বুধবার, ২৩ মে, ২০১৮

নজরুলাঞ্জলি

নজরুলাঞ্জলি

কবির আগমন-প্রস্থান স্মরণে সবার মতই আমি শ্রদ্ধা নিবেদন করি, স্মরি ।
তবে ফোটাতে চাই একটু ভিন্ন রঙের ফুল, জাগরণে চাই তার মত আলোকিত মানবকুল ।
আমার জাতীয় কবি, আমার প্রেমের কবি, আমার দ্রোহের কবি- 
আমার কাব্যসাধনা জগতের গুরুকুল শিরোমনি: কবি নজরুলকে-
প্রচলিত শ্রদ্ধাঞ্জলি নয়,
কবিকে, আমি নিবেদন করছি "নজরুলাঞ্জলি" !
নজরুলাঞ্জলি : প্রেম এবং দ্রোহের রূপক "ফুল এবং মশাল" ।

কবির সমাধিতে আমি যেতে চাই- 
                                 ফুলেরঢালি নিয়ে এক হাতে-
                                                                     অন্যহাতে মশাল !
হৃদপিন্ডের দুই অলিন্দে দুই চেতনার রক্তরঙ -
                                   রাখতে চাই একপাশে প্রেম, 
                                                      অন্যপাশে দ্রোহের স্রোত বহাল !
শোক এবং শক্তির উভয় আবহে নিউরণ উদ্ধীপ্ত রেখে,
প্রেম এবং দ্রোহের উভয় শক্তি আন্তরে মেখে,
কবিকে, আমি নিবেদন করছি নজরুলাঞ্জলি-
                                     "ফুল এবং মশাল" ।


( সম্ভাবত, "নজরুলাঞ্জলি" শব্দটি আমার উদ্ভাবন ! )

কিশোরীর জৈষ্ঠ্যের দুপুর

কৈশরে কিশোরীমন চঞ্চল বনে বাদারে-
পাঁকা আম কাঠালের মৌ মৌ সৌরভে- জৈষ্ঠ্যের দুপুরে ভাতঘুম হয়না!
বিকেল একটু গড়াতেই চলতো আম গাছ, কাঠাল গাছ গবেষণা –
ফল পেঁকেছে বা দেরী কতো পরিনতিতে!
দুলাভাইয়ের বাড়ি বেড়াতে যাবে আম,কাঠাল সঙ্গী- 
রসের মাসে বেয়াই সাব রসের কথা কবে-
অপেক্ষা আর সয়না কিশোরীমনে !
কিশোরীর, জৈষ্ঠের দুপুরে ভাতঘুম হয়না !

এ কেমন জৈষ্ঠ্যের আয়োজন-
বুঝি, পুকুরে ঢিল ছোড়া জলের মতন কিশোরীমনের নাচন !
“আসসালামু আলাইকুম বিয়াইন সাব” কানে বাজে !
মধু মাসে প্রেমের মৌ ঘ্রানে কিশোরী মরে লাজে !

আশ্চর্যে 'আশ্চর্যবোধক' চিহ্ন নাই

এই সময়ে :
মিথ্যা, বানোয়াট তথ্য প্রচারে কারো বিবেকে-যান্ত্রিক ত্রুটি হয়না !
আশ্চর্য ।
কিন্তু, এই আশ্চর্যে কোন আশ্চর্যবোধক চিহ্ন নাই ।
বিষয়টি স্বাভাবিক হয়ে গেছে- জনরাণ্যে মানুষবিহীন প্রায় সব জনপদে !
ধর্মের বয়ানে মিথ্যা শুনি, কর্মের বেলায় ভন্ডেরা মুখোশ পরে সাজে ঋৃষি-মুনি!
তন্ত্রে-মন্ত্রে মিথ্যুক তান্ত্রিকের ভর, সুশীল মনেও বাস করে মিথ্যার চর !
ব্যক্তিজীবন থেকে আন্তর্জাতিক জীবন পর্যন্ত চলছে মিথ্যার বেসাতি বেপরোয়া ।
অথচ, কোন পর্যায়ে কারো বিবেকে-যান্ত্রিক ত্রুটি হয়না !

ধ্বংসস্তুপের সময়চিত্রে - আশ্চর্যে 'আশ্চর্যবোধক' চিহ্ন রয়না !!!

জলরঙ মন

বুঝেছি আমি, তোমার জলরঙ মন,
তোমাকে পড়তে চাওয়া - তাই অসম্ভব আয়েজন!
পাতায় পাতায় রহস্য - কখনো মোনালিসার হাসি, কখনো বিরক্তিতে কুঁচকানো ভুরু!
কখনো আমার বুকে আবাস গড়ার তীব্র বাসনা তোমার, কখনো আবার দেখি উড়ু উড়ু!
প্রেম-বিরহের পাঠ উদ্ধার বোধহয়- পাতাল খুড়ে পুরোনো সভ্যতা বের করার চেয়েও কঠিন ভীষণ,
বুঝেছি আমি, তোমার জলরঙ মন!
রহস্যময়তা নারীর ভুষণ ! চোখ বলে এক, ঠোট বলে আরেক! অঙ্গে অঙ্গে ভিন্ন ভিন্ন রূপ!
তবুও পুরুষমন নাঁচে অঙ্গিকুন্ডের পাশে ভালোবাসার আশায় - আমিও যুদ্ধ করি উদ্ধারে তোমার স্বরূপ!
তুমি থাকো, নিজে রাখো রহস্যেই ঘেরা - আমিও হই নাছোড় বান্ধা - চিন্তাশীল পাঠক সর্বক্ষণ ।
যদিও জানি আমি, ক্ষণে ক্ষণে বাদলায় আকাশের রঙ, বদলায় ঋতুর ঢঙ, পানি- পানির পাত্রে, গানের সুর -কন্ঠে কন্ঠে : এমনই বদলায় রহস্যময়ীর জলরঙ মন!

তবুও চায় মন মনের পাঠ - শুধু তোমাকে নিয়ে কাটুক সময় - 
জমুক রহস্যের মাঠ, তুমুল বাধা বিপত্তির হোক আমার পথঘাট!

অবাক মহাজাগতিক প্রেম সাধনা

বর্ষার জন্য মানবীর মন কাঁদে-
অথচ, প্রেমিক আটকা সন্ন্যাস বাধে!
মৌমাছি ঘুরে ফিরে উড়ে যায় প্রতি রাতে,
এমন "দর্শন" ফুল মানে কোন বরাতে ?
গুরুকে মানাতে চাও তোমরা-
কিন্তু শিষ্যের তত্ত্ব জ্ঞান যে সায় দেয়না!
বাস্তবতা বলে, সুখ পাখিও-
বৈরাগ্যের ধার কাছে না, কখনোই ধার কাছে না !

নারীদেহে সৃষ্টি তত্ত্ব রহস্য ! অবাক মহাজাগতিক প্রেম সাধনা !
                       - এই নিয়মে,
                         ভুল কিয়ামে -
দাড়ালে যে পথে - ও পথে সফলতার প্রশ্নই উঠেনা !