বুধবার, ১০ জুলাই, ২০১৯

বৃষ্টির জন্য রাতভর অপেক্ষা

সন্ধ্যেবেলায়- হঠাৎ আলোর চমক, 
সারাদিন বসে বসে যে কামনার জল বাষ্প হয়েছিলো-
দীর্ঘকাল ধরে শুকনো হৃদয় ভেবেছিলো- 
বৃষ্টি খেলবে আপনমনে, বিরামহীন নৃত্য সারারাত।
আপত্তি ছিলো না যদি বৃষ্টিতে হয় কর্দমাক্ত এই দেহ, এই মাটি- নিজের,
তবুও স্নেহের জাতক সৃষ্টি হোক ভালোবেসে সভ্যতা টিকিয়ে রাখা বীজের!
কিন্তু বিচ্ছিন্নতার বিরহ ঝড় ছেড়ে দিলো বাতাস, 
উড়ে উড়ে ঘুরে গেলো মেঘের ভেলা । জমলো না প্রকৃতির খেলা-
রাতভর অপেক্ষা হলো বৃথা- বৃষ্টিহীন, সৃষ্টিহীন। জমলো জনমে কষ্টের মেলা!

রবিবার, ৭ জুলাই, ২০১৯

রোল কল

পৃথিবীর পাঠশালায়-
বিবেক মাস্টার রোল কল করছেন-
প্রাণী শ্রেণীর উপস্থিতির খাতায়।
দলে দলে প্রত্যেক প্রাণী সমস্বরে উপস্থিতির জানান দেয়,
গাধা?
- উপস্থিত স্যার।
বানর?
- উপস্থিত স্যার।
শকুন?
- উপস্থিত স্যার।
হায়েনা?
- উপস্থিত স্যার।
ইত্যাদি ইত্যাদি... সবশেষের রোল কল করলেন-
মানুষ?
-উপস্থিত স্যার।
বিবেক মাস্টার হলেন অবাক-
মানুষের উপস্থিতি কমেছে, অন্যদের বেড়েছে- 
অন্যরা তাই বেশি সবাক!
ভাবনায় পড়ে মাস্টার মশাই-
চোখ রাঙিয়ে বললেন- 
মানুষের উপস্থিতি কম কেন জানতে চাই?

তখন কিছু গাধা বললো- আমরা আগে মানুষ ছিলাম!
তখন কিছু বানর বললো- আমরা আগে মানুষ ছিলাম!
তখন কিছু শকুন বললো- আমরা আগে মানুষ ছিলাম!
তখন কিছু হায়েনা বললো- আমরা আগে মানুষ ছিলাম!
আমাদের এই দশা- পেয়ে পেয়ে বিবেক, বুদ্ধি লোপ!
জনসংখ্যা বাড়লেও তাই কমেছে মানুষের সংখ্যা- আশংকাজনক!

মাস্টার মশাই চিন্তায় ভীষণ গালে দিয়ে হাত,
ভাবেন বসে, চলে যদি এমন উল্টো বিবর্তন,
ইউনেস্কোর বিলুপ্তপ্রায় প্রাণীর তালিকায়- 
মানুষের নাম না জানি ওঠে কখন!
"আবার তোরা মানুষ হ" এই বলে- বিবেক মাস্টার,
রোল কল সমাপ্ত করলেন আজকের মত পৃথিবীর পাঠশালার।

বৃহস্পতিবার, ৪ জুলাই, ২০১৯

গান্ধীজীর তিনটি বাণী

সহিংসতার শিকড়
---------------
কর্ম ছাড়া- সম্পদ অর্জনের বাসনা,
বিবেক করে বন্দি- আনন্দ কামনা,
শুধুই জ্ঞান অর্জন- না করে চরিত্র গঠন,
নৈতিকতা ভুলে গিয়ে- বাণিজ্য, বিপণন,
মানবতার গান না গেয়ে- বিজ্ঞান, গবেষণা,
ত্যাগের চেতনা না রেখে- ইবাদত, প্রার্থণা,
নীতি ছাড়া যতোসব রাজনীতির বাহার,
গান্ধীজী বলেন- এসবই শিকড় সহিংসতার।
=================
আপনশক্তি
----------------
আপনার মাঝে শক্তির জন্ম- জয় থেকে নয়,
ঘাত-প্রতিঘাত সয়ে সয়ে- তাকে জন্ম দিতে হয়।
কষ্টময় কঠোর সাধনায় নিজেকে গড়ে,
সমর্পনের চিন্তা দিয়ে বাদ- লক্ষ্যে পৌছানোর তরে,
নিজের মাঝেই নিজে করতে হয় শক্তির সঞ্চারণ,
গান্ধীজী বলেন- এভাবেই হয় আপনশক্তির উদ্ভাবন।
=================
মৃত্যু ও শিক্ষা
--------------------
এভাবেই বেঁচে থাকতে হবে, ভেবে মনে মনে-
যেন আগামীকালই হয়তো যাবে তুমি মারা!
শিক্ষা অর্জনের বাসনা তবে জাগিয়ে রাখতে হবে সনে,
ভেবে নিয়ে- হয়তো কোনদিনও হবে না এ জনম সারা!
=================

