বৃহস্পতিবার, ১১ এপ্রিল, ২০১৯

আর নয় শোকাহত- এবার জেগে ওঠো

এই আঁধারসময়ে-
অসংখ্য শোককাব্য লেখা হয়ে গেছে বাংলা কবিতায়। 
বাংলা অভিধানের বেদনা, শোক এসব শব্দ,সমার্থক শব্দে- 
কবিতার পুরো দেহ বারবার হয়েছে ক্ষত বিক্ষত ।
আর লিখতে চাই না, আর বলতে চাইনা-
"আমরা শোকাহত"
                   -এবার জেগে ওঠো । 
এবার জেগে ওঠো বিবেক,
অনাকাঙ্খিত মৃত্যুর মিছিল দেখে দেখে,
অসহায় আবেগে- আর নয় শোকাহত!
জাগ্রত জনতার মঞ্চ গড়ে- এবার জেগে ওঠো ।
জেগে ওঠো- ধর্ষকদের বিরুদ্ধে । 
ধর্ষিতার মৃত্যুতে শোককাব্য না লিখে ধর্ষকের বিরুদ্ধে দ্রোহকাব্য লেখো ।
আর একটিও ধর্ষনের ঘটনা ঘটতে দেয়া হবে না- 
কবিতামাতৃক বাংলাদেশের বুকে ।

এই আঁধারসময়ে- এবার জেগে ওঠো- স্ফুলিঙ্গ হোক তোমার চোখ ।

লুকোচুরি

সূর্য আর মেঘ মেতেছে আজ- লুকোচুরি খেলায়,
আমার মনও ভাসছে তেমন তোমার প্রেমের ভেলায়!
ক্ষণিক তোমার দেখা পাই- সূর্যের হাসির মত,
আবার হারিয়ে ফেলি- ঢাকে আকাশ, মেঘে শত শত।
এ কেমন খেলা চলে- রহস্যভরা এই প্রকৃতির বুকে,
প্রেমের আকাশেও মেঘ-সূর্য আসা-যাওয়া থাকে সুখে-দুখে! 
ক্ষণিক প্রেম, ক্ষণিক বিরহ এই বুঝি নিয়ম চিরন্তন,
তোমার আমার ভালোবাসা যেন মেঘ-সূর্য আলিঙ্গন!

রবিবার, ৭ এপ্রিল, ২০১৯

ভালোবাসো- ভয় নাই!

ধরো যুদ্ধ হলো- তুমুল একটা, মানুষে-এলিয়েনে,
কে থাকবে, কে থাকবে না- সে সিদ্ধান্ত না মেনে!
কার দখলে থাকবে পৃথিবী- চলবে কার শাসন?
তোমায় আমি রানী মানি- সেদিনেরও তখন!
শুধু তুমি বলো- ভালোবাসো আমায়, এখন।।
ধরো মহাবিশ্ব জুড়ে যুদ্ধক্ষেত্র, অকল্পনীয় অস্ত্রের ঝংকার!
নিতে চায় ছিনিয়ে তোমায়- দুষ্ট এলিয়েন সরদার!
জীবন বাজি রেখে আমি- তোমার প্রহরী হবো তখন ।
শুধু তুমি বলো- ভালোবাসো আমায়, এখন।।
ভাবতে পারো এসব কথা- বলার মানে কি!
তোমার মনে লুকিয়ে থাকা- ভয় তাড়িয়ে দি!
প্রেমের বেলায় কোনদিনই ভয়ের কিছু নাই,
প্রেমের আলোক যুদ্ধে- পাহাড় পুড়েও ছাই!
ভালোবাসা পেলে তোমার- আমার নাই কোন প্রয়োজন!
শুধু তুমি বলো- ভালোবাসো আমায়, এখন।।

নিরাপদ চিন্তা চাই!

