বুধবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮

কিছু মেঘ, কিছু রোদ্দুর!

জীবনের আকাশে-
কিছু মেঘ, কিছু রোদ্দুর!
হিসেবের খাতায়-
সুখ বা দুঃখের সমুদ্দুর ।।


কখনো আশা- পাখা মেলে,
কখনো হতাশা- পিছু টানে,
কখনো ভালোবাসায়- জ্বলমল,
কখনো বা বিরহে ভরপুর ।।
জীবনের আকাশে-
কিছু মেঘ, কিছু রোদ্দুর ।।


স্বপ্ন-দুঃস্বপ্নের পালা বদল,
চাওয়া-পাওয়ার অমিলের ধকল,
তবু চলে সামনে পথিক-
জীবনের পথ হোক- যত বন্ধুর ।।
জীবনের আকাশে-
কিছু মেঘ, কিছু রোদ্দুর ।।

নাইওর ( সনেট )

দখিনা বাতাসে পাল তুলে একা মনে,
বিরহী বধু খোঁজে রসিক নাইওর!
প্রেমে মন ভাসিয়ে- পান খেয়ে হাসিয়ে,
ছেড়ে ক্লান্তির প্রহর- খোজে শান্তি-ঘর!
উথাল পাথাল তার হৃদয় সাগর,
বাপের বাড়ীর মায়ায়- বাদাম তোলে ।
নাইওর বিছানায় গল্প-গানে ভোর,
প্রিয়জন দেখার বাসনা- দুঃখ ভোলে ।


ননদ, দেবর, সবে মিলে মাতামাতি,
ধাধা, কৌতুক, রূপকথার উৎসব ।
হাসি, আনন্দ, স্রোত, মুখর কলরব,
নাইওর ছিলো দুঃখ ভুলানোর সাথী ।
এসব কল্পনা- এই আধুনিক কালে,
সুখ নাইওর স্মৃতি- ঝরা পাতা ডালে ।
------------------------------------------------------------
ছন্দ : কখকখখকখক, গঘগঘঙঙ ।

আমার মত আমিই থাকি

আমার মত আমিই থাকি-
তুমি থাকো তুমিময়!
ভালোবাসার মিথ্যে ছলনায়-
বৃথা কেন সময় আপচয় ।।


লাটিমের মত ঘুরেছি বহু
আর নয়, আর নয় !
আমার চাওয়া অন্যভাবে চাই-
তোমার চাওয়ারও হোক জয় ।।


প্রজাপতির মত উড়েছি বহু
আর নয়, আর নয় !
আমার বাসনা আমারই থাকুক-
তোমার বাসনারও হোক জয় ।।


কোকিলের মত গেয়েছি বহু
আর নয়, আর নয় !
আমার সুর একাকী বাজুক-
তোমার সুরেরও হোক জয় ।।

নিলামে তুলে দিলাম

দখিনা বাতাসে মন উড়ে উড়ে যায়,
তোমার বারান্দায়-
খোলা জানালা দিয়ে তোমার শাড়ির ভাজে-
চিরকুট হয়ে লুকায়!


সহস্র বছরের জমা সিন্ধুকে ভরা ভালোবাসা -
উল্টে পাল্টে দেখো,
সর্বোচ্চ দামের জিনিস -
শুধু একটু কথায় কিনে নিও!


সযতনের মন
মানিক রতন প্রেম-
বাতাসে ভাসিয়ে
নিলামে তুলে দিলাম!


বিনিময়ে বলো-
থাকবো,
           আছি,
                    ছিলাম ।

হঠাৎ বসন্ত বৃষ্টি

ঘূর্ণি ঘূর্ণি বায়-
মন তোরে নিয়েই ঘুরপাক খায় !
গড়িয়ে যায় মধু সময় ।
বৃষ্টি চায়না তার জল- তোরে ছাড়া হোক অপচয়!


ঠিক কয়েকটি বসন্ত আগে কোন এক ভালোবাসার বৃক্ষতলায়-
তোকে ভিজিয়ে সে, ছিলো শীতল-উষ্ণতায়!
আমিও ছিলাম-
বজ্রপাতের ভয়ে তোর বুকে আমাকে লুকিয়ে নিলাম ।


শীতলে উষ্ণতার তোর দৃষ্টি -
সেদিনও ছিলো হঠাৎ বসন্ত বৃষ্টি !


