বুধবার, ২৮ মার্চ, ২০১৮

জলকেলি

জ্বলে জল জলেই চায়- 
জলে যাবে মিশে, 
রাধার বাধা লাজুক প্রথা-  
জ্বলে বিরহ বিষে ।।

জলকেলি জলজ বনে- 
জলরঙ মন শিসে,
জ্বলে দিগুন জলের ধারা-
জ্বলন নিভে কিসে??

ঢেউ ঢেউ জলে খেলা- 
হারিয়ে ফেলা দিশে,
চায় মন মাতুক জলে-  
মুখের বাহানা মিছে!!

মঙ্গলবার, ২৭ মার্চ, ২০১৮

আঁধার নিয়ে কবিতা হয়না - ঘৃণা জন্মায়

হঠাৎ আঁধারে ঢেকে গেলো সব –
রাজপথে হুক্কা হুয়া রব, হুক্কা হুয়া রব !


ভয়াল আধার, বৈষম্যের আঁধার, নির্যাতনের আঁধার, আঁধার আর অত্যাচার –
পাকিস্তানী আঁধার! ক্ষয়িষ্ণু চাঁদ-তারার আঁধার !


অস্ত্রের ঝংকারে-
স্বাধীনতাকামী বাঙালির উপর চাপিয়ে দেয়া নির্মম আঁধার !
পরিকল্পিত ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর আধার-
নিরস্ত্র বাঙালি হত্যায় মেতে উলঙ্গ নৃত্য করার আঁধার !


ভন্ডের রঙ্গমঞ্চে-
ইয়াহিয়া খানের আলোচনা – অভিনয়-অন্ধকার রূপায়ন,
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আলো নেভানোর ষড়যন্ত্র –
শিক্ষক-ছাত্রদের কাপুরুষের মত হত্যার অন্ধকার মঞ্চায়ণ !


প্রতিবাদী নেতাদের গ্রেফতার করার আঁধার -
আলোরপথের যাত্রীদের কন্ঠস্বর দমানোর উৎপাত!
সমগ্র দেশ গ্রাস করার আঁধার-
২৫ মার্চ রাত, গণহত্যার রাত!


আঁধার নিয়ে কবিতা হয়না - ঘৃণা জন্মায়!
মোহনীয় ছন্দরা, সুন্দর শব্দরা লুকিয়ে যায়!!


বীর বাঙালি সে “চাঁদ-তারার” আঁধার তাড়িয়ে-
“সবুজের বুকে লাল সূর্য” এনেছে হানাদারদের যুদ্ধে হারিয়ে ।
এখন আমরা লিখি স্বাধীনতা-বিজয়ের আলোর কবিতা–
ঝাটিয়ে বিদায় করে আঁধার - যত ছিলো, যত আছে- দুর হোক সবই তা ।

বৃহস্পতিবার, ২২ মার্চ, ২০১৮

ধুসর স্বপ্ন

ভাঙ্গা গড়ার পদ্মার বুকেও- জাগলো সবুজ চর ।
তবু, তোর মনে জায়গা হয়না, হয়না আমার ঘর ।।


নাও ছেড়ে তাকাই দেখি- নিথুয়া জলের রাশি,
আমার চোখে জল আসে, উড়ে যায় মুখের হাসি,
মাঝে মাঝে দেখে চর, আশায় রইলাম জীবনভর-
তবু, তোর একটু দয়া হয়না- ভাবো আমায় পর ।।


উথাল পাথাল ঢেউ এসে- মনের কোনা ভাঙ্গে,
প্রেমের ডাঙ্গা বিরহে ভেসে- ডুবে যায় গাঙ্গে,
ডুবো চর আবার জাগে- দেখে স্বপ্নে হই বিভোর,
তবু, তোর প্রেমের দেখা পাইনা, স্বপ্ন হয় ধুসর ।।

আমার স্বাধীনতা

মুক্তভুমে মুক্ত পাখি- মুক্ত কলরব,
মুক্ত মনে ওড়াউড়ি- মুক্তমনে সব,
এ আমার সোনার বাংলায়- মুক্তির বারতা,
একাত্তরে যুদ্ধে পাওয়া- আমার স্বাধীনতা ।।


ইচ্ছেখুশি স্বপ্ন দেখা- ইচ্ছে বিচরণ,
ইচ্ছেসুরে ডাকাডাকি– ইচ্ছে মত পণ,
এ আমার সুখেরই গান- অধিকারের কথা
একাত্তরে যুদ্ধে পাওয়া- আমার স্বাধীনতা ।।


আপনমনে ঘর বাধা- আপনমনে বাস,
আপনমনে সবার সনে - নায্য ভুমির চাষ,
এ আমার ভালোবাসা - এগিয়ে যাবার প্রথা
একাত্তরে যুদ্ধে পাওয়া- আমার স্বাধীনতা ।।

হ্যাঁ, ফিলিস্তিনকে হ্যাঁ !

