রবিবার, ২৮ জানুয়ারি, ২০১৮

হেমন্তে বৃষ্টি প্রেম

হেমন্ত বেলায়, ভেসে মেঘের ভেলায়, 
অদিনে বৃষ্টির এমন ভ্রমন - 
ভিন্নতা ভরা এক অপূর্ব শিহরণ ।
এ অবুঝ মন, খোঁজে উষ্ণ অলিঙ্গন,
এমন নিশিথে, এলোমেলো সুরে-
পাখি একটু করোনা কূজন !

মুচকি হেসে, আনমন বেশে,
অবাক চাহনি, ইশারায় তীর করে নিক্ষেপণ-
পাখি তোলে মনে, প্রেমের সারগাম বৃষ্টির ছন্দে !
হেমন্তের হিমেল পবনে, মন দোলে,
বুঝিনা কোন সুরে, কি করে তাল মিলাই, কোন রাগিনীর রাগে এখন -
পাখির মন পড়তে পরে যাই দন্ধে !

ছন্দে, দন্ধে-
হেমন্তের বৃষ্টি !
ভালোবাসি বলি-
নাকি বলি অনাসৃষ্টি !

মনে মনে ভাবি, যা হোক - আগুনকে ভালোবেসে কতো পতঙ্গ পুড়ে হয় ছাই -
তেমনি না হয় হোক, তবুও আমি তোমাকে চাই !
সাহাস করে পাখির প্রেমে, বৃষ্টির সুরে হেমন্ত সমীরণে বাজালাম সুর -
তখন হেসে পাখি বলে ভালোবেসে- 
"সব কথা মুখে বলা যায় না, কিছু কথা বুঝে নিতে হয় !"
দুজনেই কূজনে বলি অবশেষে- হেমন্তে বৃষ্টি প্রেম: আহা, কী মধুর !

একটি বটবৃক্ষের কবিতা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সবুজ চত্ত্বরে
একটি বটবৃক্ষ ছিলো একাত্তরে ।
পাকিস্তানের হানাদারেরা ওটাকে ভেবেছিলো-
বাঙালী, স্বাধীনতাকামী প্রতীকী চরিত্র হয়তো !
তাই, এটাকেও বাঁচতে দেয়নি পাক হায়েনায়
উপড়ে ফেলেছিলো- হিংসায়, যুদ্ধের দামামায় !


স্বাক্ষী ইতিহাস । আজকে অপরাজেয় বাংলার সামনে যে বটবৃক্ষ-
সে শহীদের নতুন প্রজন্ম ।


উনিশ শত একাত্তরের পূর্বে, বটতলায়-
বজ্রকন্ঠের ভাষণ ছিলো স্বাধীনতা কামনায় ।
আড্ডা ছিলো ছাত্রনেতাদের, বীর বাঙালীদের-
এটিই হয়তো ক্ষোভের কারণ ছিলো পাকিদের !
এজন্যই ঐ বৃক্ষকে হত্যা করা হয়েছে-
কতোটা নির্দয় ছিলো ওরা, বুঝুন- অনুধাবনে ।


তারপর, যুদ্ধ-বিজয়-বাংলাদেশ হলো ।
একদিন বাংলাদেশের বন্ধু এডওয়ার্ড কেনেডি এদেশে এলো-
উনিশ শত বাহাত্তর ১৪ ই ফেব্রুয়ারি,
পুনরায়, ওখানে একটি বটের চারা রোপন করেছিলেন তিনি, আজ যেটি দেখি ।


আজকের বটবৃক্ষ আমার কবিতার পাতায়-
ঠিক মুক্তিযুদ্ধের পরবর্তী প্রজন্মের মতই ধারাবাহিকতায়-
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবনে,
দাড়িয়ে আছে স্বাধীনতা নিয়ে নির্দ্বিধায় ।