আবার বৃষ্টি এলো সন্ধ্যারাতে, মাঝপথে চলার-
ভিজেছি ! তবে এবারের বসন্ত বৃষ্টি ছিলো বিযন্নতার,
শুধুই শীতল, পোড়া মনের -
নীড় হারা বিরহী পাখির ডানা ঝাপটাবার !


তবে ছুঁয়ে গেছে, বলে গেছে, শনশন বাতাসের সুরে, ঘেটে অতীত স্মৃতিময়-
বৃষ্টি চায়না তার জল- তোরে ছাড়া হোক অপচয়!


আগামী হঠাৎ বসন্ত বৃষ্টি সন্ধ্যায়-
আসবে কি ? ভিজবে কি ? শীতল-উষ্ণতায় !

বুধবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮

স্বপ্নের ফেরিওয়ালা

স্বপ্নে প্রশ্ন করলেন কষ্টের ফেরিওয়ালা কবি- কষ্ট নেবে কষ্ট ?
বললাম- হ্যাঁ, নেব । তবে, বিনিময়ে- স্বপ্ন দেবো স্বপ্ন !!


কবি মুচকি হেসে দিলেন!
এখন থেকে আমি স্বপ্নের ফেরিওয়ালা!
চৌম্বক আবেশের মতো-
আমার অনুজ সবাইকে আমি স্বপ্ন দেবো!


বড়, বড় স্বপ্ন ।
আকাশচুম্বি স্বপ্ন ।
অপরাজেয় স্বপ্ন ।
শত-সহস্র মনের ঘনীভুত স্বপ্ন ।


আমি অগ্রজদের কষ্ট নেব ।
আমি অনুজদের স্বপ্ন দেবো ।


কষ্ট ফুড়ানো বাঁশি বাজিয়ে ডাকবো-
তুমি, আসবেতো! স্বপ্নের জমিনে স্বপ্নের বীজ বুনবো নিয়ত ।
-------------------------------
উৎসর্গ : কবি হেলাল হাফিজকে ।

মানবতার গান-৫

আমি স্বপ্ন দেখি তোমায় নিয়ে- অবাক, অবাক,
তুমি স্বপ্ন দেখো আমায় নিয়ে- সবাক, সবাক ।
হাতে-হাত, চোখে-চোখ, মনে-মন মিলিয়ে ।।


মনের বদ্ধ কপাট- খুলে যাক, খুলে যাক,
অহমের ঈর্ষা পাখি- উড়ে যাক, উড়ে যাক ।
প্রেমে-প্রেম, হেমে-হেম, পরে-পর জড়িয়ে ।।


ভালোবাসার কথামালা- ছাড়ুক, ছাড়ুক হাঁক,
পৃথিবী জুড়ে সব মানুষ- শুনুক, শুনুক ডাক ।
কাধে-কাধ, রবে-রব, আলোয়-আলো ছড়িয়ে ।।


অধিকারহারা হারানো অধিকার- পেয়ে যাক, পেয়ে যাক,
সর্বহারা আবার আপনজন- খুজে পাক, খুজে পাক ।
কদমে- কদম, সাথে-সাথ, ছন্দে-ছন্দ বাজিয়ে ।।

বাংলা-প্রেমের মুখোশ পরে সঙ, আর নয়!

কিছুক্ষণ পরেই পাওয়া যাবে একুশে চেতনার মুখোশ !
ইংরেজি, হিন্দি, উর্দু প্রেমিক'রাও লুকাবে তার আড়ালে চৌকষ !


"বাংলাটা আসেনা" - বলা বাহাদুরও আওড়াবে বাংলা প্রেমের বুলি !
ভিনদেশি সুরে নেচে বেড়ানো ভাঁড়ও বাজাবে বাংলা গানের ঢুলি !


বাংলা কবিতা, বাংলা গান - একমাস চলবে উঠোন থেকে অন্দরমহল !
পরেই ভুলে, ফিরবে যার স্বরূপে - কথনে, বলনে, চাল-চলনে ঠিক আগের সকল !


