সোমবার, ২৪ জুলাই, ২০১৭

পুরুষ মানুষ কাদতে পারেনা

হাসি মুখে থাকতে বাধ্য হই কারণে - অকারণে,
জীবন চলার পথের ব্যাকরণে ।


অন্তরের কান্না অন্তরে লুকাতে হয়
পুরুষের চোখে জল দেখলে- লোকে কাপুরুষ কয় !


পুরুষ মানুষ কাদতে পারেনা –
নিজের দু:খেও না, অন্যের দু:খেও না ।
সমাজে কোন অন্যায় দেখলে, তার প্রতিবাদ করতে না পারলেও - না ।
মাঝে মাঝে রাষ্ট্রের বিপথে যাওযার ক্ষেত্রে, বাধা না হতে পারার ক্ষোভও- না ।
বিশ্বব্যবস্থার কোন খুত দেখে, কিছু না করতে পারার অভিমানেও - না ।


মাঝে মাঝে কাদতে ইচ্ছে করে –
দু:খে, ক্ষোভে, রাগে, অক্ষমতায়, কখনোবা সুখের তরে !


কিন্তু, পুরুষ মানুষ কাদতে পারেনা –
কখনো না, কোন কারণেই না ।

প্রেমিক কবি ও কিশোরী চাঁদ

কিশোরী চাঁদ দেখে বলি -
কবে তুই পূর্ণ জোছনায় ভেজাবি যৌবনা হয়ে ।
হেসে বলে - এত তাড়া কেন কবি ?
যৌবন এর মৌবন ফুরালেই;
অমাবস্যার আধারে লুকাতে হবে, সব কষ্ট সয়ে ।
তখন কিভাবে বিরহের আগুনে তুই পুড়বি ?
কবি বলে-ঐ কদিন তোরেই রাখবো মনে মনে
আধারে মুখোমুখি হবো। ছবি এঁকে গোপনে !
তবে কি তোর সাধনায়- কবি,
কেবলই মোর যৌবন ?
উচ্ছল তরঙ্গমালার উদ্দীপ্ত বাধ-ভাঙা ফেনারাশি ?
মোর সৌন্দর্যে ডুবে থাকা ? হাসিতে ভাসাভাসি ?
কবি, অন্তর চক্ষু খোল !
মোর রূপ নয়, বল- কবিতায় গুনের বোল !
এরপর থেকেই প্রেমিক কবি
কিশোরী চাঁদের গুনের পুজারী ।।

হুমায়ুন স্মরণে

দূর ভুবনে - বসে গোপনে, যে বীণার তারের কাঁপনে-তোলো তুমি বিরহী সুর
তারই অনুনাদের ফল- এ হৃদয়ে কাঁপন প্রবল, তোলপাড় করে মনের সাত সমুদ্দুর ।


তোমার প্রয়াণে- বাংলা সাহিত্যের সুফলা অগ্রাহায়ণে-
শুণ্যতার বিষন্ন বাতাস বহমান,
তোমার বিদায় - অপুরনীয় স্থান ।
তবে, আজও দখল করে আছো অগোচরে - কোটি মানুষের প্রাণ ।
চির অমলিন তোমার সৃষ্টি সকল ।
চির বিমলিন তোমার অবদানের ফসল ।


হে বাংলা সাহিত্যের বাদশাহ-
“প্রিয় হুমায়ুন আহমেদ”…
এই আষাঢ়ের সব ভাসা পানিই –
তোমার বিরহে আমাদের উৎসর্গকৃত চোখের জল ।
যত ফুল ফুটেছে বিশ্ব মাঝারে –
সবই তা, তোমাকে জানাতে শ্রদ্ধাঞ্জলি বিমল ।

ভালোবাসা ভীষণ ক্ষমতাবান

ভালোবাসা : ভীষণ ক্ষমতাবান
সে মরুভূমি করতে পারে নিমিষেই ফুলে-ফলে শোভিত শ্যামল উদ্যান ।


ভালোবাসা : ভীষণ ক্ষমতাবান
সে শত্রুতা করতে পারে চিরস্থায়ী বন্ধুতা দিয়ে প্রতিস্থাপন ।


ভালোবাসা : ভীষণ ক্ষমতাবান
সে ঘৃণার আগুন নিভিয়ে সেথায় করে বপন হৃদ্ধতার বন্ধন আবহমান ।


ভালোবাসা : ভীষণ ক্ষমতাবান
সে ডাকাতকে করতে পারে দরবেশে রূপায়ন ।


ভালোবাসা : ভীষণ ক্ষমতাবান
সে বঞ্চিত মানবতাকে করতে পারে যথাযথ অধিকারের আলোয় বহ্নিমান  ।


ভালোবাসা : ভীষণ ক্ষমতাবান ।
ভালোবাসা : ভীষণ ক্ষমতাবান । ।

প্রজাপতি এবং গোলাপী

মুষলধারে বৃষ্টি ঝরে ভিজে গেল পাপড়ি সকল,
প্রজাপতি কি বুঝে - এ কি ধকল ?
রোদের খরতাপে বেঁচে থাকার লড়াই অবিরত,
প্রজাপতি কি বুঝে - তার কিঞ্চিত ?


দুষ্ট প্রজাপতিরা শুধু পতিই হতে চায় –
বিলাপ করে কাঁদে, গোলাপী না খুঁজে পায় কোন উপায় !


তিনটি তিনটি সন্তান - অনাহারের, অর্ধহারের জীবন
দিন আসে দিন যায়- গোলাপীর ভাগ্যের হয়না কোন পরিবর্তন ।


যৌবনে প্রজাপতি এসেছিল - এখন কোথায় করে সে  ওড়াওড়ি
কোন খোজ রাখেনা - বউ, সন্তানের - কিছু বললেই , তালাকের হুমকি আর পুরূষত্বের বাহাদুরি !


দুষ্ট প্রজাপতিরা শুধু পতিই হতে চায় –
গোলাপীদের ভাগ্য এমনই - হয় গার্মেন্টস কর্মী, নয়তো কাজের বেটি- বৃত্তবন্দী কষ্টের জামানায়!