সোমবার, ২৪ জুলাই, ২০১৭

প্রেমের ক্ষেপণাস্ত্র

প্রেমের ক্ষেপণাস্ত্র বানাতে পারলে মন্দ হতোনা ।
ঠিকই তোমার মনের ঠিকানায় আঘাত হানতাম ।
বিরহের প্রাসাদটুকু ভেঙ্গে প্রেমের বাগান বানাতাম ।।


বিরহ মোটেই ভালো লাগেনা !
শুধুই প্রেম চাই, চাই, চাই ।


তাই মাঝে মাঝেই মনে হয়-
পৃথিবীর সব একাকীত্বে ভোগা মানুষগুলোকে নিয়ে এক গবেষণায় নেমে পড়ি ।
প্রেমের ক্ষেপনাস্ত্র বানানোর প্রতিযোগিতা করি ।
এবং সফল হই ।


পৃথিবীর সব বিরহী আত্মাগুলো শান্তিতে থাকুক ।।

এখন ওটাই কবিতা

কোথাও কোন অনিয়ম দেখছেন
শোষণ, নিপীড়ন, নির্যাতন, দুর্নীতি দেখছেন
যা দেখছেন
তাই লেখেন
এই ধংসস্তুপে বসে-
কবিতার ব্যাকরণ মানার কোন দরকার নাই !
এই পৃথিবীকে সুন্দর করতে-
এই পৃথিবীকে বাসযোগ্য রাখতে-
এই পৃথিবীকে গড়তে-
এমন কবিতা সবাই লিখুন ।
কলমের কসম-
এখন ওটাই কবিতা ।

আপাদমস্তক

মাথা
ভাব কেবল
মানবতা ।
কান
শোন শোষিতের
আহবান ।
চোখ
দেখে অন্যায়
রোখ ।
হাত
ভাঙ অবিচারের
বাধ ।
পা
মানুষের কল্যাণে
ধা ।

এলো ফিরে রামজান

ওহে মুসলমান, এলো ফিরে রামজান
রহমত, মাগফিরাত আরও নাজাত
করবেন দান- আমার আল্লাহ রহমান ।
ওহে মুসলমান, এলো ফিরে রামজান ।।


সাহরী, ইফতার আর তিলাওয়াতে কোরআন
সিয়াম সাধনায় তুমি দাও মন প্রাণ
আল্লাহ নিজেই দেবেন তারই প্রতিদান ।
ওহে মুসলমান, এলো ফিরে রামজান ।।


লাইলাতুল কদর তুমি করো অন্বেষণ
তাকওয়া করো তুমি এ মাসেই অর্জন
সফল হবে দোজাহানে- বলেন আল্লাহ মহান ।
ওহে মুসলমান, এলো ফিরে রামজান ।।

কবিতার রাজপথে

সাবুদ ! 
ভালোবাসতে জানলে লাগেনা বারুদ ! 
আমার কবিতাই তাই আমার রাজপথ 
গোলাপের সুবাস সেথা সাধনার প্রতিবাদ ।

কবিরা আবার অভিজাত শ্রেণীর হয় নাকি ?
কবিরা আমজনতার ।
কবির কবিতা তাই- 
জনতার অধিকারের ইশতিহার ।

দ্রোহের স্লোগান 
কবিদের গান ।

কবিতার রাজপথে-
শান্তির পায়রা ওড়ে,
মেলে ভালোবাসার সুর ঝংকারে সুখের সন্ধান, 
কেবলই সেথায় মিছিলে  মিছিলে জনতার জয়গান ।।

বৃষ্টির দিনে রবের যিকির

রিমঝিম বৃষ্টি পড়ে 
মধুর সুরে অবিরাম 
সেই সুরে মন পাপিয়া 
যপো রবের নাম । 
বলো-
আল্লাহু আল্লাহ ,আল্লাহু আল্লাহ ।  

শান্তির এই অমীয়ধারা 
যে রবেরই দান 
তার নামেরই যিকির 
আনে সুখের প্লাবণ ।  
বলো-
আল্লাহু আল্লাহ ,আল্লাহু আল্লাহ ।  

বৃষ্টি যেমন সতেজ করে 
এইনা সবুজ জমিন 
রবের যিকির করে তাজা
তোমার মন, হে মুমিন ।  
বলো-
আল্লাহু আল্লাহ ,আল্লাহু আল্লাহ ।