বাংলা-প্রেমের মুখোশ পরে সঙ, আর নয় ! এমন ছলনা আর নয় !
সবসময় চাই বাংলা প্রেম, চাই বিশ্বজুড়েই হোক বাংলার জয় ।


জানোইতো ইতিহাস । আম্রকানন স্বাক্ষী, স্বাক্ষী ঐ কৃষ্ণচুড়ার লাল-
পলাশীর চত্বর স্বাক্ষী, সাক্ষী ঐ কলাভবনের ঐতিহাসিক দেয়াল ।
আর বায়ান্নে গড়া ভালোবাসার শহীদ মিনারতো আছেই উচু শিড়ে ঠিক -
তবে কেন নিচু করবো শিড় ? কেন আমাদের বাংলা প্রেম হবে ক্ষণকালের ? কেন হবে সাময়িক !

প্রেমিকা, না "চন্দ্রমা" ?

যদি না হতে পারো- এখনই কাছের প্রিয়তমা,
হও শত বছর পর- আগ্রহে দেখবার "চন্দ্রমা" !


সার্ধশত বছর, কম বা বেশি, না হয় হবে গত-
আমি তবু তোমার প্রেম সাধনায় থাকবো রত!


কখনো না কখনো, দেখা যে হবেই এক পলক, তবে অপলক!
বাকি সময় বয়ে বেড়াবো- সে মুখ দর্শনের ঝলক!


কথা দাও " সমতা চিহ্ন", তুমি প্রেমিকাই হবে-
শত, শত প্রেমিকের কষ্ট করে চিরতরে শেষ !
নাকি আপেক্ষার "চন্দ্রমা" হয়ে রবে কালের গহ্বরে -
দীর্ঘ প্রতীক্ষার বুকে - দিবে অসহনীয় পাথর চাপার রেশ!


আমার আশ, প্রেমিকা হও, "চন্দ্রমা" নয় !
অপেক্ষার প্রহর চাইনা, হোক জীবন প্রাপ্তিময় ।

যেখানে সবাই প্রশ্নবোধক!

টাকা'র কাছে অবনত সব মস্তক!
একই সুর বাজায়- ভিন্নতার সপ্তক!
টাকা বই,
কিছু নই!
টাকা'র কাছে বিক্রি হয় সব !
সব সমাসের সমস্ত পদের টাকা,টাকা রব !
প্রেম বিক্রি হয় ।
সাহস বিক্রি হয় ।
তারুন্য বিক্রি হয় ।
স্বাধীনতা বিক্রি হয় ।
চেতনা বিক্রি হয় ।
মনুষ্যত্ব বিক্রি হয় ।
এসবই জানি - তুমি এবং আমি ।
তবুও চেতনে-অবচেতনে টাকাই স্বামী!
কিছুদিন আগেও শুনেছি -
সব কিছু টাকা দিয়ে পাওয়া যায় না!
এখনকার আমরা দেখাচ্ছি ভীষণ মুন্সীয়ানা!
"সব কিছু টাকা দিয়ে পাওয়া যায়"-
হাড়ে হাড়ে বুঝাচ্ছি, বুঝেছি !
প্রশ্ন : কবি, সে ও টাকার কাছে বিক্রি হয়?
হয়! দিব্যি হয় !
এ আর এমন কি - সাধকও সতীত্ব বেঁচে-
মুখ লুকিয়ে-মুখোশ পরে রয়!
চুপি, চুপি
ভালোবাসি ।
একথা শুনেই সবাই ভাবে-
এ বুঝি, প্রিয়জনকে ভালোবাসা-বাসি!
মনের কোনের লোভের কুঞ্জে -
ও পাখি সে ও চায় - টাকার হাসি!
সত্য বচন-
তিক্ত কথন ।
"টাকাকে ভালোবাসিনা !"
আদৌ বলতে পারিনি!
কোনমতেই বলতে পারছিনা!
সন্দেহ, বলতে পারবো কি না !
কারণ, রোধকের বোধও প্রশ্নবোধক!
এইযুগে - কে হবে কালিমা শোধক ?
না কবি! না সাধক!
টাকার মোহগ্রস্থ বিশ্ব- অন্যরূপের দোযখ ।
মুক্তি চাই,
মুক্তি চাই,
মুক্তি চাই ।
সব কিছু টাকা দিয়ে কিনতে নাই ।
চেস্টা করে দেখি-
যতটুকু পারা যায় ! ততটুকুই চেস্টা চাই ।
জ্বলন্ত মোহরের ছাঁপ থেকে-
নিজেকে বাঁচাতে চাই ।

কবিতার জনপ্রিয়তা কমেছে- এটি একটি অপপ্রচার!

