মঙ্গলবার, ২৬ আগস্ট, ২০১৪

বলবীর সিং:মাস্টার মুহাম্মাদ আমের

বলবীর সিং - বাবরি মসজিদে
প্রথম আঘাত করে তুমি
পেয়েছো শুধু যন্ত্রণা ।
অনুতাপের আগুনে জ্বলে অবশেষে
এলে শান্তির ছায়াতলে
হয়ে নও-মুসলিম ।

স্বাগতম তোমায়
ইসলামের সুশীতল ছায়ায়
গ্রহণ করো হাজার সালাম
মুসলিম ভ্রাতৃত্ব মায়ায় । 

আজ তুমি ইসলামের সেবক
সাচ্চা মুসলমান
তোমার কন্ঠে শুনি আজ
সুললিত সুরে আল-কোরআন । 

ইতোমধ্যে ভারতে পড়ে থাকা
জ্বীর্ণ শীর্ণ ভগ্নপ্রায় বহু মসজিদ
করেছো আবাদ তুমি নতুন করে ।
শত শত ভ্রান্ত পথিক
পেলো সত্যের সন্ধান, হলো মুসলমান
তোমার হাত ধরে । 

তুমি ইসলাম প্রচারে
করছো সফর প্রান্তরে প্রান্তরে
অতীত ভুলের কথা বলছো সভায়
ক্ষমার আশা নিয়ে অন্তরে । 

দোয়া করি, রহমান আমার
ক্ষমা করবেন তোমার সে ভুল
'খাটি মুসলমান - মাস্টার মুহাম্মাদ আমের' 
ক‍রবেন তোমায় তিনি কবুল ।

পৃথিবীর সব বৃদ্ধাশ্রম হোক তব ধুলিস্যাত !

মেম সাহেব আজ 
অফিস থেকে নিয়েছেন ছুটি 
বাসায় তার বাবু আছে
আছে খোকন সোনা দুটি । 

বাবুকেও দেয়নি যেতে আজ
তার ব্যবসা কর্মে
মা দিবসে একসাথে না থাকা
মানায় কি তার ধর্মে ! 

শাড়ি পড়েছেন মেকাপ করেছেন
কিনেছেন মস্ত উপহার
খোকন সোনাদের হাতে দিয়ে তা
বলেন মেম, মাকে উইশ করো তোমার ।

মদন বাবুর মণ খারাপ
পাচ্ছেন না কেন যেন মজা
বৃদ্ধ মা তার বৃদ্ধাশ্রমে আজ
এসব মনে হচ্ছে তার সাজা ! 

মেম সাহেব চেঁচিয়ে বলে
মূখ কেন তোমার ভার
বুঝেছি বুঝেছি বুড়ি ডাইনিই
শেষ করবে মোর সংসার ! 

এমন সময় ‍ছোট্ট ‍খোকা 
উঠলো কেঁদে ভীষণ
দাদু ছাড়া খাবেনা কিছু
ধরলো বসে পণ । 

ভন্ড মেমের মা দিবস রঙ্গ
হলো বুঝি পন্ড তার 
রেগে গিয়ে বাবুকে বলে
এসব ছল তোমার ! 

মদন বাবু জোড় পেলো আজ
খোকন সোনার জন্যে
মা আনতে বৃদ্ধাশ্রম যাবে
সে হয়ে ‍এখন হন্যে ।

মা তার পথ চেয়েই ছিলো
কখন আসবে তার খোকা
তোকে ছাড়া কি থাকতে পারি
ওরে আমার বোকা !

আসলো যখন বাসায় ফিরে
দাদুকে নিয়ে বাবা 
উঠলো তখন মিষ্টি হেসে 
ছোট্ট দুইই খোকন সোনা ।

ভুল ভাঙলো মেম সাহেবের 
বৃদ্ধাশ্রম ‍হতে পারে আমারও
শেষবেলার ঠিকানা 
এটা আমি কোনদিনও চাইনা । 

এরপর তারা সবাই 
হাতে রেখে হাত
বললো - 'পৃথিবীর সব বৃদ্ধাশ্রম 
হোক তব ধুলিস্যাত !'