ঈদ

ঈদ এলো খুশি নিয়ে, মন আজ মাতলো
আনন্দ আলোয় বিষাদ গেলো, হৃদয় সুখে ভাসলো ।


ভুলেছে সবাই আজ ভেদাভেদ, হলো সবাই আপনজন
মানুষে মানুষ ভালোবেসে যেন স্বর্গ রচেছে এ ভুবন ।


অহমিকা দুরে ঠেলে ধনী-গরীব আজ এক কাতার
রবকে খুশি করতে- করছে সবাই হৃদয় উজার ।


সারা বছর এমন আনন্দে যেন কাটে সবার জীবন
এই আশাতে মুসলীম উম্মাহ করছে ঈদ উদযাপন ।


ঈদ মোবারক ধ্বনিতে বাজুক সদা সুখের সুরের ব্যঞ্জনা
সফল হোক মানব সকল, কেবল আল্লাহর রহমতই আজ কামনা ।

তোমাকেই চাই

হে যুবক, তোমাকেই চাই
এই জামানায় – 
জনতার কাতারে অগ্রণী ভুমিকায় ।

হে যুবক, তোমাকেই চাই
বদলাতে বরাত- 
শুরু করে দিতে মানব মনে স্বপ্নের সোনালী প্রভাত ।

হে যুবক, তোমাকেই চাই
পরিবর্তনের সাধনায় – 
নিশ্চিত করতে প্রশান্তির চিত্ত সব মানুষের- রাতের স্নিগ্ধ রূপালী জোসনায় ।

হে যুবক, তোমাকেই চাই ।
এই জামানায় ।
বদলাতে বরাত ।
পরিবর্তনের সাধনায় ।

এমনতো প্রেম হয়

তৃষ্ণার্ত চাতক উড়ন্ত বেশে পড়লো প্রেমে সাগর জলকণার
জলকণা বলে - অপেক্ষা করো আমার মেঘ বালিকা হবার ।
অত:পর প্রহর শুরু অপেক্ষায়-
চাতক ওড়ে, প্রার্থণা করে, বলে- আমি জ্বলি ক্ষতি নেই তায়!
সূর্য তুমি বাড়াও তোমার আলোক
তবুও আমার প্রেমের জলকণা দ্রুত মেঘ বালিকা হোক ।
খরতাপে জলকণা পেল মেঘবালিকার বেশ
বয়ে এসে পবন বলে চলো- দুর পাহাড়ের দেশ ।
চাতক প্রেমে মেঘ বালিকা অসহায় তাকিয়ে রয়
মনে ভাবে- নিজে হবো ক্ষয় ।
সেথায় যেয়ে বৃষ্টি হবো
চাতক যেথা রয় !
হঠাৎ করে শীতল হাওয়ার বান
মেঘ বালিকা বৃষ্টি হলো চাতক করে পান !
খুশি মনে চাতক ওড়ে,
জলকণাকে ফের মনে পড়ে,
এমন সময় কোথা থেকে ভেসে আসে দৈবিক সুরে গান-
“তোমার হল শুরু, আমার হল সারা”–শুনে চির দু:খে কাঁদে চাতকের মন প্রাণ ।

তোমাকে হারাতে চাইনা বলে

তোমাকে হারাতে চাইনা বলে –
মাঝে মাঝে আমি কুসংস্কারও মেনে চলি !!!
এই যেমন ধরো সই –
একলা শালিক দেখলে মুখ ফিরিয়ে রই ।
আবার যখন তুমি আঁচড়ে ফেলো চুল–
লুকিয়ে রাখি, অন্য পুরুষের চোখে যদি তা মনে হয় ফুল !
মাঝে মঝে আবার শাড়ি, চুড়ি জোড়ায় জোড়ায় কিনি –
একখানাতে কেউ কেউ বলে বিচ্ছেদের বিকিকিনি !
সর্বকথার শেষকথা একটাই - শোন সই ,
এই জীবনে তুমি বই আমি কিছু নই ।
তোমাকে হারাতে চাইনা বলে –
সংস্কার-কুসংস্কার মানা - না মানার বিচারে তুমি আমার তালগাছ হলেই চলে !!!

ওভাবে তাকাতে নাই

সজনী, হরিনীর মত ওভাবে তাকাতে নাই
কাজল মাখা চোখের তীরে তব খুন হয়ে যাই ।


হৃদয় হয় তোলপাড়
তাকালে ওভাবে বারবার ।


শুধু শুধু ওভাবে তাকাতে নাই
আগুন জ্বলে মনে-পুড়ে হই ছাই !


