বৃহস্পতিবার, ২৬ অক্টোবর, ২০১৭

চরিত্র বিষয়ক একগুচ্ছ অনু কবিতা

১.
সুযোগ পেলে –
আমরা হয়ে যাই হাতি,
অন্যকে ভাবি কলাগাছ
চাবাইয়া খাইতে মাতি !
-------------------------------------------------
২.
সামনে শুভাশিস
পেছনে ফিসফিস ,
সামনে গলায় পড়াই- মালা
পিছনে গালি মারি- "হালা" !
--------------------------------------------------
৩.
সারাদিন ব্যস্ত থাকি
কারে দেব বাঁশ,
অজান্তেই নিজে করি
নিজের সর্বনাশ !
---------------------------------------------------
৪.
ছিঁচকে চোরকে মেরে ফেলি,
ডাকাত এলে নমস্কার,
বলি-সবারই আছে বাপের বাপ-
জুলুমেও নিরব থাকি -চমৎকার !
----------------------------------------------------
৫.
এবার নিজের কথাও বলি-
উপদেশ দিতে উস্তাদ ভারি,
নিজের বেলায় খুজি নানা উপায়
সটকে পড়ি তাড়াতাড়ি !
--------------------------------------------------

অপরূপ হেমন্ত ( সনেট )

হেমন্তের আগমনে নাঁচেরে বাঙালী,
ফসলের মৌ সৌরভে মেতে ওঠে প্রাণ ।
আনন্দ জোয়ারে ভাসে সব মন মালী,
আগামীর সূখ স্বপ্নে গায় শুভ গান ।
নবান্নের উৎসব : বাজে ঐকতান,
ঐশ্বর্য, সূখ কামনা করে পুরো জাতি ।
সুফলা, শস্য শ্যমলা, এ বাংলা প্রমাণ,
প্রাণের চেয়ে প্রিয় এই সোনার মাটি ।
চিরায়ত এ এতিহ্য : গ্রোথিত হৃদয়ে,
নব অরুণ আলোয় চিত্রিত অবাক,
এতিহ্যের ধারাপাত সূখ সিক্ত থাক,
কালের প্রবাহে আজ অন্তর্মূখী সবে ।
মন ক্যানভাসে তবু গ্রাম বাংলা দীপ্ত,
অপরূপের হেমন্ত , শুভ হোক নিত্য ।
---------------------------------------------------------
অষ্টক : ক,খ, ক,খ, খ, ক, খ, ক ।
ষষ্টক : গ,ঘ,ঘ,গ,ঙ,ঙ।

আদর্শ অভিভাবকের কর্তব্য

আজকের প্রিয় সোনামনি যারা
তারাই আগামী দিনের নেতা,
গড়ো ভালো মানুষ প্রথমে -
তাদের হৃদয় করে স্বাধীনচেতা ।
মানুষের মত মনুষ হবার -
পণ অন্তরে দাও গেথে,
অন্য স্বপ্ন পুরুনের আশায় -
তারপরে একসাথে ওঠো মেতে ।
আদর্শ অভিভাবকের প্রধান কাজ
সন্তানকে দেয়া সুনীতি শিক্ষা,
তবেই পাবে তারা সঠিক পথ -
প্রকৃত মানুষ হবার দীক্ষা ।
শুভ হোক সোনামনিদের আগামী
থাকুক তারা সবসময় ভালো,
অভিভাবকের কর্তব্য সঠিক হলেই
সব সোনামনিই সমাজের আলো ।

মন ভোমরা হয়ে যায় দ্বিগুন খুন

তার রূপে গুনে মন ভোমরা হয়ে যায় দ্বিগুন খুন ,
হৃদয় জুড়ে বাজায় সে প্রেমের নুপুর রিনিঝিনি, ঝুন ঝুন ।


প্রথম খুন : একপলকেই ভালোলাগা, ভালোবাসা
চাঁদ বদন তার রূপ সাগর যেন দুধে-আলতা মাখা ।
নয়নে সে বনলতা সম, হাসিতে মোনালিসা নিপুন,
তার বন্দনায় মন ভোমরা গায় গান গুন গুন ।


পুনরায় খুন : যখন বসি আমি তার গুন কীর্তনে,
নাচে-গানে, মনে-প্রাণে সে দেবী তুল্য হে ।
শয়নে স্বপনে উড়াল দেই তার কুসুম কাননে,
যতবার দেখি মনেহয় তবু প্রতি দর্শনে সে নতুন ।


তার রূপে গুনে মন ভোমরা হয়ে যায় দ্বিগুন খুন ,
হৃদয় জুড়ে বাজায় সে প্রেমের নুপুর রিনিঝিনি, ঝুন ঝুন ।

চরিত্র কথা কয় !

