সোমবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮

২৩ সেপ্টেম্বর, অথচ!

আজ তোমার আঙিনায় যতোটুকু ছিলো আলো
                     আমারও ছিলো আলো ততোটুকু,
আজ তোমার বারান্দায় যতোটুকু আঁধার
                            আমার বারান্দায় ততোটুকু ।
আজ যতোটুকু জোছনা তুমি পেয়েছো
                                   আমিও ততোটুকু পাই,
আজ যতোটুকু প্রেম তোমার বরাতে
                    শুধু ওতোটুকু আমার বরাতে নাই!

অাজ ২৩ সেপ্টেম্বর, অথচ!
          সমান হলো না, শেষের কবিতার তাল-
সমান হলো না তোমার-আমারঃ 
                       দিবা রাত্রির ভালোবাসাকাল!

সালমান শাহ্ঃ ভালোবাসা অবিরাম

সালমান শাহ্...
কোথাও এ নামটি উচ্চারিত হলে,
দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে, মন বলে-
আহ্!!!

রূপালী আলোর জগৎ তোমার আগমনে-
আলোকিত হয়েছিলো যেন আকাশের লুব্দক।
ছড়িয়ে পড়েছিলো কোটি কোটি প্রাণে-
সেই অবারিত আলোর ঝলক।

দেশ, দেশান্তরে-
অন্তরে অন্তরে উঠেছিলো ঝড়,
অভিনয় প্রতিভায় তোমার, মুগ্ধ হয়ে সবাই-
বলেছিলো, তোমার অভিনয় অবিনশ্বর।

হঠাৎ, তোমার অনাকাঙ্ক্ষিত চলে যাওয়া-
ভক্তদের কলিজা ছিঁড়ে যাওয়ার মতো!
রূপালি জগতের আনন্দ অশ্রু হলো-
বেদনার অশ্রুতে পরিনত।

তবুও আকাশ আছে, আছে নীল জোছনা ধারা!
জ্বলে মিটিমিটি বহু নক্ষত্র, তারা- 
এগুলো থেকে বেছে বেছে উজ্জ্বল একটির নাম-
রেখেছি- "সালমান শাহ্ঃ ভালোবাসা অবিরাম।"

রবিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮

প্রেম ঐক্য সমায়িক!

প্রেম ঐক্য সমায়িক!
- সাকিব জামাল
-------------------------
হৃদয়ের গোপন কথা বলতে চাই-
এসো ঐক্য করি তুমি আমি!
ভালোবাসার রাজ্য দখলে নেবো-
আমি রাজা আর তুমি.....
                                  রানী!
সময় বদলে যায় অলীক স্বপ্নে
মধ্যস্তার জন্য পাওয়া যায় না কাউকে!
তুমি তোমার পথে দুর্দান্ত ছুটে চলছো-
আর আমি পথ চেয়ে থাকি.....
                               একাকী!
ঐক্য হয় সমায়িক ।
প্রেমিকের ভাগ্য বদলায় না!
অভাগা প্রেমিক সাগরকূলে শুকনো তটে
ভালোবাসার চিহ্ন আঁকে বালুর উপর...
                               বানভাসী!
টেকে না । টেকসই সম্পর্ক ছাড়া-
অন্য কিছু টেকে না । তুমি আমি:
অপ্রসাঙ্গিক, উত্তর আধুনিক যুগে -
সবই প্রেম প্রেম খেলা...
                               দুঃখদাত্রী!
সুখ খুজে বেড়ানো যুগল ভ্রুলতা-
কুঁচকে যায় । কপালে দাগ দাগ রেখা-
বোকা আমিঃ মিথ্যে স্বপ্ন সাধনে পদ্মাসন পেতেছিলাম-
চোখ খোলার পর আবার-
                                  যাত্রী!
ঐক্যের পথে ব্যর্থ ভ্রমে চলা প্রেমিক ।
আজও আছি তোমার অপেক্ষায়,
দূরদ্বীপবাসিনী তুমিঃ জানি আসবে না-
এই প্রেম ঐক্য প্রক্রিয়ায়...
                                   ভ্রান্তি!

মঙ্গলবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৮

কালনী নদীর জল উতলায়

কালনী নদীর জল উতলায়
- সাকিব জামাল
------------------
শরতের শুভ্র কাশবন ভালোবাসি আমি, 
তুমুল জনপ্রিয় আমার সাদা মেঘ নীলাকাশের ।
যখন বাউলের চুল রঙ সফেদ, পরিনত শান্ত চোখ- 
ভালোবাসি তাও আমি শ্রদ্ধা সমেত ঢের ।
হঠাৎ মন কেঁদে ওঠে ভালোবাসার বাউলের প্রয়াণে-
আমিও চোখের জলে নাও ভাসাই মনে বিরহী তানে,
তখন ভালোবাসার শরতের শুভ্রতা ফিকে হয়ে যায়-
শাহ আব্দুল করিম ডাকে আমায়, ভাব সাগরে ঢেউ তুলে বেদনায়!


