সোমবার, ১ এপ্রিল, ২০১৯

তোমার প্রেম- আমার জীবনে নীলসময়

আর কতো? প্রেমের ছলে-
নামাবে আমায় তুমি নীল জলে!
জলপরি-
তোমার হাতে-পায়ে ধরি,
ক্ষান্ত দাও এবার!
প্রেমের বদলে- বিরহসময় দিওনা উপহার।
এই পথে সুখ ভীষণ,
ধারনা সব প্রেমিকেরই এমন।
আমার বুকের বাম দুধের নিচে তাই- 
তোমার নামে, ভুল প্রেমে টিকটিক আওয়াজ ছিলো সারাক্ষণ-
পূর্বকালে।
পরে বুঝি, তুমি মোহগ্রস্থ! জাগতিক কামে ইন্দ্রীয়বিলাসী।
নতুন পোশাকের প্রেম আছে- আবার পুরনোটিও ফেলতে ইচ্ছে হয় না তোমার!
আমার ইচ্ছে তাই- শূন্য হৃদয় মন্দিরে ফিরে যাই।
বিদায় জলপরি, আর ডুবে না মরি!

তোমার প্রেম- আমার জীবনে নীলসময় ।

আলোক সজ্জার দিন ক্ষণ

২৬ শে মার্চ এবং ১৬ই ডিসেম্বর- আলোক সজ্জা করতে হয় আমাদের। করি।  
তবে ভুলে যাই, দুটো আঁধারে ভরা কালোরাত আছে আগে তার- দুটো দিনেরই।
২৫ শে মার্চ এবং ১৪ই ডিসেম্বর।
আলোকটা তাহলে জ্বালাবো কখন?
কখন মূলত মানানসই দিন-ক্ষণ?
উৎসাহ আমাদের উৎসবে একটু বেশিই- দেরি সয়না!
আত্মত্যাগ বা মর্মান্তিক ঘটনা একটু কমই মনে রয়!
মতামত ব্যক্তিগত, তবে ভাবনাটা সার্বজনীন-
২৫ এর আগে ২৬ এর রঙিন আলোক সজ্জা- বেমানান।
১৪ এর আগে ১৬ এর রঙিন আলোক সজ্জা- বেমানান।

শাপলাকলির আলোক অভিযাত্রা- স্বাধীনতা!

জলপাথর চাপা থাকে থাকে মাথার উপর। যদিও পুকুরটুকুই সীমানা তবে নির্দ্রিষ্ট মানচিত্র।
আপন ভূমির ভালোবাসায়, মোহময়তায়- শিকড় এই কাঁদা মাটি জলেই গ্রোথিত।
কখনো বহিরাগত, কখনো অভ্যন্তরীন রাক্ষুসে প্রাণীসকল ঠোকড় মারে, মারতে চায়! নতুন, পুরাতন আরও বিপদ কতো!
তবুও সংগ্রাম করে বাঁচিয়ে রাখতে হয় দেহ-সম্মান, শিকড় পাকাপোক্ত করার অব্যহত চেস্টা কর্ম, বাকি সহোদরদের নিয়ে নিরাপদ পুকুরের প্রার্থনাও বাঁচিয়ে রাখতে হয় অবিরত।
হঠাৎ হঠাৎ মাথার উপর শ্যাওলা আসে, জলে ভাসে-
উঁচু শিড়ে উর্ধ্বমূখী স্মৃতিসৌধের চেহারারূপ শাপলাকলির আলোক অভিযাত্রা- বাধা মানে না কোন! 
আপনরূপে, আপনগুনে পুরো পৃথিবীকে মোহিত করার বাসনায়- ফোটে ঝাঁকে ঝাঁকে স্বাধীনতা!
ঝাঁকে ঝাঁকে শাপলা হাসে!
প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম হাসে!
স্বাধীনতার গানে গানে-
আগামী প্রহরগুলো হাতছানি দিয়ে ডেকে বলে,
এইতো শুরু হলো- পৃথিবীর বুকে অবিরত শাপলা ফোটার জয়োল্লাস।

তুমি স্বাধীন হবে কেমন করে?

স্বাধীনতার ভাবনা যখন পাখির মতন:
গান গাও- আপন সুরে, বাসা বাধো- আপন মনে, ঘুড়ে বেড়াও- ইচ্ছেস্বপন ।
স্বাধীনতার ভাবনা যখন নদীন মতন:
ছুটে চলো- নিরবধি, বাধা এলে- গুড়িয়ে দাও জলস্রোতে, ভালোবাসো- মোহনার ঐক্য যেমন।
স্বাধীনতার ভাবনা যখন বৃক্ষের মতন:
বাঁচো তুমি- মাথা উঁচু করে, চেতনা রাখো- শিকড়ে আঁকড়ে, গতি হোক- আলোকমূখী ।
স্বাধীনতার ভাবনা যখন পাহাড়ের মতন:
নীতিবোধে- অটল থাকো, দেশের প্রেম- আগলে রাখো, স্বপ্ন রাখো- আকাশমূখী ।

স্বাধীনতার শিক্ষা তোমায়- কেউ দিবে না, ইচ্ছেকরে!
প্রকৃতিই দেয় বলে- তুমি স্বাধীন হবে কেমন করে? 
উত্তর হলো-
              বিবেক স্বাধীন তো তুমি স্বাধীন,
              বিবেক পরাধীন তো তুমি পরাধীন ।
স্বাধীনতা তোমার আপন আলো ।।

দোল লগনে আয় রাধিকা আমার কুঞ্জবনে

সময় বয়ে যায়, আয় রাধিকা আয়- দোল লগনে,
মাতবো দুজন রঙের খেলায়- মনের প্রেম কুঞ্জবনে ।
জোছনা বিলাসে- ভর যৌবনে চন্দ্রবতী ভাসছে গগন গঙ্গায়,
এমন সময় চুপচুপ পায়, আমার কাছে আয়, প্রেমের যমুনায় ।
আয় রাধিকা আয়, সময় বয়ে যায় ।।
প্রেমের লগন বয়ে যায় ।। দোলের লগন বয়ে যায় ।।

সপ্ত রঙে, নানান ঢঙে, আজ মাতাল প্রেমিকের দলে-
গোপন কথা, মনের কথা- যার যার সখীর কাছে বলে ।
তোরে ভীষণ ভালোবাসি, আমি একা বসে আছি- তোরই সাধনায়,
এমন সময় চুপচুপ পায়, আমার কাছে আয়, প্রেমের ভজনায় ।
আয় রাধিকা আয়, সময় বয়ে যায় ।।
প্রেমের লগন বয়ে যায় ।। দোলের লগন বয়ে যায় ।।

আমার কুঞ্জবনে আজ ফুল ফুটেছে, পাখি গাইছে গান,
এমন ক্ষণে পাগল মনে- চায় হোক একলা থাকা অবসান ।
তুই কি সখী একলা রবি, বিরহ দুঃখু সবি- এমন পূর্ণিমায়?
এমন সময় চুপচুপ পায়, আমার কাছে আয়, প্রেমের মোহনায় ।
আয় রাধিকা আয়, সময় বয়ে যায় ।।
প্রেমের লগন বয়ে যায় ।। দোলের লগন বয়ে যায় ।।