মঙ্গলবার, ২৬ আগস্ট, ২০১৪

এক পায়ে নুপুর

স্বপ্না রানীর স্বপ্ন ছিলো
বড় হবে, আকাশ ছোঁবে
মানুষকে ভালোবেসে 
স্বর্গ গড়বে ধরার বুকে ।
সংবাদ কর্মী হবে
নির্যাতিত মানুষের সংবাদ সংগ্রহ
নেশা হলো, ছুটে চলা শুরু হলো
প্রান্তর থেকে প্রান্তরে ।

নিয়তির নির্মমতা হঠাৎ করে
আহত করলো
একটি পা কেটে গেলো
দূর্ঘটনার শিকার হয়ে ট্রেন লাইনে ।

স্বপ্নটা ভেঙ্গে গেলো
বন্ধী হলো ঘরের কোনে
সময়টা কাটে এখন
এক পায়ে নুপুর পরে ! 

শিক্ষা ছিলো
যোগ্যতা ছিলো
তবুও চাকরির খরা ভর-দুপুর
কারন, এক পায়ে নুপুর ! 

সবাই খোঁজে রূপের নগর
কেউ নেয়না মনের খবর
বিয়েটা তাই ভাঙ্গে বারবার
কারন, এক পাঁয়ে নুপুর তার ! 

বিষন্নতা ছাড়েনা পিছু
পারিবারের ভালোবাসা তাও কমছে ‍কিছু
খুবই লাগে অসহায়
নুপুর পরতে এক পায় ! 

এমন কতো স্বপ্না আছে
বাংলা মায়ের ঘরে ঘরে
মনে মনে তাই তো ভাবি
একটি দূৃঘটনা কতো দূর্ঘটনার জন্মদাত্রী ।

সোমবার, ২৩ জুন, ২০১৪

নীলে নীল

বাঁকা চোখে 
সুনয়না যখন তাকালো
আমার পানে
হৃদয় মোর কেঁপে উঠলো
বাতাসে কাঁপন যেমন
নদীর জলে । 
আর তার তাঁকানোর ভঙ্গিমা
যেন মনের সূখে
জলের বুকে
কোন রাজহংসী
কিছুটা মাথা করে বাঁকা
তাঁকানো নীল আকাশ পানে ! 
ডাকে- হে নীলিমা
নেমে আসো
নীল জলে 
আকাশ বলে
কেমন করে আসবো নেমে
কোন ছলে ? 
বরং তাঁকাও 
কোন রাজহংসের নীল চোখে
নীলে নীল হও
ভালোবেসে ! 
রাজহংসী আর আকাশের
কথা শুনে
আমিও তাঁকালাম
সুনয়নার নীল ‍চোখে 
নীলে নীল 
ভালোবেসে

সোমবার, ১৬ জুন, ২০১৪

কচুরীপানার ডকুমেন্টারি

নরেন ‍বৈরাগীর বাড়ীর পাশে 
ছিলো একটি পঁচা জলের ডোবা
সেথায় এই কচুরীপানা আমি
আমার অন্য সহোদরদের নিয়ে
উঠেছিলাম বেড়ে । 
একাত্ত্বরের কোন এক দিনে
সেই নরেন বৈরাগীর বাড়ি
এসেছিলো খাকি পোশাক পড়া
একদল পাক মেলেটারি
অস্ত্র নিয়ে তেড়ে । 

দুই কোলে দুই খোকা নিয়ে
নেমে নরেন এ‍ই জলের ডোবায়
আমাদেরকে মাথায় দিয়ে তারা
একটু বাঁচার আশায়
সেঁজেছিলো জংলী মহিষের পাল ।
এমন সময় জলের কলস নিয়ে
ফেরে বাড়ি বৈরাগীর বউ 
দেখে তারে কাল্লু রাজাকার উঠলো বলে 
'দে সোনা তোর ফুলের মৌ
ইয়ে আওরাত কামাল ।' 

শুনে তা হিংস্র পশুর দল
উঁচিয়ে বন্ধুক আর অট্টহাসি দিয়ে
ঝাঁপিয়ে পড়লো তার উপর
তখন আমার নিচে লুকিয়ে থাকা
ছোট্ট খোকা দিলো চিৎকার ।
অমনি হলো শুরু গুলি
গেলো চলে চারও তাজা প্রাণ 
আর আহত আমি কেঁদে কেঁদে বলেছিলাম
' হে সৃষ্টিকর্তা, হোক ধ্বংস এই পাকিস্তান
জয় হোক সংগ্রামী জয় বাংলার ।'

সোমবার, ২১ এপ্রিল, ২০১৪

বসন্ত এবং তুমি

এসেছে বসন্ত সাজিছে ধরণী
ফুলে ফুলে মোর সাজিছে সজনী
বেঁধেছে খোঁপা দিয়েছে ফুল
হৃদয় তার প্রেমেতে আকুল ।

বনে বনে আজি গাহিছে পাপিয়া
বহিছে বাতাস থমকে থমকিয়া
এলোমেলো প্রিয়ার উড়িছে আঁচল
কিভাবে যে তারে নিবো বরিয়া ।

ভ্রমর আজি করিছে গুঞ্জণ
সঁপিছে প্রিয়া দেহ মন-প্রাণ
বসন্ত তাই দোলা দিল মনে
উজাড় করিব সব প্রিয়ার সনে ।

দুজনে আজ গভীর মিতালী
সুরে সুরে গাইবো দু-জনে গীতালী
নাহিকো আজি কোন মান-অভিমান
নাহিকো কোন বিরহের তান ।

মিলিব আজি প্রেম অভিসারে
প্রিয়ার সনে বসন্ত বাহারে ।

বৃহস্পতিবার, ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৪

আমি আগের ঠিকানায়ই আছি

কততো দিন হলো তোমার কোন চিঠি পাইনি
তুমি কি জানো ? আমি আগের ঠিকানায়ই আছি 
যে ঠিকানা লেখা ছিলো 
তোমাকে দেয়া কোন এক চিঠিতে
আমারই রক্তের অক্ষরে লেখা !
ওহ্ ভুলেইতো গেছি
বয়স হয়েছে যে !
তোমার কোন এক বান্ধবী বলেছিলো
আমার উপর রাগ করে
আমার দেয়া সব কিছুই আগুনে পুড়িয়েছো ।
মনতো পোড়াতে পারনি !
একটু মনে করে দেখো
আমি আগের ঠিকানায়ই আছি ।
স্টেশন রোড নেমে
আঁকা বাঁকা মেঠো পথ বে‍ঁয়ে
সবুজে ঘেরা কুঁড়ে ঘরটি আমার
ছোট নদীর পাশে
আমার ঠিকানা
সে ছোট্ট সোনার গাঁ ।
এখনো সেথায় সন্ধ্যা নামে
পড়ন্ত বিকেলে রাখালের বাঁশি বাজে 
সন্ধ্যারাতে জোনাকীর বসে মেলা
দিব্যি ওড়ানো যায় সেথায় আজও 
মন পবনের ভেলা !
একটি চিঠি দিও
আবারও আমায়
গোধুলি বেলায়
আ‍ধো আলো আধো ছায়ায়
পড়বো বারবার ।
ও ঠিকানাটা
আমি আগের ঠিকানায়ই আছি ।
তবে...
নিসঙ্গ, একা !