মঙ্গলবার, ২৬ আগস্ট, ২০১৪

ভারত থেকে নাও শিক্ষা

নির্বাচন হলো ভারতবর্ষে, বেশ ।
হলো সেথায় ক্ষমতারও পালা-বদল ।
আমার দেশেও দেখি ভালোই রেশ,
বাজছে মস্ত সবারই ঢাক-ঢোল । 

কেউ বলছে তাদের সাথে 
সম্পর্ক ভালো কেবলই মোদের ।
অন্যপক্ষ মূখ করে রুক্ষ - তা মোটেইনা, 
আমাদের সম্পর্ক ঢের । 

কেউ বলে, এইবার পড়ে যাবে সরকার
ক্ষমতায় আসবে নতুন মাতুব্বার ।
জনগন ফ্যাল ফ্যাল তাকিয়ে দেখে -
বুঝিনা মানে, কোথায় তাহলে ক্ষমতা জনতার ? 

আচ্ছা, সত্যি যদি ভিনদেশের কোন দল 
কাউকে দেয় ফেলে, কাউকে বসায় ক্ষমতায় ।
কি ভাববো তবে আমরা বসে -
বুঝিনা মানে,তাহলে সার্বভৌম‍ত্ব কোথায় দাড়ায় ? 

এসব শুনতে চাইনা, কান করেছি বন্ধ 
এসব দেখতে চাইনা, হয়ে দিবা-অন্ধ ! 

ফালতু প্যাঁচাল বাদ দিয়ে 
চাই ভারত থেকে নাও শিক্ষা
কিভাবে তারা সুষ্ঠু নির্বাচন করে
নাও সে সঠিক দীক্ষা । 

কিভাবে তারা গণতন্ত্র রাখে সমুন্নত
কাজ করে দেশের তরে সব কিছু ফেলে পাছে
ভেবে দেখো দেশের স্বার্থ কত বড় 
ব্যাক্তির চেয়েও তাদের কাছে । 

অন্যের বাঁশিতে না বাজিয়ে নিজের বগল 
বাজাও এবার বাংলাদেশের ঢোল 
সবদল সত্যিকারে গাও জনগনের গান 
কলোরব করো এই বাংলার বোল্ ।

নানি-নাতিন রসালাপ

ওরে নাতিন, আমার সতিন
তোর ওড়না গেলো কই ?
ঘাটে গেলি লাল দোপাট্টা পড়ে
ব্যাপার কি ? ডাকতো তোর সই ! 

কিছুুনা ।সই কি কবে 
হঠাৎ বাতাস এলে
ওড়না উড়ে পড়লো তখন
মাঝ পুকুর জলে । 
তার জন্য বলো কি তুমি
নামব আমি অথৈ তলে ।

ভ্যাগিস নয়ন ভাই এলো
বললো হেসে
গোছল সেরে, ওড়না এনে
দেবে বিকাল শেষে ! 

নানি মুচকি হাসে
তোর নানাও এমন করেছিলো
আমার যৌবন কা‍লে
সেই হ‍লো বর -অবশেষে । 

তুমি যে কি বলো
না শোনে যেন বড়দা
নয়ন ভাইকে বলে -তোমার জন্য
এনে দেব পান, সুপারি, জর্দ্দা ! 

হু, দোয়া করি নানু
আশা ‍‍যেন তোর পুরন হয়
পরের ঘরে আমার সতিন
যেন ‍সূখে সদা রয় । 

তোময় ছেড়ে যাবনা
শোন, বলি- পরের ঘরে
করবো কার সাথে দুষ্টুমি
বলো, বাঁচবো কমেন করে ? 

‍তা বেশ বুঝেছি - কিন্তু
যখন কৃষ্ণ বাজাবে বাঁশি
তখন যেন বলিস্ না আবার
নানি, একটু ঘাট থেকে ঘুরে আসি ।

হা, হা, হি, হি !

ভয়ের কোন কারন নেই বন্ধু...

