রবিবার, ১০ জুন, ২০১৮

বেরহম গ্রীষ্মকাল

চলছে প্রেম - তেজদ্বীপ্ত সূর্যের সাথে বাতাসের,
স্পর্শে তার ত্বক পুড়ে অন্তরের অন্দরমহলও জ্বালায় ঢের ।
মেঘছায়া অভিমান করে সরে গেছে কোন সুদূরে 
বৃষ্টির মায়াও কমেছে বুঝি মানুষের তরে -
ভেজানোর খেলায় মাতে না মেঘবালিকা বহুক্ষণ ! 
বেরহম গ্রীষ্মকাল । অস্থির মানুষজন ।

"ঐতিহ্যমাখা" দাদীর হাতপাখা হারিয়েছে বহু আগে ।
"তড়িৎ" ফড়িং আসে-যায় ফুড়ুৎ ফুড়ুৎ ! জল ছলাৎ ছলাৎ গায় জ্বলন সুরের রাগে ।
নিরুপায় হয়ে সবাই বেহাল !
চরম সংক্ষিপ্ত বসন পরে পরম শান্তির আশায়-
গরমে ভীষণ নরম হয়ে শরম তুলেছে শিকায় !
তবু থেকে যায় -বেরহম গ্রীষ্মকাল ।

সবুজেই করো নিজের আত্মপ্রকাশ

মহাবিশ্ব নিয়ে এ পর্যন্ত যত গবেষণা প্রকাশ-
একমাত্র পৃথিবীই বসবাসযোগ্য, অন্য কোথাও যাবার- মানুষের নেই অবকাশ ।
অন্য কোথাও সবুজ নেই । অন্য কোথাও তাই প্রাণও বাঁচে না ।
এ পৃথিবীতে সবুজ না থাকলে - অনুরূপ ফলাফল পেতে ব্যতিক্রম হবে না !

সবুজেই অস্তিত্বের প্রকাশ মানবের ।
সবুজ নষ্ট করা বৈশিষ্ট্য দানবের ।।

তোমাকে তোমার কসম - শ্যামল ধরা ধুসর করো না,
মাত্রার বেশি কার্বন নি:সরণ করে অক্সিজেন খেয়ো না !
সবুজের প্রজন্ম বাড়তে দাও । বাড়তে দাও জীবনের ধারা ।
সাময়িক স্বার্থ চিন্তায় পৃথিবী ধ্বংসের খেলায় হয়ো না আত্মহারা!
অন্য কোথাও যাবার- মানুষের নেই অবকাশ ।
বাঁচো সবুজে, বাঁচো নিজে ! সবুজেই করো নিজের আত্মপ্রকাশ ।।

হুমমমমম

আজকের কবিতায়- না হয় একটি গল্প বলি !
ছন্দহীন চরণে না হয় কিছুটা পথ চলি !

মনে সাধ জাগলো - এক কিশোরের স্বাধীন বয়সে একটি বন্দুক কিনবে,
টাকার ব্যবস্থা করতে পরিবারের সবার উপর কর আরোপ করে-
কাউকে ভালোবেসে, কাউকে একটু কর্কষ গলায়-চোখ রাঙিয়ে !

স্বপ্ন দেখালো-
বীজতলার ধান খেতে আসলে দুষ্ট পাখিদের গুলি করে মারবে ।
পাঁকা ধান খেতে আসা বাবুই, চড়ুই তাড়াবে ।
ফল নষ্ট করার দুষ্ট পাখিদের উড়িয়ে দেবে ।
চিল, বাজ পাখিদের উচিৎ শিক্ষা দিয়ে ছাড়বে ।

সবাই খুশি -
হাতে বন্ধুক এলো কিশোরের ।
দেখানো স্বপ্ন মত কিছু কাজ চললো বটে ।
হঠাৎ একদিন বাসার আদরের কবুতরের মৃত্যুদেহ উঠোনের মাঝ !
পরিবারের সবাই অবাক - এ কেমন কাজ ?
কিশোর চালাক ভারি -
মারে উল্টো ঝাড়ি !
ভুল হতেই পারে - এ নিয়ে কেন হবে চেঁচামেচি !
পরিবারের সবাই বলে : হুমমমমম !
রব ওঠে- তাইতো , তাইতো ঝামেলা বাধানোর চেয়ে উত্তম ঘুম !

