সোমবার, ২৪ জুলাই, ২০১৭

পাহাড়, ঝর্ণা এবং একটি লাশ

ঝর্ণা বলে - ওরে কালচে পাহাড় ,
তোর কি আছে আমার মত রূপের বাহার !

পাহাড় বলে - কোথায় পেলি তোর বুকের জল ?
জানিস কি ও যে আমারই কন্নার ফসল !

অহমিকায় ঝর্ণা হাসে, ভ্রুকুটি মেরে বলে উচ্চস্বরে –
তাই নাকি ? রুপালী চাঁদের জোসনা তোর বুকে কি খেলা করে ?
আছে কি বহতা পানির ঝুমঝুম গান তোর বাগে ?
আমার জলে শরীরটা ভিজিয়ে নেয় কত মানুষ এসে আনন্দ-অনুরাগে !

পাহাড় বলে- ওরে আত্মজা ,
নাড়ী ছেঁড়ার যন্ত্রণা সবাই বোঝেনা !

দেখোনা , বুকে পিঠে করে মানুষ করার পর – 
অকৃতজ্ঞ সন্তান বলে - বাবা-মায়ের লাশটিরও নাকি নাই তাদের দরকার !

সোমবার, ১০ অক্টোবর, ২০১৬

শরতের প্রণয়

কোন এক শরতের বিকেল
আমি আর তুমি
হেঁটেছি বহু পথ
গাঁয়ের মেঠো পথে
আকাশে বিক্ষিপ্ত সাদা মেঘ
ছিল ঝিরি ঝিরি হাওয়া
এমনি মায়াবী বিকেলে
হল যে আজকে হায়
তোমাকে কাছে পাওয়া ।
পথসঙ্গী কেবলই তুমি বলে
প্রস্ফুটিত কাশবন নৃত্য তালে হায়
হাতছানি দিয়ে বলে
ভালবাসার ছলে
এমনি মায়াবিনী
তুমি পেয়েছ কোথায় ?
আজ পাখিরাও গাচ্ছে গান
বিকেল পেরিয়ে সন্ধ্যাবেলায়
মধুমাখা সে ঐক্যতান !

হে সারদা সুন্দরী
মিনতি যে তোমায়
রাজকুমার - কুমারীর গল্পে
এসো কাটাই আজ রাত
শারদীয় এ জোসনাতে বসে
হয়ে একাকার
নির্ঘুম অভিসারের পর
স্বাগত জানাই প্রভাত ।
শিশিরস্নাত ঘাসফুলেরা
হয়তো মুগ্ধ হবে
তোমার পদযুগলের
শীতল ছোঁয়ায়
শিউলী ফুলের
প্রেমের মালায়
শারদীয় শুভেচ্ছা
অবশেষে জানাবো তোমায় ।

হে প্রেয়সী
এ শরত এ প্রণয়
মোরে করেছে
আজ চির সুখময় !

তখন প্রেম ছিল

যে প্রেমিকা ফুলবনে বিচরণকালে
আনমনে প্রেমিকের ফুল ছেড়া সইতে পারত না
সেই মানবী আজ হৃদয় ছিড়ে !
যে প্রেমিকা কাশবনে ঘুরে বলতো
শুধু সৌরভ না, দেখ, শুভ্রতাও কিভাবে হৃদয় টানে
সেই মানবী আজ কলুষ প্রেমে !
যে প্রেমিকা ছিল প্রকৃত সুরের সাধক
পাখির গান, নদীর কলতান শুনে কাটাত সময়
সেই মানবী আজ কর্কশ কন্ঠী !
যে প্রেমিকা ছিল বৃষ্টি ছন্দ প্রেমী ময়ুরী
আবেগে প্রেম বিরহে কান্নায় ফেলত চোখের কাজল ধুয়ে
সেই মানবী আজ বিচ্ছেদ কামী !
-তখন প্রেম ছিল
এখন আর নেই ।

হে আমার প্রেম

প্রহরের পর প্রহর
এভাবে কতো অষ্টপ্রহর
হয়ে গেলো শেষ,
অথচ অপেক্ষায় তোমার
কবে এই কষ্ট প্রহর
হবে প্রান্ত শেষ ?

অপেক্ষায় ছিলাম সূর্য ওঠার
উঠে সে ডুবেও গেলো ।
অপেক্ষায় ছিলাম চন্দ্র ওঠার
উঠে সে ডুবেও গেলো ।

অথচ অপেক্ষায় তোমার
নবদিগন্ত উদয় হলোনা
দুর্ভাগার দর্শনে,
এই নষ্ট প্রহর আমার
কেন তবু হয়না শেষ
ক্লান্তি ভরা মননে ?

হে আমার প্রেম-
হে আমার সুশাসন 

পূর্ণিমা রাতে অমাবস্যা

শরতের এই বারের পূর্ণিমাটা বেশ যৌবনা ছিলো
তোমার মত !
একটু একটু করে কৈশর বেড়ে বেড়ে
আজ যে পদচিহ্ন তোমার সে বড় চঞ্চলা হয়তো !
পরিপূর্ণ চাঁদটার মত সফেদ পাহাড় আড়ালে ঢাকা
কোন ধনকুবের নিরস দামী রেশমী কাপড়ে -
তাই আমার দৃষ্টিতে অমাবস্যা -
নিসঙ্গ প্রহর -
আমি ক্ষয়িষ্ণু -
বিরহে তোমার !
অমন চাঁদ, অমন পূর্ণিমার কি দরকার ছিল ?
যদি এমন রাত ব্যার্থ হয় প্রেমের কবিতার অভাবে !