সোমবার, ১ এপ্রিল, ২০১৯

সাপ কপালে প্রেম!

চাল শুরু...
এক, দুই, তিন,
আনন্দে শুরু হয়-ভালোবাসার দিন।
চার, পাঁচ, ছয়,
ভাবনা হৃদয়ে-ভালোবাসার হবে জয়।
অবাক, আমাকে ছুঁয়ে- তুমি খেয়ে দাও!
তোমাকে ধরতেই পারি না আমি- কী রহস্যময়!
হঠাৎ করে,
সাপের মূখে পড়ে আমি- শূন্য হই!
তোমার দেখা মেলে- উপরে ওঠার মই!
চাল শেষে...
তুমি জয়ী । তোমার সুখের দিনকাল।
সাপ কপালে প্রেম আমার- একাকীত্ব চিরকাল!

আমার ব্যাথাটি ঠিক সেখানে!

সময়টি ছিলো- বসন্তকাল ।
তুমি বললে, আমার হৃদয়ে যে সুর বাজে ঠিক যেন দখিনা বাতাসের দোল ।
তোমার চেতালি তৃষ্ণা মেটানোর ক্ষমতা আছে- আমার বুকের স্পর্শে ।
কান পেতেই শোনা যায় বসন্তের গান-কুহুকুহু ।
অথচ, আজ সেখানে অনুভব করি আমি-
উহু, উহুঃ বিরহ ব্যাথার নিরব চিৎকার ।
কারন, কতোকাল বুকটি আমার পরশ বিহীন কোকিলার- 
সে সময় গুনতে গুনতে ক্লান্ত হয়ে আর গুনতে পারি না!
কতোকাল তুমি বসন্ত বিকেলে মাথা রাখো না- 
সে সময় গুনতে গুনতে ক্লান্ত হয়ে আর গুনতে পারি না!
কতোকাল তুমি বাঁকা চোখে আমার পানে তাকাও না, 
শার্টের বোতাম খুলে নগ্ন বুকে আমার চুমু দাও না- 
সে সময় গুনতে গুনতে ক্লান্ত হয়ে আর গুনতে পারি না!
আমার ব্যাথাটি ঠিক সেখানে-
যেখানে তুমি মাথা রেখেছিলে ভালোবেসে ক্ষনকাল ।

শুনেছি, স্বভাবে কোকিলা অন্যবাসায় জন্মায় সন্তান!
ভুল স্বজন প্রেমে- বিরহ ব্যাথা স্বাভাবিক প্রতিদান!!

তোমার প্রেম- আমার জীবনে নীলসময়

আর কতো? প্রেমের ছলে-
নামাবে আমায় তুমি নীল জলে!
জলপরি-
তোমার হাতে-পায়ে ধরি,
ক্ষান্ত দাও এবার!
প্রেমের বদলে- বিরহসময় দিওনা উপহার।
এই পথে সুখ ভীষণ,
ধারনা সব প্রেমিকেরই এমন।
আমার বুকের বাম দুধের নিচে তাই- 
তোমার নামে, ভুল প্রেমে টিকটিক আওয়াজ ছিলো সারাক্ষণ-
পূর্বকালে।
পরে বুঝি, তুমি মোহগ্রস্থ! জাগতিক কামে ইন্দ্রীয়বিলাসী।
নতুন পোশাকের প্রেম আছে- আবার পুরনোটিও ফেলতে ইচ্ছে হয় না তোমার!
আমার ইচ্ছে তাই- শূন্য হৃদয় মন্দিরে ফিরে যাই।
বিদায় জলপরি, আর ডুবে না মরি!

তোমার প্রেম- আমার জীবনে নীলসময় ।

আলোক সজ্জার দিন ক্ষণ

২৬ শে মার্চ এবং ১৬ই ডিসেম্বর- আলোক সজ্জা করতে হয় আমাদের। করি।  
তবে ভুলে যাই, দুটো আঁধারে ভরা কালোরাত আছে আগে তার- দুটো দিনেরই।
২৫ শে মার্চ এবং ১৪ই ডিসেম্বর।
আলোকটা তাহলে জ্বালাবো কখন?
কখন মূলত মানানসই দিন-ক্ষণ?
উৎসাহ আমাদের উৎসবে একটু বেশিই- দেরি সয়না!
আত্মত্যাগ বা মর্মান্তিক ঘটনা একটু কমই মনে রয়!
মতামত ব্যক্তিগত, তবে ভাবনাটা সার্বজনীন-
২৫ এর আগে ২৬ এর রঙিন আলোক সজ্জা- বেমানান।
১৪ এর আগে ১৬ এর রঙিন আলোক সজ্জা- বেমানান।

শাপলাকলির আলোক অভিযাত্রা- স্বাধীনতা!

জলপাথর চাপা থাকে থাকে মাথার উপর। যদিও পুকুরটুকুই সীমানা তবে নির্দ্রিষ্ট মানচিত্র।
আপন ভূমির ভালোবাসায়, মোহময়তায়- শিকড় এই কাঁদা মাটি জলেই গ্রোথিত।
কখনো বহিরাগত, কখনো অভ্যন্তরীন রাক্ষুসে প্রাণীসকল ঠোকড় মারে, মারতে চায়! নতুন, পুরাতন আরও বিপদ কতো!
তবুও সংগ্রাম করে বাঁচিয়ে রাখতে হয় দেহ-সম্মান, শিকড় পাকাপোক্ত করার অব্যহত চেস্টা কর্ম, বাকি সহোদরদের নিয়ে নিরাপদ পুকুরের প্রার্থনাও বাঁচিয়ে রাখতে হয় অবিরত।
হঠাৎ হঠাৎ মাথার উপর শ্যাওলা আসে, জলে ভাসে-
উঁচু শিড়ে উর্ধ্বমূখী স্মৃতিসৌধের চেহারারূপ শাপলাকলির আলোক অভিযাত্রা- বাধা মানে না কোন! 
আপনরূপে, আপনগুনে পুরো পৃথিবীকে মোহিত করার বাসনায়- ফোটে ঝাঁকে ঝাঁকে স্বাধীনতা!
ঝাঁকে ঝাঁকে শাপলা হাসে!
প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম হাসে!
স্বাধীনতার গানে গানে-
আগামী প্রহরগুলো হাতছানি দিয়ে ডেকে বলে,
এইতো শুরু হলো- পৃথিবীর বুকে অবিরত শাপলা ফোটার জয়োল্লাস।