জোসনার জলস্রোত এবং সাদা গোলাপ

বয়ো:সন্ধি পেরিয়ে এক মায়াবী রাতে চাঁদে লাগলো যৌবনের ঢেউ !
ঢেউ ঢেউ জোসনার জলস্রোত মনের জানালা ভেঙে ভাসিয়ে নিচ্ছে একেলা সময়-
একেলা সময় উদ্বীপ্ত হলো স্বপ্নের ফেনিল তরঙ্গমালায়-
তরঙ্গমালায় উত্থান পতন : স্বপ্ন বনাম দু:স্বপ্নের মতন !
হৃদয় নদীতে তবুও চলে জোসনার খেলা, যৌবন যে বাধাহীন- থামেনা স্বপ্নের মেলা ।
শুভ্র চাঁদোয়া যৌবন জন্ম দেয়- সাদা গোলাপ : সমতা, পবিত্রতা, বিশুদ্ধতা ।
গোলাপ ঘিরে প্রেমের স্ফুরণ হয় মনে- জোসনার জলস্রোত পবিত্র করে হৃদয়, বলে যায়-
ভালোবাসো । আলো ছড়াও । স্বপ্ন জাগাও - অন্যমনে ।
যেন আর আঁধার না নামে পৃথিবীর বুকে মানব মননে ।।
আর কখনো যেন জোসনার জলস্রোত না থামে, না থামে যৌবন- সাদা গোলাপের মুর্হুমুহু জন্মদানে ।

লাল অক্ষরে দু চরণ কবিতা

প্রেমের কবিতার দেনমোহরে হয়েছিলো যুগলের মিলন, 
কবিকেই তাই বলা যায় উকিল বাপ !
দাম্পত্য সুখে আনন্দমেলা হোক যুগলের,
কবির উপর - এমন বাসনার ছিলো সংগত নৈতিক চাপ !

সময় গড়ায়, আলো-আঁধারের খেলা চলে, চলে-  "হ্যাঁ-না" ! 
হিসেব নিকেষে প্রেমে বিরহ মেলে ডানা !
মেয়ে পাখিটি জানালায় ঠোকর মেরে প্রস্থ করে পথ - ফিকির করে উড়াল দিবে ফুড়ুৎ !
ছেলে পাখিটিও একই সাধনায় মনে মনে প্রস্তুত !
ফলাফল : বিচ্ছেদ, সম্পর্কের মৃত্যু, পারিবারিক ভাঙন ।
ইতিমধ্যে জন্ম নেয়া যুগলের আত্মজ বা আত্মজার দু:খের অথৈ সাগরে অনাকাঙ্ক্ষিত পতন, সীমাহীন দূর্ভাগ্য লালন ।

দু: সংবাদ বাতাসের আগে ধায়, প্রেমের কবিরও কানে যায়, কবি তখন চায়ের কাপে দিচ্ছিলেন পরিতৃপ্তির চুমুক –
সংবাদে মাথায় বাজ পরে! কবি দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে! আকাশে তাকিয়ে রয়, বুক করে ধুকধুক !

কবি নতুন কবিতা লিখে সম্পাদকের কাছে পাঠায় –
"প্রেম বোঝেনা মানুষ! কামনা বোঝে ! বোঝেনা - আত্মজ বা আত্মজার মুখ!
যে বোঝে সে পারিবারিক বন্ধনেই খোজে সুখ ।  স্বর্গীয় সুখ!”
দু চরণের কবিতা - সম্পাদক লাল অক্ষরে ছাপায়!!!