বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২০

পৃথিবী'র সমার্থক শব্দ পেয়েছি খুঁজে!

পৃথিবী'র সমার্থক শব্দ পেয়েছি খুঁজে!

- সাকিব জামাল

বাইশ বছর ধরে পৃথিবী'র সমার্থক শব্দ খুঁজেছি-
অবশেষে, তোমাকে পেলাম!
'ড্রিম ডিকশনারি' এখন পূর্ণ ভালোবাসায়-
তোমার হাসি'র শব্দে,
             তোমার গানে, কবিতায়।
তোমার নিঃশ্বাসের শব্দে,
             তোমার স্পর্শে, মায়ায়।
দীর্ঘ অপেক্ষা থেকে- আজ, অবসর হলো শুরু আমার।
প্রেমের পৃথিবীজুড়ে- এলো জনমে, সত্যিকার জনম এবার!

মাঝি

মাঝি

সাকিব জামাল

নদীর বুকে মাঝি, ভালোবাসে, একান্তে নির্জনতায়।
স্রোতে কাঁপন জাগে, সুখে, শিরা-ধমনীর এলোমেলো রেখায়!
আইনসঙ্গত বয়সেই প্রথম দেখা, তবু ভয় দ্রুত নৌকাডুবির,
কিন্তু ইতিহাস বলে, পৃথিবীর শুরু থেকে নদী জানে আর্কিমিডিসের সূত্র!
জানে ভাসিয়ে রাখতে, জানে বাঁচিয়ে রেখেই তাঁকে-
ডুবাতে হয় গহীন জলে। একটু একটু করে পানকৌড়ির মতো-
চুপ চুপ ডুবে মাঝি দুরন্ত হয়ে ওঠে। শিখে যায় নদীর মাঝে-
আপনরূপে, দক্ষজ্ঞানে, মাস্তুলে 'সভ্যতা' রেখে জয়যাত্রার কৌশল।
কেটে যায় ভয়, আরও আরও স্বপ্ন দেখার সাহস হয়। ভালোবাসার গানে-
জীবনের সমৃদ্ধ ধারা বয়ে চলে নদীর বুকে দক্ষ মাঝির সম্পানে!


মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২০

হু হু করে বাড়ছে পানি!

হু হু করে বাড়ছে পানি!

- সাকিব জামাল

দেখছো এখন-
নদী মাতাল, মেতেছে স্বপ্ন ধুয়ে নেবার খেলায়!
'আশা' নাম বদলে দীর্ঘশ্বাসের সাথে মিশেছে,
যতনের সংসার ভেসে যায় কলার ভেলায়!


কিন্তু, গরিবের জন্মপাপে-
বিপদসীমার উপরে বয়ে চলে দুঃখের জল আজন্মকাল!


তোমরা কেউ কি আলাদা করতে পারো-
'চোখের জল আর বানের পানি'
কোনটি হু হু করে বাড়ছে?

ত্রিবেণী

ত্রিবেণী

- সাকিব জামাল

কবিঃ মজনু।
কবিতাঃ লাইলী।
কবিজনমঃ প্রেমে ফানা!


রবিবার, ২৬ জুলাই, ২০২০

নকশা বদল

নকশা বদল

- সাকিব জামাল

কোন এক শ্রাবণ সন্ধ্যায়, যৌবনা জলে তা থৈ থৈ বিলে
শাপলা ফুল তোলার ছলে, প্রেমের নকশা আঁকা নায়ে-
যুগল যাত্রায় মাঝি হয়েছিলাম। মনে পড়ে,
সেই সন্ধ্যাবেলায় খুনসুটি শেষে বাসায় ফেরার পথে
দেবী, বায়না ধরেছিলো- নাও চালানো শিখে নেবার।
আমার কোলে বসিয়ে বৈঠা দিলাম তাঁর হাতে,
শিখিয়ে দিলাম কী করে জলবৈঠার প্রেমে-
ছলাৎ ছলাৎ গান তুলে যেতে হয় সামনে...
তারপর থেকে, সে একাই চালায় নাও!
আমার নায়ে বিরহ নকশা আঁকা।

বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই, ২০২০

মধ্যবিত্ত ফুটবল

মধ্যবিত্ত ফুটবল

সাকিব জামাল

বার্সালোনা কিক মারে, মোহামেডানও কিক মারে-
'মধ্যবিত্ত' ফুটবল!
সারামাঠ ঘুরে বেড়ায়, অন্যের ইচ্ছে পূরণার্থে-
আজন্ম চলমান খেলায়। আনন্দ উল্লাস গড়িয়ে যায়-
অন্যদের ভাগ্যে!
'মধ্যবিত্ত' ফুটবল-
দুঃখ গোলাকার মাঠ বন্দি জনম।


-----------
নোটঃ কবিতাটিতে 'বার্সালোনা ও মোহামেডান' রূপকার্থে
যথাক্রমে 'উচ্চবিত্ত ও নিম্নবিত্ত' শ্রেণীকে উপস্থাপন করে।

মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২০

এ কেমন বৃষ্টির দিন! বলো?