পাওয়া যাবে ফাও অথবা সস্তায়,
এমন কথা যদি কোথাও শোনা যায় -
চিরায়ত চরিত্র প্রমাণ : আলকাতরাও নিতে রাজী –
মেখে গায়ের সাদা জামায় !


লাভ-ক্ষতির চিন্তা পরে,
বিবেকের বিচার তাও পরে !
আগে চাই নিজের অংশ,
পরে পাক, না পাক - অন্য বংশ !


ফাও চাই, সস্তায় চাই,
গায়ের জোরেও চাই !
অন্যের অধিকার বা প্রাপ্যতা
ওসবের নাই বালাই !


সব সময়, সব কাজে
আমাদের এমনই আচরন !
চরিত্র কথা কয় -
আমরা এখনও ঢের অসচেতন ।

আঠারোরা ওঠো জেগে

না, না, তা কি করে হয়
তোমার পরাজয়, আমার জয় !
না, না, তা কি করে হয়
আমার পরাজয়, তোমার জয় !


বরং, প্রাপ্যতা হোক নায্যতার ভিত্তিতে যথাযথ,
দুজনের অধিকার দুজনে স্বীকার করি সূত্রমত ।


চলার পথে নয় আগে পিছে আমাদের যাত্রা
সমান তালে কদম ফেলবো,অগ্রজ-অনুজ ভ্রাতা ।


একই লক্ষ্য হোক তোমার-আমার অন্তরে,
"সবার জন্য বাসযোগ্য পৃথিবী যাবই যাব গড়ে ।


কবি সুকান্তের প্রত্যাশা পুরনের মহৎ সাধনায়,
আঠারোরা ওঠো জেগে, অগ্রজরা আছি অপেক্ষায় ।

তোমার কাছে আসি ফিরে

আবার আসি ফিরে , বারবার আসি ফিরে
বাংলার রূপের মোহে, গ্রাম-গঞ্জ, নদীর তীরে ।
বাংলার পাখির গান, বাংলার নদী কলতান-
বাংলার সুনীল আকাশ, বাংলার সুমন্দ বাতাস ।


আরও , আরও কততো –
বাংলার প্রেমের রূপমা, উপমা-
দেখালে শব্দের ঝংকারে নিত্য !


তুমি চিনালে এই বাংলার রূপ সেই ছোট কৈশরে –
কবিতার খাতায় বাংলার প্রেমের বন্ধনা অন্তরে জাগালে ।
কে জানতো ? কে বুঝতো –
পৃথিবীর রূপ বৃদ্ধাগুলি দেখানোর সাহস কে করতো ?


তাই, আবার আসি ফিরে , বারবার আসি ফিরে
জীবনানন্দের কবিতার ধানসিড়ির তীরে !
এ তরুন প্রজন্মের সব বাঙালী-
আজকে জানাই প্রিয় কবি তোমায় বিনম্র শদ্ধাঞ্জলি !


----------------------------------------
উৎসর্গ : কবি জীবনানন্দ দাশ

পোকায় ধরুক ঐ দাঁত !

কিছু মানুষের সাপের মত থাকে বিষদাঁত -
সুযোগ পেলেই অন্যকে ছোবল মেরে করে কুপোকাত !
নিজের স্বার্থের জন্য যে কাউকে করে আঘাত,
নিজের শান্তির জন্য করে অন্যের শান্তির ব্যাঘাত !


কিছু মানুষের সাপের মত থাকে বিষদাঁত -
জাগতিক মোহে সব ভুলে করে ভ্রান্ত ধারাপাত !
মানবিকতাবোধ হারিয়ে অচিরে হয় সে পশুর জাত,
সারাক্ষণ ধান্দায় থাকে করতে অবৈধভাবে বাজিমাত !


