বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬

লিপস্টিকঃ লা মিওর

লিপস্টিকঃ লা মিওর
- সাকিব জামাল


মলিন ঠোঁট! রাঙাতে চেয়েছিলাম
লাল গোলাপে, এক সাঁঝে।
মিহি সাউন্ড। স্পিরিচুয়াল হাসি;
"জোহরার লিপস্টিক লাগে?
দাও, দেখি!"
রঙে, ঠোঁট দুটো তার সাজলো যখন
পৃথিবীর সমস্ত শরীর কেঁপে কেঁপে ওঠে।
চোখ ঝাপসা হয়ে আসে আমার,
ভেসে যাই শ্রাবণের জলে।
অথচ পূর্ণিমার ক্ষণ, উপসংহারে
মাতাল কর্পোরেটাচ্ছন্ন অন্য ভোরে!
"জোহরার লিপস্টিক লাগে?"
হুমম... লা মিওর! অথবা দামি!

বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬

কেন করো বাহাদুরি?

 ঘুম ভাঙলে সকাল 

না ভাঙলে পরকাল 

কেন করো বাহাদুরি?

ও মন আমার, 

কেন করো বাহাদুরি?


দম ফুরাইলে জনম শেষে

দুই দিন আহাজারি । 

ও মন আমার, 

কেন করো বাহাদুরি?


সময় থাকতে হিসাব করো

পাপ পূণ্য কোনটা বড়?

ভালো কাজে মন বসাও 

খারাপ কর্ম দাও ছাড়ি । 

ও মন আমার, 

কেন করো বাহাদুরি?


ঘুম ভাঙলে সকাল 

না ভাঙলে পরকাল 

কেন করো বাহাদুরি?

ও মন আমার, 

কেন করো বাহাদুরি?


পরকালের কামাই করো

সকাল যদি পাও,

বৈঠা ধরে সঠিক ভাবে 

জীবনের নৌকা বাও । 

সাকিব জামাল কয়, আহা রে

মানুষ হওয়া আসল কারবারি!

ও মন আমার, 

কেন করো বাহাদুরি?


ঘুম ভাঙলে সকাল 

না ভাঙলে পরকাল 

কেন করো বাহাদুরি?

ও মন আমার, 

কেন করো বাহাদুরি?


ও মন আমার,

কেন করো বাহাদুরি?

মান্নান সৈয়দঃ পরাবাস্তবতার পথিকৃত

 

মান্নান সৈয়দঃ পরাবাস্তবতার পথিকৃত 

- সাকিব জামাল
উত্তরাধুনিক বাংলা সাহিত্যে বাঁক বদলের কবি আব্দুল মান্নান সৈয়দ বাংলা কবিতার প্রচলিত ধারা থেকে বেরিয়ে এসে পরাবাস্তবতার পথিকৃত হিসেবে  আত্মপ্রকাশ করেছেন একজন দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী সফল কবিরূপে। বিষ্ণু দে, জীবনানন্দ দাশ এর পরে বাংলা কবিতায় পরাবস্তবতার অন্যতম প্রবাদপুরুষ আব্দুল মান্নান সৈয়দই মূলত বিস্তর পরিসরে এই ধারাটি জনপ্রিয় করণের চেষ্টা করেছেন নিরলসভাবে, যা শুধু সমকালীন সাহিত্যসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গের দৃষ্টি আকর্ষণ করেনি বরং আজও প্রাসঙ্গিক আলোচ্য বিষয় হিসেবে প্রণিধানযোগ্য। পরাবাস্তব কবিতার মূল ধারণা হলো অবচেতনমনের চিন্তা ভাবনাকে অপ্রচলিত ও আশ্চর্যকর কিন্তু নান্দনিক চিত্রকল্প দ্বারা প্রকাশ করা, যার সার্থক প্রয়োগ ঘটিয়েছেন আব্দুল মান্নান সৈয়দ।

