সোমবার, ২৯ জুলাই, ২০১৯

জয়তু ফাউল ফুটবলার

একটু সুযোগ পেলেই এখন-
নামছে মাঠে, খেলছে সবাই, ইচ্ছেমতন!
অপরকে ভেবে ফুটবল যেন-
মারছে লাথি, করছে যতো- কায়দাকারণ!
স্বার্থ চিন্তাই মূখ্য ভীষণ-
নিয়মনীতির নেই বালাই, যাচ্ছেতাই, যাচ্ছেতাই!
যেনতেন করে জিততেই হবে -
হয় হোক অন্যের ক্ষতি- চিন্তা নাই, চিন্তা নাই!
বিবেক,বুদ্ধি, রেফারী বিহীন-
মাঠ সাজানো চমৎকার- জোর যার জয়ও তার!
বিশ্বজুড়েই চলছে খেলা নিশিদিন-
বাজছে বারোটা মানবতার- নেই কোন তার প্রতিকার!
চোখ থেকেও অন্ধ হয়ে-
সবাই যেন সাজছে ভাঁড়- দেখছে খেলা মজাদার!
প্রতিবাদে কেউ রা করেনা-
উল্টো তোষামোদে করে চিৎকার- জয়তু ফাউল ফুটবলার!
জয়তু ফাউল ফুটবলার!! 
আহা, জয়তু ফাউল ফুটবলার!!!

অথচ নাম রটে গেলো তার নটীবানু

কোনদিন কোন অভিনয়ই করেনি-
অথচ নাম রটে গেলো তার নটীবানু!
যৌবন আসেনি, কৈশরে পা দিতেই বৃদ্ধ বাবা বিয়ে দিয়ে দিলো-
প্রথম বিয়ে এটি তার । আবেগী কিশোরীমন ভালোবাসতে কার্পণ্য করেনি 
তবুও বছর তিনেক পরে এক সন্তানসহ ডিভোর্স দিয়ে উদাও বাউন্ডুলে স্বামী!
এরপর ঘরে ঘরে কাজের বেটি সে...
দ্বিতীয় বিয়ে নিজেই করেছে গার্মেন্টস্ কর্মী । প্রেম করে!
মধু খেলো ভ্রমর বছর দুই-
পরেই খুজে নিলো নতুন ফুলের নতুন ভুই ।
যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন । বছর খানেক অপেক্ষা শেষে-
নানা লোকে নানা কথা বলে- তা ঠেকাতেই তৃতীয় বিয়ে । 
যে বাড়ী কাজ করে সে বাড়ীরই এক কাজের ছেলের সাথে!
যার জোটে না, তার কোনকালেই জোটেনা- দুধভাত পাতে ।
নেশায় মত্ত, অসামাজিক কর্মপ্রিয় তৃতীয় স্বামীকে বিদায় জানাতে হলো-
রয়ে সয়ে তবুও বছর পাঁচেক হলো । এতদিনে মোট তিন সন্তানের মা!
বিরক্ত হয়ে বলেছিলো নাকি- "যা শালা তুই যা ।
আর কোন বিয়ের নাম নিবো না!"
চলতে থাকে সন্তানসহ একলা জীবন...
এতোদিনে চায়ের দোকানদার, পানের দোকানদার, মুদি দোকানদার, সবজি বিক্রেতা- 
সবাই তাকে নটীবানুই ডাকে! 
অথচ কোনদিন কোন অভিনয়ই করেনি জোসনাবানু!

এক বাদল দিনে এক চায়ের দোকানে অলস আড্ডায় বসে এসব কথা আমার শোনা-
ভাবি, কতো কতো জোসনাবানুর এমন বেদনার কবিতা কতো শত কষ্টের শব্দে বোনা ।

মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই, ২০১৯

ফুলজনম

কতো সুন্দরী ফোটতে চায় ফুল রাধার মত। প্রেমে মাতাল হতে চায় মন যৌবনে লীলাময় পছন্দের কৃষ্ণকুঞ্জে। একদিন তেমন এক রজনীগন্ধা ফুটেছিলো আমাদের গায়। অবাক ফুল দেখে- দিনের বড় বড় সাধুরা রাতের চোর তার বারান্দায়!
জবাকে বলছিলো রজনীগন্ধা এসব কথা । নথ নেড়ে নেড়ে জবা কয়- "বইন, দিনের বেলায়ও কতো ভ্রমর টোকা দ্যায় গায়!
শুনে শুনে মাটিতে লুটিয়ে পড়া শিউলিতনু বলে-
ফুলজনম কি এমনই গো সবার?

দ্রোহ প্রেম

যখন দ্রোহের প্রেমে পড়ে মন। মনে বয়ে চলে এলোমেলো পবন। পবনে কালোমেঘের ভাসান প্রস্তুত। চলে বিরামহীন দুরন্তপনা। মেঘে মেঘে ঘর্ষণ। বিদ্যুত চমকে হয় আলো উৎপাদন। সে আলোয়- আলোকিত হয় ভুবন। অন্ধকার পালিয়ে যায়! মেঘেদের কান্নার জলে কষ্ট পেতে নেই- পৃথিবী পরিচ্ছন্ন হোক। হোক নীল আকাশ। বয়ে চলুক ভয়হীন বাতাস। সবুজ হোক, সতেজ হোক মানবজমিন। একমাত্র দ্রোহই- অন্ধকার তাড়াতে পারে!
তুমিও তাই দ্রোহ প্রেমে পড়ো।।

বুধবার, ১০ জুলাই, ২০১৯

সাতটি কসম আমার পুরুষত্বের!

সোনার বাংলা, রূপসী বাংলা এবং সাবাস বাংলাদেশ-
এই জনপদ- থাকতে পারেনা আলোহীন! 
অথচ কি করে এতো অন্ধকার এলো এখানে?
এখানে, এখন কি রাত, কি দিন- ঘুটঘুটে অন্ধকার!
লোভাতুর হায়েনার দল ঘুরে বেড়ায় শংকাহীন- 
নারীর দেহ খোঁজে, নিত্য নতুন কৌশলে করে ধর্ষণ উৎসব!
পুরুষ নামধারী এইসব জানোয়ারে জনপদ- 
এই বাংলাদেশ হতে পারেনা।
যারা অন্ধকার বয়ে বেড়ায় চিন্তা-চেতনায়- 
এই জনপদ তাদের নয়, কখনোই নয়।
১৯৫২, ১৯৫৪, ১৯৫৮, ১৯৬২, ১৯৬৬, ১৯৬৯, ১৯৭১ 
চেতনায় রেখে- 
সাতটি কসম আমার পুরুষত্বের-
এখন থেকে এখানে- পশুদের প্রতিরোধ করবে পুরুষেরাই। 
এই জনপদ ঐসব পুরুষের- যারা শ্রদ্ধার আসনে রাখে মাতৃকূল।।
এই জনপদ সেসব পশু'র নয়- যারা কলংকিত করে মাতৃকূল।।