বুধবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮

প্রেমিকা, না "চন্দ্রমা" ?

যদি না হতে পারো- এখনই কাছের প্রিয়তমা,
হও শত বছর পর- আগ্রহে দেখবার "চন্দ্রমা" !


সার্ধশত বছর, কম বা বেশি, না হয় হবে গত-
আমি তবু তোমার প্রেম সাধনায় থাকবো রত!


কখনো না কখনো, দেখা যে হবেই এক পলক, তবে অপলক!
বাকি সময় বয়ে বেড়াবো- সে মুখ দর্শনের ঝলক!


কথা দাও " সমতা চিহ্ন", তুমি প্রেমিকাই হবে-
শত, শত প্রেমিকের কষ্ট করে চিরতরে শেষ !
নাকি আপেক্ষার "চন্দ্রমা" হয়ে রবে কালের গহ্বরে -
দীর্ঘ প্রতীক্ষার বুকে - দিবে অসহনীয় পাথর চাপার রেশ!


আমার আশ, প্রেমিকা হও, "চন্দ্রমা" নয় !
অপেক্ষার প্রহর চাইনা, হোক জীবন প্রাপ্তিময় ।

যেখানে সবাই প্রশ্নবোধক!

টাকা'র কাছে অবনত সব মস্তক!
একই সুর বাজায়- ভিন্নতার সপ্তক!
টাকা বই,
কিছু নই!
টাকা'র কাছে বিক্রি হয় সব !
সব সমাসের সমস্ত পদের টাকা,টাকা রব !
প্রেম বিক্রি হয় ।
সাহস বিক্রি হয় ।
তারুন্য বিক্রি হয় ।
স্বাধীনতা বিক্রি হয় ।
চেতনা বিক্রি হয় ।
মনুষ্যত্ব বিক্রি হয় ।
এসবই জানি - তুমি এবং আমি ।
তবুও চেতনে-অবচেতনে টাকাই স্বামী!
কিছুদিন আগেও শুনেছি -
সব কিছু টাকা দিয়ে পাওয়া যায় না!
এখনকার আমরা দেখাচ্ছি ভীষণ মুন্সীয়ানা!
"সব কিছু টাকা দিয়ে পাওয়া যায়"-
হাড়ে হাড়ে বুঝাচ্ছি, বুঝেছি !
প্রশ্ন : কবি, সে ও টাকার কাছে বিক্রি হয়?
হয়! দিব্যি হয় !
এ আর এমন কি - সাধকও সতীত্ব বেঁচে-
মুখ লুকিয়ে-মুখোশ পরে রয়!
চুপি, চুপি
ভালোবাসি ।
একথা শুনেই সবাই ভাবে-
এ বুঝি, প্রিয়জনকে ভালোবাসা-বাসি!
মনের কোনের লোভের কুঞ্জে -
ও পাখি সে ও চায় - টাকার হাসি!
সত্য বচন-
তিক্ত কথন ।
"টাকাকে ভালোবাসিনা !"
আদৌ বলতে পারিনি!
কোনমতেই বলতে পারছিনা!
সন্দেহ, বলতে পারবো কি না !
কারণ, রোধকের বোধও প্রশ্নবোধক!
এইযুগে - কে হবে কালিমা শোধক ?
না কবি! না সাধক!
টাকার মোহগ্রস্থ বিশ্ব- অন্যরূপের দোযখ ।
মুক্তি চাই,
মুক্তি চাই,
মুক্তি চাই ।
সব কিছু টাকা দিয়ে কিনতে নাই ।
চেস্টা করে দেখি-
যতটুকু পারা যায় ! ততটুকুই চেস্টা চাই ।
জ্বলন্ত মোহরের ছাঁপ থেকে-
নিজেকে বাঁচাতে চাই ।

কবিতার জনপ্রিয়তা কমেছে- এটি একটি অপপ্রচার!

কবিতার জনপ্রিয়তা কমেছে- এটি একটি অপপ্রচার!
এখনো কবিতার ভালোবাসায়ই সাজানো আমাদের জীবন সংসার ।


এখনো সব মা শিশুকে কপালে "চাঁদ মামার টিপ" পরায় !
এখনো "ঘুম পরানির মাসি পিসির সুরে" পাড়া জুড়ায় !


এখনো কৃষক "হই হই - ডান বাম" ছড়া গানে চড়ায় হাল,
এখনো রাখাল "ভ্রমর কইয়ো গিয়া" সুরে নামায় সন্ধ্যাকাল !


এখনো দিন মজুর সহ সব শ্রণী কথা বলে ছন্দে ছন্দে,
এখনো কবিতাই আছে মিশে সব মানুষের রন্ধ্রে রন্ধ্রে !


এখনো প্রেমিক-প্রেমিকা কবিতায় কথা কয় !
এখনো রাজনীতিবিদ ছন্দে কাঁপায় বতৃতায় !


