মঙ্গলবার, ১৯ মার্চ, ২০১৯

বলি আমি দ্বিধাহীন- সতেরই মার্চ শুভদিন!

সময়ের পিছনমূখী যাত্রায়- কল্পনার নৌকা আমার নোঙর ফেলে- আজ হতে প্রায় শত বর্ষ পূর্বে,
এই দিনের সেই সময়ের এই ক্ষণে ।
বলতে পারি আমি নিশ্চিত মনে-
বাঙালির প্রয়োজনে ইতিহাসই চেয়েছিলো:
পরাধীনতার চৈতালী রোদ্দুরে তৃষ্ণার্ত চাতকের মত স্বাধীনতার শীতল পরশ পেতে উন্মূখ ছিলো-
যে বাংলার জমিন, 
যে বাংলার মানুষ,
        সেই বাংলারই এক চিলতে প্রিয় মাটির বুকে, দুরন্ত মধুমতি নদীর কোলঘেষা- শ্যামল মাটির মায়ামাখা টুঙ্গিপাড়া গ্রামে, 
        সেই বাংলারই সব মানুষকে মুক্তির বানী শোনাতে, অধিকারের গান শোনাতে-
জন্ম নিক- 
ডানপিঠে এক মুজিব!

না আমার পূর্ব প্রজন্ম,
অথবা না আমার উত্তর প্রজন্ম
কেউ দ্বিমত করবে না-
এই দিনের সেই সময়ের আমার কল্পনাচিত্রের!
         সেই সময়ের সব মা,
         সেই সময়ের সব বাবা,
স্বপ্ন দেখতোঃ পলাশীর ডুবন্ত সূর্য উঠবে ফের যদি তাদের কোলে আসে- বীর সূর্য সন্তান!
নিঃসংকোচে ইতিহাস আজ স্বাক্ষী দেয়,
"সায়েরা খাতুন এবং শেখ লুৎফর রহমান"
সেই দম্পতি, সেই সৌভাগ্যবান!
এরপর আমার কল্পনার নৌকাখানি-
উনিশ শত বিশ সালের সতেরো মার্চ থেকে 
নোঙর তুলে সামনে এগিয়ে যায় অবিরাম!
স্বাগত হয় আগত সময় মুহুর্মুহু ইতিহাসে-
            সংগ্রামের ইতিহাস,
            স্বাধীনতার ইতিহাস,
            মুক্তির ইতিহাস ।
ব্রিটিশ উপনিবেশ পতন-পূর্ব পাকিস্তান প্রতিষ্ঠা-স্বাধীন বাংলাদেশঃ উন্থান, অভ্যুদয়ের ইতিহাস ।
কর্ম এবং গুনে স্বর্নাক্ষরে লেখা হয় ইতিহাসের পাতায় পাতায়- মুজিব নাম, বারবার মুজিবের নাম ।

আজ তাই, বলি আমি দ্বিধাহীন-
             সেই সময়- এই দিন,
             এই সময়- এই দিন,
            অন্ততকাল- এই দিন,
             শুভ, শুভ, শুভ দিন ।
বলি আমি দ্বিধাহীন- সতেরই মার্চ শুভদিন!
আরও গর্ব করে, আমি বলি উচ্চস্বরে-
"বাঙালির প্রয়োজনে-বিধাতার সেরা দান,
প্রিয় বাংলাদেশ, প্রিয় শেখ মুজিবুর রহমান।"

বুধবার, ১৩ মার্চ, ২০১৯

ঢেউ খেলে প্রেম! (সনেট)

জলের মতন সমতল এই মন-
উঁচু-নিচু দশা কখনোই সে বোঝে না!
ভালোবাসা বনাম বিরহের বেদনা-
ঢেউখেলা তোরই জারী করা সমন!
আনন্দ ঢেউ চুড়া তোর প্রেমে বিকাশ-
সর্বোচ্চ ভালোবাসার মিশেল কুজনে,
সর্বনিম্ম হয় সে বিচ্ছেদের ভুবনে-
ঢেউ পাদদেশ দু:খ বিরহ প্রকাশ ।

