বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২০

এমন বৈশাখ আসেনি কখনো আর!

এমন বৈশাখ আসেনি কখনো আর!


ঘরে বন্দি জীবনানন্দ! বোধহয় শতাব্দীকালে বাঙালির ঘরে-
এমন বৈশাখ আসেনি কখনো আর!
যে বৈশাখে- বহমান চৈত্রের ঝাঁঝালো রোধে বুকফাটা আর্তনাদ,
তৃষ্ণার্ত 'মানুষ' বাঁচতে খোঁজে চাতকদলের মতো একফোঁটা রহমজল!
কখন আসবে স্নিগ্ধ সে জলফোঁটা, বিশ্বময় মুমূর্ষু মানবতা মুক্তি পাবে। অজানা ।

এমন বৈশাখ আসেনি কখনো আর!
যে বৈশাখে- ইলিশপান্তা ধূসর স্বপ্ন! রঙময় পোশাকের বাহানা নেই!
নেই হৈ-হুল্লোর নাগরদোলায়!
মন খারাপের তরীই কেবল চলছে...
উথাল পাথাল ঢেউ, ডুবে যায় যায় আগামী!
নিভে যায় যায় জীবন নদীতে পথ দেখানো দৃষ্টি প্রদীপ।
সৃষ্টিজগতের রহস্যে আবর্তিত অসহায় মানবের কন্ঠে-
নেই বৈশাখের রঙিন পদাবলি।
আছে কেবলমাত্র বেঁচে থাকার আকুতি!

এমন বৈশাখ আসেনি কখনো আর!
ঘরে বন্দি জীবনানন্দ! স্বপ্ন ফুরোনোর ভয়ে বন্দি মন!
তবুও কবিতায় আশার আলো জ্বালিয়ে বলি,
এ দুঃসময়, এ 'করোনাকাল' শেষ হবে যখন,
রঙিন বৈশাখ আনবো জনে জনে মনে প্রাণে-
ঋতুর শ্রেণীবিন্যাসে সে 'সময়' যাহোক তখন!

ভুল ওয়াজ!

ভুল ওয়াজ!

- সাকিব জামাল

জীবন চলার পথে সতর্কতা করে গ্রহণ এগিয়ে চলা মানে-
মৃত্যুভয়ে পালিয়ে বেড়ানো নয়, বরং বেঁচে থাকার বুদ্ধিমত্তা ।
দুর্যোগে, দুর্দিনে সতর্কতা অবলম্বন করা-
সৃষ্টিকর্তাকে উপেক্ষা করাও নয়!
তবুও প্রায় সব ধর্মের কিছু কিছু ধর্মগুরু
ওয়াজ করে কয়,
''যদি থাকে নসিবে, আপনা আপনি আসিবে!"
মানি, ভাগ্য বলে অবশ্য কিছু আছে,
তবে অসতর্কতার মাশুল- ভাগ্য নয়,
           তাকে 'বোকামি' বলা সাজে!
বুদ্ধিমান প্রাণী হিসেবে মানুষের কথা-
                                  ধর্মগ্রন্থ স্বীকৃত ।
অথচ, নিজেদের অবিবেচক কর্মকাণ্ডের করুণ পরিণতি-
স্রষ্টার উপর চাপিয়ে দেয়া নির্ঘাত 'ভুল ওয়াজ',
                                    যুক্তি বিকৃত ।

মানবজাতির নানামুখী বিপদে 'কুসংস্কার' জিইয়ে রাখার সমস্ত বক্তব্য একার্থে অপরাধ!
মানুষের ক্ষতি করার চেষ্টার শামিল, ডেকে আনা বিশ্বমানবতার জন্য আরও আরও বিপদ!

প্রত্যাশার শিহরণ

প্রত্যাশার শিহরণ

- সাকিব জামাল

জোছনা রাত । একলা আকাশে একলা চাঁদ,
ছোঁয়া অসম্ভব জেনেও আমি উঁচু করি শির
গাছের মতো নীরবে । উপেক্ষা করি সম্ভাব্য
পরাজয়ের কোলাহলপূর্ণ ভ্রুকুটি!
জানি, প্রত্যাশার কম্পাংক যতো উচ্চ হয়
মনে হয় অনুনাদ ততো সমতানে ।
অসম্ভব আশার মাঝেই বেঁচে থাকে জীবনে-
সম্ভাবনার সব অপূর্ব শিহরণ!

বাঁচতে হলে হাসতে হবে!

বাঁচতে হলে হাসতে হবে!


বাঁচতে হলে হাসতে হবে
সময় যেমনই থাক!
সব দুঃখ উড়িয়ে দিয়ে
সুখগুলো বেঁচে যাক।।

হাসির মাঝে মনে সাজে
নানান রঙের ফুল,
সৌরভে তার মিশে থাকে
স্বপ্নরা হয়ে আকুল।
সুখের সাথে চলার পথে
হাসি, জীবনের বাক।।

হাসো তুমি প্রাণভরে আজ
মুখ করো না মলিন,
হৃদয় মাঝে আনন্দ গড়ো
দুঃখ করে বিলীন।
তোমার কাছে হাসির ছলে
বাকি সব হেরে যাক।।

মেঘখন্ড ভেঙে চুরে হবে বৃষ্টি!

মেঘখন্ড ভেঙে চুরে হবে বৃষ্টি!

- সাকিব জামাল

সীমানা অজানা শূন্যে ভেসে চলছে একখণ্ড মেঘ
আঁধার চাপিয়ে দিচ্ছে প্রান্তরে প্রান্তরে পৃথিবীর বুকে
জমিনের উপরে ছুটে চলছে সতর্ক 'সেপিয়েন্স'।
তবু অন্তরে ভয়, আতংক-
ভয়ঙ্কর মেঘখন্ড ঝড়ের তাণ্ডবে কেড়ে নেবে
না-জানি কতো স্বপ্ন, কতো প্রাণ!
কিন্তু জানি, জীবনের জয়গান থামবে না,
কেটে যাবে দুঃখের করোনাকাল,
ঘরবন্দি দশা কেটে যাবে একদিন।
মেঘখন্ড ভেঙে চুরে হবে বৃষ্টি!
পরিশুদ্ধ হবে আগামী পৃথিবী-
সম্মিলিত মানবতার গানে।

মানবিক সামাজিক দূরত্ব!

মানবিক সামাজিক দূরত্ব!

- সাকিব জামাল

পরিস্থিতি সাপেক্ষে আমাদের মাঝে আজ যে সামাজিক দূরত্ব-
তাকে অসামাজিক আচরণ ভেবো না, বন্ধু আমার!
বরং আরো মানবিক! সমাজ বাঁচাতে, মানবতার কল্যাণে-
সাময়িক সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চলছি ।
এ দূরত্ব সাময়িক । কেটে যাবে হয়তো দ্রুত! আবার আমরা কাছে আসবো ।
আবার আমরা আড্ডা দেবো কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে!
কবিতা, গল্প, গান- সবই হবে । হবে ভালোবেসে সীমাহীন হৈহুল্লোর!
কয়েকটি দিন মাত্র এ দূরত্বটুকু মানতেই হবে ।

বন্ধু, তুমিও কিছুদিন আমার মতো চলো....