অস্পষ্ট কন্ঠস্বরে গেয়ে উঠি-
         কেন পিরিতি বাড়াইলারে বন্ধু…
         কাঙ্গালে কি পাইব তোমারে…


বিচ্ছেদের আগুনে - 
                            কালনী নদীর জল উতলায়!

-----------------------------
উৎসর্গ : বাউল শাহ আব্দুল করিম ।

রবিবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৮

চল যাই, চল যাই মাদিনা

মন বলেরে, বলেরে
চল যাই, চল যাই মাদিনা,
দুরুদ সালাম দিয়ে আসি,
নবীজীকে ভালোবাসি-
এতো ভালো আরতো কিছু বাসিনা ।।

মাদীনার ধুলো মাটি
নবী পেয়ে হলো খাঁটি
আঁধার সেথা গেলো কেটে
হেরার আলো জ্বলে উঠে
ঐ আলোর পথে চলি-
অার কোন পথ ভালো বাসিনা ।।

কিয়ামতের কঠিন দিনে
রাসুলের সুপারিশ বিনে
কেউতো পার পাবে না ।
সেদিন যেন নবী আমায়,
উম্মত বলে নেয় মেনে হায়-
এছাড়া আরতো কিছু চাই-ইনা ।।

নৈর্ব্যত্তিক উত্তর: খ

ভাইয়া ছিলাম,
মাঝে কিছুদিন অন্যরকম!
আবার ভাইয়া হলাম!
কিছুটা ইচ্ছে পুরন,
         শখ পুরন,
কামনা-বাসনা পুরন!
মনের শুন্যস্থান পুরন করতে পারিনি-
প্রশ্নটি অবশ্য জটিল ছিলো! 
            নৈর্ব্যত্তিক দুটো পছন্দঃ
ক. বিবাহ
খ. বিচ্ছেদ 
সময়মত চাকরি হলো না, উত্তর দিতে পারিনি!
চৌধুরী সাহেব সামাজিক মাধ্যমে নতুন পারিবারিক ছবি প্রকাশ করলেন...

স্বয়ংক্রিয় প্রশ্নোত্তর "খ"!!!

বুধবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৮

আগুনমন

এই দেহঃ জল ও মাটির ।সেখানে আগুনমন বেমানান !

বেমানান-          কামের আগুন ।          ক্রোধের আগুন ।          লোভের আগুন ।          মোহের আগুন ।          মদের আগুন ।          মাৎসর্যের আগুন ।

বারবার           মন ভোমরা এসবে আকুল হয়ে বেকুব হয় !ভুল ফুলে করে ভুল আলিঙ্গন !        পবিত্রমন হয়ে যায়-                        আগুনমন!

মানবের এ রূপ বেমানান,আগুনমনে সৃষ্ট শয়তান !!


রাত্রিকাব্য

মাঝরাতে কবিতার মাঝে সীমাহীন সুখ,
ভাঁজেভাঁজে প্রেমের বইয়ে মুছে যায় দুখ ।
মুখোমুখি পাঠের আসর জমে ওঠে বেশ,
'চোখেচোখ' প্রথম কবিতা দীর্ঘক্ষণ রেশ ।
দ্বিতীয়ার পাতায় আঁকানো ঠোট লাল রঙ,
পরশেই কবিতার বুকে এলোমেলো ঢঙ ।
এরপর উষ্ণতায় ভরা নগ্ন কাঁধ রূপ,
অগভীর কুপে ডুবে কবি রুদ্ধশ্বাস চুপ ।
'লজ্জাবতী লাজ ভাঙ্গো' কাব্যময় ষষ্ঠ পাতা,
রাত্রিকাব্যে সপ্ত স্বর্গে প্রেম পৌন:পৌনিকতা ।

সোমবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৮

আল্লাহ মেঘ দে, বৃষ্টি দে !

বিশ্বজুড়ে - অবহেলিত, নির্যাতিত, নিপীড়িত, সুবিধাবঞ্চিত, মানবাধিকারবঞ্চিত মানুষগুলোর - 
দীর্ঘশ্বাস : বাষ্প হোক, বাষ্প : মেঘ হোক, মেঘ : বৃষ্টি হোক !

আর সেই বৃষ্টি ঝরে পড়ুক সব মানুষের অন্তরে, অন্তরে ।

ধুয়ে-মুছে দিক কালিমা, জঞ্জাল, পশুত্ব !

সব হৃদয় সতেজ হোক ভালোবাসায় ।

সব হৃদয় সজীব হোক বন্ধুতায় ।

সব হৃদয় চির সবুজ হোক মানবতায় ।

সৃষ্টিকর্তার কাছে এই প্রার্থণা - 

আল্লাহ মেঘ দে, বৃষ্টি দে ।

এই বলে বলে আজ কাঁদবো -

এই মর্ত্যে - একটি ভালোবাসার স্বর্গ জন্মাবো !