প্রেম সাগরে ঢেউ খেলা চাঁদের টান-
মনের ভালোবাসার আকর্ষণ সম'
জোয়ার ভাটা আসে যায় তার প্রভাব।
প্রেমিকার হাতেই সুখ-দুঃখের প্রাণ-
মরে বা বাঁচে প্রেমিকের অন্তর মম,
ঢেউখেলা প্রেমের চিরন্তন স্বভাব ।

(অন্ত্যমিল: কখখক কখখক । গঘঙগঘঙ)

আমার দয়ার নবীজী

আমার দয়ার নবীজী-
মোহাম্মাদ রাসুলুল্লাহ (সমাবেত কন্ঠে)
আমার মায়ার নবীজী- 
মোহাম্মাদ রাসুলুল্লাহ (সমাবেত কন্ঠে) ।।
আমার দয়ার নবীজী
আমার মায়ার নবীজী 
হৃদয় দিয়ে তোমায় আমি-
শুধুই ভালোবেসেছি ।।

ভালোবাসার নিদর্শনে,
জীবন চলার পথে মতে,
রবের নির্দেশ, তোমার আদেশ-
করবো পালন বিধি নিষেধ ।
এই জীবনে আদর্শ তুমি-
আমি মেনে নিয়েছি ।।
আমার দয়ার নবীজী
মোহাম্মাদ রাসুলুল্লাহ (সমাবেত কন্ঠে)
আমার মায়ার নবীজী 
মোহাম্মাদ রাসুলুল্লাহ (সমাবেত কন্ঠে) ।।

ভালোবেসে তোমার কাছে-
চাই না কিছু আর,
আখিরাতে আমায় উম্মত বলে-
করো যেন স্বীকার ।
অভাগা আমি, তোমার কাছে-
এ মিনতিটুকু করেছি ।।
আমার দয়ার নবীজী
মোহাম্মাদ রাসুলুল্লাহ (সমাবেত কন্ঠে)
আমার মায়ার নবীজী 
মোহাম্মাদ রাসুলুল্লাহ (সমাবেত কন্ঠে) ।।

উচিৎ ছিলো- দশা বিপরীত

কবিতার বিষয়বস্তুঃ
জঙ্গলে লাফায় তিমি!
শিশুরা পান চিবায়- বুড়োরা খায় চকলেট, মিমি!
নদীতে চলে ঝাঁকে ঝাঁকে গাড়ি-
আকাশে সাজানো সারি সারি বাড়ি!
বুঝলেন ভাইজান-
চুরুটে মহাঔষধী টান!
বুঝলেন বুবুজান-
সজারু ফুল ফোটে- বর্ষায় কদম বেমানান!
আহা কী সুখ! কার্বন-ধোয়ার সৌরভে প্রায় শহরের বাঁক-
আহা কী দারুন! পদপিষ্ঠ করে কমানোর চেষ্টা দারিদ্র্যের হাঁক!
শান্তির পায়রার পেটে বোমা ডিম- উন্নয়ন চমৎকার!
বিশ্বনেতারা ভীষণ যোগ্য! জয়তু উগ্রতা- ফক্কা মানবাধিকার! 
সারা বিশ্বে- বর্তমান এখন সর্বকালের সেরা দশা!
এমন কবিতার শিরোনামঃ"যাহা বলিব সত্য বলিব", কবিঃ প্রথিতযশা!

অথচ, উচিৎ ছিলো- দশা বিপরীত ।

হৃদয় দিয়ে হৃদয় খোঁজো

হৃদয় দিয়ে হৃদয় খোঁজো-
নয়ন দিয়ে না!
মনের ডাকে সাড়া দিও-
অন্য ডাকে না!
অন্য ডাকে না ।।

চোখের ধাঁধা মরিচিকা,
রূপে বাঁধা নেশা ক্ষণিকা,
হৃদয় টানো মনে মনে-
বাসা বাধো গহীন কোণে ।
এমন প্রেমে ভয় থাকে না-
বান্ধব হারায় না ।।

আসল-নকল, দ্বিধা-দ্বন্ধ,
চেনা কঠিন ভালো-মন্দ,
মনের মানুষ চিনতে হলে-
তা করো- যা হৃদয় বলে!
হৃদয় সেতো বিবেক রূপ-
মিথ্যা বলে না ।।