থেকে দুরে দুরে, আশেপাশে ঘুরে ঘুরে- ওভাবে তাকাতে নাই
তোমার কাছে আসতে আমি- বন্দী পাখির মত জানালা ঠুকরে পাগল হয়ে যাই ।


তবেই কেবল তাকাও-
যদি যাহুডোর মোরে বন্দী করতে হাতদুটি বাড়াও !
বিরহের নদীর পার ভেঙে গড়ে তোল সেথায়
প্রেমের সবুজ চত্ত্বর ফুলে ফুলে রঙিন ভাবনায় ।।

পুরুষ মানুষ কাদতে পারেনা

হাসি মুখে থাকতে বাধ্য হই কারণে - অকারণে,
জীবন চলার পথের ব্যাকরণে ।


অন্তরের কান্না অন্তরে লুকাতে হয়
পুরুষের চোখে জল দেখলে- লোকে কাপুরুষ কয় !


পুরুষ মানুষ কাদতে পারেনা –
নিজের দু:খেও না, অন্যের দু:খেও না ।
সমাজে কোন অন্যায় দেখলে, তার প্রতিবাদ করতে না পারলেও - না ।
মাঝে মাঝে রাষ্ট্রের বিপথে যাওযার ক্ষেত্রে, বাধা না হতে পারার ক্ষোভও- না ।
বিশ্বব্যবস্থার কোন খুত দেখে, কিছু না করতে পারার অভিমানেও - না ।


মাঝে মাঝে কাদতে ইচ্ছে করে –
দু:খে, ক্ষোভে, রাগে, অক্ষমতায়, কখনোবা সুখের তরে !


কিন্তু, পুরুষ মানুষ কাদতে পারেনা –
কখনো না, কোন কারণেই না ।

প্রেমিক কবি ও কিশোরী চাঁদ

কিশোরী চাঁদ দেখে বলি -
কবে তুই পূর্ণ জোছনায় ভেজাবি যৌবনা হয়ে ।
হেসে বলে - এত তাড়া কেন কবি ?
যৌবন এর মৌবন ফুরালেই;
অমাবস্যার আধারে লুকাতে হবে, সব কষ্ট সয়ে ।
তখন কিভাবে বিরহের আগুনে তুই পুড়বি ?
কবি বলে-ঐ কদিন তোরেই রাখবো মনে মনে
আধারে মুখোমুখি হবো। ছবি এঁকে গোপনে !
তবে কি তোর সাধনায়- কবি,
কেবলই মোর যৌবন ?
উচ্ছল তরঙ্গমালার উদ্দীপ্ত বাধ-ভাঙা ফেনারাশি ?
মোর সৌন্দর্যে ডুবে থাকা ? হাসিতে ভাসাভাসি ?
কবি, অন্তর চক্ষু খোল !
মোর রূপ নয়, বল- কবিতায় গুনের বোল !
এরপর থেকেই প্রেমিক কবি
কিশোরী চাঁদের গুনের পুজারী ।।

হুমায়ুন স্মরণে

দূর ভুবনে - বসে গোপনে, যে বীণার তারের কাঁপনে-তোলো তুমি বিরহী সুর
তারই অনুনাদের ফল- এ হৃদয়ে কাঁপন প্রবল, তোলপাড় করে মনের সাত সমুদ্দুর ।


তোমার প্রয়াণে- বাংলা সাহিত্যের সুফলা অগ্রাহায়ণে-
শুণ্যতার বিষন্ন বাতাস বহমান,
তোমার বিদায় - অপুরনীয় স্থান ।
তবে, আজও দখল করে আছো অগোচরে - কোটি মানুষের প্রাণ ।
চির অমলিন তোমার সৃষ্টি সকল ।
চির বিমলিন তোমার অবদানের ফসল ।


হে বাংলা সাহিত্যের বাদশাহ-
“প্রিয় হুমায়ুন আহমেদ”…
এই আষাঢ়ের সব ভাসা পানিই –
তোমার বিরহে আমাদের উৎসর্গকৃত চোখের জল ।
যত ফুল ফুটেছে বিশ্ব মাঝারে –
সবই তা, তোমাকে জানাতে শ্রদ্ধাঞ্জলি বিমল ।

