শনিবার, ৯ অক্টোবর, ২০২১

শহুরে সাপ এবং মা

 শহুরে সাপ এবং মা!

- সাকিব জামাল


ছেলেবেলায়, দুষ্টুমি শেষে, মায়ের বকা এড়াতে- 

একদিন ঝোপের আড়ালে লুকিয়েছিলাম।

হঠাৎ, দেখি সাপ! 

'মা' বলে চিৎকার করে- 

আবার ফিরে গিয়েছি মায়ের কোলে। নিশ্চিন্তপুর।



এখন শহুরে আবাস, ঝোপজঙ্গল নেই, সাপ আছে!

অথচ, বড়বেলার দুর্ভাগ্য-

মা গ্রামে। কাছে নেই। চিৎকার করে লাভ নেই!

রোজ সাপের কামড় খেয়ে চলছি...

ক'দিন সইতে পারবো, জানি না। চিন্তিত অন্তরপুর।

মিনিংলেস ড্রিম

 মিনিংলেস ড্রিম

- সাকিব জামাল


শরৎ রাত।

আকাশে টুকরো টুকরো শাদা শাদা বরফে'রা- 

ঘিরে রেখেছে ভীষণ সুন্দরী চাঁদ!

আমি এক একলা পেঙ্গুইন, 

বরফরাজ্যে অপটু প্রেমে।

তবুও ধীরে ধীরে হেঁটে এগোচ্ছি, 

প্রায় কাছাকাছি, হঠাৎ 

চন্দ্রাবতীর তুমুল টানে ওঠে জলোচ্ছাস।

ধপাস!

এরপর...

ভোর। 

রোজ সকালে যেভাবে রাঙা চোখে- 

ঘুম ভাঙে একলা আমার,

আজও তার ব্যতিক্রম হয় নি!



--------

কবিতাটি দৈনিক সমকালের কালের খেয়া এ প্রকাশিত।

তালপিঠা আখ্যান

 তালপিঠা আখ্যান

- সাকিব জামাল


বেয়াইসাব কয়, "বেয়াইন, বেরহম ভাদ্রের গরম, 

তাল কি পাকছে? হইছে নরম?

তালপিঠা খামু রাইতের কালে।" 

"হয়, হয়!" বলে বেয়াইন যখন লজ্জায় লাল, 

বেরসিক ভাবী এসে বলে, 

"দেবর, বাড়ি চল। তাল লইছি দুইটা।

তোর ভাইও খাবে আইজ রাইতে তালপিঠা।"

ভাবী আর দেবর যায় ফিরে, গাঁয়ে। 

ধীরে ধীরে নাও চলে,

বেয়াইনসাব ভাসে চোখের জলে!



-------

কবিতাটি দৈনিক জনতা এর সাহিত্য সাময়িকীতে প্রকাশিত।

শনিবার, ২ অক্টোবর, ২০২১

গ্রাম থেকে ঢাকা এসে দেখি

গ্রাম থেকে ঢাকা এসে দেখি

- সাকিব জামাল


ঢাকা শহরে টাকা ওড়ে, সাথে ওড়ে-

উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, ক্যান্সার।

এখানে এরূপ, ওড়ে বহুরূপ-

শরীর খেকো উপাদান!

ঢাকা শহরে টাকা ওড়ে, সাথে ওড়ে-

ইনসমনিয়া, ডিপ্রেশন, দুঃখ হতাশার।

এখানে এরূপ, ওড়ে বহুরূপ-

মনঃকষ্টের গান!


বহুরূপ লোভের ঢাকা'য়-

দেহ ও মন দুটোই খায় টাকায়!

------------------

ডুবে দ্যাখ

 ডুবে দ্যাখ

- সাকিব জামাল


রাত দুপুর। বৃষ্টি নুপুর টাপুর টুপুর। আকাশে মেঘের বাঁধ। 

তবুও ইচ্ছে হলো, দেখবো, পূর্ণ চাঁদ। 

লালনিয়া, বোঝে চোখের ভাষা। বলে, 

চল, নদীর বাঁকে। দেখবি, কী সুন্দর চাঁদ ওঠে জলে!

তারপর, যখন জোছনায় ডুবে গেলাম, 

বৃষ্টিতে ভিজে গেলাম, 

তখন, ভেসে আসে একতারার মিহি সুর-

ডুবে দ্যাখ দেখি মন...