বৃহস্পতিবার, ৩ আগস্ট, ২০১৭

আপাদমস্তক

মাথা
ভাব কেবল
মানবতা ।
কান
শোন শোষিতের
আহবান ।
চোখ
দেখে অন্যায়
রোখ ।
হাত
ভাঙ অবিচারের
বাধ ।
পা
মানুষের কল্যাণে
ধা ।

এলো ফিরে রামজান

ওহে মুসলমান, এলো ফিরে রামজান
রহমত, মাগফিরাত আরও নাজাত
করবেন দান- আমার আল্লাহ রহমান ।
ওহে মুসলমান, এলো ফিরে রামজান ।।


সাহরী, ইফতার আর তিলাওয়াতে কোরআন
সিয়াম সাধনায় তুমি দাও মন প্রাণ
আল্লাহ নিজেই দেবেন তারই প্রতিদান ।
ওহে মুসলমান, এলো ফিরে রামজান ।।


লাইলাতুল কদর তুমি করো অন্বেষণ
তাকওয়া করো তুমি এ মাসেই অর্জন
সফল হবে দোজাহানে- বলেন আল্লাহ মহান ।
ওহে মুসলমান, এলো ফিরে রামজান ।।

কবিতার রাজপথে

সাবুদ !
ভালোবাসতে জানলে লাগেনা বারুদ !
আমার কবিতাই তাই আমার রাজপথ
গোলাপের সুবাস সেথা সাধনার প্রতিবাদ ।


কবিরা আবার অভিজাত শ্রেণীর হয় নাকি ?
কবিরা আমজনতার ।
কবির কবিতা তাই-
জনতার অধিকারের ইশতিহার ।


দ্রোহের স্লোগান
কবিদের গান ।


কবিতার রাজপথে-
শান্তির পায়রা ওড়ে,
মেলে ভালোবাসার সুর ঝংকারে সুখের সন্ধান,
কেবলই সেথায় মিছিলে  মিছিলে জনতার জয়গান ।।

বৃষ্টির দিনে রবের যিকির

রিমঝিম বৃষ্টি পড়ে
মধুর সুরে অবিরাম
সেই সুরে মন পাপিয়া
যপো রবের নাম ।
বলো-
আল্লাহু আল্লাহ ,আল্লাহু আল্লাহ ।


শান্তির এই অমীয়ধারা
যে রবেরই দান
তার নামেরই যিকির
আনে সুখের প্লাবণ ।
বলো-
আল্লাহু আল্লাহ ,আল্লাহু আল্লাহ ।


বৃষ্টি যেমন সতেজ করে
এইনা সবুজ জমিন
রবের যিকির করে তাজা
তোমার মন, হে মুমিন ।
বলো-
আল্লাহু আল্লাহ ,আল্লাহু আল্লাহ ।

উপসর্গহীন - বৃষ্টিকেই ভালোবাসি

ভালোবাসার বৃষ্টি যখন অতিবৃষ্টিতে নেয় রূপ
তার প্রতি আমার প্রেমও তখনই দেয় ডুব ।
সব মানুষের ভালোথাকা সবচেয়ে বেশি ভালোবাসি ।
সাবার মূখেই হাসি থাকলেই আমি প্রেম যমুনায় ভাসি ।


ঠিক উল্টো -


ভালোবাসার বৃষ্টি যখন অনাবৃষ্টিতে নেয় রূপ
তার প্রতি আমার প্রেমও তখনই হয়ে যায় চুপ ।
সব মানুষের ভালোথাকা সবচেয়ে বেশি ভালোবাসি ।
সাবার মূখেই হাসি থাকলেই আমি প্রেম যমুনায় ভাসি ।


সুতরাং-


অতি, অনা উপসর্গহীন - বৃষ্টিকেই ভালোবাসি ।
আমার মত সব মানুষের মুখে যে আনতে পারে স্বস্তি ভরা হাসি  ।

জলাবদ্ধতা-এই বেশ ভালো আছি !

শহুরে নদীতে অসহায় মানুষ সাঁতরে চলে যানবাহনে !
এমন দিনের কষ্টগুলো যার বোঝার সে বোঝেনা ,
যার দেখার সেও দেখেনা,
লেখা থাকে তা  শুধু জীবন পাতার  সাতকাহনে !


জলাবদ্ধতার মাঝে বদ্ধ কি থাকা যায়  -
কোন বাধা মানেনা গরীবের পেটের দায় !
ছুটতেই হবে কর্ম-কাজে নিথুয়া পাথারে
ঊচুতলার মানুষেরা হয়তো বলবে - আহা রে !
এতটুকুই বা কম কোথায় ?
যুগের পর যুগ যায়-
নিচুতলার মানুষ নিচুই থাকে হায় !
তাতে কার কি আসে যায় !!!


উদোর পিন্ডি বুদোর ঘাড়ে চাপিয়ে আমরা নির্লিপ্ত থাকতে পারি ।
অন্য মানুষের দু:খ কষ্টে অনুভুতিহীন থাকতেও বেশ শিখেছি ।
স্বার্থের অর্থনীতি এখানে মানবতাকে মারে ভ্রুকুটি এই সময়ে ।
উত্তরাধুনিক জীবনে বাধ্য হয়েই আমজনতা বলে - এই বেশ ভালো আছি !

তুমি কবে আসবে ?

