রবিবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৩

‍বেঁচে থাকার মাত্রা

হারিয়ে যাচ্ছি আমি একটু একটু করে
সময়ের প্রয়োজনে কালের গহ্বরে
কালের ধুলোয় লেখা ক্ষণকালের অস্তিত্ব আমার
পরিনত হচ্ছে ধীরে ধীরে বিবর্ণ প্রহরে ।
আজকের কুড়ি আগামীর ফুল সময়ের সাথে সাথে
শুন্য হবে পূর্ণ, পূর্ণ হবে শেষ-এই বিধির কাজ
অদৃষ্টের খেলায় আমার জিবন ভেলা কখন যেন
করে সাঙ্গ ধরাধামের রঙ্গ ভঙ্গ করবে হেথার রাজ ।
তবু ক্ষণকালের এ জিবন মোর সেতো তুচ্ছ নয়
কোন হৃদয় মাঝে ভালোবেসে যদিগো ঠাঁই হয়
চৈত্রের রোধে ক্লান্ত পথিক চায় যেমন বটবৃক্ষের ছাঁয়া
তেমনি কোন হৃদয়ে মোর তরে থাকে যদি বিনদুসম মায়া
তবেই স্বার্থক ভাবি ক্ষণকালের পথে
বালির বাধের মত ক্ষণিকের এ যাত্রা
জিবন সায়াহ্ণে শুভেচ্ছা বার্তা যদি পাই কারো
সেই মোর এ জিবনে বেঁচে থাকার মাত্রা ।

নববর্ষে প্রিয়জন

আজিকে এ নবীন ক্ষণে
প্র‍াণের নিগুঢ়কুঞ্জে উঠিল জাগি
অতীতের স্বপ্নসৌধের লীলাভূমিতে
সুরঞ্জনার সেই প্রিয় মূখখানি ।
দক্ষিণা বায় উড়াল সে কেশ
ছাড়িয়া শাড়ীর আঁচল কি দারুন বেশ
লালপেড়ে হলুদ পড়িয়া বসন
কপালে লালটিপ নববর্ষে প্রিয়জন ।
গাঁধা ফুলে সাজিল সেই রাধা
প্রেমডোরে মন পড়িল মোর বাঁধা ।
চোখ ধাঁধানো সে কি আল্পনা
খুলিল মোর বদ্ধ দুয়ার
ভুলিলাম সব অতীত দু:খ
বেদনার বর্ষ বিদায় ক্ষণ ।
নব নব বারতা বৈশাখের পহেলা
সাজিল নবরূপে অপরূপ রূপমা
পুলকে নাচি উঠিল মন নিতে বরিয়া
দুলকি মন মোর তারে নববর্ষের প্রিয়জন ।

‍নির্বাক প্রেম

অর্হনীয়া তোমার অলক্ষ্যে
তোমারই মূখপানে
চুপিচুপি তাকিয়েছি বহু
‍দেখেছি কখনো হয়ে একগেয়ে
অলভ্য অলকানন্দা ভেবে
সবাক হইনি কভু ।
ঈশ্বরের সৃষ্টির অর্থান্তরন্যাস
‍সে তোমার চারুতা
সম্মূখে তোমার উপস্থাপনে মোরে
হৃদয়ে তাই ভিরুতা ।
যতই দেখেছি তোমায়
রূপেগুনে তোমার হয়েছি অবাক
এত সুন্দরের সামনে আমার
হৃদয়ের কথা থেকেছে নির্বাক ।

তুমি আসবে বলে..

তুমি আসবে বলে
আমি বকুলের মালা গেঁথেছিলাম
আর বকুলের গন্ধে, বৃষ্টির ছন্দে
রাতের গভীরে রঙিন স্বপনে
উতলা হয়েছিলাম ।
তুমি আসবে বলে
আমি হেটেছিলাম অনেক পথ
দেখেছিলাম নীলিমায় সাঁঝের বেলায়
পাখিদের নীড়ে ফেরা
প্রিয়জনের প্রতিটান । 
তুমি আসবে বলে
আমি শুনেছিলাম নদীর কতগান
আর জোসনা রাতে চাঁদের সাথে
একাকী আমি
তোমাকেই ভাবছিলাম ।
তুমি আসবে বলে
আমার হৃদয় মাঝে বেজেছিল কত সুর
জানা অজানা মিলনের গান, বিরহের তান
খুজেছিলাম আমি ভ্রমরের ন্যায়
তুমি কতদূর, তুমি কতদূর । 
তুমি আসবে বলে
আমি বিধাতার কাছে
চেয়েছিলাম দক্ষিণের হাওয়া
কোকিলের গান
সবুজ মাঠে সোনালী ধান
তুমি আসবে বলে
প্রতীক্ষার প্রহর হয়নি অবসান ।