ভালো থাকুক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

"ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়"- একটি দেশের সমান!
অবাক হলেন? আছে ইতিহাসে প্রমাণ!
বঙ্গভঙ্গ হলো, একটি বাংলা ভেঙে হলো দুটি দেশ-
বাধলো বিবাদ, দ্বন্দ্ব ভীষণ- নিয়ন্ত্রণ হলো কঠিন বেশ,
তখন ব্রিটিশ শাসক দল- 
বঙ্গভঙ্গ রদ করার করলো আরেক ছল,
দুই বাংলাকে ফের এক করা হবে-
পূর্ববঙ্গের তোরা কি চাস্ বল্ তবে!
শিক্ষাই জাতির মেরুদন্ড, জাতি গঠনে তাই-
পূর্ববঙ্গের নেতারা বললেন- বিশ্ববিদ্যালয় চাই।
জন্ম নিলো "ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়", অনেক কষ্টের ফসল,
একটি দেশের জন্মের সমান ছিলো সেসব ধকল!
বলেছি তাই- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় একটি দেশের সমান!
সেই থেকে আজ অবধি রেখেছে তার স্বাক্ষর-প্রমাণ!
ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায়-
স্বর্নাক্ষরে নাম লিখিয়েছি ইতিহাসের পাতায়, পাতায়।
জ্ঞানী-গুণীজন সৃষ্টি হয়েছে এখান থেকে কতো শত,
জাতির সেবায়, দেশের সেবায় থেকেছে অবিরত।
এখনও সেরা এই বিদ্যাপীঠ- বাঙালি জাতির অহংকার,
বিশ্বের মাঝে মাথা উঁচু করে দাড়ানোর- সেরা অলংকার।
মাঝেমাঝে বিপথে বিচ্যুতি কমবেশি সবার থাকে!
সাজে খুব কি বকা-ঝকা এনিয়ে প্রিয় প্রতিষ্ঠানটাকে?
ঐতিহ্য, সম্মান, অবদানসকল থাকুক চির অমলিন,
বিতর্ক এড়িয়ে, জাতি গঠনে- এগিয়ে যাক প্রতিদিন।
সাফল্যের সোনালী ডানায়- নতুন নতুন পালক যুক্ত হোক বেশ,
ভালো থাকুক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ভালো থাকুক বাংলাদেশ।

মেঘবালিকার খোঁজে

সেই ছোট্টবেলা থেকে-
মেঘবালিকার বহু গল্প শুনেছি । 
দেখতে কেমন? 
             কৃষ্ণকলি -লালটিপ পড়া হয়তো হবে, 
             নুপুর পড়ে ঘুঙুর বাজায় যখন মন মাতে,
             খুশিতে আলোক আভায় স্বর্নালী ঝুমকা দোলে, 
             আবার কষ্ট পেলে অভিমানে স্বচ্ছ জলের ফোটা ফেলে!"
আইনসিদ্ধ প্রেমে পড়ার বয়সে এসে,
হারিয়ে যাওয়া ছেলেবেলার বন্ধুতার খোঁজে-
ছুটে চলে মন মেঘমল্লিকা বনে!
উড়ন্ত পবন, দুরন্ত মন-
প্রতিজ্ঞাবদ্ধ ছুটে চলতে মেঘবালিকাকে খুঁজে না পাবে যতক্ষণ!
কদমফুল ফোঁটার পরে তাই এক বাদল দিনে-
ইচ্ছে হলো অভিকর্ষজ ত্বরণের টান ছিড়ে,
ধীরে ধীরে উঠি ঘুড়ির মতন- যতদূর পারা যায়!
কথা হলো- খন্ড খন্ড মেঘমল্লিকা বনের সব মেঘফুলের সাথে,
"আমার মেঘবালিকা কই?"
রহস্যময়ী হাসি সবার মূখে!
হঠাৎ বিজলীর চমকে- শব্দধ্বনি, আমি কেঁপে উঠি!
ঘুম ভেঙে যায়।
আজও জানিনা আমি- আমার মেঘবালিকা কোথায়!
তোমরা কেউ কি জানো?
নিরুত্তর থেকো না! যদিও আমি জানি-
"সব প্রতিজ্ঞা পুরণ হয়না- এক জনমে!"