বৃহস্পতিবার, ১০ মে, ২০১৮

লালটিপ


তোমার কপালের ঐ বৈশাখি লালটিপ, 
আমার প্রেমের- প্রথম সূর্যোদয়।
এসো মিলি প্রাণে প্রাণে আজ,
দুটি হৃদয় হোক- চারুকারুময়।


প্রভাতরাঙা ঐ টিপ হোক স্বাক্ষী নিরবে,
শুরু থেকে শেষ- প্রেমে সবসময়।
ঐ বৃত্তেই রাখুক জমা মুহুর্তগুলো ঋণে,
যুগল মনের সুখসব- হয়ে স্মৃতিময়!


টিপ ঘিরেই সাঁজুক সোনালী স্বপ্ন আজ,
বাঁকে বাঁকে থাকুক- জাগ্রত হৃদয়!
মনে বাজুক কেবল সে সুরেই কোলাজ,
দুটি জীবন হোক- নিত্য ছন্দময়।

বাংলাদেশের সংবিধানে "অসমতার" কথা নাই

কতো লোকে কতো কথা বলে- 
তার মাঝে কি আমার কথা চলে ! 
যদি চলে – 
একটা কথা বলতে চাই !

বাংলাদেশের সংবিধানে "অসমতার" কথা নাই ।
রক্তের অক্ষরে লেখা সংবিধানে "অসমতার" কথা নাই ।

ধারা উনিশ : সকল নাগরিকের জন্য সুযোগের সমতা নিশ্চিত করিতে রাষ্ট্র সচেষ্ট হইবেন ।
একটু অশুদ্ধ ভাষায়ই বলি : এই ধারার ব্যাখ্যায় আপনি কি কইবেন?

ধারা ছাব্বিশ : মৌলিক অধিকারের সহিত যতখানি অসামঞ্জস্যপূর্ণ, ততখানি আইন বাতিল হইয়া যাইবে । 
এখন বলি : খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা নিশ্চিত করণে চাকরিও-তো মৌলিক অধিকারের মর্যদাই পাইবে ।

ধারা উনত্রিশ :  প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োগ বা পদ-লাভের ক্ষেত্রে সকল নাগরিকের জন্য সুযোগের সমতা থাকিবে। 
ভাবুন : এই ধারার উপধারা  (১) অস্বীকার করে- উপধারা  (৩) কতটুকু গ্রহণযোগ্যতা পাইবে, যুক্তিযুক্ত থাকিবে ।  

আবার বলছি -
বাংলাদেশের সংবিধানে "অসমতার" কথা নাই ।
রক্তের অক্ষরে লেখা সংবিধানে "অসমতার" কথা নাই ।

ইট পাথুরে মন

যে মন ইট পাথুরে-
ওখানে ফুল ফোটেনা !
           ফুল ফোটেনা !!
               ফুল ফোটেনা !!!

বড় জোড় কিছু সবুজ শ্যাওলা জমে-
তা আঁকড়ে হয়তো জীবন চলে যেতে পারে -
                       ফুল ফোটেনা !
                       জীবন বিজ্ঞান বলে-
ফুল ফোটেনা - ইট পাথরে ।

বৃষ্টি পড়ে, সিক্তও হয়, কৃত্রিমতায় ।
হৃদয়খানা ভালোবাসাহীনই থেকে যায়- আক্ষেপ রয়ে যায় !

শ্যাওলা ভালো না বেসে. যদি ফুলকে ভালোবাসতে-
দুরত্বটুকুও আর থাকতো না!
হয়তো হতো তোমার আমার -
সুন্দর পৃথিবী !

মনটি তোমার উর্বর মাটি করো-
অপেক্ষায় আছি !
ফুল ফোটানোর আশায়-
বাঁচি, আরও কিছুদিন বাঁচি ।

একাই কাটলো রাত

অপেক্ষায়, অপেক্ষায় ক্লান্ত !
বৃষ্টির কান্নায়-
মেঘ কেটেছে, তারা হেসেছে, আকাশ ভরেছে নীল, নীল জোসনায়-
তবু, একটুও পরিবর্তন আসেনি !
মায়াহীন ঐ মনটায় !

'পাখির নীড়ে ফেরা সন্ধ্যা' থেকে-
সৌরভ সমেত ধুপধুনা আর আলোক মোমবাতি জ্বেলে-
খোলা জানালা রেখেছিলাম ।
দখিনা বাতাস এলো, আলো-ছায়া খেলা হলো, উত্তম সময় ছিলো মুখোমুখি ভালোবাসায়-
তবু, একটুও পরিবর্তন আসেনি !
মায়াহীন ঐ মনটায় !

এরপর, 
ক্রমাগত সময় বয়ে চললো...
জনপদ নির্জন হলো, নিস্তব্দতার ফিসফিস কথা বলার সময় এলো,অপেক্ষায়, অপেক্ষায়-
তবু, একটুও পরিবর্তন আসেনি !
মায়াহীন ঐ মনটায় !

বৃষ্টি, জোসনায়,
আধোআলো আধোছায়ায়, নির্জন প্রহরের নিস্তব্দতায়-
একাই কাটলো রাত!
আরও একটি একলা চলার সূর্যোদয়ে হলো আমার প্রভাত!

বিরহ পূর্বাভাস

তুমি, যেহেতু করেই দিলে পর-
আকাশে মেঘতো করবেই, দুঃস্বপ্নের বিজলী খেলা সেও চলবেই-
ঘূর্ণিঘোর আসবেই- বিচ্ছেদী ঝড়!

পর থেকে হয়তো-
হবো আরও পর ।
মেঘে মেঘে বাজবে ঘর্ষণ গান,
"তুমি-আমি"অবসান! সব কিছুই অবসান!
স্মৃতি ভুলে যাবার বৃষ্টির জলস্রোতে ভেসে-
হয়তো লুকাবো দুজনে- দুজনের ভিন্নতার দেশে!

তারপর ...
আবহাওয়া অফিস অন্য পূর্বাভাস দিবে ।

তোমার আকাশে- 
মেঘ কেটে রোদের ঝলকানি হাসবে, 
অথবা জোসনা ভাসবে ।
কেউ এসে আঁচলে লুকাবে নতুন, 
তাঁকে তুমি ভালোবেসে ছাঁয়া দিবে ।
হয়তো, দু, একটি নতুন কুঁড়িও খেলা করবে তোমার পাশে পাশে ।
হবে তোমার সুখে বাস ।

"তুমি-আমি" সম্পর্কের শেষমেষ এমনই হলো-বিরহ পূর্বাভাস!