভাবায়?

মনে করে দেখো- 
একসময় শাড়ির আঁচলে বাধা চাবিগুচ্ছে নির্ভর করতো পুরো সংসারধর্ম।

বাবা-মেয়ে ছড়ালাপ

মেয়েঃ          আমার বাবা মিস্টি বাবা,
                        আমার বাবা ভালো ।।
বাবাঃ           তুমি আমার সোনামনি,
                      আঁধার রাতের আলো ।।

মেয়েঃ         সুখে দুখে বাবা তুমি,
                            আমার বটের ছায়া ।।
বাবাঃ          তুমি আমার নয়নমনি,
                           আমার মায়ের মায়া ।।