সোমবার, ১ জানুয়ারি, ২০২৪

ছুটি

 ছুটি

- সাকিব জামাল


তোমার প্রিয় পথে উড়ে যাও পাখি, 

উড়ে যাও দূরে, যত খুশি উড়ে যাও।

বেলা শুরুর গানের কথা ভুলে যাও, 

ভুলে যাও দ্রুত, যত ইচ্ছে ভুলে যাও।



তবু মনে রাখবো আমি, মনে রাখবো একা,  

সবুজ বৃক্ষ। খড়কুটোর ওম। যৌথ ভ্রমন। 

মনে রাখবো, দিনের খুনসুটি। রাতের কূজন। 

বসন্তকাল। আর হংস-মিথুনের গল্প কথা!



অতঃপর, মাটির মায়ায়, একদিন

মিশে যাবো সময়ের প্রান্তিক ঘাসে,

একদম অভিযোগহীন!

হবে না দেখা আর গোলাপের সাথে!

--------

কবিতাটি দৈনিক যায়যায়দিন এ প্রকাশিত।

ফিলিস্তিন

 ফিলিস্তিন

- সাকিব জামাল


টুকরো টুকরো পাথরে বোনা স্বাধীনতার স্বপ্ন 

কচি ঘাসের গায়ে লেগে থাকা রক্তের দাগ

তোমরা বোঝ না? 

তোমরা বোঝ না, কতোটা অধিকারহারা হলে

আপন সন্তানের মৃতমুখ দেখেও

বাবা বলে ওঠেন, "হে আরশের মালিক,

তবুও আমার পরিচয়টুকু নিশ্চিত করো!"


অথচ তোমরা পাথরের টুকরোগুলোকে 

ভয়ঙ্কর বলো বোমারু বিমানের চেয়ে!

তাদের পক্ষে জলসা বসাও। সংঘ করো।

সন্ত্রাসবাদের তকমা দিয়ে- 

অস্বীকার করো স্বাধীনতার সংগ্রাম।

অন্যান্য মানবাধিকারের হিসাব দূরে থাক!

শুধু এতোটুকু হিসাব করো,

কে কতজন মানুষ মেরেছে, 

কে কতোটা দখলবাজ?


তবে, জেনে রেখো, একদিন এইসব পবিত্র পাথরের টুকরোই

আল-আকসাকে মুক্ত করার জন্য যথেষ্ট হবে!

--------

কবিতাটি প্রথম আলো উত্তর আমেরিকা সংস্করণে প্রকাশিত।

বুধবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৩

স্বাক্ষী শরৎকাল

 স্বাক্ষী শরৎকাল

- সাকিব জামাল


কোন এক শুক্রবার, পুরোটা বিকেল 

শাদারঙ কাশফুল আর

          নীল প্রজাপতির আকাশ 

মিলেমিশে হয়েছিল একাকার। 

ভালোবেসে দিনান্তে,

          সেদিন হেসেছিলো চাঁদ। 

ছিল নদী, পাখির গান। জয়ন্ত উৎসব।

স্বাক্ষী শরৎকাল!

কী আশ্চর্য! এখনও শরৎ আসে 

অথচ বিশেষ বিরহ।

সব বিকেল চুপচাপ! স্বাক্ষী নিরুত্তর!

চন্দ্রকথা

 চন্দ্রকথা

- সাকিব জামাল


পূর্ণ চাঁদে-

জল বাড়ে। ছল বাড়ে!

বাড়ে ফুলের ঘ্রাণ। 

সাধক ক্ষ্যাপা প্রেমিক হয়।

চাতক পায় প্রাণ।

আর আমি?

ভ্রমের সুরে গাই,

চলো পালায়ে যাই!

তিনটি হাইকু

 তিনটি হাইকু

- সাকিব জামাল


১.

এসো নাগিন,

রাতকে ভালোবেসে

বাজাবো বীণ!



২.

দেহস্থ নদী:

চন্দ্রবতীর প্রেমে-

জোয়ারবতী!



৩.

কুফা বরাত,

বিরহে ক্ষয়ে যায়

ফাগুনে চাঁদ!