এখনো সমাজে সচেতনা বাড়ানোর স্লোগান শুনি কবিতায়-কবিতায় !
এখনো পত্রিকার শিরোনাম হয় ছন্দময় পাতায়-পাতায় !


এখনো মানুষের জন্ম-মৃত্যুতে গীতি কবিতা বাজে !
এখনো সুথ-দু:খরা সুরে বেসুরে কবিতার রঙে সাজে !


এখনো মানব জীবনে - "ভালো-মন্দ" সর্বত্রই আছে কবিতার উপমা !
দ্বিমত নেই ! পৃথিবী যতদিন আছে ততদিনই থাকবে কবিতার রূপমা !

চলছে জীবন কর্পোরেটময়!

এসেছো? এতো দেরি? এতো!
আজ রাতে বাড়ি না ফিরলেই হতো!
ভোরতো হয়েই এলো-
অফিসে না হয় আজ রাতটি কেটেই যেতো!


এতো প্যাচাল পড়োনা,
খাবার থাকলে কিছু দাওনা!
বাবু ঘুমিয়ে পরেছে?
আজও কি "বাবা" বলে কেঁদেছে?


হয়েছে, হয়েছে-
খেয়ে নাও!
আমি ঘুম পরতে যাচ্ছি!
ও... হাচ্ছি!!!


কি হয়েছে তোমার?


দরদ দেখাতে হবেনা- এমন ছিল কপাল আমার!


ফোন করলে- কাজ,
কোথাও যেতে বললে- কাজ,
সন্তানের দেখাশুনা করার খবর নাই- কাজ!
আর আমার খোজ নেবার সময় হলো আজ!!!


যাক, বাবা, কপালে ছিলো কর্পোরেট অফিসার!
টাকা পেয়েছি, অভাব হলো ভালোবাসার!!!


এ কেমন কথা?
আমি তোমাকে ভালোবাসিনা?


খুব ভাসো-
বিয়ের তারিখটি বলো?


সব কি আর মনে থাকে, আসবে নাকি এসে চলে গেলো!


বাবুর জন্মদিনে ছিলে?


সব চাওয়া কি সবার মিলে!


বাবা-মা একসাথে দেখতে যাওয়া এবার হলো?


চাইলেই কি ছুটি মেলে বলো!


আমাকে ঘুরতে নিয়ে গিয়েছো কখনো কোথাও?


সব ইচ্ছে কি পুরন হয় সবার জীবনে সময়মত!


মোবাইলে তোমার ছবি ছাড়া বাবু কবে দেখেছে তোমায়?


সব সময় কি আর কাছে থাকা যায়!


এখন তুমিই বলো, শুনি-
কতোটা ভালোবাসো আমায়, আমাদের- তুমি!


গম্ভীর, নির্বাক- সুবীর!
মন ভারেই পার হয় নিয়মত আরও একটি রাত!
চলছে জীবন কর্পোরেটময়,
যথা নিয়মে বাসায় ফেরা- অফিস যাতায়াত!!

রবিবার, ২৮ জানুয়ারি, ২০১৮

হেমন্তে বৃষ্টি প্রেম

হেমন্ত বেলায়, ভেসে মেঘের ভেলায়, 
অদিনে বৃষ্টির এমন ভ্রমন - 
ভিন্নতা ভরা এক অপূর্ব শিহরণ ।
এ অবুঝ মন, খোঁজে উষ্ণ অলিঙ্গন,
এমন নিশিথে, এলোমেলো সুরে-
পাখি একটু করোনা কূজন !

মুচকি হেসে, আনমন বেশে,
অবাক চাহনি, ইশারায় তীর করে নিক্ষেপণ-
পাখি তোলে মনে, প্রেমের সারগাম বৃষ্টির ছন্দে !
হেমন্তের হিমেল পবনে, মন দোলে,
বুঝিনা কোন সুরে, কি করে তাল মিলাই, কোন রাগিনীর রাগে এখন -
পাখির মন পড়তে পরে যাই দন্ধে !

ছন্দে, দন্ধে-
হেমন্তের বৃষ্টি !
ভালোবাসি বলি-
নাকি বলি অনাসৃষ্টি !

মনে মনে ভাবি, যা হোক - আগুনকে ভালোবেসে কতো পতঙ্গ পুড়ে হয় ছাই -
তেমনি না হয় হোক, তবুও আমি তোমাকে চাই !
সাহাস করে পাখির প্রেমে, বৃষ্টির সুরে হেমন্ত সমীরণে বাজালাম সুর -
তখন হেসে পাখি বলে ভালোবেসে- 
"সব কথা মুখে বলা যায় না, কিছু কথা বুঝে নিতে হয় !"
দুজনেই কূজনে বলি অবশেষে- হেমন্তে বৃষ্টি প্রেম: আহা, কী মধুর !