স্পর্শ

একদিন এই বামুনে দুই হাত
স্পর্শ করেছিলো গোলগাল একখানা চাঁদ !
স্পর্শ, অনুভূত
ঐ চাঁদ অবয়বে উপহৃত-
হারিনীর চোখের মত কাঁজল কালো দুই চোখের বাঁক !
সারস পাখির ঠোটের মত উচু লম্বা নাক !
কাঁচা সোনা রঙের বদনের মাঝে-
গোলাপের ঠোটের ভাজে ঝিনুকে মুক্তা লুকানো দাঁত !
হাসিতে জোসনামাখা লাজে -
স্নাত যুবক কবি নিয়ত পায় ভালোবাসার তীরের আঘাত !
একদিন এই বামুনে দুই হাত
স্পর্শ করেছিলো গোলগাল একখানা চাঁদ !

এ কেবলই একটু দৃষ্টি সীমানার অতিক্রম

আজ আমার মনের আকাশ বেদনায় নীল,
দুঃখ ভারে মনটি ভীষণ কালো !
ভালো লাগার একটি গানের প্রদীপ ছিলো আমার-
নিভে গেলো চিরতরে তার আলো ।


বিরহ বেদনার দু চোখের সাগর থেকে ঝরা লোনা বৃষ্টির জল -
হয়তো শুষে নেবে অনার্দ্র মাটির তল !
তবুও কি ভুলতে পারবো শুয়াচাঁন পাখি বলে তোমার সুরের টান ?
না, কখনো না । প্রিয় বারী সিদ্দিকী তুমি চির অম্লান ।


পাতাল বিছানায়- তোমাকে শুইয়ে দিলেও
চির বিদায় বলছেনা এই হৃদয় !
কবি রুদ্রের ভাষায়ই বলি -
চলে যাওয়াই প্রস্থান নয় !


তোমাকে শ্রদ্ধাঞ্জলি জানিয়ে সব ফুলেরা বলেছে-
তাদের সুবাসে তোমারই ছোঁয়া দেবে বারবার ।
বেদনার সুর বাঁজিয়ে সব বাঁশি বলেছে-
তাদের সুরে হবে তোমারই জয়গান ঝংকার ।


জানি, নশ্বর এই পৃথিবী ছেড়ে সবাই চলে যায় একদিন ।
কেউই নয় এর ব্যতিক্রম ।
তাই, গ্রহণ করো আমার বিনম্র শদ্ধাঞ্জলি, কথা দিচ্ছি তবে- মনের মনি কোঠায় তুমি রবে বেঁচে চিরদিন ।
এ কেবলই একটু দৃষ্টি সীমানার অতিক্রম !
---------------------------------------------------------------
উৎসর্গ : প্রিয় কন্ঠ শিল্পী বারী সিদ্দিকীকে ।

ভাগ্য পত্রঝরা বৃক্ষের মত

ধীরে, ধীরে- এক, একটি স্বপ্নের পাতা ঝরে পরে মানবজীবনে ।
বন্ধু, মেনে নাও- জগতের এ-ই স্বাভাবিকতা, বিষাদহীন মনে ।


না পাওয়ার বেদনায় অবসন্ন থেকোনা ।
আবার অসম্ভব কোন কল্পনায় মনও ভাসিওনা ।


হয়তো এমনও হতে পারে - ঝরা পাতার বৃক্ষ বসন্তে হবে সবুজ, ফল ফুলে রঙিন !
আবার হয়তো শীতল বেদনাতে থেকে থেকে- এসে যেতে পারে সময় ফুরানোর দিন !


এইতো জীবনের মানে !
ধৈর্যই উত্তম : প্রত্যাশা আর প্রাপ্তির হিসাবায়নে ।
দৃঢ়ভাবে মননে করো ধারন-
পত্রঝরা বৃক্ষের মতই ভাগ্যের গতিপথ- সৃষ্টিকর্তাই করেন নির্ধারণ ।