এখন, এখানে দুঃখরা ঘুরে বেড়ায় অষ্টপ্রহর!
এক মায়ের ঘর থেকে আরেক মায়ের ঘর!
বৈশাখী ঝড়ে শিশু-কিশোর আমগুলোর মত-
ঝরে পরে সন্তানের দেহ মাটির বুকে,
জীবনের অনাকাঙ্ক্ষিত দুখে,
অস্বাভাবিক মৃত্যুকুপে যমেরদল নাঁচে উলঙ্গ নাটীরূপ বেসামাল-বেপরোয়া!
সভ্যতার উৎকর্ষের- সেই আগুন,
                                জল, 
                              খনিজ,
                              সড়ক,
                             আকাশ-  
অনিরাপদ হয়ে যায় সব কিছু।
কারন, আমাদের চিন্তাও যে অনিরাপদ!

সর্বাগ্রে তাই, নিরাপদ চিন্তা চাই-
রুখতে দুঃখদের হরহামেশা ঘোরাফেরা।

তুইও ভালোপা- মোগ যুবতী ফসইল্লা মাঠ!

ওরে পাগলা হাওয়া, ওরে কালবৈশাখি ঝড়,
সোনার ধান- আমার প্রাণ! 
তুইও ভালোপা- মোগ যুবতী ফসইল্লা মাঠ, 
থেমে যা! দিয়ে যা লক্ষ্মী'র বর।
টাহা কর্জ কইরা জমি করি চাষ,
এই মাঠেই মোরা স্বপ্ন দেহি বার মাস,
ঘরে বাইরে বউ, মুই, বেডা, বেডি হক্কলে-
খাটছি, কইতে গেলে- দিন নাই, রাত নাই!
ভবিষ্যত মোগ- এই ফসলেই নির্ভর।
দিয়ে যা লক্ষ্মী'র বর!
থেমে যা পাগলা হাওয়া, থেমে যা চৈতালি ঝড়।
দোহাই লাগে- খোদা তায়ালার,
তুইও ভালোপা- মোগ যুবতী ফসইল্লা মাঠ!

মঙ্গলবার, ২ এপ্রিল, ২০১৯

রহস্যময়ী?

ধরা যাক, শতাব্দিশ্রেষ্ঠ বিজ্ঞানীরা,
সবল এবং দুর্বল নিউক্লিয় বল, মহাকর্ষ বল, তড়িৎচৌম্বকীয় বল- সবগুলো একীভুত করে ফেললো একদিন!
তারপর,
সৃষ্টির রহস্য, মহাবিশ্বের রহস্য ইত্যাদি, ইত্যাদি- সব রহস্য উন্মোচিত হয়ে গেলো নিমিষে!
রহস্য উন্মোচনের সে খেলায় হৈ হুল্লোর পড়ে গেলো সবার মাঝে ।
তুমি কি থাকবে সেদিনও রহস্যময়ী?

হাওয়াঃ এই রহস্যভেদ সম্ভবত আদমের অসাধ্য ।

সোমবার, ১ এপ্রিল, ২০১৯

সাপ কপালে প্রেম!

চাল শুরু...
এক, দুই, তিন,
আনন্দে শুরু হয়-ভালোবাসার দিন।
চার, পাঁচ, ছয়,
ভাবনা হৃদয়ে-ভালোবাসার হবে জয়।
অবাক, আমাকে ছুঁয়ে- তুমি খেয়ে দাও!
তোমাকে ধরতেই পারি না আমি- কী রহস্যময়!
হঠাৎ করে,
সাপের মূখে পড়ে আমি- শূন্য হই!
তোমার দেখা মেলে- উপরে ওঠার মই!
চাল শেষে...
তুমি জয়ী । তোমার সুখের দিনকাল।
সাপ কপালে প্রেম আমার- একাকীত্ব চিরকাল!

আমার ব্যাথাটি ঠিক সেখানে!