এ কেমন বৃষ্টির দিন! বলো?

- সাকিব জামাল

সোনার দেহে, শুভ্র বসনে, ফোঁটেনি কদম এবার মনের মুকুরে।
বর্ষাবরণে, তোমার চরণে, লাগেনি ছোঁয়া সিক্ত আকাশি জলে।
যদিও প্রকৃতি ঋতু বদল করেছে আগের মতন!
তবু, এ কেমন বৃষ্টির দিন! বলো?
রমনার সবুজ জমিনে বসে বৃষ্টিতে ভেজা হলো না!
টাপুর টুপুর নুপুর বাজে, হৃদয় নাঁচে না!
ফোঁটে কদমফুল গাছের ডালে ডালে কেবল-
চোখ দ্যাখে, মন দ্যাখে না!
দূরত্ব আর দুঃসময়ের সাদাকালো ফ্রেমে-
বন্দি বর্ষাচিত্র আমাদের। বিরহী সুরে-
মাতাল বাদল দিনের গান!


তুমি আমি তারাদের মতো পাশাপাশি

তুমি আমি তারাদের মতো পাশাপাশি

- সাকিব জামাল

তুমি আমি তারাদের মতো পাশাপাশি
অথচ, দূরত্ব কতো শত আলোকবর্ষ
হাবলের টেলিস্কোপ ব্যর্থ হয়-
আমাদের তুলনামূলক অবস্থান নির্ণয়ে!
আপাতদৃষ্টিতে প্রেম সরলরৈখিক কিন্তু বক্রতায় ভরা!
কেন্দ্র ভিন্ন, ভিন্ন ঘূর্ণনের কক্ষপথ।
সময়, স্বপ্নচিত্র ভিন্ন।
প্রেমের মহাকাশে-
তুমি আমি তারাদের মতো পাশাপাশি
অসীম দূরত্বে, বিরহে বিচ্ছিন্ন।

তবুও, প্রতিদিন পাখিরা উড়ে যায়...

তবুও, প্রতিদিন পাখিরা উড়ে যায়...

- সাকিব জামাল

তবুও, প্রতিদিন পাখিরা উড়ে যায় বাতাসে ভর করে
নিরব যাত্রায়- ডানা বলহীন, পা চলে না!
নিশানা ছিলো জানা 'নীড়' বরাবর।
অথচ, বাসা এবং মাটির সাথে-
ইতোমধ্যে চুক্তি সম্পাদিত- ঠিকানা পরিবর্তনের!
মসজিদের মাইকে মুয়াজ্জিন ঘোষণা করে-
শোক সংবাদ। সীমিত জানাজা!
অথবা মন্দির নিরব, শ্মশানঘাটে চিতা'র পাশে-
মুখাগ্নিতে নেই স্বজনদের দেখা!
তবুও, প্রতিদিন পাখিরা উড়ে যায়, অসীমে,
'কোভিড-১৯' রেজিষ্ট্রারে লিপিবদ্ধ মানবপাখিরা।


-----------
উৎসর্গঃ কোভিড-১৯ আক্রান্ত হয়ে পৃথিবী থেকে চিরবিদায় নেয়া মানবপাখিদের।


বুধবার, ১৫ জুলাই, ২০২০

একদিন নগ্ন হবো আমি

একদিন নগ্ন হবো আমি

- সাকিব জামাল

একদিন, একান্তে-
নগ্ন হবো আমি
স্বাদ নিবো- জন্মের! স্বাদ নিবো- মৃত্যুর!
সাদা পাখির পালকের মতো নরম বিছানায়-
একরাঙা চাদরে,
যেমন জন্মবেলায়, যেমন মৃত্যুবেলায়
শুয়ে থাকে মানুষ।
নগ্ন সময়ের সেই ক্ষণে-
পশুত্ব গলা টিপে, মানুষ থাকতে পারি কি না!
আদিম সভ্যতায়-
আমার পূর্ব পুরুষেরা পেরেছিলেন!
আধুনিক সভ্যতায়-
ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না আমাদের!
তবুও দেখা যাক-
উজানে কতোটা বাইতে পারি নাও।
একদিন, একান্তে-
নগ্ন হবো আমি!

মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই, ২০২০

ঐ অন্ধকার পথে আর যেওনাকো তুমি

ঐ অন্ধকার পথে আর যেওনাকো তুমি

- সাকিব জামাল

ঐ অন্ধকার পথে আর যেওনাকো তুমি
মেতোনাকো ফের ভাঙন ভাঙন খেলায়
কতো যুবক মরে যায়, জানো?
হাত ধরে আবার হাত ছেড়ে দেবার বেলায়!
বেঁচে থাকে তাদের দেহ শুধু, বাঁচেনাকো মনভূমি।
ঐ অন্ধকার পথে আর যেওনাকো তুমি!


অন্ধকার পথের সংজ্ঞা অনেকে ভিন্নভাবে বলে
আমি বলি- না, ঐ পথ কেবলমাত্র,
হাত ধরে হাত ছেড়ে দেবার ছলে
পৃথিবীর বুকে থেকে যায় অবিরত, এ ঘৃণাপাত্র!
ভালোবাসা আলো ছড়ায়, নয় আলোগ্রাসী চারণভূমি।
ঐ অন্ধকার পথে আর যেওনাকো তুমি!


হাত যদি ধরো একবার, ধরো, যতো শক্ত করে পারো-
ভালোবেসে অন্ধকার দিওনাকো উপহার জীবনে কারো।

ইলশে গুড়ি বৃষ্টি ছিলো সেদিন

ইলশে গুড়ি বৃষ্টি ছিলো সেদিন

- সাকিব জামাল

ইলশে গুড়ি বৃষ্টি ছিলো সেদিন
যেদিন তোমার সাথে প্রথম দেখা হলো,
সবুজ পাতার ফাঁকে লজ্জামাখা কদম
হেসে হেসে ভালোবেসে উঁকি দিয়েছিলো।
প্রাণ ভরে প্রথম দেখায় বেজেছিলো মনে বীণ
ইলশে গুড়ি বৃষ্টি ছিলো সেদিন।।


তারপর, বেশ ঘোরাঘুরি হাতে রেখে হাত
কবিতা-গানে সময় পেরিয়ে সন্ধ্যা নেমে এলো,
বিরহজলে এলো লোনামাখা বিদায়বেলার ক্ষণ
নীড়ের পাখি পথ ভুলে দূরে উড়ে গেলো।
ক্ষণিকের সে ভালোবাসায় আজও আমার ব্যস্ত নিউরন
খুঁজে ফেরে যে সময়টুকু হয়েছে বিলীন।
ইলশে গুড়ি বৃষ্টি ছিলো সেদিন।।


ভুল খোয়াবে তোমার এখন অন্যপথে পা-
আমার মনে, নেই সে বৃষ্টি, উল্টো ঝড়ো হাওয়া!
মিষ্টি মধুর যুগল প্রেমে হেটে চলা পথ
এ জনমে আর হলো না- তাকে ফিরে পাওয়া।
ক্ষণিকের সে ভালোবাসায় আজও আমার ব্যস্ত নিউরন
প্রথম দেখার স্মৃতিকথা রেখেছে অমলিন।
ইলশে গুড়ি বৃষ্টি ছিলো সেদিন।।

দৃষ্টি দর্শন

দৃষ্টি দর্শন

- সাকিব জামাল

খোলা দুই চোখে দ্যাখো- বস্তুজগত। দৈহিক গড়ন। ত্বকের বরন। রঙের বাহার। মোহের আহার। শেষের ক্লেশ। অশান্তির রেশ।
খোলা তিন চোখে দ্যাখো- ভাবজগত। মনের শরণ। তন্ত্রের চলন। সাফেদ আকার। নির্মোহ আধার। অশেষ দেশ। শান্তির বেশ।


তিন চোখে দ্যাখো- জগত। ভাবঘরে চোখ বুজে!

তোমার একটা ছবি হবে?

তোমার একটা ছবি হবে?

- সাকিব জামাল

তোমার একটা ছবি হবে
বুক পকেটে রেখে দেবো,
যখন তখন পড়লে মনে
চোখ জুড়িয়ে দেখে নেবো।
ইচ্ছে হলেই প্রাণ খুলে
ছবির সাথে কথা কবো,
দূর দূরান্তে থেকে থেকে
প্রেমের গল্প রাষ্ট্র করবো।
নতুন নতুন কাহিনি শুনে
অবাক বিশ্ব সবাক হবে,
'লাইলী-মজনু' ভুলে গিয়ে
তোমার আমার কথা কবে!

বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০২০

হাইব্রিড হোয়াক্স

হাইব্রিড হোয়াক্স

সাকিব জামাল

পালপাড়ার পুতুলগুলো পদ্মপাড়ায়
ফলত ফুল, ফল-
সংকর সমস্যাগ্রস্থ!
আদর্শ আংশিক,
বাকিটা বিপন্ন, বিলীন।
আপনবিলাসে আচ্ছন্ন
চেতনা চক্র।
নতুন নতুন নিন্দিত নেতাদের-
প্রতারণা প্রকাশ পায় প্রতিনিয়ত!
জনগণ জ্বলে-
হাইব্রিড হোয়াক্সে!

বুধবার, ৮ জুলাই, ২০২০

ফাঁদ

ফাঁদ

- সাকিব জামাল

ভালোবাসার ঘ্রাণে-
যেতে যেতে কাছে, অদৃশ্য হয়ে যায় কর্পূরের দানা!
একান্ত আপন ভেবে কতো কতো দীর্ঘকালীন স্বপ্ন
নিমেষেই ফুরিয়ে যায়, অন্য মাছরাঙার ধ্যানে-
যাকে কোনদিন দেখেনি বালক, পছন্দের রূপোলি পুঁটি
তার খাদ্যজালে উৎসর্গ করে ফিরে আসে ঘরে!
ভুবনজোড়া খাদ্যশৃঙ্খলে,
আমজনতার অধিকার আটকে যায়-
হালকা জলে, কাদা মাটিতে পাতা গোপন ফাঁদে।
রাজনীতি চলে, রাজনীতি ছলে!

মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২০

মনঘুড়ি ডানা ঝাপটায়!

মনঘুড়ি ডানা ঝাপটায়!

সাকিব জামাল

লোকে বলে, আকাশ। আমি দেখেছি শূন্যতা-
তবুও ঘুড়ি, নাটাই-সুতো সাজে দুরন্ত বালকমনে
দৌড়ে গিয়েছি কাছে- অষ্টাদশীর।


আমার ঘুড়ি আছে, তোমার আকাশ আছে?
জিজ্ঞেস করে, চোখে তাকিয়ে দেখি- সেই শূন্যতা!
পাখির মতো আর ওড়া হলো না ভালোবাসার।


শুরুতে যখন স্বপ্ন উড়ে যায় কর্পূরের গন্ধে,
বাকিটা সময়- একলা, একলা শূন্যতা বুকে-
মনঘুড়ি ডানা ঝাপটায়- ওড়াবার আকাশ নেই!

রবিবার, ৫ জুলাই, ২০২০

ইস্

ইস্

- সাকিব জামাল

ইস্...
কে বাজায় বাঁশি, কে দেয় শিস্?
দোয়েলের মতো নেচে নেচে ডাকে
গাছের ডালের মতো জানালার ফাঁকে
চেয়ে চেয়ে দেখি, মন করে আনচান
যন্ত্রণায় মরি মরি, ওগো কালাচাঁন-
যেন সর্বাঙ্গে লেগেছে বিষ!
ইস্...


ইস্...
কেমন সুর, এ কেমন ডাক?
বুঝি না, বুঝি না, জীবনের বাঁক!
মন চায় উড়ে উড়ে পাখির মতো
পিছে পিছে ঘুরি, পারি আমি যতো
জড়িয়ে থাকি ধরে লতাপাতায়
বাঁশির সুরের টানে প্রাণ যায়-
যেন সর্বাঙ্গে লেগেছে বিষ!
ইস্...


ইস্...
দূর বনে পাখি ডেকো না আর
এসো ঘরে, লাগে দোহাই আমার
ফুলের বুকে ভীষণ উতলা ঢেউ
তুমি ছাড়া বোঝার আর নেই কেউ!
তোমার সুর আমার ভালোবাসা
তোমার সুর বিনে পদ্মা সর্বনাশা-
যেন সর্বাঙ্গে লেগেছে বিষ!
ইস্ ...


নামলিপি প্রেম

নামলিপি প্রেম

- সাকিব জামাল

পড়ার বইয়ের পাতায় পাতায়
              লিখে রাখতাম তোমার নাম।
এতোটুকুতেই কতো যে প্রেম ছিলো!
                  কী যে সুখ মনে পেতাম!
নানা রঙের কালি দিয়ে-
             তোমাকে সাজাতাম প্রতিদিন।
কিশোরে প্রেমিকা ছিলে তুমি,
             অথচ যৌবনে এসে তুমিহীন।


      হঠাৎ হঠাৎ এখনো স্মৃতির পাতায়-
       ভেসে ওঠে পুরোনো বইয়ের পাতা
                         তোমার নামলিপি,
                                        প্রেম!