দশকের পর দশক  ফিলিস্তিনে
মানুষ কাঁদছে ...
... যুদ্ধ করছে ...
... মারা যাচ্ছে...


অন্য কিছু নয়! স্বাধীনতার জন্য,
মুক্তভুমির জন্য, নিরাপদ আবাসনের জন্য,
মানুষের নায্য অধিকার জন্য,
আল-আকসা সংরক্ষণের জন্য।


সবাই জানে, তাদের সব কিছু।
কেন স্বাধীনতার গোলাপ ফোটেনা না-তবুও!


হ্যাঁ, এটি আপনার ব্যর্থতা!
হ্যাঁ, এটি আমাদের ব্যর্থতা!


আমরা অন্ধ,
বুঝি শুধু নিজের ভালো-মন্দ!


উপায় কি, আমরা ফিলিস্তিনের অধিকারে বিশ্বাস করি কতো?
এটা সত্যিই গুরুত্বের সাথে ভাবনার বিষয়, দ্রুত, মৌমাছির পথ চলার মত!


ভাবুন! আপনি একটি শব্দই খুজে পাবেন,যদি আপনার নূন্যতম মানবিকবোধ থাকে!
এটি- 'হ্যাঁ'! সুতরাং বলুন, হ্যাঁ, ফিলিস্তিনকে হ্যাঁ, বীরোচিত হাঁকে!


( আজ আমার এই ৪০০ তম কবিতাটি ফিলিস্তিনের জনগনকে উৎসর্গ করলাম ।)


ইংরেজি অনুবাদ :


Yes, Yes to Palestine
- Sakib Jamal
- - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - -
Decades after decades, in Palestine
People are Crying...
...Fighting...
...Dying...


Nothing but, for the freedom,
For free land, for safe home,
For human right they deserve,
For al-aksa to preserve.


Everyone knows, everything of those.
But, why doesn't bloom the freedom rose!


Yes, its your failure!
Yes, its our failure!


We are blind,
Loving narcissistic mind.


What is the way, we believe rights of Palestinian?
Its really pivotal things to think, quickly, like bee line!


Ponder! you will find a word, if you have humanity near to zero!
That's 'yes'! So, say, yes, yes to Palestine like a hero!

সোমবার, ১৯ মার্চ, ২০১৮

চরনে নুপুর বাজে কার

চরনে নুপুর বাজে কার-
কোন সে মৃগ নয়নার 
এ হৃদয় হয় তোলপাড় 
জাগে শিহরণ বারবার!

সুরের প্রেমে মাতোয়ারা মন 
নৃত্যতালে খোজে আপনজন 
দুরে দুরে থেকে থেকে-
জ্বালিও না আমায় আর ।।

কাছে আসো ভালোবাসো, 
নয়নে নয়ন রাখো 
ছন্দে ছন্দে নৃত্য ঢঙ্গে 
হই দুজনে দুজনার ।।

হারানো নীড়

নীল মুছে দেয়া ঐ আবীর রাঙা সন্ধ্যাবেলায়, আধার নামার আগে,
কর্মক্লান্ত এই মন চায় ফিরতে নীড়ে, তোমার ভালোবাসার গুলবাগে ।

উড়ে উড়ে ঘুরে ঘুরে খুঁজি- তোমার নীড়ের ঠিকানা,
আধো আলো আধো ছায়ায়- হঠাৎ ভীষণ অজানা!

জানা থেকে অজানা!
                      অজানা থেকে আরও অজানা!!

ভালোবাসার সময়টুকু বোধহয় বয়ে গেল...

কর্ম খালি নাই!
               কর্ম খালি নাই!
                                কর্ম খালি নাই ...
এভাবে দ্বারে দ্বারে উড়ে উড়ে-
অবশেষে কর্মক্লান্ত আজ!
গুলবাগে অন্য পাখি ইতিমধ্যে গড়েছে রাষ্ট্র সমাজ,
                         -একনয়কতন্ত্র!
আর আমি, অবুঝ মনে-
                          ডানা ঝাপটাই ।
ভাবি, ভালোবাসায় এ কেমন অর্থনৈতিক ষড়যন্ত্র!