কিছু মানুষের সাপের মত থাকে বিষদাঁত -
আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হবার রাস্তা খোঁজে দিনরাত !
নীতির বালাই নাই চায় শুধু নিজের ভালো বরাত,
নিজেকে ভাবে জাহাপনা, বাকিরা প্রজা - পৃথিবীটি তারই প্রাসাদ !


একটু অভিমান করেই বলি - পোকায় ধরুক ঐ দাঁত,
বিশ্বজুড়ে বন্ধ হোক অসুরগুলোর বিষদাঁতের উৎপাত ।

এসো করি সন্ধি

বৃষ্টি আমায় করেছে একলা ঘরে বন্দী,
এসো, মনের সাথে মনের করি সন্ধি ।
বৃষ্টির ছন্দে হোক একটু প্রেমের গান,
হিমেল হাওয়ায় মাতুক দুষ্ট দুটি প্রাণ ।
বাদল দিনে তোমায় বিনে, সময়ঃ দু:সময়,
তোমার ছোঁয়ায় ফিরবে কেবল আমার সুসময় ।
সন্ধিটি তবে হয়েই যাক আজ দুজনে,
মেঘের বাজনা, বৃষ্টির গান, ময়ুরী নাঁচের ক্ষণে ।
সন্ধির ধারায় পাতায় পাতায় থাকবে শুধু লেখা,
ভালোবাসি তোমাকেই কেবল শর্তহীন এ কথা ।
আজীবনের জন্য তোমার মনের দ্বার দাও খুলে,
একলা মনের মুক্তি হোক- আজ বন্দী দশা ভুলে ।

লিখে দাও তোমার আকাশ আমায়

আজ নীশিতে মন উড়ছে, উড়ছে ঘুড়িরই মতন ,
লিখে দাও তোমার আকাশ আমায়- করি বিচরণ ।।


বাতাসে ভেসে ভেসে, নেঁচে নেঁচে গাইবো গান
সুর ঝংকারে তার রবে মেতে দুজনের প্রাণ ।
কভু শেষ হবে নাকো আমাদের সুখের ভ্রমন ।।


ভালোবাসার আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্নে হবো বিভোর,
বিরহের আঁধার কাটিয়ে, তোমায় এনে দেবো ভোর,
সে আশায় ভ্রমরের মতন করে যাবো গুঞ্জণ ।।

মনচোর কবি

মনচোরকে কেউ কি গালি দেয়না, দেয় কখনো ?
তাই ভাবছি তোমার মনের ঘরে সিঁধ কাটবো !
যত দু:খ আছে ওখানে সব নিয়ে নেবো -
আর ভুলে কিছু সুখের কবিতা রেখে আসবো !
তোমার ঘরের উচু নিচু মেঝ –
কেটে-কুটে সমতল করে দেবো বেশ !
সব মানুষকে ভালোবাসার সৌরভ ছড়িয়ে দিতে –
একটি গোলাপের চারা রোপন করে দিবো তোমার মনের ভিতে !


এখন বলো - এমন কবিকে, এমন চোরকে গালি দিবে –
হে তরুন স্বজন আমার ?
বরং, এই সময়ে তোমার মত সব তারুন্য ভরা মনে –
মনচোর কবি- সিঁধ কাটুক বারবার !

বুধবার, ১১ অক্টোবর, ২০১৭

ভালোবাসায় 'সমতা' বোধ

একটি ভালোবাসার গল্প শোনার আবদার - তোমার ?
আমি বলি- বরং, নয়নে নয়ন রাখো আমার !
দেখো- কতো রূপে, কতো রঙে সময় হবে মন রাঙাবার !
আর ভালোবাসার গল্গ - সে তো 'আলিফ লায়লা'র মতই প্রায়, কখনো নয় ফুরাবার !
বলো, একটি গল্প শুনবে ?
না কি নয়নে নয়ন রাখবে ?
নয়নে নয়ন রাখবে । বেশ । তবে কি আর রাখঢাক !
প্রতিটি ফুল পাপড়িতেই এক, একটি ভালোবাসার গল্প লেখা থাক !
যুগলের আলাপন মাঝে,
অচেনা, আগন্তুক এক কবি স্বপ্নে এসে বলে -
"জয় হোক ভালোবাসা । জয় হোক সমতা !
নারী-পুরুষের চলার পথে কেউ নয় করো স্বপ্ন পুরণে বাধা ।"
কবি কন্ঠ শুনে - যুগলেরা ভাবে,
সমতার বোধ যদি না থাকে ভালোবাসায় -
সত্যিই সে ভালোবাসা নানা টানা পোড়নে-
এক সময় সুখের পথ হারায় ।

তোমারই বিরহ নরক, তোমারই প্রেম স্বর্গ

তোমারই বিরহে মনটি আমার মেঘলা আকাশ,
বইছে দমকা হাওয়া, হৃদয় জুড়ে ঝড়ের পূর্বাভাস !


