বুধবার, ১১ অক্টোবর, ২০১৭

প্রেমিক মনের বিপ্লবী চেতনা

হয়তো তুমি এক পৃথিবী সৌন্দর্য্যভরা একখানা চাঁদ
আমি - তুচ্ছ ঊনমানুষ !
লোকে বলে - বারণ ।
আমি বলি - ধুর, ছাই, এসো উড়াই প্রেমের ফানুস !


জানি, জানি – 
আকাশ-পাতাল পার্থক্যের প্রেমের বহু নির্মম কাহিনী !


তবু, সাহাস কোথায় পেলাম জানো ?
প্রেমের কারণে শাস্তি পাওয়া-
মানুষের রক্তের রঙে-
যখন " লাল গোলাপ " প্রস্ফুটিত হলো !


শোনো, প্রেমিক মনের বিপ্লবী চেতনা
শুধুই ভালোবাসা বোঝে পার্থক্য বোঝেনা !


এখন বোঝ তুমি - মানুষে মানুষে ভেদাভেদ খুজবে নাকি ওড়াবে প্রেমের ফানুস
হোক না সে নানা মানদন্ডে নানা কিছু, তবুও তো মানুষ !

যৌবন : শিশির বিন্দু

ঝলমলে রোদকে ভালবেসে
শিশির যখন নিজের অস্তিত্ব হারায়,
তখন ডাকলে কাছে –
তাকে কি আর পাওয়া যায় ?


তেমনি বয়ে গেলে তিথি
যৌবন বিলাসকানন হয়ে যায় বিলীন,
বোঝনা কেন যুবক ?
এ নিয়ম শাশ্বত । ব্যতিক্রমহীন ।


শিশির বিন্দুও নেঁচেছিলো সবুজ পাতায় !
কিন্তু, কাঁহাতক ?
নবোদ্ গত যৌবনও ক্ষণিকের গান গায়,
পাঠ করে অব্যহত সময়ের ধারাপাত !


প্রাগুক্ত ! তবু বলি ফের –
যুবক বন্ধু আমার, এখনই গাও ধ্রুপদী গান,
করোনা হেলা এ উত্তম সময়ের
সত্য, সুন্দর পথের করো অনুসন্ধান ।


হৃদয়ে নীতিবোধ আঁকড়ে ধরো –
যৌবনের সময়টুকু করো সমাদর,
সুকর্ম সাধনে উন্মোচিত করো –
জীবনের সফলতার দ্বোর ।।

জোসনা রাতে আজ লীলাবিলাসে

জোসনা রাতে আজ লীলাবিলাসে-
সঁপে দিতে চাই এই মন,
ও রজনীগন্ধা তোমার লীলাকুঞ্জে -
ভালোবেসে করো আমায় নিমন্ত্রণ ।


তোমার মনের কুসুম কোণে, রাতে-
হৃদয় ভোমরার ধূপধুনা নিবেদন,
তোমার সকল সুধা বিলাও জোসনায়-
নৃত‌্যতালের আরতি করো গ্রহণ ।


জৈবিক-দৈবিক দ্বিধা ভুলে আজ-
প্রেম পিয়াসী- দুজনে প্রিয়জন,
কালের ক‌্যানভাসে সুখস্মৃতি আঁকি-
লীলাবতী, করো সমূহ সমর্পণ ।

স্বপ্ন পুরুষের আহবান

বহুদুর, দুরান্তে দুরন্ত কে যেন ডাকছে আমায়
জয়োল্লাসের অপেক্ষায়, বলছে সে -
জিরানো যাবে পরে, এসো -
সুড়ঙ্গ শেষে আশার আলোক রেখা ঐ দেখা যায় !
তাগাদা দাও,
তামাদি হয়ে যাওয়া সব আশা ফের জাগাও ।
তেজস্বী কন্ঠের আহবান অবিরত -
বিশ্বজয়ে পদযাত্রা চালাও অব্যহত ।
ডেকেই যাচ্ছে, বলেই যাচ্ছে, সে -
তুমিও হও স্বপ্ন পুরুষ - অগ্রণীর পথে ।
আমি মর্দ - ঘুমে কাতর, জড়ীভুত !
মা, মাটি, মানুষ নিয়ে নিত্যান্ত নির্লিপ্ত !
স্বপ্ন পুরুষের আহবান পৌঁছতে চায়না কর্ণকুহরে !
ভালোবাসাও জাগেনা মনের মুকুরে !
আবার হাঁক, ডাক, শুনি শুকরিয়া ধ্বনি -
আলো দেখা যায় । আলো দেখা যায় ।
এবার সঙ্গী হলাম আমি ! স্বপ্ন পুরুষের অবয়বে -
দেশের প্রেমে, মানব প্রেমে- উঠলো ফুটে হাসির ঝলকানি ।

খেলুয়া খেকশিয়াল

বড় আজব খেলুয়া খেকশিয়াল তুমি !
কুমিরের বাচ্চাগুলোকে কী সুন্দর মোহনীয় কথা বলে করলে উদরপূর্তি !


নাটমহল বিশ্বজুড়েই সাঁজিয়েছো নানা বাহারে !
সভ্যতার উৎকর্ষ নামে আগানোর পথে না হেটে-
আবার ফিরে যাও আদিম প্রহরে !


গাছের লতাপাতায় ঢাকা নারীর দেহ
দেখেছি আমি ইতিহাস বই পড়তে গিয়ে
ঐতিহাসিকরা ওটা বাঁকা চোখে দেখে বলেছেন -
তারা অসভ্য জাতি !


আমি অবাক হই -
এই যুগে, যখন দেখি -
টাই-কোট পরে নিজেকে পরিপূর্ণ আচ্ছাদন করা পুরুষের সামনে-
খেমটা নাচের নগ্ন নারী !


হায়রে কর্পোরেট পুরুষ ! মুখে বলো-
'তুমি' আমার মায়ের জাতি ।
অথচ, হৃদয়ে কলুষতা ভীষণ
গোপনে, মনে মনে করো ধারণ- কেবলই ব্যবসার প্রসারণ !


খেলুয়া খেকশিয়াল - নাট মহল সাঁজিয়েছো ভারী
আধুনিকতা ? সমতা ? সাহসিকতা ?
নাকি ভুল ব্যাখ্যায় -
নারী ও পণ্যের সঙ্গমে
করছো বাজারের প্রসার, উপযোগিতা যাচাই !


আর্থিক মোহগ্রস্থ সমাজ -
নারীকে সম্মান প্রকৃতভাবে দাও, অধিকার দাও, স্বাধীনতা দাও -
গুন এবং যোগ্যতা বিবেচনায় -
নইলে.... অপেক্ষা করো - সমাজে আসছে ভয়ঙ্কর প্রলয় !