ভালোবাসা ভীষণ ক্ষমতাবান

ভালোবাসা : ভীষণ ক্ষমতাবান
সে মরুভূমি করতে পারে নিমিষেই ফুলে-ফলে শোভিত শ্যামল উদ্যান ।


ভালোবাসা : ভীষণ ক্ষমতাবান
সে শত্রুতা করতে পারে চিরস্থায়ী বন্ধুতা দিয়ে প্রতিস্থাপন ।


ভালোবাসা : ভীষণ ক্ষমতাবান
সে ঘৃণার আগুন নিভিয়ে সেথায় করে বপন হৃদ্ধতার বন্ধন আবহমান ।


ভালোবাসা : ভীষণ ক্ষমতাবান
সে ডাকাতকে করতে পারে দরবেশে রূপায়ন ।


ভালোবাসা : ভীষণ ক্ষমতাবান
সে বঞ্চিত মানবতাকে করতে পারে যথাযথ অধিকারের আলোয় বহ্নিমান  ।


ভালোবাসা : ভীষণ ক্ষমতাবান ।
ভালোবাসা : ভীষণ ক্ষমতাবান । ।

প্রজাপতি এবং গোলাপী

মুষলধারে বৃষ্টি ঝরে ভিজে গেল পাপড়ি সকল,
প্রজাপতি কি বুঝে - এ কি ধকল ?
রোদের খরতাপে বেঁচে থাকার লড়াই অবিরত,
প্রজাপতি কি বুঝে - তার কিঞ্চিত ?


দুষ্ট প্রজাপতিরা শুধু পতিই হতে চায় –
বিলাপ করে কাঁদে, গোলাপী না খুঁজে পায় কোন উপায় !


তিনটি তিনটি সন্তান - অনাহারের, অর্ধহারের জীবন
দিন আসে দিন যায়- গোলাপীর ভাগ্যের হয়না কোন পরিবর্তন ।


যৌবনে প্রজাপতি এসেছিল - এখন কোথায় করে সে  ওড়াওড়ি
কোন খোজ রাখেনা - বউ, সন্তানের - কিছু বললেই , তালাকের হুমকি আর পুরূষত্বের বাহাদুরি !


দুষ্ট প্রজাপতিরা শুধু পতিই হতে চায় –
গোলাপীদের ভাগ্য এমনই - হয় গার্মেন্টস কর্মী, নয়তো কাজের বেটি- বৃত্তবন্দী কষ্টের জামানায়!

এ নয়ন সে নয়ন খোঁজে

এ নয়ন সে নয়ন খোঁজে
যে নয়ন এ নয়ন বোঝে ।।


এ নয়ন সে নয়নে রাখে নয়ন
যে নয়ন এ নয়নের স্বপ্ন হয় চয়ন ।।


এ নয়ন সে নয়নে দেখে ছবি
যে নয়ন এ নয়নের প্রেমের রবি ।।


এ নয়নে সে নয়নে পায় সূখ
যে নয়ন এ নয়নের মুছে দেয় দু:খ ।।


এ নয়ন সে নয়নই কেবল খোঁজে
যে নয়ন সমতা'র দৃষ্টি সদা বোঝে !!

এখন বৃষ্টি

বাদল দিনে হিমেল হাওয়ায়- মন ভাসিয়ে মেঘের ভেলায় কল্পনার ডানা মেলে
গরম চায়ে পিপাসা মেটাই, আরাম কেদারায় পা নাচিয়ে –
ভাবি, স্বর্নালি জীবন সে যে এসেছি ফেলে ।


এমনও বাদল দিনে বন্দী কি আর থাকতাম- বয়েসটি হতো যদি উনিশ-কুড়ি !
কদম সাথে মিতালী হতো, হতো বৃষ্টিতে ভিজে হেথায় সেথায় কতো ঘোরাঘুরি ।
নদীর উপর ঝুলন্ত গাছের ডাল উঠে দিতাম একটা লাফ
মায়ের বকুনি ভয় ছিলোনা , ভয়ের ব্যক্তি একজনই ছিল- 'বাপ' !
চোখ এড়ানো যদি যেত তার-
সেও ছিলো বাদল দিনের আরেক উপহার !!
দুষ্ট ছেলের দল ভারি করতে ছাড়তাম হাঁক –
বের হ শালারা ! আয়, যাই, খেলার মাঠে - নদীর পাড়ের বাক ।
সবাই মিলে হৈহুল্লোর , মানতো না কোন বাধা এ মন
নানান খেলায় কাটতো বেলা, আনন্দের সুতায় সময় ছিলো বাধা সারাক্ষণ ।


