রবিবার, ১৬ জুন, ২০১৯

ব্লিডিং হার্ট, অত:পর!

উড়তে উড়তে ঘুরতে গিয়েছিলাম পরিস্তানে- ভ্রমর হয়ে!
ওখানে একটি জায়গার নাম গুল-ই-স্তান, এই বাগানেই পরিদের বাস।
এক এক ফুল রূপে থাকে এক এক পরি,
গুলবাহারে বাহারি রঙে দৃষ্ট্রি ভ্রম হলো প্রায়-
গোলাপী ডাকে লাল ঠোটে!
অপরাজিতা ডাকে নীল চোখে!
জবা ডাকে কপালের টিকলি নেড়ে নেড়ে!
শিউলি ডাকে শুভ্র বসন পড়ে!
এভাবে এক এক করে সবাই ডাকলো তার যৌবনাদীপ্ত অঙ্গ খেলায়-
আমি তখনও ভাসছি আনন্দ মনে পরিস্তানের ভ্রম ভেলায়! 
হঠাৎ চোখ পড়লো-একটি গাছের ডালে সারি সারি ফুল- রক্তের মত লাল! 
অন্য সব ফুলের চেয়ে তাকেই ভালো লাগলো,
অসাধারণ সৌন্দর্য্য আছে দৃষ্টি টানার- আমিও আকর্ষিত হলাম তার প্রেমে!
সেই থেকে আমার শরীরময় লাল দাগ, শয্যাশায়ী!
জ্ঞান হারিয়ে পড়ে ছিলাম ঘাসের বুকে-
পরিস্তানের কবিরাজমশাই এসে বলে গেলেন-
ফুলটির নাম "ব্লিডিং হার্ট"। কর্মে- বিষফুলও বলা যায়!
আরও বলে গেলেন,
রূপ দেখে নয়, গুন দেখে মন দিতে হয়!
শুনে-
আমি কেঁদে মরি...

সুখ উপপাদ্য

সাধারণ নির্বচনঃ সুখ বলে কিছু নেই!
বিশেষ নির্বচনঃ কান্নায় জীবনের শুরু-
কষ্টানুভুতির মাধ্যমেই তার শেষ,
মাঝের সময়টুকু দুঃখের সাথেই বসবাস।
দুঃখ একটু কমলে সুখ সুখ মনে হয়-এতোটুকুই ।
প্রমাণঃ যতো মানুষের সাক্ষাৎকার নিয়েছি আমি, 
যদিও প্রাথমিকভাবে সবাই বলেছে- ভালো আছি! 
কিন্তু কিছুক্ষণ পরেই দুঃখের গল্প, কবিতা, গান শুনিয়েছেন আমাকে!
কম-বেশি দুঃখের সাথে তাদের বাস্তব সময়কাটে, 
সুখের সাথে বিপরীত সখ্যতা চলে বিরামহীন-
তাদের কাছে সুখ মানে- দুঃখের সাময়িক উপশমন, কিছুটা তীব্রতাহীন!
জীবনে সুখ বলে কিছু নেই- দুঃখের মাত্রা কম অথবা বেশি!
প্রমাণিত!

প্রেম-অর্থনীতি

বড় ইচ্ছে ছিলো,
ঈদের দিনে তোমার  মেহেদী রাঙা ফুলেল হাত ধরে ঘুরে বেড়াবো-
ভালোবাসার পৃথিবীর বুকে।
এখনো কারো হাত ধরা হয়ে ওঠেনি আমার-
বৈষম্যের সমাজে!

আর্থিকজীবনে হিসেব গড়মিল হলে- 
আধুনিক সভ্যতার কোন কোন মেয়ে নাকি প্রেমেই পড়ে না,
তার মন চাইলেও প্রেমে পড়ে না!
প্রেমে পড়ার আগের হিসেব ভুল হলে যতো দ্রুত সম্ভব অন্য মই খুঁজে উঠে যায়!
দৃষ্টি উর্ধ্বমূখী তাই-
অবদমিত করে রাখে মনের চাওয়া,
ভয় পায় যদি ফ্যাশনপ্রেমীরা ভ্রুকুটি মেরে বলে, ওর সাথে প্রেম করে কিছুই পাবি না, 
না শাড়ি, না চুড়ি- ভবিষ্যত অন্ধকার!
এসব কথা, কোন এক বিরহে কুঁচকে যাওয়া পুরুষের মূখ থেকে শোনা!
শোনার পরে, সাহস করে তোমাকে কিছু বলা হয়নি আর!
এখনো কারও হাত ধরা হয়ে ওঠেনি আমার!
বৈষম্যহীন ঈদের দিনও তাই আমি একলা প্রেমিক!!

প্রেমিকাদের দল- জেনে রেখো, 
ভালোবাসায় আর্থিক হিসেব-নিকেশ অগ্রহণযোগ্য, 
চলে না!
এই হিসেব থাকলে-
পুরুষেরা পুরুষ থেকে যায়,
প্রেমিক হয় না!

প্রেম-অর্থনীতিতে হিসেবটি হওয়া উচিৎ শুধুই প্রেমের ।।

এ জনমে প্রেম হলো না

আমি ডাকি কুহু কুহু,
বন্ধু বলে- উহু উহু,
এ জনমে প্রেম হলো না!
না... হলো না, 
এ জনমে প্রেম হলো না ।।

ফুল জনম শেষ হলে
বসন্তও যায় চলে,
বন বনানী সাজেনা আর-
বাহারি রঙে ঢঙে!
সময় মত প্রেমের সাধন
নসিব হলো না,
ব্যর্থ হলো বন্ধু বিনে-
স্বর্গ সাধনা ।।
এ জনমে প্রেম হলো না ।।

প্রেম হলো জলের খেলা,
জীবন সুখের ভুবনে,
প্রেম ছাড়া বাঁচে বলো-
ঋষি, মুনী কোনজনে?
জলের সাথে জল মিলনে,
সমুদ্র হয় রচনা ।
হৃদমাঝারে বন্ধু বিনে
মরুময় যামানা  ।।
এই জনমে প্রেম হলো না ।।

( মূলত এটি মরমী গানের কথা )

মহাবৈশ্বিক স্মৃতিভান্ডার

হঠাৎ মনেহলো, ক্যামেরার বোতাম খুলি-
নিজের একটি ছবি তুলি!
আলোক ক্রিয়ায়-
ছবি এবং ছবি'র ছায়া ফ্রেম বন্দি হলো ।
তারপর ভাবনার জগতে নিউরণ নাড়া দিয়ে বলে গেলোঃ
"আলো-ছায়া,
মায়া অথবা মায়াহীনতা,
মহাবৈশ্বিক স্মৃতিভান্ডারে লুকানোর কিছু নেই!"

স্থান-কালের মাত্রা তিনের চেয়ে বেশি, 
অনেক কিছুই তাই চোখ দেখে না!
তবে বোধকরি সব স্মৃতিই থেকে যায় মহাবিশ্বে...