বুধবার, ১৯ ডিসেম্বর, ২০১৮

গল্পটি এক প্রেমিক ভাস্করের!

তবুও শিকড় আটকে রাখতে পারেনি বৃক্ষকে- ঘূর্ণিঝড়ে উপরে গেলো । 
বছরের পর বছর একটু একটু গড়ে তোলা প্রেম- ধুলিস্যাৎ হলো !
যদিও ভালোবাসায় কোন খাঁদ ছিলনা- রোপনে, যতনে, পরিচর্যার সময় ক্ষেপণে । 
সাথে স্বপ্ন ছিলো আকাশ ছোঁয়ার, বৃষ্টিতে ভেজবার, জোসনা পোহাবার- যুগল যৌবনে ।
ইচ্ছে পুরন হয় না সবার ।
থাকেনা ঘরে- যে পাখির স্বভাব উড়ে যাবার ।
প্রেমিক ভুলতে পারেনা । অসহায় । ভাবনা করে- কিভাবে মনের দেবীকে রাখবে ধরে, চিরতরে । জানে, যদিও সে ফিরবে না আর ।
ফেরা সম্ভবও না । শেষ ফুলগুচ্ছ দিয়ে দিয়েছে চোখের জলে বিদায় বলে- মানব জনমের আসা যাওয়ার নিয়মে সবারই থাকতে হয় যে নির্বিকার । 
তবে তার কাছে ছিলো প্রমিকার পূর্ণ দেহের ফটোগ্রাফ বুক পকেটে - তাও হয়তো নষ্ট হবে একদিন!
সংরক্ষণে দেবীর স্মৃতি বরং সে আদলে একটি পাথরের ভাস্কর্য করে ঘরে রেখে প্রেম চলুক অব্যহতভাবে মনে মনে! 
এটি হয়ে থাকলো বিরহী ভস্করের কাছে হৃদয়াকাশের লুব্ধক তিনশ যাট ডিগ্রী মধ্যকোণে ।
এরপর থেকে চলছে অলৌকিক প্রেম প্রতিদিন!!!
গল্পটি এক প্রেমিক ভাস্করের- হারিয়ে যাওয়া প্রেমের তীব্র আকুতি ।
শুনে- আমি অবাক হয়েছি । "প্রেম" আসলেই কিছুটা অলৌকিক নিয়তি !

হিমার্দ্র রাত

হিমার্দ্র রাত
তুমিহীনা সময়
মন্দ বরাত ।

সমস্ত উষ্ণতা ইদানিং তোমার চাদরের আদরে লুকিয়ে রয়েছে এমন মনে হয় ।
আইনত বয়স হয়েছে! হৃদয়ের এমন ভাবনা এখন আর অমুলক নয়!
মাতৃকুল, পিতৃকুলের সব গ্রান্ড পা, গ্রান্ড মা- কেমন কেমন রসিকতা করে শীত নিয়ে,
লজ্জা পাই! মুখ লুকাই! তাদের রসের আলাপ না কমে বরং বাড়ে- পাল্লা দিয়ে!
কি আর করা যায়, স্বাক্ষর দাও সবুজ পাতায়- কবুল বলো তিন বার!
আসছে হিমার্দ্র রাত- বৃথা যেতে দেয়া যাবে না, বরং হোক সে মধুরতম উষ্ণতার ।