স্বপ্ন বিনিময়

কবির সাথে হয় সব মানুষের স্বপ্নের বিনিময় নিয়ত । 
এজন্যই সব কবি বোধহয় স্বপ্নবাজ অবিরত ।।

হ্যাঁ, তোমারই স্বপ্নগুলো এঁকেছি, আমি আনমনে, 
         আমার রঙতুলির ভালোবাসায়- 
যদি পারো, তুমিও - এঁকে নিও আমার স্বপ্নগুলো, 
        সুন্দর আগামী দেখার প্রত্যাশায় ।

                             কবিতার দোহাই-
অগ্রজ-অনুজ স্বপ্নের এখনই বিনিময় চাই ।
- নয়তো পৃথিবী দু:স্বপ্নের আধারে ঢেকে যাবে !
হতাশা পৃথিবীকে গিলে খাবে !
                      গিলে খাবে- শোষক শোষিতকে, আরও-
পরাজিত হবে মানবতা, 
                             পরাজিত হবে কবিতার ধারও !

এখন দু:সময় ! বিশ্বজুড়ে দু:সময় !
কবি চোখ খোলো, স্বপ্ন আঁকো, আশা জাগাও-
কবিতার দোহাই- স্বপ্নের বিনিময় এখনই চাই ।
দু:সময় কেটে যাক, পৃথিবী হোক- সবার জন্য সুখময় !

আঁচলে বেধে রাখো সই

আঁচলে বেধে রাখো সই
আমায়) আঁচলে বেধে রাখো সই ।।

বসন্ত গানে, 
             ভালোবাসা প্রাণে
এসো দুজনে ডুবে রই ।।
আঁচলে বেধে রাখো সই
আমায়) আঁচলে বেধে রাখো সই ।।

এলোমেলো পবনে,
                 রঙিলা মনে,
প্রেম বনে রুকায়ে রই ।।
আঁচলে বেধে রাখো সই
আমায়) আঁচলে বেধে রাখো সই ।।

দিবা কি নিশিতে,
               এ মন সঁপিতে,
সুখে-দুখে সাথী হই ।।
আঁচলে বেধে রাখো সই
আমায়) আঁচলে বেধে রাখো সই ।।

মঙ্গলবার, ৬ মার্চ, ২০১৮

"এ –না- ও" রাজনীতি চলুক!!!

শিশুটি জন্মেছিল এই পৃথিবীর বুকে-
সব জীবনের শুরু কান্নায় ! বাকি সময় খেলা চলে দু:খ-সুখে ।
স্বপ্নের মুকুর জাগে, ফোটে অগ্রজ-অনুজের ভালোবাসায়-
দু:স্বপ্নের আধার তাও অগ্রজ-অনুজের দেয়া বেদনায় !


শিশুটি জন্মেছিল এই পৃথিবীর বুকে-
একটি ফুল বিকশিত হবার সুযোগ পেতে- বিলিয়ে সৌরভ - দিতে গন্ধ রুখে !
কিন্তু জন্মটি ছিলো পাপের জনপদে-
দানবের জনপদে –
রক্তের জনপদে –
পদে পদে বিপদের জনপদে !


সিরিয়ার বুকে, ইসরাইলের বুকে, মিয়ানমারের বুকে, লিবিয়ার বুকে, ইরাকের বুকে -
বা এমন সব আতঙ্কে মায়াহীন দেশের বুকে !
এখানে শিশুদের জন্ম নেয়া পাপ!
আজন্ম পাপ!
দানবদের চাঁপিয়ে দেয়া পাপ !


নিয়ত যুদ্ধের সাইরেন বাজে এখানে-
এখানের মানুষ ফুল চেনেনা –
অস্ত্র চেনে , অস্ত্র কেনে ,
মানুষ মারে !
রক্তের বেপরোয়া খেলা খেলে ।


মানবতা নাই , অধিকার নাই, ভালোবাসা নাই !


