সোমবার, ১০ অক্টোবর, ২০১৬

টুকরো টুকরো প্রেম

অজান্তে দীর্ঘ শ্বাস ছেড়ে দেখি-
শরতের নীল আকাশে
টুকরো টুকরো সাদা মেঘ -
এ যেন টুকরো টুকরো প্রেম ।

মনে করে দেখি অতীত খুঁজে
বয়স যখন ছিল উনিশ-কুড়ি
কী যে আনন্দ পেতাম
দেখে দু একটি ফুলের কুঁড়ি !
কুঁড়ি গুলো আজ প্রায় বুড়ো-বুড়ি
সংসার ধর্ম করে আপন ঘরে
অথচ আমি আজও আকাশ দেখি
রাতে বেরাতে একলা চরে ।

এ যেন টুকরো টুকরো প্রেম ।
জীবনে আঁকা ছবির হারানো ফ্রেম ।

মেঘগুলো হারাবে কোথায় ?
আমিতো হারালাম-
প্রেমের চোরাগলির বাঁকে
অজান্তেই ভেসে ওঠে
ভালোলাগা মূখগুলো
শরতের আকাশে !

স্নিগ্ধ মনের. শুভ্রতা ভরা প্রাণের
সেই বয়সের সব বন্ধুরা -
ভালো থাকিস,
আকাশ দেখিস -
এ যেন টুকরো টুকরো প্রেম ।
জীবনে আঁকা ছবির হারানো ফ্রেম ।

বৃষ্টি আসো

তোমার অপেক্ষায় নির্ঘুম চোখের পাতায়
ক্লান্তি ভরা হাতছানি ঘুমের পরির
তবুও জেগে আছে অন্তর-কোনে রবি !
হে বৃষ্টি, তুমি আসো তাড়াতাড়ি
বাংলার সবুজ জমিনে নেমে
অপেক্ষায় তোমার রয়েছে শত শত কবি !

যদিও দুয়ারে দুয়ারে দুর্বৃত্ত পাহারাদার
"অনাকাঙ্ক্ষিত" তুমি তাদের কাছে জানি
তবুও তোমায় আসতেই হবে মানবতার খাতিরে
তাড়াতে হেথায় সব দুর্নীতির বেসাতি ।

অন্বেষণ

রূপের মাঝে কি খোঁজ তুমি
এ যে বৃথা অন্বেষণ
মনের মাঝে গুন খোঁজ মন
তবেই পাবে গুপ্তধন ।
রূপের বাহার দেহের আহার
এক সময় হয় অবসান
গুনের কদর সে পরশ পাথর
চিরকাল রয় বহমান ।
রূপের মাঝে কি খোঁজ তুমি
এ যে বৃথা অন্বেষণ
মনের মাঝে গুন খোঁজ মন
তবেই পাবে গুপ্তধন ।
রূপের নেশায় পাগল হলে
বিপদ করবে আলিঙ্গন
গুনীজনকে বাসলে ভালো
পাবে সঠিক পথের নিদর্শণ ।
রূপের মাঝে কি খোঁজ তুমি
এ যে বৃথা অন্বেষণ
মনের মাঝে গুন খোঁজ মন
তবেই পাবে গুপ্তধন ।

লক্ষী জোসনা

একা একা বসে পুকুর ঘাটে
লক্ষী আসা জোসনা ভরা রাতে
নদীর জলে করে সে যে খেলা
মনের ঘরে দেয়না তবু ধরা !

এতো ডাকলাম, এতো দিলাম পুজা
তবু দেবী দেয়না তার মন
প্রতিক্ষণে তারে খুজি, তারে ভজি
তবু বয়না কেন প্রেমের পবন ?

সয়না যে আর এই অন্তরে
মধু জোসনায় এমন একাকী ভ্রমন
ভালবেসে তুমি আসো মোর ঘরে
রইল দেবী এ সবিশেষ নিমন্ত্রণ !

জলসা ঘর

এলে তবে কবিতা শুনতে
অধম কবির জলসা ঘরে
একলা কেন ? বন্ধু তুমি -
আনোনি কাউকে সঙ্গী করে ?
আজকের কবিতা গরম বটে
জালিম বিরোধী, মজলুম ভক্ত
শরম-নরম মন নিয়ে হবেনা
কবিতা ভক্তের দিল চাই শক্ত !
একলা চলা যাবেনা দুর্বল
আছে আরও কিছু শর্তযুক্ত
মজদুর সব একতা চাই
চিত্ত চাই কর্পোরেট মুক্ত !

‘ও, রাতে খেয়েছো মাছে-ভাতে
নাকি ফাস্টফুডে ভরেছ পেটের-প্যানেল ?
আজ বাংলায় টিভি দেখেছ তো
নাকি হিন্দি, উর্দু, ইংলিশ প্রীতির চ্যানেল ?
আসার সময় তাকিয়েছ ফুটপাতে
নাকি দেখেছ শুধু ঝলমলে শহর ?
চলাফেরা করো কি সাধারণের মত
নাকি চল নিয়ে গাড়ীর বহর ?
ভালোবাসো সব মানুষকেই
নাকি শুধুই থাকো আত্মকেন্দ্রিক ?
সত্য কথা সব সময় বলোতো
নাকি মিথ্যে বলায় বেশ শৈল্পিক ?
চলনে বলনে দৃঢ় সুনীতি পালনে
নাকি সখ্যতা দুর্নীতির সাথে ?
আত্ম-সমালোচনার যো আছেতো
নাকি পরনিন্দায় ব্যস্ত দিন-রাতে ?’

হে বন্ধু, আজ তবে এতটুকুই-
রইল মোর কবিতায় জিজ্ঞাসা,
শর্ত মেনে জলসা ঘরে এসো ফের
যাদি হতে পারো বাঙালি খাসা ।