নিবেদনটি ছিলো হৃদয়ের গহীন থেকে

নিস্তব্দ মধ্যরাতে একাকী বসে পদ্মাসনে বিছানার পরে, চোখ দুটো বন্ধ করে-
বুকের বাম পাশে ডান হাত রেখে তর্জনী দিয়ে পরপর সাতটি টোকা মেরেছিলাম,
ধমনীতে শিহরণ জেগেছিলো- রক্ত বিন্দু সাঁতরে বেড়িয়ে ছিলো সমস্ত দেহ ।
শ্বাস প্রশ্বাস ধীর লয়ে ফুসফুসে যাওয়া আসার খেলা করেছিলাম-
ধমনীতে শিহরণ জেগেছিলো- রক্ত বিন্দু সাঁতরে বেড়িয়ে ছিলো সমস্ত দেহ ।
আমার হৃদয় মন্দিরে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলাম- তোমাকে আসবার আমন্ত্রণ ।
জানি, মনের কথা মনে আবেশিত হয় অলোরবেগে যেন বিদ্যুৎচমক-
অলৌকিক প্রেমের বার্তায় মুহুর্তেই হয়- সর্বত্র সলক!
অবশ্য তুমি সেদিনও কাছে নয়, ছিলে দূরে কুঞ্জবনে সদ্য প্রস্ফুটিত ফুল । 
অথচ তোমার প্রতিবিম্ব ছিলো- আমার হৃদয় মন্দিরে প্রেমাকুল ।
তারপর...
তারপর, কেটে গেলো কতো শীত, এলো কতো বসন্ত- তুমি এলে না !
নিবেদনটি ছিলো হৃদয়ের গহীন থেকে-
এখনো আছি অপেক্ষায়, হয়তো সে সময় হতে পারে অনন্ত- তবে ব্যর্থ হতে পারে না !
ইহলোকে না হলে, হয়তো হবে দেখা পরলোকে ।
কেননা আমার নিবেদনটি ছিলো হৃদয়ের গহীন থেকে ।

লাল সবুজ লাল

সবুজ মানে ভালোবাসা, মাঝে সূর্যদয়ের লাল
আমার হৃদয়ে আঁকা এ ছবি-
অমলিন চিরকাল, উজ্জ্বল চিরকাল ।
লাল সবুজ, লাল । লাল সবুজ লাল ।।

সবুজে ঘেরা আমার এ দেশে-
লাল সূর্য ওঠে হেসে,
এদেশের মাটি, এদেশের মানুষ-
যাই আমি ভালোবেসে ।
জন্ম আমার এ দেশের বুকে-
স্বাধীন সুখের দিনকাল ।।
লাল সবুজ, লাল । লাল সবুজ, লাল ।।

ভালোবাসা আমার একটি দেশ
সোনার মানুষে ভরা বাংলাদেশ,
তারই ভালোবাসায় উঠেছি বেড়ে-
এখানেই চাই আমার দেহাবশেষ ।
ভালোবেসে এ দেশেরই বুকে
থাকতে চাই মিশে চিরকাল ।।
লাল সবুজ, লাল । লাল সবুজ লাল ।।

বুধবার, ১২ ডিসেম্বর, ২০১৮

চারটি লেখচিত্র

একুশের লেখচিত্রঃ
বাঙালির ভাষাপ্রেম ফেব্রুয়ারির এক তারিখে শুরু হয়,
একুশ তারিখে সর্বোচ্চ উচ্চতায় যায় ।
এরপর কমতে থাকে তার হার-
ফেব্রুয়ারি শেষ, ভাষাপ্রেম শেষ, লেখচিত্র চমৎকার!

স্বাধীনতার লেখচিত্রঃ
এ চিত্রেরও একই রূপ-
এক তারিখে শুরু, ছাব্বিশ তারিখে সর্বোচ্চ ।
তারপরে স্বাধীনতার চেতনায় ভাটা পরে-
মার্চ পেরোলে থাকে না আর প্রীতির উচ্চবাচ্য!

বৈশাখী লেখচিত্রঃ
অদ্ভুত আমরা- 
তিনটি নববর্ষই করি পালন ।
পহেলা বৈশাখে ষোলা আনা বাঙালি-
এর আগে এবং পরে যেমন ছিলাম তেমন!

বিজয়ের লেখচিত্রঃ
এক ডিসেম্বরে শুরু হয় দেশের গল্প কবিতা গান-
ষোলই ডিসেম্বরে তার অনুনাদ সর্বোচ্চ তান ।
এর পরে নিম্নমূখী, থার্টি ফার্স্ট নাইটে হয় অবসান!

বলো, তুমি বলো-
এসব লেখচিত্র কেন হয় এমন? 
ধারাবাহিক হও, হুজুগ বাদ দাও, 
চারটি লেখচিত্রেরই করো জ্যামিতিক উর্ধ্বমূখী সম্প্রসারণ ।।