বৃহস্পতিবার, ১৪ নভেম্বর, ২০১৩

কয়েকটি দিন

কয়েকটি দিন বাস্তবে কেটেছে স্বপ্নের মত
তুমি ছিলে কাছাকাছি অথবা পাশে
ভালোবাসার নোঙর মোর পৌছেছিল প্রায়
অনেক দিনের কাঙ্ক্ষিত বন্দরে ।
প্রেম সেতো ছিল তোমার কথায়-ঠোঁটে
চলায়-হাতে, সর্বাঙ্গে এবং অন্তরে ।
ভৌগলিক দুরত্ব একটু বেড়েছে বটে
আজ তুমি কিছুটা দুরে আমার হতে
কিন্তু প্রেম গগনে মোর আসেনিকো সাঁঝ
ভাবি এরপর কমবে কি তোমার একটু লাজ ।
হেসোনা মোর চাওয়ার ব্যাপ্তি দেখে
কারন কয়েকটি দিন, তারপর কিছুটা বিরহ সুতরাং বিয়ে !

সহযাত্রী

আমি অবাক হই এই ভেবে যে
আমার চলার পথের সহযাত্রী সে তুমি
ক্ষণিকের তোমার সহযাত্রা আমাকে এ প্রার্থণায় করেছিল নিমগ্ন 
"‍শেষ নাহি হোক মোদের একসাথে পথচলা"
আমি আজও শুনি রিমঝিম বৃষ্টির সুর
পাশে অনুভব করি তোমায়
কল্পনায় ভেসে ওঠে তোমার প্রিয়মূখ
তোমার বাহুডোরে বাধা মোর বাহু
যেন বাধা পড়েছি আমি তোমাতে
মহাকালের ডাকও যেন ছিন্ন না করে মোদের
-প্রার্থণা করেছি আমি যতক্ষণ ছিলাম তোমার সাথে ।
হে প্রিয়া, তুমি ছিলে মোর স্বপ্ন মানবী
সহযাত্রী হিসেবে তোমায় পাব ভাবিনি কোনদিন
তবুও যেটুকু সময় তোমায় কাছে পেয়েছি
সেই অল্প-স্বল্প-সঙ্গ-গল্প
মোর জীবনের শ্রেষ্ঠ সময় 
সহযাত্রী-সহযাত্রী হও মোর সারাক্ষণ-সারাজীবনের
কোথাও যেওনা রেখে মোরে
মোর অনন্ত যাত্রা বি‍নে ।

সোমবার, ১১ নভেম্বর, ২০১৩

একটি গল্প:আমার প্রেম

একটি গল্প শুনবে
গল্পটা আমার আর জনমের
হঠাৎ ইন্দ্রলোকে একদিন ডাক পড়ল আমার
দৈব বাণীতে শুনলাম-ভালোবাসা রাজ্যে করা হয়েছে একটি কুসুম কানন
আর আমাকে তার মালী করে পাঠনো হবে সেথায়
বলা হলো আরও-এক দেবী আছে ঘুমিয়ে-দেখে রেখো
ইন্দ্রপুরের সব কথাই শিরোধার্য ।
আমি মলয় পবনে ভেলা ভাসিয়ে গেলাম সেথায়
একদিন বাগানে হাটছি আর দেখছি-ফুল ভ্রমরের খুনসুটি
হঠাৎ আবার সেই দৈব বাণী
"দেবীকে পেতে চাও?"
বিস্মিত আমি বলি-"হু" ।
তবে সে সাধনা কর শুরু
হ্যাঁ এভাবেই তোমাকে পাবার সাধনাখানি শুরু
সহস্র বছর সাধনার শেষে যেই তুমি বললে
কে গো তুমি পুজারি?
ইন্দ্রলোকে আমার ডাক পড়লো ফের তখনি
ইন্দ্ররাজা বলল আমায়-"যাও ধরায়"
এলাম বটে তবে ভুলতে পারিনি তোমায়
তাই তোমাকেও পাঠালেন তিনি
খুজেছি, ডেকে‍ছি, একা একা তোমায় ভালোবেসেছি
ইন্দ্রকর্তার ইচ্ছায় 
আপ্রাণ আরও কিছুদিন সাধনার শেষে
এদিনেই দিলে তুমি ভালোবেসে
মোর পুজোর প্রতিদান ।

আত্মসমর্পণ

করিনু সমর্পণ
দিনগুলি মোর, মোর জীবন
মোর কর্ম, মোর চাওয়া
মহান আল্লাহর হাতে । 
নেই ক্ষতিকর কিছু
আছে শুধু ভালো তাতে ।
যা কিছু ঘটুক 
যা ই হোক ফলাফল
তা তারই ইচ্ছা
তা ই তো মঙ্গল ।

আদুরী: ডাস্টবিনে মানবতা

আদুরী, আদর জোটেনি ভাগ্যে যার
বাবা নেই বলে মা তার
আদর সোহাগ বঞ্চিত করে
রেখে গেল অন্যের ঘরে
কাজের মেয়ে আজ তার পরিচয় । 
ক্ষতি নেই তাতে-দু মুঠো ভাত যদি জোটে
কি এমন আসে যায় পিঠে চপেটাঘাতের চোটে
খুন্তির ছ্যাঁকায় শরীর যদি ঝলসে তার
তবুও বলার নাই কিছু, নাই কোন উপায়
পেট তার কাতর ক্ষুধার যণ্ত্রনায় । 
বয়স কম শিশু মন
চায় পড়তে কানের দুল
বাসার পুতুল ছোট খুকীর দু পয়সার দু দুল
নিজের কানে পড়ে তা করে সে মস্ত ভুল
গৃহকর্ত্রী রেগে বলে এ মহা অন্যায় । 
হুংকার ছেড়ে কর্তা ডাকে
হাত দুটি বেঁধে ফেলে
উত্তম মাধ্যম দিল তারে
যার সাধ্য যত, ইচ্ছে মত 
যতক্ষণ না আদরী মৃতপ্রায় ।
হায় হায় বেগতিক দশা
মরবে বাসায় যাবে জেলে
কি করা যায় কি উপায় মেলে
গৃহকর্ত্রী কর্তারে বলে
ডাস্টবিনে ফেলে এসো দায় ।
এমনটি হয়তো পড়েছেন সবাই 
পত্রিকার পাতায়
বলি কতকাল আর হারবে মানবতা
ক্ষুধার যণ্ত্রনায় ।
ক্রীতদাস প্রথা হয়েছে বিলোপ
এ বিশ্ব মাঝারে
কাজের লোক কি মানুষ জাতি
আজ প্রশ্ন আপনারে ।