সময়টি ছিলো- বসন্তকাল ।
তুমি বললে, আমার হৃদয়ে যে সুর বাজে ঠিক যেন দখিনা বাতাসের দোল ।
তোমার চেতালি তৃষ্ণা মেটানোর ক্ষমতা আছে- আমার বুকের স্পর্শে ।
কান পেতেই শোনা যায় বসন্তের গান-কুহুকুহু ।
অথচ, আজ সেখানে অনুভব করি আমি-
উহু, উহুঃ বিরহ ব্যাথার নিরব চিৎকার ।
কারন, কতোকাল বুকটি আমার পরশ বিহীন কোকিলার- 
সে সময় গুনতে গুনতে ক্লান্ত হয়ে আর গুনতে পারি না!
কতোকাল তুমি বসন্ত বিকেলে মাথা রাখো না- 
সে সময় গুনতে গুনতে ক্লান্ত হয়ে আর গুনতে পারি না!
কতোকাল তুমি বাঁকা চোখে আমার পানে তাকাও না, 
শার্টের বোতাম খুলে নগ্ন বুকে আমার চুমু দাও না- 
সে সময় গুনতে গুনতে ক্লান্ত হয়ে আর গুনতে পারি না!
আমার ব্যাথাটি ঠিক সেখানে-
যেখানে তুমি মাথা রেখেছিলে ভালোবেসে ক্ষনকাল ।

শুনেছি, স্বভাবে কোকিলা অন্যবাসায় জন্মায় সন্তান!
ভুল স্বজন প্রেমে- বিরহ ব্যাথা স্বাভাবিক প্রতিদান!!

তোমার প্রেম- আমার জীবনে নীলসময়

আর কতো? প্রেমের ছলে-
নামাবে আমায় তুমি নীল জলে!
জলপরি-
তোমার হাতে-পায়ে ধরি,
ক্ষান্ত দাও এবার!
প্রেমের বদলে- বিরহসময় দিওনা উপহার।
এই পথে সুখ ভীষণ,
ধারনা সব প্রেমিকেরই এমন।
আমার বুকের বাম দুধের নিচে তাই- 
তোমার নামে, ভুল প্রেমে টিকটিক আওয়াজ ছিলো সারাক্ষণ-
পূর্বকালে।
পরে বুঝি, তুমি মোহগ্রস্থ! জাগতিক কামে ইন্দ্রীয়বিলাসী।
নতুন পোশাকের প্রেম আছে- আবার পুরনোটিও ফেলতে ইচ্ছে হয় না তোমার!
আমার ইচ্ছে তাই- শূন্য হৃদয় মন্দিরে ফিরে যাই।
বিদায় জলপরি, আর ডুবে না মরি!

তোমার প্রেম- আমার জীবনে নীলসময় ।

আলোক সজ্জার দিন ক্ষণ

২৬ শে মার্চ এবং ১৬ই ডিসেম্বর- আলোক সজ্জা করতে হয় আমাদের। করি।  
তবে ভুলে যাই, দুটো আঁধারে ভরা কালোরাত আছে আগে তার- দুটো দিনেরই।
২৫ শে মার্চ এবং ১৪ই ডিসেম্বর।
আলোকটা তাহলে জ্বালাবো কখন?
কখন মূলত মানানসই দিন-ক্ষণ?
উৎসাহ আমাদের উৎসবে একটু বেশিই- দেরি সয়না!
আত্মত্যাগ বা মর্মান্তিক ঘটনা একটু কমই মনে রয়!
মতামত ব্যক্তিগত, তবে ভাবনাটা সার্বজনীন-
২৫ এর আগে ২৬ এর রঙিন আলোক সজ্জা- বেমানান।
১৪ এর আগে ১৬ এর রঙিন আলোক সজ্জা- বেমানান।

শাপলাকলির আলোক অভিযাত্রা- স্বাধীনতা!

