বুধবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৩

স্বাক্ষী শরৎকাল

 স্বাক্ষী শরৎকাল

- সাকিব জামাল


কোন এক শুক্রবার, পুরোটা বিকেল 

শাদারঙ কাশফুল আর

          নীল প্রজাপতির আকাশ 

মিলেমিশে হয়েছিল একাকার। 

ভালোবেসে দিনান্তে,

          সেদিন হেসেছিলো চাঁদ। 

ছিল নদী, পাখির গান। জয়ন্ত উৎসব।

স্বাক্ষী শরৎকাল!

কী আশ্চর্য! এখনও শরৎ আসে 

অথচ বিশেষ বিরহ।

সব বিকেল চুপচাপ! স্বাক্ষী নিরুত্তর!

চন্দ্রকথা

 চন্দ্রকথা

- সাকিব জামাল


পূর্ণ চাঁদে-

জল বাড়ে। ছল বাড়ে!

বাড়ে ফুলের ঘ্রাণ। 

সাধক ক্ষ্যাপা প্রেমিক হয়।

চাতক পায় প্রাণ।

আর আমি?

ভ্রমের সুরে গাই,

চলো পালায়ে যাই!

তিনটি হাইকু

 তিনটি হাইকু

- সাকিব জামাল


১.

এসো নাগিন,

রাতকে ভালোবেসে

বাজাবো বীণ!



২.

দেহস্থ নদী:

চন্দ্রবতীর প্রেমে-

জোয়ারবতী!



৩.

কুফা বরাত,

বিরহে ক্ষয়ে যায়

ফাগুনে চাঁদ!

রবিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৩

রিভলভিং চেয়ার

 রিভলভিং চেয়ার

- সাকিব জামাল


ভেবেছিলাম ফিক্সড পলিসি ফলোয়ার

অথচ চরিত্র সূর্যমুখী! ভৌগোলিক সূত্রে-

অদ্ভুত অস্থিতিশীল মন। 

দৃশ্যমান কিংবা অদৃশ্য ইকোনোমিক ব্যাকরণে 

সাজানো রিভলভিং চেয়ার।

বড়'রা বোধহয়, এমনই হয়! 

দিন শেষে, ক্লান্ত সব 'এলডিসি' প্রাণ!

রাঘব বোয়াল

 রাঘব বোয়াল

- সাকিব জামাল


তখন বয়স আমার হয়তো ষোল কি সতেরো!

এক বিকেলে বললো দাদাভাই,

চলো, আমরা নদীতে মাছ ধরতে যাই। 

ভীষণ মজা হবে! জাল আর নাও বের করো।

সেই বিকেলে জাল টেনে পেলাম কিছু চুনোপুটি

খানিকটা জাল গেল ছিড়ে।

দাদাভাইকে জিজ্ঞেস করলাম,

এখানে হলো কী রে!

জবাব এলো, বড় একটি বোয়াল বোধহয়

পড়েছিল ধরা। আহা, গেছে বেরিয়ে!

"চুনোপুটি ধরা খায়,

রাঘব বোয়াল বেরিয়ে যায়!"

সেই গল্প, এই স্মৃতি এখনও আমার, 

জীবন চলার বাঁকে বাঁকে মনে পড়ে বারবার।

হৃদয়পোড়া গন্ধ

 হৃদয়পোড়া গন্ধ

- সাকিব জামাল


হৃদয়পোড়া গন্ধ আমার, মেখে দিয়েছি শিউলি ফুলের গায়।

কোন এক সকালে তুমি এসে দেখো

ক্যামন বেদনা বিধুর চোখে চেয়ে আছি

বিচ্ছিন্নতাবোধের একেলা জনমে!

লোনা হয়ে গেছে শিশিরের জল।

বিষন্ন সবুজ প্রান্তরে এখন, 

কেউ মালা গাঁথার বায়না ধরে না।

অন্ধকারে ছেড়ে যাবার উৎসবে- ক্লান্ত শাদা মনফুল আমার।