সোমবার, ১০ অক্টোবর, ২০১৬

শরতের প্রণয়

কোন এক শরতের বিকেল
আমি আর তুমি
হেঁটেছি বহু পথ
গাঁয়ের মেঠো পথে
আকাশে বিক্ষিপ্ত সাদা মেঘ
ছিল ঝিরি ঝিরি হাওয়া
এমনি মায়াবী বিকেলে
হল যে আজকে হায়
তোমাকে কাছে পাওয়া ।
পথসঙ্গী কেবলই তুমি বলে
প্রস্ফুটিত কাশবন নৃত্য তালে হায়
হাতছানি দিয়ে বলে
ভালবাসার ছলে
এমনি মায়াবিনী
তুমি পেয়েছ কোথায় ?
আজ পাখিরাও গাচ্ছে গান
বিকেল পেরিয়ে সন্ধ্যাবেলায়
মধুমাখা সে ঐক্যতান !

হে সারদা সুন্দরী
মিনতি যে তোমায়
রাজকুমার - কুমারীর গল্পে
এসো কাটাই আজ রাত
শারদীয় এ জোসনাতে বসে
হয়ে একাকার
নির্ঘুম অভিসারের পর
স্বাগত জানাই প্রভাত ।
শিশিরস্নাত ঘাসফুলেরা
হয়তো মুগ্ধ হবে
তোমার পদযুগলের
শীতল ছোঁয়ায়
শিউলী ফুলের
প্রেমের মালায়
শারদীয় শুভেচ্ছা
অবশেষে জানাবো তোমায় ।

হে প্রেয়সী
এ শরত এ প্রণয়
মোরে করেছে
আজ চির সুখময় !

তখন প্রেম ছিল

যে প্রেমিকা ফুলবনে বিচরণকালে
আনমনে প্রেমিকের ফুল ছেড়া সইতে পারত না
সেই মানবী আজ হৃদয় ছিড়ে !
যে প্রেমিকা কাশবনে ঘুরে বলতো
শুধু সৌরভ না, দেখ, শুভ্রতাও কিভাবে হৃদয় টানে
সেই মানবী আজ কলুষ প্রেমে !
যে প্রেমিকা ছিল প্রকৃত সুরের সাধক
পাখির গান, নদীর কলতান শুনে কাটাত সময়
সেই মানবী আজ কর্কশ কন্ঠী !
যে প্রেমিকা ছিল বৃষ্টি ছন্দ প্রেমী ময়ুরী
আবেগে প্রেম বিরহে কান্নায় ফেলত চোখের কাজল ধুয়ে
সেই মানবী আজ বিচ্ছেদ কামী !
-তখন প্রেম ছিল
এখন আর নেই ।

হে আমার প্রেম

প্রহরের পর প্রহর
এভাবে কতো অষ্টপ্রহর
হয়ে গেলো শেষ,
অথচ অপেক্ষায় তোমার
কবে এই কষ্ট প্রহর
হবে প্রান্ত শেষ ?

অপেক্ষায় ছিলাম সূর্য ওঠার
উঠে সে ডুবেও গেলো ।
অপেক্ষায় ছিলাম চন্দ্র ওঠার
উঠে সে ডুবেও গেলো ।

অথচ অপেক্ষায় তোমার
নবদিগন্ত উদয় হলোনা
দুর্ভাগার দর্শনে,
এই নষ্ট প্রহর আমার
কেন তবু হয়না শেষ
ক্লান্তি ভরা মননে ?

হে আমার প্রেম-
হে আমার সুশাসন 

পূর্ণিমা রাতে অমাবস্যা

শরতের এই বারের পূর্ণিমাটা বেশ যৌবনা ছিলো
তোমার মত !
একটু একটু করে কৈশর বেড়ে বেড়ে
আজ যে পদচিহ্ন তোমার সে বড় চঞ্চলা হয়তো !
পরিপূর্ণ চাঁদটার মত সফেদ পাহাড় আড়ালে ঢাকা
কোন ধনকুবের নিরস দামী রেশমী কাপড়ে -
তাই আমার দৃষ্টিতে অমাবস্যা -
নিসঙ্গ প্রহর -
আমি ক্ষয়িষ্ণু -
বিরহে তোমার !
অমন চাঁদ, অমন পূর্ণিমার কি দরকার ছিল ?
যদি এমন রাত ব্যার্থ হয় প্রেমের কবিতার অভাবে !

টুকরো টুকরো প্রেম

অজান্তে দীর্ঘ শ্বাস ছেড়ে দেখি-
শরতের নীল আকাশে
টুকরো টুকরো সাদা মেঘ -
এ যেন টুকরো টুকরো প্রেম ।

মনে করে দেখি অতীত খুঁজে
বয়স যখন ছিল উনিশ-কুড়ি
কী যে আনন্দ পেতাম
দেখে দু একটি ফুলের কুঁড়ি !
কুঁড়ি গুলো আজ প্রায় বুড়ো-বুড়ি
সংসার ধর্ম করে আপন ঘরে
অথচ আমি আজও আকাশ দেখি
রাতে বেরাতে একলা চরে ।

এ যেন টুকরো টুকরো প্রেম ।
জীবনে আঁকা ছবির হারানো ফ্রেম ।

মেঘগুলো হারাবে কোথায় ?
আমিতো হারালাম-
প্রেমের চোরাগলির বাঁকে
অজান্তেই ভেসে ওঠে
ভালোলাগা মূখগুলো
শরতের আকাশে !