মসনদ বড়, নেতাগিরি বড়, মোড়ল গিরি বড় –
নতুন কুঁড়িকেও এরা বলে - বোমা খেয়ে মরো!
পঙ্গু হও, না খেয়ে রও, রাসায়নিক বিষে শ্বাস নাও !
সবার উপরে ক্ষমতার-শোষণের মসনদটুকু দাও-
নতুনের আগমনে, শিশুদের , নারী-পুরুষ নিরীহদের এই গীত শুনিয়ে স্বাগত জানায় !
বাকি বিশ্ব বেমালুম নির্লিপ্ত, অবাক তাকিয়ে রয়,অসহায় !


মরুক সব মানুষ মরুক!
তবুও দানব ক্ষমতায় আসুক অথবা ক্ষমতায় থাকুক !!
"এ –না- ও" রাজনীতি চলুক!!!

জাতিসংঘে কবিতার হস্তক্ষেপ চাই

কবিতায় কোন ভুমিকা ছাড়াই বলতে চাই-
জাতিসংঘে কবিতার হস্তক্ষেপ চাই !!!


মুক্তির কবিতার বারতায়-
পৃথিবীতে জন্ম নেয়া সব মানুষের জন্যই
স্বাধীন, নিরাপদ চারনভুমি নিশ্চিত করতে -
জাতিসংঘে কবিতার হস্তক্ষেপ চাই ।


মানবিকবোধের পঙতিমালায়-
সব মানুষের মানবাধিকার রক্ষায়
নায্য অধিকার বন্টনে -
জাতিসংঘে কবিতার হস্তক্ষেপ চাই ।


দেশত্ববোধের স্বীকৃত ভাষায়-
সব মানুষের সব দেশের
সার্বভৌমত্ব রক্ষায়-
জাতিসংঘে কবিতার হস্তক্ষেপ চাই ।


সম্প্রীতির বন্ধুতার কথায়-
সব জাতিগোষ্ঠীর মাঝে মমতা জাগাতে
সংঘাতহীন পৃথিবী গড়তে-
জাতিসংঘে কবিতার হস্তক্ষেপ চাই ।


ভালোবাসার কবিতায়-
কোন মানবিক কবি হোক জাতিসংঘের মহাসচিব !
উপসংহারেও বলতে চাই -
জাতিসংঘে কবিতার হস্তক্ষেপ চাই!!!

এসো, রাধা-কৃষ্ণ হই!

বসন্ত মনে, আমারও বনে
হলুদিয়া পাখি কই ।
এমনও ক্ষনে, কথা কও কনে
উড়িয়া আসো সই ।।


কুসুম কোণে, সুরেরও সনে
মিলিয়া এসো রই ।
রাধিকা বিহনে, এ তপোবনে
কেমনে সাধক হই ।।


কলসী সনে, আসো গোপনে
প্রেমে পাগল সই।
যুগল মনে, বসন্ত বনে
এসো, রাধা কৃষ্ণ হই ।।

জোসনা রাত বনাম দু'মুঠো ভাত!

বৃথা জোসনা রাত !
এখনো কতো জননী শোনায় দু:স্বপ্নের গল্প -
নির্বাক শ্রোতাদের দেখি নিরব অশ্রুপাত!
বৃথা জোসনা রাত !

আজও দেখি-
এই চোখে, শুকনো মুখ-
মায়ের বকুনি খেয়ে ক্ষুদার যন্ত্রনায় -
বাড়ি থেকে পালিয়ে আসে শিশু সড়ক, রেল, জলপথের স্টেশনে-
খোজে কাজ,  দু'মুঠো ভাত ।
বৃথা জোসনা রাত !

বৃথা জোসনা রাত !
এখনো কতো জননী শোনায় দু:খের গল্প -
অবুঝেরা বোঝেনা, কাঁদতে জানে দিন-রাত!
বৃথা জোসনা রাত !

আজও দেখি-
এই চোখে, চলার পথে-
নানা মানুষ নানা রূপে পাতে ভিক্ষার হাত -
চায় দু'মুঠো ভাত ।
বৃথা জোসনা রাত !

বৃথা জোসনা রাত !
এখনো কতো জননী শোনায় হাহাকারের গল্প -
বোঝেনা পাকস্থলীর ছোট গহব্বর- নিয়ত করে উৎপাত!
বৃথা জোসনা রাত !

এখনো আছে শিশু শ্রম !
এখনো আছে বৃদ্ধা আশ্রম !
এখনো আছে এতিমখানা !
এখনো আছে যৌবন বেঁচাকেনা !

তারা চায় দু'মুঠো ভাত -
বৃথা জোসনা রাত !