যদি না আসো ফিরে, আমার নীড়ে, বৃষ্টির হবো সঙ্গী,
দু চোখের জলে প্রশান্ত মনেও ঢেউ, ঢেউ ভঙ্গি !
উথাল পাথাল হৃদয় জুড়ে একলাই নরক বাস ।


তোমারই বিরহে মনটি আমার মেঘলা আকাশ,
বইছে দমকা হাওয়া, হৃদয় জুড়ে ঝড়ের পূর্বাভাস !


তোমারই প্রেমে মনটি আমার সোনালী আকাশ
স্বপ্ন মেলায়, রঙিন ভেলায়, সুখের বারো মাস !


যদি হাত ধরো, একান্তে ভালোবাসো, একটু দাও হেসে,
বিরহী মেঘ মালা ক্ষণিকে যায় দুর আজানা দেশে,
রংধনুর স্বপ্ত রঙে - রাঙিয়ে জীবন, দুজনেই স্বর্গ বাস ।


তোমারই প্রেমে মনটি আমার সোনালী আকাশ,
স্বপ্ন মেলায়, রঙিন ভেলায়, সুখের বারো মাস !

প্রেমিক মনের বিপ্লবী চেতনা

হয়তো তুমি এক পৃথিবী সৌন্দর্য্যভরা একখানা চাঁদ
আমি - তুচ্ছ ঊনমানুষ !
লোকে বলে - বারণ ।
আমি বলি - ধুর, ছাই, এসো উড়াই প্রেমের ফানুস !


জানি, জানি – 
আকাশ-পাতাল পার্থক্যের প্রেমের বহু নির্মম কাহিনী !


তবু, সাহাস কোথায় পেলাম জানো ?
প্রেমের কারণে শাস্তি পাওয়া-
মানুষের রক্তের রঙে-
যখন " লাল গোলাপ " প্রস্ফুটিত হলো !


শোনো, প্রেমিক মনের বিপ্লবী চেতনা
শুধুই ভালোবাসা বোঝে পার্থক্য বোঝেনা !


এখন বোঝ তুমি - মানুষে মানুষে ভেদাভেদ খুজবে নাকি ওড়াবে প্রেমের ফানুস
হোক না সে নানা মানদন্ডে নানা কিছু, তবুও তো মানুষ !

যৌবন : শিশির বিন্দু

ঝলমলে রোদকে ভালবেসে
শিশির যখন নিজের অস্তিত্ব হারায়,
তখন ডাকলে কাছে –
তাকে কি আর পাওয়া যায় ?


তেমনি বয়ে গেলে তিথি
যৌবন বিলাসকানন হয়ে যায় বিলীন,
বোঝনা কেন যুবক ?
এ নিয়ম শাশ্বত । ব্যতিক্রমহীন ।


শিশির বিন্দুও নেঁচেছিলো সবুজ পাতায় !
কিন্তু, কাঁহাতক ?
নবোদ্ গত যৌবনও ক্ষণিকের গান গায়,
পাঠ করে অব্যহত সময়ের ধারাপাত !