স্নিগ্ধ মনের. শুভ্রতা ভরা প্রাণের
সেই বয়সের সব বন্ধুরা -
ভালো থাকিস,
আকাশ দেখিস -
এ যেন টুকরো টুকরো প্রেম ।
জীবনে আঁকা ছবির হারানো ফ্রেম ।

বৃষ্টি আসো

তোমার অপেক্ষায় নির্ঘুম চোখের পাতায়
ক্লান্তি ভরা হাতছানি ঘুমের পরির
তবুও জেগে আছে অন্তর-কোনে রবি !
হে বৃষ্টি, তুমি আসো তাড়াতাড়ি
বাংলার সবুজ জমিনে নেমে
অপেক্ষায় তোমার রয়েছে শত শত কবি !

যদিও দুয়ারে দুয়ারে দুর্বৃত্ত পাহারাদার
"অনাকাঙ্ক্ষিত" তুমি তাদের কাছে জানি
তবুও তোমায় আসতেই হবে মানবতার খাতিরে
তাড়াতে হেথায় সব দুর্নীতির বেসাতি ।

অন্বেষণ

রূপের মাঝে কি খোঁজ তুমি
এ যে বৃথা অন্বেষণ
মনের মাঝে গুন খোঁজ মন
তবেই পাবে গুপ্তধন ।
রূপের বাহার দেহের আহার
এক সময় হয় অবসান
গুনের কদর সে পরশ পাথর
চিরকাল রয় বহমান ।
রূপের মাঝে কি খোঁজ তুমি
এ যে বৃথা অন্বেষণ
মনের মাঝে গুন খোঁজ মন
তবেই পাবে গুপ্তধন ।
রূপের নেশায় পাগল হলে
বিপদ করবে আলিঙ্গন
গুনীজনকে বাসলে ভালো
পাবে সঠিক পথের নিদর্শণ ।
রূপের মাঝে কি খোঁজ তুমি
এ যে বৃথা অন্বেষণ
মনের মাঝে গুন খোঁজ মন
তবেই পাবে গুপ্তধন ।

লক্ষী জোসনা

একা একা বসে পুকুর ঘাটে
লক্ষী আসা জোসনা ভরা রাতে
নদীর জলে করে সে যে খেলা
মনের ঘরে দেয়না তবু ধরা !

এতো ডাকলাম, এতো দিলাম পুজা
তবু দেবী দেয়না তার মন
প্রতিক্ষণে তারে খুজি, তারে ভজি
তবু বয়না কেন প্রেমের পবন ?

সয়না যে আর এই অন্তরে
মধু জোসনায় এমন একাকী ভ্রমন
ভালবেসে তুমি আসো মোর ঘরে
রইল দেবী এ সবিশেষ নিমন্ত্রণ !

জলসা ঘর

এলে তবে কবিতা শুনতে
অধম কবির জলসা ঘরে
একলা কেন ? বন্ধু তুমি -
আনোনি কাউকে সঙ্গী করে ?
আজকের কবিতা গরম বটে
জালিম বিরোধী, মজলুম ভক্ত
শরম-নরম মন নিয়ে হবেনা
কবিতা ভক্তের দিল চাই শক্ত !
একলা চলা যাবেনা দুর্বল
আছে আরও কিছু শর্তযুক্ত
মজদুর সব একতা চাই
চিত্ত চাই কর্পোরেট মুক্ত !

‘ও, রাতে খেয়েছো মাছে-ভাতে
নাকি ফাস্টফুডে ভরেছ পেটের-প্যানেল ?
আজ বাংলায় টিভি দেখেছ তো
নাকি হিন্দি, উর্দু, ইংলিশ প্রীতির চ্যানেল ?
আসার সময় তাকিয়েছ ফুটপাতে
নাকি দেখেছ শুধু ঝলমলে শহর ?
চলাফেরা করো কি সাধারণের মত
নাকি চল নিয়ে গাড়ীর বহর ?
ভালোবাসো সব মানুষকেই
নাকি শুধুই থাকো আত্মকেন্দ্রিক ?
সত্য কথা সব সময় বলোতো
নাকি মিথ্যে বলায় বেশ শৈল্পিক ?
চলনে বলনে দৃঢ় সুনীতি পালনে
নাকি সখ্যতা দুর্নীতির সাথে ?
আত্ম-সমালোচনার যো আছেতো
নাকি পরনিন্দায় ব্যস্ত দিন-রাতে ?’

হে বন্ধু, আজ তবে এতটুকুই-
রইল মোর কবিতায় জিজ্ঞাসা,
শর্ত মেনে জলসা ঘরে এসো ফের
যাদি হতে পারো বাঙালি খাসা ।