বৃহস্পতিবার, ২১ মার্চ, ২০১৯

বৈষয়িক প্রেম নিকোটিন

বৈষয়িক প্রেম নিকোটিনে উদ্বীপ্ত নিউরন-
সরাক্ষণ মোহগ্রস্থ থাকে আত্মকেন্দ্রিক বিকাশ বিলাসে!
বোঝে না সে বোঝে না-
                           পরিবারের বিকাশ,
বোঝে না সে বোঝে না-
                          সমাজের বিকাশ,
বোঝে না সে বোঝে না-
                          দেশমাতৃকার বিকাশ,
বোঝে না সে বোঝে না-
                           বিশ্বের বিকাশ ।
শুধু সুখের সুখটান চায়-
আত্মকেন্দ্রিক ভোগবৃত্তে বন্দীত্বের সুখ !

বৈষয়িক প্রেম নিকোটিনে- 
                          হৃদরোগ হয় পরিবারের!
                          স্টোক হয় সমাজের!
                          শ্বাস কষ্ট হয় দেশের!
                          ক্যান্সার হয় বিশ্বের!
                          মৃত্যু হয় মানবতার!

বৈষয়িক প্রেম নিকোটিন সবার জন্য ক্ষতিকর ।

দোল লগনে আয় রাধিকা আমার কুঞ্জবনে


সময় বয়ে যায়, আয় রাধিকা আয়- দোল লগনে,
মাতবো দুজন রঙের খেলায়- মনের প্রেম কুঞ্জবনে ।
জোছনা বিলাসে- ভর যৌবনে চন্দ্রবতী ভাসছে গগন গঙ্গায়,
এমন সময় চুপচুপ পায়, আমার কাছে আয়, প্রেমের যমুনায় ।
আয় রাধিকা আয়, সময় বয়ে যায় ।।
প্রেমের লগন বয়ে যায় ।। দোলের লগন বয়ে যায় ।।

সপ্ত রঙে, নানান ঢঙে, আজ মাতাল প্রেমিকের দলে-
গোপন কথা, মনের কথা- যার যার সখীর কাছে বলে ।
তোরে ভীষণ ভালোবাসি, আমি একা বসে আছি- তোরই সাধনায়,
এমন সময় চুপচুপ পায়, আমার কাছে আয়, প্রেমের ভজনায় ।
আয় রাধিকা আয়, সময় বয়ে যায় ।।
প্রেমের লগন বয়ে যায় ।। দোলের লগন বয়ে যায় ।।

আমার কুঞ্জবনে আজ ফুল ফুটেছে, পাখি গাইছে গান,
এমন ক্ষণে পাগল মনে- চায় হোক একলা থাকা অবসান ।
তুই কি সখী একলা রবি, বিরহ দুঃখু সবি- এমন পূর্ণিমায়?
এমন সময় চুপচুপ পায়, আমার কাছে আয়, প্রেমের মোহনায় ।
আয় রাধিকা আয়, সময় বয়ে যায় ।।
প্রেমের লগন বয়ে যায় ।। দোলের লগন বয়ে যায় ।।

মঙ্গলবার, ১৯ মার্চ, ২০১৯

যে চিত্রটির রূপ-রঙ-ঢঙ পাল্টাতে পারেনি আজও কেউ!

৯৯ এর দল চেয়ে চেয়ে দেখে- সুখ! 
কখনো দাঁত দিয়ে আঙুল কামড়ে ধরে,
কখনো গালে হাত দিয়ে ভেবে ভেবে মরে,
তবুও অন্তরে গোপন রাখে দুঃখ!
৯৯ এর দল চেয়ে চেয়ে দেখে- সুখ! 
১ এর দলই উপভোগ করে, নামে-বেনামে!!!
বিশ্বজুড়ে এই চিত্রই গ্যালারিতে প্রদর্শিত হয়-
কোন চিত্রশিল্পীও নয়,
কোন কবিও নয়,
কোন মানবাধিকারকর্মীও নয়,
কোন ধর্মগুরুও নয়,
কোন রাজনিতিবিদও নয়,
কোন দার্শনিকও নয়,
এই চিত্রটির রূপ-রঙ-ঢঙ পাল্টাতে পারেনি আজও কেউ!
এমন একটি চিত্র আঁকতে চেয়েছিলো যেসব মন- সমান সমান চিহ্ন নিয়ে!
সবারই রঙতুলি নিয়ে যায়- ১ এর দলের লোকেরা ছোবল দিয়ে!
অথবা লোভ দেখিয়ে ১ এর দলে ভিড়িয়ে ফেলে!!
অথবা ভালোবেসে কাছে টেনে বানিয়ে নেয় ১ এর দলেরই লোক!!!
৯৯ এর দল চেয়ে চেয়ে দেখে সুখ-
১ এর দলই উপভোগ করে, নামে-বেনামে!!!