‍নির্বাচন পূর্বাপর কোকাকোলা

নির্বাচন পূর্ব সমাবেশে
নেতা এসে মঞ্চে দাড়িয়ে
হাত উঁচিয়ে, হাঁক হাকিয়ে
কি চাই তোমার ? - বললো শেষে । 

আমি বিদ্যুৎ দেবো
ব্রিজ, কালভার্ট, স্কুল দেবো
চাকরি দেবো, হবো সত্য সেবক ।
মাদক, সন্ত্রাস করবো দমন
দুর্নীতির করবো মূল উৎপাটন
উন্নয়ন হবে হেথায় ব্যাপক ।

এক কথায় কবো
আম-ছালা সবই দেবো ! 

হাসি মূখে বক্তব্য হলো শেষ
সবার সাথে চললো করমর্দনও বেশ
কোথা থেকে এসে বললো একজন
নেতা, তৃষ্ণা পেয়েছে, লাগছে ক্লেশ
দাত কেলিয়ে বললো নেতা
যা, খা একটা কোকাকোলা
সাথে সাথে ছিপি হলো খোলা
উঠলো করে ফস
ধন্য নেতা, ভোট দেবো তোমায়
ধন্য এমন বস ! 

নির্বাচনের পর ভিন্ন রেশ
হলো সংবর্ধণা সমাবেশ
নেতা এখন ভাব গম্ভীর
মাথা ভরা ফন্দি ফিকির
চাই এখন স্বর্ন উপহার
চাই টাকার মালা তার !

দেখা করতে তদবির লাগে
চাকরি চাইলে - কত দেবা ?
নইলে এখনই ভাগো
শুনি বলো আছে ত‍োমার কেবা ? 

কথা সোজা যথা তথা
কমিশন চাই প্রতি কাজে
অর্ধেক তোমার অর্ধেক আমার
এ নীতিই কেবল সাজে ! 

প্রতিবাদ করতে গেলে
হবে বলি জিবন তোমার ক্ষয়
সর্ব কাজে ক্ষমতার দাপট
দেখায় পেশী শক্তির ভয় । 

বিদ্যুৎ পেলাম নামেই ঢের
দ্রব্য মূল্য সেও বাড়লো ফের
মাদক, সন্ত্রাসে দেশ সয়লাব
চাঁদাবাজরাই এখন বাপের বাপ ! 

ওহ কোকাকোলার গল্প
হোক এবার আবার অল্প ।

ক্লান্ত জনগন যদি ভাগ্যবলে
দেখা নেতার পায়
কোকাকোলা এখন আর জোটেনা
পানি খেয়েই বিদায় !

মনে মনে ‍হেসে বলেন নেতা
আমি এখন তোমাদের বস
নির্বাচনের পূর্বেই কেবল
পরে আর করেনা ফস !!!

ডায়াগনিষ্টিক ডাকাত

ডাক্তার নামের যারা ডায়াগনিষ্টিক ডাকাত
ইচ্ছে করে দেখেনি এক হাত । 
টাকা আর কমিশনের লোভে পাগল
ওরা নীতিহীন, বিবেকে দিয়েছে তালা 
ওদের মানুষ বলে কোন হালা !

‍বেকারের গ‍ীত

চাকরি খুজে খুজে হয়রান ক্লান্ত যুবক মূখখানি থাকে সদা ভার 
হৃদয়ে তার অস্পষ্ট কান্নার রোল দেখেনা অন্যদের নয়ন কখনো আর ।
মা বলে আর কতদিনে ঘুচবেরে বাবা সংসারের টানাটানি ?
বাবা বলে আর কতদিন বাবার হোটেলে খেয়ে দেখাবি তুই খানদানি ? 

নির্বাক যুবক ছেড়ে দীর্ঘশ্বাস তাকিয়ে আকাশ পানে প্রশ্ন ছোড়ে 
হে সৃষ্টিকর্তা, মেধাতো দিয়েছিলে তবে দেওনি কেন মোরে - 
লক্ষ টাকা আর ক্ষমতাবান মামা ? দেওনি কেন ছাত্রনেতা হবার পেশী শক্তি ? 
এ তিনেরে ছাড়া বড় কঠিন কেন বলো বেকারত্ব থেকে তব মুক্তি ? 

বেকারের প্রশ্ন শ‍ুনে জানিনা কি উত্তর দেন মহাবিশ্বের মালিক যিনি 
তবে পাতালে দেখি অন্য মানুষের ভাগ্য চোরের বহর বাড়ছে প্রতিদিনই । 
টাকা, মামা কিংবা রাজনৈতিক বিবেচনায় যে করে যোগ্যকে জোর করে বেকার 
আমি বলি- তারা দেশের শত্রু, সুষম উন্নয়নে বাঁধা- চা‍ই এখনই এর প্রতিকার ।