সোমবার, ৬ আগস্ট, ২০১৮

পাপড়িগুলো খোলো

ও সুন্দরী ফুলের কলি
পাপড়িগুলো খোলো,
প্রেমের খেলায় মেতে ওঠার
সময় বুঝি হলো ।।

লাজ লজ্জা এতো বেশি
এখনো রাখতে নাই,
যৌবন খানা ফুরিয়ে গেলে
অন্তর হবে ছাই ।
তৃষিত চাতকের প্রাণ বাঁচাতে-
মধু কুঞ্জ খোলো ।।

সময়ে আসো সাধন করি
আগামী দিনের সুখ,
অসময়ে মেলে না সই-
কৃষ্ণ প্রেমের মুখ ।
যমুনার জলে নামো তুমি
জোয়ার ফুরিয়ে গেলো ।।

শোনো নতুনের গান

এদেশ আমাদের বাংলাদেশ
আমরা দূনির্বার,
আমরাই আদায় করে নিই
আমাদের অধিকার ।

সঠিক পথে চলবে দেশ
নড়চড় হবে না,
এ দেশের বুকে কোন 
অন্যায় চলবে না ।
সোনার বাংলা গড়ে তোলবো
নতুনেরাই হাতিয়ার ।।

শোনো তোমরা সবাই মিলে
আমাদেরই কথা,
সুন্দর ভাবনায় সুন্দর দেশ
মানো নিয়ম নীতি প্রথা ।
দেশকে ভালোবেসে দূর করো
অন্যায় অবিচার ।।

এ প্রজন্ম আমরা দেশের
দুঃসময় মানবো না,
এ প্রজন্ম আমরা দেশের
হালটি ছাড়বো না ।
কাটিয়ে দূর্দিন আনবো সুখের দিন
আমাদেরই বাংলার ।।

এসব পাপ অগ্রহণযোগ্য

রাজপথে নিষ্পাপ রক্ত বেমানান-
                       রাষ্ট্রের পাপ!

নাগরিকদের জীবনের নিরাপত্তা বিধান গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের দায়িত্ব । না করা-
                       রাষ্ট্রের পাপ!
শিশুটি, কিশোরটি, যুবকটি, নারী-পুরুষ সব বয়সের সব মানুষটি- সবাই দেশকে ভালোবাসে। 
দেশমাতৃকার দু:খে কাঁদে, সুখে হাসে।  
এ মাটির দেহ, এদেশ পরিণত করেছে- এই মাটি, বায়ু, জল - আমাদের প্রাণ ।
এ দেশের সরকার, রাজপথ, আইন - আমাদের দান ।
দাতা গ্রহীতার এই সম্পর্ক শুধুই রাজনৈতিক নয়, বরং ভালোবাসার ।
সুতরাং আমার নায্য অধিকার না করতে পারোনা । যদি করো তাল বাহানা কারবার- 
                      রাষ্ট্রের পাপ!
রাজপথে নিষ্পাপ রক্ত বেমানান- মুছে ফেলো যে দাগ লেগেছে, আর মাখতে দিওনা সেখানে-
                      রক্তের ছাপ ।

সময় চিত্র

চিত্রটি বারবার নিলামে তুলেছিলো অতীত সময়!
ফিরে এসেছে । ফিরে আসে । ভয় হয় হয়তো সভ্য সমাজে যদি তার ফের জন্ম হয়!
জীন প্রযুক্তি মতে কথা হলো-
আমি নিশ্চিত, ওটা আমার পূর্ব পুরুষের মর্মান্তিক ছবি ছিলো ।
চিত্রকর কিছু লিখে যান নি বর্ননায় ।
ইতিহাসবিদের বর্নানামতে-
চারপাশে ছিলো শত্রুদল । তীর ধনুক হাতে । মুখোশ পড়ে । তবুও এই শত্রুদলকে সবই চিনতো!
হঠাৎ, একদিন গোত্রের সবাই বললো- 
আর সইতে পারছি না! কিছু একটা করো! অগ্রগামী চিন্তারত থাকো তুমি- আমরা দেখেছি ।
এসব করুন মুহুর্তে না করার উপায় থাকেনা! তারও ছিলোনা!
নিচুকন্ঠে সে সবাইকে বলেছিলো- সভ্যতা আধুনিক হবে ।
এসব থাকবে না দেখো!
তবু, গোত্রের লোক ঘিরে রাখে! আমাদের সময় গড়ে দাও দাবী নিয়ে ।
আমার পূর্ব পুরুষ: যে ছিলো নিলামে তোলার ছবির রক্তাক্ত নায়ক-
হুংকার দিয়েছিলো, "আমাদের বেঁচে থাকার অধিকার দাও ।"
তখনই চারপাশ থেকে ছুটে আসে শোষক শত্রুদলের তীর- রক্তাক্ত চিত্র আঁকা হয় সময়ের ক্যানভাসে ।
জীন তত্ত্ব মতে-
দুই দলেরই বংশগতি এখনও অব্যহত পৃথিবীজুড়ে!!!

এই শোক ফুরাবার নয়

শোকের মাসে বাঙালীর বুকে
সদা দুঃখের নদী বয়,
বঙ্গবন্ধুর রক্তে ভেজা বাংলায়
আগস্ট মাস বিষাদময় ।।

উন্মাদ খুনিরা ঐ পচাত্তরে
জাতিকে করে কলঙ্কময়,
খুনের নেশায় মাতে হায়েনারা
কাঁদায় কোটি কোটি হৃদয় ।।

থাকতো যদি বঙ্গবন্ধু বেঁচে
আমাদেরই হতো জয়,
সোনার বাংলায় অনেক আগে
আসতো সুখের সুসময় ।।

অবশেষে খুনিদের ফাঁসি দিয়ে
জাতি কলঙ্কমুক্ত হয়,
তবু, কাঁদো বাঙালী কাঁদো
এই শোক ফুরাবার নয়।।

সুচোখেনি তীরন্দাজ

সুচোখেনি তীরন্দাজের চাহনি তীরে-
                              হৃদয় খুন!
ইস্, সে অদৃশ্য রক্তপাতে যদি জন্ম নিত-
ভালোবাসার গোলাপ - হতো কী দারুন!
বহুদিন পর-
নারীকুলের সাজগোজের ধরণ পাল্টে যাওয়া দিনে,
হঠাৎ যখন চোখে পড়ে বৃষ্টি ভেজা দিনে-
মুক্ত নীলিমাময় আকাশ রঙ শাড়ি,
বেলী ফুল হাতে পেচাঁনো মায়াময় নারী,
খোঁপা বাধা চুল- হারানো দিনের নায়িকাদের মতন,
পায়ে গায়ের সরল নুপুর, অন্য হাতে চুড়ি রঙময় রতন -
এ সবই ছাঁপিয়ে গেলো-
স্বচ্ছ জলের মধ্য পুকুরে বসানো নীলকান্ত মনি চোখের চাহনি-
হারিয়ে গেলো স্বর্গধরায়-
           মন কল্পনায়!
জেগে উঠেছিলো, ভালোবাসার অক্ষরজ্ঞানহীন নিউরণে- 
                                      প্রেমিক কবি গুন!
সুচোখেনি তীরন্দাজের চাহনি তীরে-
                                    হৃদয় খুন!!, হৃদয় খুন!!!