জলপাথর চাপা থাকে থাকে মাথার উপর। যদিও পুকুরটুকুই সীমানা তবে নির্দ্রিষ্ট মানচিত্র।
আপন ভূমির ভালোবাসায়, মোহময়তায়- শিকড় এই কাঁদা মাটি জলেই গ্রোথিত।
কখনো বহিরাগত, কখনো অভ্যন্তরীন রাক্ষুসে প্রাণীসকল ঠোকড় মারে, মারতে চায়! নতুন, পুরাতন আরও বিপদ কতো!
তবুও সংগ্রাম করে বাঁচিয়ে রাখতে হয় দেহ-সম্মান, শিকড় পাকাপোক্ত করার অব্যহত চেস্টা কর্ম, বাকি সহোদরদের নিয়ে নিরাপদ পুকুরের প্রার্থনাও বাঁচিয়ে রাখতে হয় অবিরত।
হঠাৎ হঠাৎ মাথার উপর শ্যাওলা আসে, জলে ভাসে-
উঁচু শিড়ে উর্ধ্বমূখী স্মৃতিসৌধের চেহারারূপ শাপলাকলির আলোক অভিযাত্রা- বাধা মানে না কোন! 
আপনরূপে, আপনগুনে পুরো পৃথিবীকে মোহিত করার বাসনায়- ফোটে ঝাঁকে ঝাঁকে স্বাধীনতা!
ঝাঁকে ঝাঁকে শাপলা হাসে!
প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম হাসে!
স্বাধীনতার গানে গানে-
আগামী প্রহরগুলো হাতছানি দিয়ে ডেকে বলে,
এইতো শুরু হলো- পৃথিবীর বুকে অবিরত শাপলা ফোটার জয়োল্লাস।

তুমি স্বাধীন হবে কেমন করে?

স্বাধীনতার ভাবনা যখন পাখির মতন:
গান গাও- আপন সুরে, বাসা বাধো- আপন মনে, ঘুড়ে বেড়াও- ইচ্ছেস্বপন ।
স্বাধীনতার ভাবনা যখন নদীন মতন:
ছুটে চলো- নিরবধি, বাধা এলে- গুড়িয়ে দাও জলস্রোতে, ভালোবাসো- মোহনার ঐক্য যেমন।
স্বাধীনতার ভাবনা যখন বৃক্ষের মতন:
বাঁচো তুমি- মাথা উঁচু করে, চেতনা রাখো- শিকড়ে আঁকড়ে, গতি হোক- আলোকমূখী ।
স্বাধীনতার ভাবনা যখন পাহাড়ের মতন:
নীতিবোধে- অটল থাকো, দেশের প্রেম- আগলে রাখো, স্বপ্ন রাখো- আকাশমূখী ।

স্বাধীনতার শিক্ষা তোমায়- কেউ দিবে না, ইচ্ছেকরে!
প্রকৃতিই দেয় বলে- তুমি স্বাধীন হবে কেমন করে? 
উত্তর হলো-
              বিবেক স্বাধীন তো তুমি স্বাধীন,
              বিবেক পরাধীন তো তুমি পরাধীন ।
স্বাধীনতা তোমার আপন আলো ।।

দোল লগনে আয় রাধিকা আমার কুঞ্জবনে

সময় বয়ে যায়, আয় রাধিকা আয়- দোল লগনে,
মাতবো দুজন রঙের খেলায়- মনের প্রেম কুঞ্জবনে ।
জোছনা বিলাসে- ভর যৌবনে চন্দ্রবতী ভাসছে গগন গঙ্গায়,
এমন সময় চুপচুপ পায়, আমার কাছে আয়, প্রেমের যমুনায় ।
আয় রাধিকা আয়, সময় বয়ে যায় ।।
প্রেমের লগন বয়ে যায় ।। দোলের লগন বয়ে যায় ।।

সপ্ত রঙে, নানান ঢঙে, আজ মাতাল প্রেমিকের দলে-
গোপন কথা, মনের কথা- যার যার সখীর কাছে বলে ।
তোরে ভীষণ ভালোবাসি, আমি একা বসে আছি- তোরই সাধনায়,
এমন সময় চুপচুপ পায়, আমার কাছে আয়, প্রেমের ভজনায় ।
আয় রাধিকা আয়, সময় বয়ে যায় ।।
প্রেমের লগন বয়ে যায় ।। দোলের লগন বয়ে যায় ।।

আমার কুঞ্জবনে আজ ফুল ফুটেছে, পাখি গাইছে গান,
এমন ক্ষণে পাগল মনে- চায় হোক একলা থাকা অবসান ।
তুই কি সখী একলা রবি, বিরহ দুঃখু সবি- এমন পূর্ণিমায়?
এমন সময় চুপচুপ পায়, আমার কাছে আয়, প্রেমের মোহনায় ।
আয় রাধিকা আয়, সময় বয়ে যায় ।।
প্রেমের লগন বয়ে যায় ।। দোলের লগন বয়ে যায় ।।