সোমবার, ২৪ জুলাই, ২০১৭

এ নয়ন সে নয়ন খোঁজে

এ নয়ন সে নয়ন খোঁজে
যে নয়ন এ নয়ন বোঝে ।।


এ নয়ন সে নয়নে রাখে নয়ন
যে নয়ন এ নয়নের স্বপ্ন হয় চয়ন ।।


এ নয়ন সে নয়নে দেখে ছবি
যে নয়ন এ নয়নের প্রেমের রবি ।।


এ নয়নে সে নয়নে পায় সূখ
যে নয়ন এ নয়নের মুছে দেয় দু:খ ।।


এ নয়ন সে নয়নই কেবল খোঁজে
যে নয়ন সমতা'র দৃষ্টি সদা বোঝে !!

এখন বৃষ্টি

বাদল দিনে হিমেল হাওয়ায়- মন ভাসিয়ে মেঘের ভেলায় কল্পনার ডানা মেলে
গরম চায়ে পিপাসা মেটাই, আরাম কেদারায় পা নাচিয়ে –
ভাবি, স্বর্নালি জীবন সে যে এসেছি ফেলে ।


এমনও বাদল দিনে বন্দী কি আর থাকতাম- বয়েসটি হতো যদি উনিশ-কুড়ি !
কদম সাথে মিতালী হতো, হতো বৃষ্টিতে ভিজে হেথায় সেথায় কতো ঘোরাঘুরি ।
নদীর উপর ঝুলন্ত গাছের ডাল উঠে দিতাম একটা লাফ
মায়ের বকুনি ভয় ছিলোনা , ভয়ের ব্যক্তি একজনই ছিল- 'বাপ' !
চোখ এড়ানো যদি যেত তার-
সেও ছিলো বাদল দিনের আরেক উপহার !!
দুষ্ট ছেলের দল ভারি করতে ছাড়তাম হাঁক –
বের হ শালারা ! আয়, যাই, খেলার মাঠে - নদীর পাড়ের বাক ।
সবাই মিলে হৈহুল্লোর , মানতো না কোন বাধা এ মন
নানান খেলায় কাটতো বেলা, আনন্দের সুতায় সময় ছিলো বাধা সারাক্ষণ ।


এখন,বৃষ্টি এলে- জানালা দিয়ে দেখি অখবা চলার পথে, ছাতা ধরি মেলে ! মনে পাই ভয় –
যদি শরীর খারাপ হয় কিংবা যদি হয় সময়ের অপচয় !
অর্থনৈতিক ভাবনাও আছে সাথে !- এভাবেই কাটে সময় বাদল দিনে আজ
এখন বৃষ্টি: ফেলে আসা স্বার্নলী জীবনের শুধুই স্মৃতির বুদবুদ-মস্তিষ্কের মাঝ ।

বৃষ্টি ও অন্যান্য

কতো পশলা বৃষ্টি হলে- নেভে এক মুহুর্তের বিরহের আগুন !
কতোটি প্রেমের কবিতা- বর্ষাকালেও আনতে পারে মনে রঙিন ফাগুন !


বোঝে কে ? বিরহের আগুনে জ্বলন্ত বর্শা কতোটা বিধে বুকে-
যন্ত্রনার সে সময় কতো বিষাদময়, কাটে কতোটা দু:খে !


যে মা পাখি হারায়ে বাছাধন এখানে ওখানে খোজে -
তার হৃদয়ের বেদন আর কি কোন স্বজনে বোঝে ?


যে পাখি হারায়ে সঙ্গী - উড়ে উড়ে করে আহাজারি
সে গানের চেয়ে - কোন গান করে দু:খের গগন ভারি ?


যে পাখি হারিয়েছে বোন কিংবা হারিয়েছে ভাই –
তাদের সান্ত্বনা দেবার যধাযথ কোন শোককাব্য কোন সাহিত্যেও নাই !


প্রখম চরনে ফিরি !
শত শত পশলা বৃষ্টি হলেও- নেভেনা এক মুহুর্তের বিরহের আগুন !
শত শত প্রেমের কবিতাও- বর্ষাকালে আনতে পারেনা মনে রঙিন ফাগুন !
শুধুই ফিরে পেলে হারানো ধন - বিরহ কেটে আসে মিলনের মাহেন্দ্রক্ষণ ।।


অগ্রজ সুকানি

আকাশে কালো জলমুক
আর সফেন, উত্তাল জলরাশি দেখে
ভয় পেওনা সুকানি ,


হাজারো নবীন মাঝি
পেছনে তোমার একতেদায় -
জাগ-গান ধরে, নির্ভয়ে, দাও তীরে আনি ।


অধিকারহারা মানুষে সয়লাব
হাজারো এমন জলবোট বাধা তোমার জাহাজে
দেখো সমতার দুরবীণে, বিশ্ব মানবতার দুর্দিনে ,


শোষণ-নিপীড়ণের অথৈ সায়রে
তোমার জাহাজ সমতলে ভিড়বেই এ প্রত্যাশায় -
চালাও সুকানি, তীরে দাও আনি ।


হে অগ্রজ সুকানি, তুমি দায়িক ।
এড়ানোর উপায়ই নাই !
সমতল পৃথিবী রচনায় -
তুমি এক অভিযাত্রিক ।।

পাহাড়, ঝর্ণা এবং একটি লাশ

ঝর্ণা বলে - ওরে কালচে পাহাড় ,
তোর কি আছে আমার মত রূপের বাহার !

পাহাড় বলে - কোথায় পেলি তোর বুকের জল ?
জানিস কি ও যে আমারই কন্নার ফসল !

অহমিকায় ঝর্ণা হাসে, ভ্রুকুটি মেরে বলে উচ্চস্বরে –
তাই নাকি ? রুপালী চাঁদের জোসনা তোর বুকে কি খেলা করে ?
আছে কি বহতা পানির ঝুমঝুম গান তোর বাগে ?
আমার জলে শরীরটা ভিজিয়ে নেয় কত মানুষ এসে আনন্দ-অনুরাগে !

পাহাড় বলে- ওরে আত্মজা ,
নাড়ী ছেঁড়ার যন্ত্রণা সবাই বোঝেনা !

দেখোনা , বুকে পিঠে করে মানুষ করার পর – 
অকৃতজ্ঞ সন্তান বলে - বাবা-মায়ের লাশটিরও নাকি নাই তাদের দরকার !