রবিবার, ৭ জুলাই, ২০১৩

গাঁয়ের বালিকা

আঁকা-বাকা মেঠো পথে
লাল শাড়ি পড়িয়া
কে যায় গো হেলেদুলে
হিঁয়ায় নাচন তুলিয়া ।
নুপুর বাজে তার রুন ঝুনঝুন
হৃদয় মোর হলো যে খুন
উদাসী মন মোর পাগল হলো
পেতে কাছে গাঁয়ের সে বালিকা ।
রিনিঝিনি কাঁকনে সুর তার
ছন্দ তোলে হে মনে বারবার
রূপের বাহারে ব্যাকুল হৃদয়
নিতে হবে যে তারে বরিয়া ।
এলোমেলো তার কালোকেশে হায়
বায়ু যে নিত্য দোল খেলে যায়
মন বড় চায় চুলে হাত দিয়ে
আদর করি বসে নিরালায় ।
লাজে ভরা তার হাসিমাখা মুখে
মাদকতাপূর্ণ নেশাভরা চোখে
প্রেমের ভুবনে কেটে যায় রেশ
উদাসী করিল সে আমাকে বেশ ।

মেয়ে, তুমি চাঁদ হও


‍নিস্তব্দ শরতের রাতে
আকাশে দেখেছিলাম চাঁদ
অপূর্ব আর সাদা মেঘগুলোকে
মনে হয়েছিল অনেক দিনের না দেখা প্রিয়তার জন্যে
আকুলে ছুটে চলা অশান্ত-অতৃপ্ত আত্মা
যে না‍হি মানে কোন বাধ ।

হলো মনে
চাঁদের কানে ফিস ফিস কি বলে
খানিকটা পুজো করে আবার গেল ছুটে
অনন্তের পানে ।

আর আমি পড়লাম ধ্যানে
কোন এক দেবীর
মনে মনে প্রলাপ কেটে বললাম
কোথায় তুমি ? এসো
পুজো করব তোমার
মেঘ গুলোর মত ।

হয়তো ওদের মত
আমি ধবল নই-আমাতে হয়তো কালিমাও আছে
তবুও বলি
মেয়ে, তুমি চাঁদ হও
আমায় দাও ক্ষণিকের তরে
পুজো করবার তোমায় ।

অকৃ‍‍‍ত্রিম ভালোবেসে
তারপর যাব চলে 
মহাকালের পথ ধরে
অনন্ত সম্মূখে ।

প্রশ্নোত্তর

বারবার প্রশ্ন করো
তোমায় ভালোবাসি কতো ?
নানা মূখরোচক উপমা দিতে পারি আমি
তবে ফাঁকা বুলি আওরাতে চাইনা
শুধু এতটুকু বলি
তুমি আমার উপর আস্থা রাখতে পারো ।

শব্দটা রাজনৈতিক মনে হলো ?
হতেই পারে !
তবে ‍জেনো আমার প্রেম ধ্রুব সত্য
অবিশ্বাসের ছিটে‍ফোটাও নাই
কেবল তোমাকে ভালোবাসি
কেবল তোমাকে ভালোবাসতে চাই ।

সুখের পথ

বলো যদি ভাই- কি করে সুখ পাই
‍শোন তবে- তোমারে সুখের পথ জানাই ।
রাখো হৃদয় ঘৃণা মুক্ত, উৎকন্ঠা মুক্ত মন
সাদাসিধে বেঁচে থাকো, গড় সরল জীবন ।
চাও খুবই কম, দিতে যদি পার দাও তবে বেশী
ভালোবাসায় পূর্ণ করো হৃদয়, ছড়াও সূর্যের মত হাসি ।
নিজেকে ভুলে এখন পরকে ভাব আপনজন
এটাই সুখের পথ- বলেন গুণীজন ।

নিভৃতে অশ্রু ফেলি

(উৎসর্গ : ড. হুমায়ুন আজাদ স্যারকে)

ক্ষত-বিক্ষত বাংলাদেশ
নষ্ট‍ দের অধিকারে সমাজ
ব্যহত মুক্ত চিন্তা
লংঘিত মানবাধিকার 
আর আমাদের
নিরবে অশ্রু ফেলা
অথচ তুমি 
স্মৃতিতে আজ
বেদনা ক্লিষ্ট আমরা ।
তুমি সংস্কারক
প্রচলিত রীতি বিরোধী
মুক্ত চিন্তার অগ্রজ
মানবতার ধারক
স্বাধীন চেতা ।
ওদের সহ্য হয়নি
তাই তোমাকে
তোমার অমর সৃষ্টি
' পাকসার জমিন সাদবাদ ' ।
ওরা হিংস্র পশু
নগ্নতার পুজারী
অর্থলোভী অত্যাচারী
ওরা ভালোবাসে
পরাধীনতা গোলামী ।
ওরা আঘাত করেছে
তোমাকে বারবার 
তবুও টলোনি তুমি
ছিলে আপোষহীন চির সংগ্রমী ।
তোমাকে তাই স্মরি
নিভৃতে অশ্রু ফেলি
তোমাকে ভালোবাসি
বাংলাকে ভালোবাসি
দেশকে ভালোবাসি ।

------------------------------------------------------------------------
এ কবিতাটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অমর একু‍শে হল স্বরচিত কবিতা প্রতিযোগিতায় পুরষ্কার প্রাপ্ত ।