শিল্প সাহিত্যে যাঁরা পরাবাস্তববাদ চর্চা করে থাকেন তাদের মতে, "প্রকৃত সত্য কেবলমাত্র অবচেতনেই বিরাজ করে।" তাই পরাবাস্তববাদী শিল্পী বা সাহিত্যিকদের লক্ষ্য হল বিভিন্ন কৌশল ও আঙ্গিকে মনের গভীর থেকে সেই সত্যকে তুলে আনা। আব্দুল মান্নান সৈয়দ ঠিক এ কাজটিই করেছেন। প্রসঙ্গত, জন্মান্ধ কবিতাগুচ্ছ থেকে কিছু উদ্ধৃতি দেয়া যাকঃ
“জ্যোৎস্না কী? – না, জ্যোৎস্না হয় জল্লাদের ডিমের মতো চুলহীন জলবায়ুহীন মুণ্ডু, জোড়া-জোড়া চোখ, সাতটি আঙুলের একমুষ্টি হাত, রক্তকরবীর অন্ধকার, এবং একগুচ্ছ ভুল শিয়ালের সদ্যোমৃত যুবতীকে ঘিরে জ্বলজ্বলে চিৎকার।”
(জ্যোৎস্না, জন্মান্ধ কবিতাগুচ্ছ)
"কী চড়া বাজার! আমাদের পাশের লোকটির সত্যি-সত্যি গলা কেটে নিল
    চীনে প্লেটের উপর এক গাঢ় দোকানদার। এরকম প্রমাণ আমি কখনো
    দেখিনি। তারপর করল কি? -না, তার কাটা-মুণ্ডু ঝুলিয়ে দিল দোকানের
    উইণ্ডোর নিচে বিজ্ঞাপনে টপাটপ।"
(সমস্ত ভাসান দিলাম সমস্ত উড়াল, জন্মান্ধ কবিতাগুচ্ছ)
এভাবে মনের গহীন থেকে ভাসিয়ে আনা আশ্চর্যকর এবং অসাধারণ সব চিত্রকল্পে সাজানো জন্মান্ধ কবিতাগুচ্ছ, যা পরাবস্তবতার এক নতুন দিগন্ত হিসেবে বাংলা সাহিত্যে চিহ্নিত হয়ে আছে।

বর্তমানকালের বাংলা কবিতায় প্রায় সব কবিই কমবেশি পরাবাস্তবতার প্রয়োগ করেছেন। তবে নিকট বর্তমানে পরাবাস্তবতার সার্থক প্রয়োগ ঘটিয়ে বাংলা সাহিত্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় হয়েছেন আব্দুল মান্নান সৈয়দ। তিনি বলতেন- "পরাবস্তবতাই হলো প্রকৃত বাস্তবতা।" এই ভাবনা থেকেই কবিতায় তিনি এনেছেন পরাবাস্তববাদী অনন্য বৈভব। যেমনঃ কবিতা কোম্পানি প্রাইভেট  লিমিটেড এর 'আলোক সরকার আর অন্ধকার রায়' কবিতাংশ-
" ‘একি, আপনি বাজারে? কবিশাহেব, আপনিও কি বাজার করেন?’
--হ্যাঁ, আমাকেও বাজার করতে হয়,
আমাকেও তেল-নুন-মাংসের হিশেব কষতে হয়--
আমি নই বায়ুভুক রবীন্দ্রনাথ।"
অথবা একই কাব্যগ্রেন্থর 'কবিতা কোম্পানি প্রাইভেট লিমিটেড' কবিতায় বলা হয়েছে-
"এখানে কবিতা বানানো হয়।
সব ধরণের কবিতা।
রাজনীতিক কবিতা, সামাজিক কবিতা।"
পরাবাস্তব চিত্রকল্পে কী কঠিন বাস্তবতার উদাহরণ। এরূপ জীবনমুখী অনেক বাস্তব কবিতার নির্যাস তিনি বাংলা সাহিত্যে উপহার দিয়েছেন পরাবাস্তবতার  আড়ালে, যা তাঁকে পরাবাস্তবতার পথিকৃত হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে নির্দ্বিধায়।
এছাড়া, পরাবাস্তব কবিতার অন্যতম একটি বৈশিষ্ট্য হলো বাস্তবতার সাথে স্বপ্নের একটি মেলবন্ধন। তাই পরাবাস্তববাদ চর্চাকারীগণ একটি বিশেষ পরাবাস্তববাদ তৈরির মূল লক্ষ্য হলো- সাধারণ দৈনন্দিন বাস্তবতা এবং স্বপ্নের সংমিশ্রণের সমন্বয় ঘটানো। মান্নান সৈয়দ এর কবিতায় আমরা এটিও পেয়েছি দারুণ ও সার্থকভাবে। উদাহরণ হিসেবে তার অনেক কবিতাই উদ্ধৃত করা যায়। যেমন একটি কবিতাংশঃ
"বাতাসে পোতা আছে আমার স্বপ্নের এন্টেনা
কারফ্যু শাসিত চার দেয়ালের মধ্যে বন্দী হ’য়ে আমি আছি
কিন্তু আমার আত্মা হ’য়ে পাখি উড়ছে ঐ
তার ছোট পাতলা ঠোঁটে রাজদণ্ডের মতো ধ’রে আছে।"
(আমার স্বপ্নের এনটেনা, ও সংবেদন ও জলতরঙ্গ)