এখন,বৃষ্টি এলে- জানালা দিয়ে দেখি অখবা চলার পথে, ছাতা ধরি মেলে ! মনে পাই ভয় –
যদি শরীর খারাপ হয় কিংবা যদি হয় সময়ের অপচয় !
অর্থনৈতিক ভাবনাও আছে সাথে !- এভাবেই কাটে সময় বাদল দিনে আজ
এখন বৃষ্টি: ফেলে আসা স্বার্নলী জীবনের শুধুই স্মৃতির বুদবুদ-মস্তিষ্কের মাঝ ।

বৃষ্টি ও অন্যান্য

কতো পশলা বৃষ্টি হলে- নেভে এক মুহুর্তের বিরহের আগুন !
কতোটি প্রেমের কবিতা- বর্ষাকালেও আনতে পারে মনে রঙিন ফাগুন !


বোঝে কে ? বিরহের আগুনে জ্বলন্ত বর্শা কতোটা বিধে বুকে-
যন্ত্রনার সে সময় কতো বিষাদময়, কাটে কতোটা দু:খে !


যে মা পাখি হারায়ে বাছাধন এখানে ওখানে খোজে -
তার হৃদয়ের বেদন আর কি কোন স্বজনে বোঝে ?


যে পাখি হারায়ে সঙ্গী - উড়ে উড়ে করে আহাজারি
সে গানের চেয়ে - কোন গান করে দু:খের গগন ভারি ?


যে পাখি হারিয়েছে বোন কিংবা হারিয়েছে ভাই –
তাদের সান্ত্বনা দেবার যধাযথ কোন শোককাব্য কোন সাহিত্যেও নাই !


প্রখম চরনে ফিরি !
শত শত পশলা বৃষ্টি হলেও- নেভেনা এক মুহুর্তের বিরহের আগুন !
শত শত প্রেমের কবিতাও- বর্ষাকালে আনতে পারেনা মনে রঙিন ফাগুন !
শুধুই ফিরে পেলে হারানো ধন - বিরহ কেটে আসে মিলনের মাহেন্দ্রক্ষণ ।।


অগ্রজ সুকানি

আকাশে কালো জলমুক
আর সফেন, উত্তাল জলরাশি দেখে
ভয় পেওনা সুকানি ,


হাজারো নবীন মাঝি
পেছনে তোমার একতেদায় -
জাগ-গান ধরে, নির্ভয়ে, দাও তীরে আনি ।


অধিকারহারা মানুষে সয়লাব
হাজারো এমন জলবোট বাধা তোমার জাহাজে
দেখো সমতার দুরবীণে, বিশ্ব মানবতার দুর্দিনে ,


শোষণ-নিপীড়ণের অথৈ সায়রে
তোমার জাহাজ সমতলে ভিড়বেই এ প্রত্যাশায় -
চালাও সুকানি, তীরে দাও আনি ।


হে অগ্রজ সুকানি, তুমি দায়িক ।
এড়ানোর উপায়ই নাই !
সমতল পৃথিবী রচনায় -
তুমি এক অভিযাত্রিক ।।

পাহাড়, ঝর্ণা এবং একটি লাশ

ঝর্ণা বলে - ওরে কালচে পাহাড় ,
তোর কি আছে আমার মত রূপের বাহার !

পাহাড় বলে - কোথায় পেলি তোর বুকের জল ?
জানিস কি ও যে আমারই কন্নার ফসল !

অহমিকায় ঝর্ণা হাসে, ভ্রুকুটি মেরে বলে উচ্চস্বরে –
তাই নাকি ? রুপালী চাঁদের জোসনা তোর বুকে কি খেলা করে ?
আছে কি বহতা পানির ঝুমঝুম গান তোর বাগে ?
আমার জলে শরীরটা ভিজিয়ে নেয় কত মানুষ এসে আনন্দ-অনুরাগে !

পাহাড় বলে- ওরে আত্মজা ,
নাড়ী ছেঁড়ার যন্ত্রণা সবাই বোঝেনা !

দেখোনা , বুকে পিঠে করে মানুষ করার পর – 
অকৃতজ্ঞ সন্তান বলে - বাবা-মায়ের লাশটিরও নাকি নাই তাদের দরকার !