বৃহস্পতিবার, ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৪

আমি আগের ঠিকানায়ই আছি

কততো দিন হলো তোমার কোন চিঠি পাইনি
তুমি কি জানো ? আমি আগের ঠিকানায়ই আছি 
যে ঠিকানা লেখা ছিলো 
তোমাকে দেয়া কোন এক চিঠিতে
আমারই রক্তের অক্ষরে লেখা !
ওহ্ ভুলেইতো গেছি
বয়স হয়েছে যে !
তোমার কোন এক বান্ধবী বলেছিলো
আমার উপর রাগ করে
আমার দেয়া সব কিছুই আগুনে পুড়িয়েছো ।
মনতো পোড়াতে পারনি !
একটু মনে করে দেখো
আমি আগের ঠিকানায়ই আছি ।
স্টেশন রোড নেমে
আঁকা বাঁকা মেঠো পথ বে‍ঁয়ে
সবুজে ঘেরা কুঁড়ে ঘরটি আমার
ছোট নদীর পাশে
আমার ঠিকানা
সে ছোট্ট সোনার গাঁ ।
এখনো সেথায় সন্ধ্যা নামে
পড়ন্ত বিকেলে রাখালের বাঁশি বাজে 
সন্ধ্যারাতে জোনাকীর বসে মেলা
দিব্যি ওড়ানো যায় সেথায় আজও 
মন পবনের ভেলা !
একটি চিঠি দিও
আবারও আমায়
গোধুলি বেলায়
আ‍ধো আলো আধো ছায়ায়
পড়বো বারবার ।
ও ঠিকানাটা
আমি আগের ঠিকানায়ই আছি ।
তবে...
নিসঙ্গ, একা !

সোমবার, ১৮ নভেম্বর, ২০১৩

বসন্তবেলার সন্ধ্যারাতে

সেদিন বসন্তবেলার সন্ধ্যারাতে
অন্ধকারটা তখনো হয়নি ঘুটঘুটে
মেঠোপথের পাশে বসে ছিলাম একাকী
অদূর ঝোপঝাড়ে জ্বলছিল জোনাকী 
একটা ধরেছিলাম বটে তোমার কপালে পড়াব বলে
ডেকেছিলাম তোমায় আমি অস্পষ্ট আবেগী কন্ঠে
হাতে নিয়ে মেঠোফুল ।আসলে না যে
শুনতে কি তা পাওনি বলে !
নিস্তব্ধ ছিল সময়টা, বিরহ ছিল সঙ্গী
কল্পনাটা তবে রয়নি বন্দী, খুজে নিল সে তোমায়
ভালোবাসা দিয়ে করেছিল ব্যাকুল । মাথা রেখে কোলে
কি যেন কি বললে সে আধোআধো বো্লে
হাসলে কাঁদলে বললে আরও ভালোবাসো
এমনি মধুময় প্রতি সন্ধ্যারাতে ।
আকাশে তারারা ছিল, দিশেহারা হয়ে তারা
তোমার আমার খুনসুটি দেখে যেন উঠেছিল হেসে
সম্ভিত ফিরে পেয়ে দে‍খি হ্যাঁ আমি একাই আছি বসে
তুমি যে কখন চলে গেলে, না রেখে কিছু স্মৃতি ছাড়া ।
দক্ষিণে বাতাস এসে অবশেষে
বলল আসবে সে কল্পনালোক ছেড়ে
প্রতীক্ষার প্রহর গুণো একাকী তুমি
তারা, জোনাকী, আলোছায়া, মৃদুমন্দ সমীরণ নিয়ে পাশে ।

ইচ্ছে করে

ইচ্ছে করে হাটু গেড়ে বসে থাকি
দাড়ায়ে রেখে সামনে তোমায়
দুটি হাত ধরে বলি ভালোবাসি
ডাকো আরও কাছাকাছি আমায় ।
ইচ্ছে করে থাকি তাকায়ে
মূখপানে তোমার মনহারিত্ব সৌন্দর্যে
মুগ্ধ করি মোর এ দু নয়ন ।
রাখি সদা পাশে সুখে কিংবা দুখে
করি আদর লাস্যময়ী ও ঠোটে
এছাড়াতো নাহি মোর কোন উপায়ন ।
ইচ্ছে করে হে অষ্টনায়িকা তোমার পদ্মাক্ষ দুটি
দেখি চেয়ে অপলক মোর তরে যেথায়
অসীম প্রেমাশ্রিত মুগ্ধ দৃষ্টি 
কভু নাহি নিতে চায় ছুটি ।
ইচ্ছে করে হাত বুলিয়ে এলো করি তোমার কেশ
বলি দেবী কি আছে মোর যা দিব তোমায়
সাধ্য যতটুকু বাসি ততটুকু ভালো
শুধু এতটুকু করি অভিলেশ
ভালোবেসো আজীবন
যদি করি ভুল কখনো-ক্ষমিও আমায় ।

বউ

আমি পেয়েছি তাকে- যে ছিল মোর স্বপ্নলোকে
ধ্যানের দেবী এবং প্রার্থণার মানবী
রেখেছিনু যারে হৃদয়ের কোঠরে ভালোবেসে
সে দিয়েছে যে মোরে আজ এতখানি অধিকার
কারনে কিংবা অকারনে 'বউ' বলে ডাকিবার 
পুতুল খেলা কিংবা বউছির ছলে নয়
ভালোবেসে প্রাণখুলে ডাকিতে হবে যে বারবার
বউ-ভালোবাস মোরে, যত বেশী পার, যত বেশী পারিবার!

ফুলশয্যা

যে রাতের দীর্ঘায়ু কামনায়
বেজে বেজে ওঠে সানাইয়ের সুর
প্রার্থণা করে রাতে বিছানার ফুল ।
সে রাতে দুটি হৃদয়ের একই স্পন্দন
মর্ত্যের বুকে স্বর্গ খোজে দুটি মন
প্রেমের কাব্য রচনায় যুগলেরা ব্যকুল ।