মঙ্গলবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

শাড়ির ভাঁজে ভাঁজে

শাড়ির ভাঁজে ভাঁজে- কি দেখো তুমি?
ঢেউ অথবা পর্বতমালা! পিঠ কতোটুকু ঢাকা অথবা খোলা!
তুমি এও দেখতে পারো- নাভীকুপ: পেশীবহুলতা অথবা টানটান-
দেখতে পারো- কুঁচি পড়া নাকি গ্রাম্য সাজে সাজানো শাড়ি খান!
দেখতে পারো তুমি- ব্লাউজ হাতাকাটা নাকি হাতের কবজি পর্যন্ত-
দেখতে পারো- শাড়ির নিচে ছায়া লুকানো নাকি দুই-তিন আঙ্গুল ছায়া নিচে বিস্তৃত!
তোমার ব্যাপার, এসব দেখে-
হতে পারো তুমি-রুচিশীল ভালোবাসায় বিদগ্ধ অথবা কামোদ্দীপ্ত!
তবে একটু চেস্টা করলেই তুমি দেখতে পারো,শাড়ির ভাঁজে ভাঁজে-
কেমন করে ভালোবাসা সাজে, সাজে মায়া মমতা- সাজে ঐতিহ্য তার মাঝে।
দাদীর শাড়ির ভাঁজে, নানীর শাড়ির ভাঁজে- 
কতো লুকিয়ে রেখেছে তারা তোমার ছেলেবেলার খাবার- চকলেট, বাদাম, বুট, ইত্যাদি।
মায়ের শাড়ির ভাঁজে, আঁচলের নিচে লুকিয়ে-
পেয়েছো তুমি কতো ভালোবাসা, মায়া, নিরাপত্তার সুখ- পথচলার নির্দেশ নিরবধি।
বোনেদের শাড়ির ভাঁজে, খালামনিদের শাড়ির ভাঁজে-
কোমারে লুকানো ছিলো পয়সার থলি- তোমাকে নিয়ে ঘুরতে যেত মেলায়। 
বড়বেলায় প্রিয়তমার শাড়ির ভাজে-
কতো সুখ, কতো দুঃখ লুকিয়ে রেখেছো তুমি- গল্প,কবিতা,গানের ভাষায়!
শাড়ির ভাঁজের এসব কথা তোমায় কি কখনো ভাবায়?

মনে করে দেখো- 
একসময় শাড়ির আঁচলে বাধা চাবিগুচ্ছে নির্ভর করতো পুরো সংসারধর্ম।

বাবা-মেয়ে ছড়ালাপ

মেয়েঃ          আমার বাবা মিস্টি বাবা,
                        আমার বাবা ভালো ।।
বাবাঃ           তুমি আমার সোনামনি,
                      আঁধার রাতের আলো ।।

মেয়েঃ         সুখে দুখে বাবা তুমি,
                            আমার বটের ছায়া ।।
বাবাঃ          তুমি আমার নয়নমনি,
                           আমার মায়ের মায়া ।।

সে দেখতে ঠিক মানুষের মত!

সে দেখতে ঠিক মানুষের মত-
অথচ তার হৃদয় খুঁড়ে কোন ভালোবাসা পাওয়া যায়নি!
পাওয়া গিয়েছে দুটো বাসা-
একটি ভীমরুলের,
                       অন্যটি মৌমাছির!
পুরো মস্তিষ্কজুড়ে এই দুইয়ের আনাগোনা সর্বক্ষণ।
তার স্বার্থ মেটাতে- কখনো সে ভীমরুল হয়ে হুল ফুটায় নিরীহ মানুষের গায়-
তারপর মৌমাছি হয়ে অন্যের অধিকার চুষে খায়!
সে দেখতে ঠিক মানুষের মত-
তবুও আমি তাকে- বিবর্তনে লেজ খসে পড়া প্রাণীই ভাবি মাত্র!

খুকুমনির শরৎ

শরৎ এলো বলে-
কাশবন দোলে,
           খুকুমনির কানে যেমন-
           দোলে কানের দুল।
নীল আকাশে,
সেই আনন্দে,
           ফুটেছে দারুন-
                সাদা মেঘের ফুল।
নীল-সাদা পোশাকে
যেমন সাজে খুকুমনি!
তেমনই সুন্দর আজ-
শরতের রূপের খনি!

আমাজনে পোড়ে মানবের সুখ!

আমাজন জ্বলে- 
                  জ্বলে পৃথিবীর বুক!
জেনে রেখো মানব, 
এই আগুনেই যাচ্ছে পুড়ে- 
                তোমার আগামীর বহু সুখ!
সবুজই পৃথিবীর প্রাণ, 
        অক্সিজেন-কার্বন ডাই অক্সাইডের- নিরন্তর সাম্যতায়:
        চলে সবুজ ফুসফুসেই অবিরত ধারায়- 
মানবের বেঁচে থাকার গান।
সবুজই পৃথিবীর প্রাণ।। সবুজই পৃথিবীর প্রাণ।।
সে ফুসফুস যদি পোড়ে আগুনে- 
                                    হবে নিশ্চিত ক্যান্সার! 
তুমি বাঁচবে না, বাঁচবে না পৃথিবী-
               চলমান সভ্যতা হবে ধ্বংসস্তুপের সম্ভার!