প্রাগুক্ত ! তবু বলি ফের –
যুবক বন্ধু আমার, এখনই গাও ধ্রুপদী গান,
করোনা হেলা এ উত্তম সময়ের
সত্য, সুন্দর পথের করো অনুসন্ধান ।


হৃদয়ে নীতিবোধ আঁকড়ে ধরো –
যৌবনের সময়টুকু করো সমাদর,
সুকর্ম সাধনে উন্মোচিত করো –
জীবনের সফলতার দ্বোর ।।

জোসনা রাতে আজ লীলাবিলাসে

জোসনা রাতে আজ লীলাবিলাসে-
সঁপে দিতে চাই এই মন,
ও রজনীগন্ধা তোমার লীলাকুঞ্জে -
ভালোবেসে করো আমায় নিমন্ত্রণ ।


তোমার মনের কুসুম কোণে, রাতে-
হৃদয় ভোমরার ধূপধুনা নিবেদন,
তোমার সকল সুধা বিলাও জোসনায়-
নৃত‌্যতালের আরতি করো গ্রহণ ।


জৈবিক-দৈবিক দ্বিধা ভুলে আজ-
প্রেম পিয়াসী- দুজনে প্রিয়জন,
কালের ক‌্যানভাসে সুখস্মৃতি আঁকি-
লীলাবতী, করো সমূহ সমর্পণ ।

স্বপ্ন পুরুষের আহবান

বহুদুর, দুরান্তে দুরন্ত কে যেন ডাকছে আমায়
জয়োল্লাসের অপেক্ষায়, বলছে সে -
জিরানো যাবে পরে, এসো -
সুড়ঙ্গ শেষে আশার আলোক রেখা ঐ দেখা যায় !
তাগাদা দাও,
তামাদি হয়ে যাওয়া সব আশা ফের জাগাও ।
তেজস্বী কন্ঠের আহবান অবিরত -
বিশ্বজয়ে পদযাত্রা চালাও অব্যহত ।
ডেকেই যাচ্ছে, বলেই যাচ্ছে, সে -
তুমিও হও স্বপ্ন পুরুষ - অগ্রণীর পথে ।
আমি মর্দ - ঘুমে কাতর, জড়ীভুত !
মা, মাটি, মানুষ নিয়ে নিত্যান্ত নির্লিপ্ত !
স্বপ্ন পুরুষের আহবান পৌঁছতে চায়না কর্ণকুহরে !
ভালোবাসাও জাগেনা মনের মুকুরে !
আবার হাঁক, ডাক, শুনি শুকরিয়া ধ্বনি -
আলো দেখা যায় । আলো দেখা যায় ।
এবার সঙ্গী হলাম আমি ! স্বপ্ন পুরুষের অবয়বে -
দেশের প্রেমে, মানব প্রেমে- উঠলো ফুটে হাসির ঝলকানি ।

খেলুয়া খেকশিয়াল

বড় আজব খেলুয়া খেকশিয়াল তুমি !
কুমিরের বাচ্চাগুলোকে কী সুন্দর মোহনীয় কথা বলে করলে উদরপূর্তি !


নাটমহল বিশ্বজুড়েই সাঁজিয়েছো নানা বাহারে !
সভ্যতার উৎকর্ষ নামে আগানোর পথে না হেটে-
আবার ফিরে যাও আদিম প্রহরে !


গাছের লতাপাতায় ঢাকা নারীর দেহ
দেখেছি আমি ইতিহাস বই পড়তে গিয়ে
ঐতিহাসিকরা ওটা বাঁকা চোখে দেখে বলেছেন -
তারা অসভ্য জাতি !


আমি অবাক হই -
এই যুগে, যখন দেখি -
টাই-কোট পরে নিজেকে পরিপূর্ণ আচ্ছাদন করা পুরুষের সামনে-
খেমটা নাচের নগ্ন নারী !


হায়রে কর্পোরেট পুরুষ ! মুখে বলো-
'তুমি' আমার মায়ের জাতি ।
অথচ, হৃদয়ে কলুষতা ভীষণ
গোপনে, মনে মনে করো ধারণ- কেবলই ব্যবসার প্রসারণ !


খেলুয়া খেকশিয়াল - নাট মহল সাঁজিয়েছো ভারী
আধুনিকতা ? সমতা ? সাহসিকতা ?
নাকি ভুল ব্যাখ্যায় -
নারী ও পণ্যের সঙ্গমে
করছো বাজারের প্রসার, উপযোগিতা যাচাই !


আর্থিক মোহগ্রস্থ সমাজ -
নারীকে সম্মান প্রকৃতভাবে দাও, অধিকার দাও, স্বাধীনতা দাও -
গুন এবং যোগ্যতা বিবেচনায় -
নইলে.... অপেক্ষা করো - সমাজে আসছে ভয়ঙ্কর প্রলয় !