মঙ্গলবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৩

দ্বৈতাদ্বৈত

অবাক হই
এতটা ভালোবাসাও সম্ভব
আমার এ ক্ষুদ্রতম প্রেমের প্রতিদানে
ভালোবাসি ঠিকই
ছন্দপতনও তো ঘটে মাঝে মাঝে
অথচ তার অস্তিত্বে কেবলই আমি
‍সে হাসলে আমি হাসি
‍সে কাঁদলে আমি কাঁদি
অথবা কখনো সে হাসি-কান্নার কারনটাই আমি
পদ্মবসা আমার জন্য
হয়তো রাজি করতে নরক বাস
ভালোবাসে-ভালোবাসি, পাশে থাকে-থাকি পাশে
বাকি সময় রাখি ধ্যানে
মাঝে মাঝে ক্ষেপে উঠি
না জানি কোন জ্ঞানে ।
আমি সামান্য
‍সে দেবী
তাইতো এ দ্বৈতাদ্বৈত

রবিবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৩

গরু চোর

: স্যার,
: বল্
: কি করেন, স্যার !
: কেন ঐ পাখিটাকে গুলি করব
: স্যার, ওটাতো পাখিনা !
: কি তবে, মদন ?
: মানুষের মত দেখায় ,
 স্যার, মনে হচ্ছে কোন কিশোরী হবে ।
: এপারের না ওপারের
: ওপারের স্যার
: তাহলেতো চালাতে হয়
: কি স্যার !
: গুলি
: ঠ্যাঁট, ঠ্যাঁট,ঠ্যাঁট...
: লাশটাকে কাঁটাতারে ঝুলিয়ে রাখ ।
 বাহাদুর জোয়ান বলে কথা
 গুলি করব যথাতথা
 লাশ পড়বে পড়ুক বাংলাদেশে
 আমা‍দের তাতে কি যায় আসে ?
: স্যার,
: আবার কি হল ?
: যদি বাংলাদেশ কিছু বলে ?
: আরে বলবেনা
: কেন স্যার ?
: আমরা ওদের বন্ধু রাষ্ট্র তো !
: তাই স্যার ?
: তবে আর কি !
: স্যার,
: হ্যাঁ, বল্
: যদি এপার থেকে কথা ওঠে স্যার
: বলব তবে "গরু চোর"
: ওপারের সবাই "গরু চোর"....

বৃহস্পতিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৩

আ‍জ শরৎ বেলায় পড়ন্ত বিকেলে

আ‍জ শরৎ বেলায় পড়ন্ত বিকেলে
সাদা মেঘের ভেলায় উড়ন্ত রথে
মন চলেছে ছুটে তোমারই পানে
এসো তুমি আমারই ভুবনে ।।

আ‍জ শরৎ বেলায় পড়ন্ত বিকেলে
সাদা কাশবনের দুরন্ত নাচনে
মন চলেছে ছুটে তোমারই পানে
এসো তুমি আমারই ভুবনে ।।

আ‍জ শরৎ বেলায় পড়ন্ত বিকেলে
হৃদয় ছোঁয়া গানে মলয় পবনে
মন চলেছে ছুটে তোমারই পানে
এসো তুমি আমারই ভুবনে ।।

এসো তুমি আমারই ভুবনে ।।

বুধবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৩

মলয় পবন

ওহে মলয় পবন
রয়েছি যে তোমার প্রতীক্ষায়
‍নিয়ে আসবে সাথে করে
রূপ সৌন্দর্যের আগুন
‍প্রেম ভালোবাসায় ভরা আ‍‍‍‍‍‍‍‍রেকটা ফাগুন
এসো তব তাড়া করে
‍মিনতি তোমায় এসো ‍নিয়ে
মোর প্রেয়সীর নিশ্বাস
‍যেটুকু দিয়েছে ‍সে
আমাকে যখন ছুঁয়ে যাবে
‍দিও সেটুকু মোরে
তারে না দেখার
দীর্ঘশ্বাস মোর মিটবে তবে
তোমার কৃতঞ্জতায়
তার কথাগুলো কোকিলকে দিও
বলো- সুর দিয়ে তায় গান করে যেন
একটু কষ্ট করে ভাসিয়ে দিও
প্র‍তীক্ষায় রইল তাহার
আকুল মোর মন