যে চিত্রটির রূপ-রঙ-ঢঙ পাল্টাতে পারেনি আজও কেউ-
সে চিত্রটি- মজলুম জনতার ।

বলি আমি দ্বিধাহীন- সতেরই মার্চ শুভদিন!

সময়ের পিছনমূখী যাত্রায়- কল্পনার নৌকা আমার নোঙর ফেলে- আজ হতে প্রায় শত বর্ষ পূর্বে,
এই দিনের সেই সময়ের এই ক্ষণে ।
বলতে পারি আমি নিশ্চিত মনে-
বাঙালির প্রয়োজনে ইতিহাসই চেয়েছিলো:
পরাধীনতার চৈতালী রোদ্দুরে তৃষ্ণার্ত চাতকের মত স্বাধীনতার শীতল পরশ পেতে উন্মূখ ছিলো-
যে বাংলার জমিন, 
যে বাংলার মানুষ,
        সেই বাংলারই এক চিলতে প্রিয় মাটির বুকে, দুরন্ত মধুমতি নদীর কোলঘেষা- শ্যামল মাটির মায়ামাখা টুঙ্গিপাড়া গ্রামে, 
        সেই বাংলারই সব মানুষকে মুক্তির বানী শোনাতে, অধিকারের গান শোনাতে-
জন্ম নিক- 
ডানপিঠে এক মুজিব!

না আমার পূর্ব প্রজন্ম,
অথবা না আমার উত্তর প্রজন্ম
কেউ দ্বিমত করবে না-
এই দিনের সেই সময়ের আমার কল্পনাচিত্রের!
         সেই সময়ের সব মা,
         সেই সময়ের সব বাবা,
স্বপ্ন দেখতোঃ পলাশীর ডুবন্ত সূর্য উঠবে ফের যদি তাদের কোলে আসে- বীর সূর্য সন্তান!
নিঃসংকোচে ইতিহাস আজ স্বাক্ষী দেয়,
"সায়েরা খাতুন এবং শেখ লুৎফর রহমান"
সেই দম্পতি, সেই সৌভাগ্যবান!
এরপর আমার কল্পনার নৌকাখানি-
উনিশ শত বিশ সালের সতেরো মার্চ থেকে 
নোঙর তুলে সামনে এগিয়ে যায় অবিরাম!
স্বাগত হয় আগত সময় মুহুর্মুহু ইতিহাসে-
            সংগ্রামের ইতিহাস,
            স্বাধীনতার ইতিহাস,
            মুক্তির ইতিহাস ।
ব্রিটিশ উপনিবেশ পতন-পূর্ব পাকিস্তান প্রতিষ্ঠা-স্বাধীন বাংলাদেশঃ উন্থান, অভ্যুদয়ের ইতিহাস ।
কর্ম এবং গুনে স্বর্নাক্ষরে লেখা হয় ইতিহাসের পাতায় পাতায়- মুজিব নাম, বারবার মুজিবের নাম ।

আজ তাই, বলি আমি দ্বিধাহীন-
             সেই সময়- এই দিন,
             এই সময়- এই দিন,
            অন্ততকাল- এই দিন,
             শুভ, শুভ, শুভ দিন ।
বলি আমি দ্বিধাহীন- সতেরই মার্চ শুভদিন!
আরও গর্ব করে, আমি বলি উচ্চস্বরে-
"বাঙালির প্রয়োজনে-বিধাতার সেরা দান,
প্রিয় বাংলাদেশ, প্রিয় শেখ মুজিবুর রহমান।"

বুধবার, ১৩ মার্চ, ২০১৯

ঢেউ খেলে প্রেম! (সনেট)

জলের মতন সমতল এই মন-
উঁচু-নিচু দশা কখনোই সে বোঝে না!
ভালোবাসা বনাম বিরহের বেদনা-
ঢেউখেলা তোরই জারী করা সমন!
আনন্দ ঢেউ চুড়া তোর প্রেমে বিকাশ-
সর্বোচ্চ ভালোবাসার মিশেল কুজনে,
সর্বনিম্ম হয় সে বিচ্ছেদের ভুবনে-
ঢেউ পাদদেশ দু:খ বিরহ প্রকাশ ।

প্রেম সাগরে ঢেউ খেলা চাঁদের টান-
মনের ভালোবাসার আকর্ষণ সম'
জোয়ার ভাটা আসে যায় তার প্রভাব।
প্রেমিকার হাতেই সুখ-দুঃখের প্রাণ-
মরে বা বাঁচে প্রেমিকের অন্তর মম,
ঢেউখেলা প্রেমের চিরন্তন স্বভাব ।

(অন্ত্যমিল: কখখক কখখক । গঘঙগঘঙ)