কবিতার জনপ্রিয়তা কমেছে- এটি একটি অপপ্রচার!
এখনো কবিতার ভালোবাসায়ই সাজানো আমাদের জীবন সংসার ।


এখনো সব মা শিশুকে কপালে "চাঁদ মামার টিপ" পরায় !
এখনো "ঘুম পরানির মাসি পিসির সুরে" পাড়া জুড়ায় !


এখনো কৃষক "হই হই - ডান বাম" ছড়া গানে চড়ায় হাল,
এখনো রাখাল "ভ্রমর কইয়ো গিয়া" সুরে নামায় সন্ধ্যাকাল !


এখনো দিন মজুর সহ সব শ্রণী কথা বলে ছন্দে ছন্দে,
এখনো কবিতাই আছে মিশে সব মানুষের রন্ধ্রে রন্ধ্রে !


এখনো প্রেমিক-প্রেমিকা কবিতায় কথা কয় !
এখনো রাজনীতিবিদ ছন্দে কাঁপায় বতৃতায় !


এখনো সমাজে সচেতনা বাড়ানোর স্লোগান শুনি কবিতায়-কবিতায় !
এখনো পত্রিকার শিরোনাম হয় ছন্দময় পাতায়-পাতায় !


এখনো মানুষের জন্ম-মৃত্যুতে গীতি কবিতা বাজে !
এখনো সুথ-দু:খরা সুরে বেসুরে কবিতার রঙে সাজে !


এখনো মানব জীবনে - "ভালো-মন্দ" সর্বত্রই আছে কবিতার উপমা !
দ্বিমত নেই ! পৃথিবী যতদিন আছে ততদিনই থাকবে কবিতার রূপমা !

চলছে জীবন কর্পোরেটময়!

এসেছো? এতো দেরি? এতো!
আজ রাতে বাড়ি না ফিরলেই হতো!
ভোরতো হয়েই এলো-
অফিসে না হয় আজ রাতটি কেটেই যেতো!


এতো প্যাচাল পড়োনা,
খাবার থাকলে কিছু দাওনা!
বাবু ঘুমিয়ে পরেছে?
আজও কি "বাবা" বলে কেঁদেছে?


হয়েছে, হয়েছে-
খেয়ে নাও!
আমি ঘুম পরতে যাচ্ছি!
ও... হাচ্ছি!!!


কি হয়েছে তোমার?


দরদ দেখাতে হবেনা- এমন ছিল কপাল আমার!


ফোন করলে- কাজ,
কোথাও যেতে বললে- কাজ,
সন্তানের দেখাশুনা করার খবর নাই- কাজ!
আর আমার খোজ নেবার সময় হলো আজ!!!


যাক, বাবা, কপালে ছিলো কর্পোরেট অফিসার!
টাকা পেয়েছি, অভাব হলো ভালোবাসার!!!


এ কেমন কথা?
আমি তোমাকে ভালোবাসিনা?


খুব ভাসো-
বিয়ের তারিখটি বলো?


সব কি আর মনে থাকে, আসবে নাকি এসে চলে গেলো!


বাবুর জন্মদিনে ছিলে?


সব চাওয়া কি সবার মিলে!


বাবা-মা একসাথে দেখতে যাওয়া এবার হলো?


চাইলেই কি ছুটি মেলে বলো!


আমাকে ঘুরতে নিয়ে গিয়েছো কখনো কোথাও?


সব ইচ্ছে কি পুরন হয় সবার জীবনে সময়মত!


মোবাইলে তোমার ছবি ছাড়া বাবু কবে দেখেছে তোমায়?


সব সময় কি আর কাছে থাকা যায়!


এখন তুমিই বলো, শুনি-
কতোটা ভালোবাসো আমায়, আমাদের- তুমি!


গম্ভীর, নির্বাক- সুবীর!
মন ভারেই পার হয় নিয়মত আরও একটি রাত!
চলছে জীবন কর্পোরেটময়,
যথা নিয়মে বাসায় ফেরা- অফিস যাতায়াত!!