বুধবার, ২০ অক্টোবর, ২০২১

ডিয়ার কমরেডস

 ডিয়ার কমরেডস

- সাকিব জামাল


ডিয়ার কমরেডস, দেখো, সবুজ চত্বরগুলো-

ধীরে ধীরে হলদে-তামাটে হয়ে নিশ্চিহ্নপ্রায়।

শোষক একনায়ক ইউক্যালিপ্টাসে ঘিরে ধরেছে!

আলোক অধিকারহীনে ফুটছে না রঙিন ঘাসফুল।

নিরীহ লতা-গুল্মকুঞ্জ অনুর্বর ভূমিতে অসহায়।

হতাশায় ডুবে আছে ছোট ছোট বৃক্ষদল।

পৃথিবীর প্রান্তরে প্রান্তরে-

ইউক্যালিপ্টাস উপড়ে ফেলে, ছুটে চলো তাই-

সবুজ সমাজ রক্ষার দুরন্ত কৃষক হয়ে!

সাম্যতার ভূমিতে বাঁচুক- ঘাস, লতা, গুল্ম, গাছ।

শনিবার, ৯ অক্টোবর, ২০২১

ত্রয়ী উপন্যাস

 ত্রয়ী উপন্যাস!

- সাকিব জামাল


তোমাকে নিবেদন করেছিলাম-

ভালোবাসার একগুচ্ছ কবিতা।

ফিরে ফিরে তুমি উপহার দিলে- 

কষ্টের গল্পসমগ্র।

সেসব প্রাক্তন কবিতা, 

সেসব প্রাক্তন গল্প,

তোমার বর্তমানের কাছে গোপন রাখা-

কী নিপুন ত্রয়ী উপন্যাস!

শহুরে সাপ এবং মা

 শহুরে সাপ এবং মা!

- সাকিব জামাল


ছেলেবেলায়, দুষ্টুমি শেষে, মায়ের বকা এড়াতে- 

একদিন ঝোপের আড়ালে লুকিয়েছিলাম।

হঠাৎ, দেখি সাপ! 

'মা' বলে চিৎকার করে- 

আবার ফিরে গিয়েছি মায়ের কোলে। নিশ্চিন্তপুর।



এখন শহুরে আবাস, ঝোপজঙ্গল নেই, সাপ আছে!

অথচ, বড়বেলার দুর্ভাগ্য-

মা গ্রামে। কাছে নেই। চিৎকার করে লাভ নেই!

রোজ সাপের কামড় খেয়ে চলছি...

ক'দিন সইতে পারবো, জানি না। চিন্তিত অন্তরপুর।

মিনিংলেস ড্রিম

 মিনিংলেস ড্রিম

- সাকিব জামাল


শরৎ রাত।

আকাশে টুকরো টুকরো শাদা শাদা বরফে'রা- 

ঘিরে রেখেছে ভীষণ সুন্দরী চাঁদ!

আমি এক একলা পেঙ্গুইন, 

বরফরাজ্যে অপটু প্রেমে।

তবুও ধীরে ধীরে হেঁটে এগোচ্ছি, 

প্রায় কাছাকাছি, হঠাৎ 

চন্দ্রাবতীর তুমুল টানে ওঠে জলোচ্ছাস।

ধপাস!

এরপর...

ভোর। 

রোজ সকালে যেভাবে রাঙা চোখে- 

ঘুম ভাঙে একলা আমার,

আজও তার ব্যতিক্রম হয় নি!



--------

কবিতাটি দৈনিক সমকালের কালের খেয়া এ প্রকাশিত।

তালপিঠা আখ্যান

 তালপিঠা আখ্যান

- সাকিব জামাল


বেয়াইসাব কয়, "বেয়াইন, বেরহম ভাদ্রের গরম, 

তাল কি পাকছে? হইছে নরম?

তালপিঠা খামু রাইতের কালে।" 

"হয়, হয়!" বলে বেয়াইন যখন লজ্জায় লাল, 

বেরসিক ভাবী এসে বলে, 

"দেবর, বাড়ি চল। তাল লইছি দুইটা।

তোর ভাইও খাবে আইজ রাইতে তালপিঠা।"

ভাবী আর দেবর যায় ফিরে, গাঁয়ে। 

ধীরে ধীরে নাও চলে,

বেয়াইনসাব ভাসে চোখের জলে!



-------

কবিতাটি দৈনিক জনতা এর সাহিত্য সাময়িকীতে প্রকাশিত।