ধন্য তুমি হে মলয় পবন|

সোমবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৩

এবং সুন্দরীতমা

হে সুন্দরীতমা
এসেই যাবে চলে
থাকনা-বসি আরও কিছুক্ষY
দুজনে পাশাপাশি |
স্বপ্নলোক ছেড়ে এসো
দু বাহু মাঝে
কল্পনালোকে আর কতক্ষণ
করব বিচরণ একাকী|
সুন্দরীতমা হেসে বলে
‍হে কবি,
জানি তোমরা সুন্দরের পুজারী
তবুও বলি
‍কি দেখেছো আমার মাঝে
‍কেনইবা ডাক প্রতি সকাল-সাঁঝে
রয়েছে তো আরো হাজার মানবী
‍কি আর ভিন্নতা আমার আছে ?
যুবক কবি
শার্টের বোতাম খুলি
ঈঙ্গিতে বলে
ওসব বুঝিনে
রাখো কান মোর বুক'পরে
শুনছো কি ?
বলছে প্রতি স্পন্দন
তুমিই জীবন
যতক্ষণ আছো ততক্ষণই বাঁচি
ব্যতিক্রমে এর
বন্ধ হবে যে মোর
রক্ত সঞ্চালণ ।

রবিবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৩

আসুন দু'ফোটা অশ্রু ফেলি

আসুন দু'ফোটা অশ্রু ফেলি
তাদের জন্যে-
জীবন বাঁচাতে গার্মেন্টস্ এ এসে
আগুনে পুড়ে যারা আঙ্গার হলো
‍কিংবা লঞ্চ ডুবিতে সলিল সমা‍ধি
যাদের স্বপ্ন নিল কেড়ে
অথবা যেসব তাজা প্রাণ
‍পিষ্ঠ হলো চাকার ‍নিচে |

আসুন দু'ফোটা অশ্রু ফেলি
তাদের জন্যে-
জীবনের প্রয়োজনে সীমান্তে গিয়ে
‍বি এস এফ এর যারা নিশানা হলো
কিংবা সন্ত্রাসীদের লোভের কাছে
যাদের জীবন খুন হলো
অথবা যেসব জীবন্ত মানুষ
যারা গুম হলো দিনে দুপুরে |

আসুন দু'ফোটা অশ্রু ফেলি
তাদের জন্যে-
 মৃত্যু সেতো অনিবার্য তবুও
স্বাভাবিক মৃত্যু হয়না যাদের ভাগ্যে
মৃত্যু সেতো অনিবার্য তবুও
অকালে ঝরে যত প্রাণ
মৃত্যু সেতো অনিবার্য তবুও
বাধ্য হয়ে যারা আত্মঘাতি অভাগা |

বুধবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৩

প্রেমের নাও আপনা চলে

প্রেমের নাও আপনা চলে
মাঝিমাল্লা লাগে নারে ।।

আত্মার সাথে থাকলে পরে
পরমাত্মার টান
আপন সুরে বাজেরে মনে
ভালোবাসার গান
তখনরে মন সংসার ভোলে ।।

‍প্রেমের নাও আপনা চলে
মাঝিমাল্লা লাগে নারে ।।

‍প্রেমের সুরা পান করে রে মন
নিরঞ্জনেরে পাবার সাধন
কররে বসে সারা জিবন
একদিন তারে পাবি পাপী
পাপ যাবে তোর যেদিন জলে ।।

‍‍প্রেমের নাও আপনা চলে
মাঝিমাল্লা লাগে নারে ।।

ষোড়শী

হে ষোড়শী কন্যা,
ষোলআনা রূপমাধুর্য ষোলকলায় বিকশিত
সহস্র প্রজাপতির কামনার ফুল
উত্তাল যৌবনের আধার ।
ভালোবাসার নোঙর ফেল হৃদয়ে মোর
মিনতি ফুটাও তব প্রেমের ফুল
ডিঙ্গিয়ে সব বাঁধা 
মাড়িয়ে শাসন বারনের পাহাড় ।
‍হে ষোড়শী কন্যা,
প্রেম তব তোমার গহীন সমুদ্রসম
সিঞ্চনে সিঞ্চনে সুধা
কামনা বাসনার আধার
তাই যৌবনের গান গাই
দিবা-নিশি মধু আহরণ চাই
চায় যে হৃদয় মোর
উষ্ণ আলিঙ্গন ষোড়শী যৌবনার ।