পরিশেষে বলা যায়, আধুনিক বাংলা সাহিত্যের বর্তমান ভাবধারার উল্লেখযোগ্য শাখাসমূহের অন্যতম একটি হলো পরাবাস্তববাদ। যা উপেক্ষা করা সম্ভব নয়, যদিও দৃষ্টান্তবাদীরা বা চৈতন্যবাদীরা পরাবাস্তববাদের তীব্র সমালোচনা করে থাকেন। যাহোক, আব্দুল মান্নান সৈয়দ আধুনিক কবিতার অন্যতম গবেষক, চর্চাকারী যিনি কবিতাকে নানানভাবে অস্ত্রপাচার করে পরাবাস্তবতার রঙে রাঙিয়েছেন। যা তাঁকে স্বতন্ত্র মহিমায় উদ্ভাসিত করে আজও পরাবাস্তবতার পথিকৃত হিসেবে বাংলা সাহিত্যে অনন্য উচ্চতায় অক্ষুণ্ণ রেখেছে।

বেদনার উৎসবে...

 

বেদনার উৎসবে...

- সাকিব জামাল
বেদনার উৎসবে ডুবে থাকি আমি
এইতো মহানন্দের জনম আমার!
এই জনমে-
দোয়েলের সাথে দেখা হয়,
কাঁঠাল গাছের ঘরে । ভেজা সন্ধ্যায়
গল্প জমে, কাফকা'র দ্য ক্যাসেলে!

ওস্তাদ, প্লাস্টিক

 ওস্তাদ, প্লাস্টিক

- সাকিব জামাল


ওস্তাদ, প্লাস্টিক!

ডাইনে প্লাস্টিক, বামে প্লাস্টিক

সামনে প্লাস্টিক, পেছনে প্লাস্টিক ।

আপে প্লাস্টিক

ডাউনে প্লাস্টিক

চারদিকে সমানে প্লাস্টিক

ম্যাক্রো প্লাস্টিক, মাইক্রো প্লাস্টিক ।

জীবনটাই প্লাস্টিক,  

ফুটবলের মতো গোল প্লাস্টিক

সুযোগ পাইলে সবাই

মারে আমাগো কিক!

ওস্তাদ, প্লাস্টিক...

-------

দৈনিক ইত্তেফাক এ প্রকাশিত ।