বুধবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৩

ষোড়শী

হে ষোড়শী কন্যা,
ষোলআনা রূপমাধুর্য ষোলকলায় বিকশিত
সহস্র প্রজাপতির কামনার ফুল
উত্তাল যৌবনের আধার ।
ভালোবাসার নোঙর ফেল হৃদয়ে মোর
মিনতি ফুটাও তব প্রেমের ফুল
ডিঙ্গিয়ে সব বাঁধা 
মাড়িয়ে শাসন বারনের পাহাড় ।
‍হে ষোড়শী কন্যা,
প্রেম তব তোমার গহীন সমুদ্রসম
সিঞ্চনে সিঞ্চনে সুধা
কামনা বাসনার আধার
তাই যৌবনের গান গাই
দিবা-নিশি মধু আহরণ চাই
চায় যে হৃদয় মোর
উষ্ণ আলিঙ্গন ষোড়শী যৌবনার ।

কথোপকথন

ফুলকে ভ্রমর-
তুমি সুন্দর
সবই সুন্দর তোমার
ভাজে ভাজে এত রূপ, এত মাধূর্য, এত যৌবন
বারবার তাই আমি ভালোবাসতে ভালোবাসি 
গান গাই কাছে ডাকি
শোন তবে,
উন্মুক্ত কর পাপড়ির ভাজ
গর্ভমুন্ড প্রকাশ্যে আসুক
পরাগরেনু সেতো আমার কাছে
অব্যহত থাকুক বংশগতি !
ফুল হেসে বলে-
আমিতো যাইনি ঝরে, তুমি যাচ্ছ কই শুনি ?
ভ্রমর-
যাবো কোথায় বলো তোমায় ছেড়ে
তারপরও কি লাভ নিজেকে নিজের মাঝে রেখে
এবার কিছুটা উত্তেজনায়
লজ্জা পেয়ে ফুল বলে-
এত্তো পাগল হলে কি চলে ?

প্রেমের রংধনু

বৃষ্টি শেষে
সূর্য উঠেছে
আকাশে রংধনু
সেজেছে বর্ণিল সাজে ।
আমার হৃদয়ের
স্বপ্ন মানুষ
তোমার নামে পসরা মেলে
সেজেছে সপ্ত রঙে ।
‍প্রেমের রংধনু ও
সাজিয়েছে মোর আকাশ
তোমার নিটোল প্রেমে
তার পূর্ণ প্রকাশ ।
তোমাতে আমাতে সে
সেতু বন্ধন রচেছে
ঠিক যেন আকাশের দু'দিগন্ত
একসাথে জুড়েছে ।
আকাশের রংধনু ক্ষণস্থায়ী
হয়তো নিমিষে হবে শেষ
‍প্রেমের রংধনু চিরজীবী হোক
নিবেদন তোমায় সবিশেষ ।

স্বপ্ন

এইতো সেদিন
মধু পূর্ণিমার রাত
ঠিক দুটো বাজে
স্বপ্ন দেখেছি
তুমি আর আমি ব্যস্ত
একান্তই নিভৃতে
ভালোবাসা
দেয়া-নেয়ার কাজে ।
মধুময় সেই লগ্ন
মায়াবী সে প্রহর
মধু আহরণে
চলেছে সময় ।
ছায়ামুর্তি তোমার
ক্ষিপ্ত এক উশৃংখল উচ্ছলতায়
আমার মন-প্রাণ
নিমগ্ন তোমার বাধ ভাঙ্গা
যৌবনের 
অসহ্য যণ্ত্রনায় ।
নিস্তব্দ রাত্রি
পরিপূর্ণ জোসনা
আর তোমার রূপ-মাধূর্য
একাকার হয়ে
স্মরনীয় করেছে
মোর জীবনে
তোমার সহচার্য ।

রবিবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০১৩

‍নিবেদন

হে প্রেয়সী
আমি প্রেমাতুর
এক গ্রাম্য কিশোর
তোমার প্রেমে একান্তই বিভোর ।
তুমি যদি ভালোবাস আমায়
নিয়ে যাব তোমায়
আমাদের গাঁয়
হেথায় গ্রীষ্মের দুপুরে
আম কাঠালের সুগন্ধে
ভরবে তোমার হৃদয় ।
‍হে প্রেয়সী
যদি ভালোবাস আমায়
তবে বর্ষায় ভিজে
কদম আর বকুলের সাথে করব মিতালী ।
আর শরতের শিউলী
দিয়ে বানাব তোমার
নাকের ফুল, কানের দুল
তোমার কৃষ্ণকেশে জড়িয়ে দেবো
সদ্য ফোটা পদ্ম ফুল ।
হেমন্তের ঐ যৌবনাদীপ্ত
ধানক্ষেতে উল্লাসিত চিত্তে
করব মাতামাতি
নবান্নের উৎসবে 
তোমায় সাজাব লক্ষী ।
‍হে প্রেয়সী
যদি ভালোবাস তুমি
পৌষ পার্বনে খাওয়াবো তোমায়
মায়ের হাতে
শীতের পিঠা পুলি ।
কৃষ্ণচুড়া রাঙা বসন্তে
তোমায় নিয়ে যাব
‍হে প্রেয়সী
বাহারী ফুলের বাগানে
লালপেড়ে হলুদ শাড়ি
কিনে দেব হায়
গাঁদা ফুলের বাসন্তী সাঁজে
সাজাব তোমায় ।
আমি প্রেমাতুর
স্বজনহারা ব্যথিত
এ হৃদয় মন
আমার এ নিবেদন
প্রেয়সী তোমায়
করিতে স্বজন ।