জেনো, বিজিবিতে কর্মরত সব বন্ধুরা
ভয়ের কোন কারন নেই বন্ধু আমার ।
দেশ রক্ষার কাজে তোমরা নয়তো একা 
ষোল কোটি বাঙালি আছে সাথে তোমার ।

আমরা তারই অনুজ -
একাত্ত্বরে স্বাধীন করেছে এই বাংলা যে ত্রিশ লক্ষ বীর ।
স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব রক্ষায় -
আমরা সহাস্যে বক্ষ পাতিব - আসুক যত তীর । 

দেশের তরে আমরা তরুন প্রজন্ম
সব সময় রয়েছি সদা বীরোচিত জাগ্রত ।
জেনো, বন্ধু- তোমাদের সাথে আমরাও তৈরী
লাল-সবুজ পতাকা রাখতে সমুন্নত ।

ভোরের ‍‍মিছিল

আজকের ভোরে একটা মিছিল হোক
তবে মুহুর্মুহু শ্লোগান নয় !
কেবল ধ্বনিত হোক একটা শ্লোক
তব করুক তা সব হৃদয়কে জয় । 
সে শ্লোগানের কথা - সোজা- রয়েছে সবার জানা
তবে দরাজ কন্ঠে দ্রোহের উচ্চারণ নয় ! 
সে শ্লোগানের কথা - কঠিন - সবার পক্ষে মানা
তব মানলে তা হবে মানবতার জয় । 

আজকের ভোরে এ শ্লোগানের চরণ
করেছি তা এক কবিতা থেকে চয়ন
অন্তরে মম ধ্বনিত করো সে কলি - 
' সকালে উঠিয়া আমি মনে মনে বলি
সারাদিন আমি যেন ভালো হয়ে চলি '

- তব প্রতিধ্বনিত হোক এ মিছিল প্রতিদিনই ।

কোনো কবিতাও লেখা হলোনা বাবাকে নিয়ে

বাবাকে নিয়ে কবিতা লিখব ভেবে কাল রাত পার করেছি
কিছুই লিখতে পারিনি-কারন এমন কোন শব্দমালা আমি খুজে পাইনি
যা বাবার ভালোবাসা পূর্ণাঙ্গরুপে প্রকাশ করতে পারে কিংবা
বাবা শব্দের তাৎপর্য বা স্বরুপ উন্মোচন করতে পারে পুরোপুরি অথবা কিছুটা ।
আমার অস্তিত্ব যে মানুষটির দান- বংশগতি বিজ্ঞান কিংবা ধর্মীয় জ্ঞান 
যে দিক থেকেই ভাবিনা কেন- হেন উপায় কি আছে
আমি কোন প্রতিদান দিতে পারব সে দানের বিপরীতে এ ধরায় বসে
সমতুল্য প্রতিদানের কোন সুত্র নাই- দেখি যোগ বিয়োগ গুন ভাগ কষে !
বাবা আমার কৃষক ছিলেন-দিনরাত খেটেছেন মাঠেঘাটে ক্লান্তিহীন যেন
সংসার চালাতে হিমশিম খেয়েছেন তবু পহেলা বৈশাখে জামা কিনে দিতে ভুল হয়নি কখনো
মাথার ঘাম পায়ে ফেলে কিছুটা যা জমিয়েছেন তা দিয়ে লেখাপড়া করিয়েছেন
যখন কলেজে ভর্তি হবো বাবা আমার টাকা পাবেন কোথায়
জমি বিক্রি করে টাকা জোগার করলেন কে যেন বললো তাকে
এসবের কি দরকার ? জমিও থাক বরং ছেলেকে নিয়ে সাথে কর কাজ
বাবা হেসে বললেন বাছা আমার বড় হলে এমন জমি কত্তো পাবো
কোন গণিতবিদ কি বলতে পারবেন কত টাকা দিলে পরে
বাবার এ ত্যাগের প্রতিদান পরিপূর্ণ হবে তবে ?
আজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সর্বোচ্চ ডিগ্রী নিয়ে প্রথম শ্রেণীর কর্মকর্তা হয়েছি
বলুন কোন ছন্দে কবিতা লিখে এ বাবার অবদানের কথা বলি
এত বড় দুসাহস দেখাতে পারিনি বলে-কোনো কবিতাও লেখা হলোনা বাবাকে নিয়ে ।