কথোপকথন

ফুলকে ভ্রমর-
তুমি সুন্দর
সবই সুন্দর তোমার
ভাজে ভাজে এত রূপ, এত মাধূর্য, এত যৌবন
বারবার তাই আমি ভালোবাসতে ভালোবাসি 
গান গাই কাছে ডাকি
শোন তবে,
উন্মুক্ত কর পাপড়ির ভাজ
গর্ভমুন্ড প্রকাশ্যে আসুক
পরাগরেনু সেতো আমার কাছে
অব্যহত থাকুক বংশগতি !
ফুল হেসে বলে-
আমিতো যাইনি ঝরে, তুমি যাচ্ছ কই শুনি ?
ভ্রমর-
যাবো কোথায় বলো তোমায় ছেড়ে
তারপরও কি লাভ নিজেকে নিজের মাঝে রেখে
এবার কিছুটা উত্তেজনায়
লজ্জা পেয়ে ফুল বলে-
এত্তো পাগল হলে কি চলে ?

প্রেমের রংধনু

বৃষ্টি শেষে
সূর্য উঠেছে
আকাশে রংধনু
সেজেছে বর্ণিল সাজে ।
আমার হৃদয়ের
স্বপ্ন মানুষ
তোমার নামে পসরা মেলে
সেজেছে সপ্ত রঙে ।
‍প্রেমের রংধনু ও
সাজিয়েছে মোর আকাশ
তোমার নিটোল প্রেমে
তার পূর্ণ প্রকাশ ।
তোমাতে আমাতে সে
সেতু বন্ধন রচেছে
ঠিক যেন আকাশের দু'দিগন্ত
একসাথে জুড়েছে ।
আকাশের রংধনু ক্ষণস্থায়ী
হয়তো নিমিষে হবে শেষ
‍প্রেমের রংধনু চিরজীবী হোক
নিবেদন তোমায় সবিশেষ ।

স্বপ্ন

এইতো সেদিন
মধু পূর্ণিমার রাত
ঠিক দুটো বাজে
স্বপ্ন দেখেছি
তুমি আর আমি ব্যস্ত
একান্তই নিভৃতে
ভালোবাসা
দেয়া-নেয়ার কাজে ।
মধুময় সেই লগ্ন
মায়াবী সে প্রহর
মধু আহরণে
চলেছে সময় ।
ছায়ামুর্তি তোমার
ক্ষিপ্ত এক উশৃংখল উচ্ছলতায়
আমার মন-প্রাণ
নিমগ্ন তোমার বাধ ভাঙ্গা
যৌবনের 
অসহ্য যণ্ত্রনায় ।
নিস্তব্দ রাত্রি
পরিপূর্ণ জোসনা
আর তোমার রূপ-মাধূর্য
একাকার হয়ে
স্মরনীয় করেছে
মোর জীবনে
তোমার সহচার্য ।

রবিবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০১৩

‍নিবেদন

হে প্রেয়সী
আমি প্রেমাতুর
এক গ্রাম্য কিশোর
তোমার প্রেমে একান্তই বিভোর ।
তুমি যদি ভালোবাস আমায়
নিয়ে যাব তোমায়
আমাদের গাঁয়
হেথায় গ্রীষ্মের দুপুরে
আম কাঠালের সুগন্ধে
ভরবে তোমার হৃদয় ।
‍হে প্রেয়সী
যদি ভালোবাস আমায়
তবে বর্ষায় ভিজে
কদম আর বকুলের সাথে করব মিতালী ।
আর শরতের শিউলী
দিয়ে বানাব তোমার
নাকের ফুল, কানের দুল
তোমার কৃষ্ণকেশে জড়িয়ে দেবো
সদ্য ফোটা পদ্ম ফুল ।
হেমন্তের ঐ যৌবনাদীপ্ত
ধানক্ষেতে উল্লাসিত চিত্তে
করব মাতামাতি
নবান্নের উৎসবে 
তোমায় সাজাব লক্ষী ।
‍হে প্রেয়সী
যদি ভালোবাস তুমি
পৌষ পার্বনে খাওয়াবো তোমায়
মায়ের হাতে
শীতের পিঠা পুলি ।
কৃষ্ণচুড়া রাঙা বসন্তে
তোমায় নিয়ে যাব
‍হে প্রেয়সী
বাহারী ফুলের বাগানে
লালপেড়ে হলুদ শাড়ি
কিনে দেব হায়
গাঁদা ফুলের বাসন্তী সাঁজে
সাজাব তোমায় ।
আমি প্রেমাতুর
স্বজনহারা ব্যথিত
এ হৃদয় মন
আমার এ নিবেদন
প্রেয়সী তোমায়
করিতে স্বজন ।