মন মন্দিরে তোমার আগমনি ঘন্টা বাজে ক্ষণেক্ষণে
অথচ সাঙ্গ হয়নি বিরহী চাহনি কবির দুই নয়নে ।
তুমি কবে আসবে ?
হৃদয় আনন্দ বন্যায় ভাসবে !
ক্লান্ত চোখ অপেক্ষায় তোমার, তর সইছে না !
কোটি জনতার সাথে ঐক্য গড়ে -
দক্ষিণে পবন সেও বইছে না !
পাখির গানে শুধু বিরহী তান- দু:খে, দু:খে গায় !
নদীর  ছলাৎ ছলাৎ যৌবনা কলতান সেও বন্ধ প্রায় !
তুমি কবে আসবে ?
লাগবে পরিবর্তনের ছোঁয়া –
জলে, স্থলে !
জনে-জনে, মনে-মনে
ভালোবাসার ঢেউ তুলে !
তুমি কবে আসবে ?
রাজনীতে এখন সাদা মনের মানুষ ভীষণ দরকার-
সময় হয়েছে প্রিয়- সকল অভিমান ভাঙবার !

লও হে অঞ্জলি মোর

বেদনায় শ্রাবণের জলধারা দুই নয়নে ঝরছে ,
মন মোর তোমারই শুন্যতায় অঝোরে কাঁদছে,
এই ক্ষনে এমনই হয় সবজনে- রবির অস্তে,
মনে হয় হৃদয়খানা কালো আঁধারে ঢাকছে!


২২ শে শ্রাবণই শুধু নয়, যখনই তোমারে মনে হয়,
দু:খ সায়রে মন ভাসে, কুলহারা মাঝি যেন এ হৃদয় ।
সোনার তরীতে তোমাকে নিয়েও এই আমি বড্ড অসহায়
শরীরি উপস্থিতিহীন তোমার শুন্যতা, তোমার ঋণ- মেটাবার যে নয়  !


তোমার অমর সৃষ্টিসকল পড়ি, সাথে-সাথেই তোমায় স্মরি
তোমার সান্নিধ্যহীন চিত্তখানি পায়না পুরোপুরি সুখ-হরি ।
তবু তোমার দান- বাংলা সাহিত্যের বিশ্বসম্মান দিয়েছে উজ্জ্বল করি
শতদলে, শত ফুলে- লও হে অঞ্জলি মোর, দাও হে- এ হৃদয় তুষ্ট করি !


উৎসর্গ : কবিগুরুকে ।

পুরুষত্ব বৃদ্ধি করুন !

আমি দেখছি আমাদের পুরুষত্ব কমে যাচ্ছে দিন দিন !
আসুন, সামাজিক এ রোগের লক্ষণগুলো জেনে নিন ।


যদি আপনার থাকে ধর্ষণকামী মন - এটি পুরুষত্বহীনতার লক্ষণ !
যদি আপনি করেন নারী নির্যাতন - এটি পুরুষত্বহীনতার লক্ষণ !
যদি আপনি করেন শিশু নির্যাতন - এটি পুরুষত্বহীনতার লক্ষণ !
যদি আপনি হন তোষামুদেজন - এটি পুরুষত্বহীনতার লক্ষণ !
যদি আপনি হন দুর্নীতিতে নিমজ্জন - এটি পুরুষত্বহীনতার লক্ষণ !
যদি আপনি চাঁদাবাজিতে করেন উপার্জন - এটি পুরুষত্বহীনতার লক্ষণ !
যদি আপনি মাদক ব্যবসায় করেন উপার্জন - এটি পুরুষত্বহীনতার লক্ষণ !
যদি আপনি খাদ্যে ভেজাল করে মুনাফা করেন অর্জন - এটি পুরুষত্বহীনতার লক্ষণ !
যদি আপনি মিথ্যাবাদী, অসৎ রাজনীতিক হন - এটি পুরুষত্বহীনতার লক্ষণ !


সময়ের পরিবর্তনে, নৈতিক অধ:পতনে
আরো উপসর্গ হতে পারে প্রকাশ এ রোগের লক্ষণে ।


আপতত এগুলো থেকে নিজেকে বাঁচানোই সত‌্যিকারের পুরুষত্ব ।
শুভ কামনা সব পুরুষের জন্য- পুরুষত্ব বৃদ্ধি করুন ।
সামাজিক পুরুষত্বহীনতার দূরারোগ্য এ ব্যধি থেকে সবাই মুক্তি পাক,
সব পুরুষ করুক - ভালো মনের, সত্যিকার পুরুষত্বের আভিজাত‌্য ।

ভালোবাসার রঙ কি

বেদনার রঙ নীল, ভালোবাসার রঙ লাল
এমন কথাইতো জানতাম আমি এতকাল ।
হঠাৎ সেদিন ডেকে বলে আমায় পদ্ম-নীল
ভালো কি বাসোনা আমায়, ভালোবাসোনা আকাশ সুনীল ?
ভালো কি বাসোনা প্রিয়ার নীল আঁখি যুগল ?
ভালো কি বাসোনা সমুদ্রে ঢেউ খেলা নীল জল ?
আমি নিচু স্বরে বললাম - নীলকেও ভালোবাসি
শুনে কুসুমবাগে গোলাপ দিলো মুচকি হাসি !
তবে কি আমায় তুমি ভালোবাসোনা কবি?
রক্তজবা পাশ থেকে বলে তোমার হৃদয়ে নাই আমার ছবি ?
বললাম দিয়ে দুষ্ট হাসি - লালকেও  আমি ভালোবাসি !
এমন সময় ইশারা করে বলে হলুদ গাদা ফুল
আমি ছাড়া সাজে কি তোমার রাধার চুল ?


পরে গেলাম ভাবনায় আমি - আহা, ভালোবাসার রঙ কি ?
অমনি তখন সূর্যবলে - তোমার মনে যার প্রতিফলন- ভালোবাসার রঙ ও-ই !