আমন্ত্রণ অগ্রণীর বঙ্গবন্ধু কর্ণারে

হে বন্ধু আমার,
আমন্ত্রণ থাকলো তোমায়-
উষ্ণ ভালোবাসায় ।
যদি আসো কখনো অগ্রণীর আঙিনায়-
কোন সেবা নেবার প্রত্যাশায়,
সময় করে, বেড়িয়ে যেও বঙ্গবন্ধু কর্ণার-
এ আমার অহংকার ।
সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালির প্রতি শ্রদ্ধায় নিবেদিত-
অগ্রণী ব্যাংকের শ্রেষ্ঠ কর্ণার ।

এদেশের স্বাধীনতা এনে দিলেন যিনি,
এদেশের পতাকা এনে দিলেন যিনি,
এদেশের অর্থনৈতিক মুক্তির প্রত্যাশায়-
সেই মহাত্মার স্মরনে নির্মিত বঙ্গবন্ধু কর্ণার,
এ আমার ব্যাংকের অহংকার ।
এ আমার দেশের অহংকার ।
এ আমার জাতির অহংকার ।

যদি সময় করে তুমি আসো,
ভালোবেসে একটু বসো,
জানতে পারবে-
শত শত বই পাঠে-
বঙ্গবন্ধু এবং তার জীবন,
তার কর্ম, সংগ্রাম, ইতিহাস ।
আছে এখানে দুর্লভ কিছু সংগ্রহ-
সাজানো সুন্দর পরিবেশে,
মুক্তিযুদ্ধের চেতনা জাগিয়ে তোলার-
অনুপম প্রয়াস ।

হে বন্ধু আমার,
আমন্ত্রণ থাকলো তোমায় ।
বর্তমান ব্যবস্থপনা পরিচালক মহোদয়ের এ উদ্ভাবন-
এদেশের ইতিহাসে প্রথম সংযোজন ।
দেখে যেও, বেড়িয়ে যেও-
বঙ্গবন্ধুকে জানতে, ভালোবেসে-
খানিক সময় দিও ।।

উদাহরণস্বরূপ: বিচ্ছিন্নতা!

উদাহরণস্বরূপ-
ধরো, একটি রঙিন বেলুনের উপর পাশাপাশি দুটি ফোঁটা: তুমি-আমি ।
অথবা তোমার আমার মন !

এরপর সময়ের সাথে সাথে...
চাওয়া-পাওয়ার ব্যাবধানে, দুজনের অমীমাংসিত দ্বীর্ঘশ্বাস-
বেলুনটি প্রসারিত করতে থাকে...
দুরত্ব বাড়ে ঐ ফোঁটা দুটির মাঝে: তুমি-আমি যেতে থাকি দূরে সরে...
ভালোবাসায় আস্থাহীনতা বাড়ে সন্দেহের মনে ।
তোমার সাথে আমার আর মিলছে না!
আমার সাথে তোমার আর মিলছে না!
মিলছে না মনে মন : 
হায়, হায় বলে অতৃপ্তির বাতাস বেলুনে ফু দেয় বিচ্ছিন্নতার পক্ষ!
সে উচ্চ শব্দে বেলুনের বিস্ফোরণ:
ফলাফলে বিচ্ছিন্ন- 
একটি রঙিন বেলুনের উপর পাশাপাশি দুটি ফোঁটা: তুমি-আমি ।

রমা চৌধুরী এবং ভাবনার পরিবর্তন!

কবিতায় শোক করে করে হবে?

কী সংগ্রামী জীবন! দুঃখ জীবনভর ।
ভালোইতো ছিলেন একাত্তরের আগ পর্যন্ত-
ছিলো সুখ, সংসার, ঘর ।

দেশকে ভালোবেসে-
প্রবেশ দুঃখের দেশে,
মুক্তির সংগ্রামে শরিক হতে গিয়ে-
কষ্টের জীবনে পাঃ
সে পায়ে আর জুতো পরা হয়ে ওঠেনি!
"বিষাদ জননী" হয়ে- 
সংগ্রাম করে, কষ্ট সয়ে,
চলেছে জীবন কাহিনী...

এসব দেখিনি-
আমরা?
আমাদের অগ্রজেরা?
আমাদের সমাজপতিরা?
আমাদের বিত্ত্ববানেরা?
আমাদের রাজনীতিবিদেরা?

জানি, মুখ বাঁকিয়ে বলে দিবেন-
কারও অনুগ্রহ, দান গ্রহণ করেন নাই তিনি!
এমন মহান ব্যক্তিত্বের এমন আচরণ স্বাভাবিক ।
তিনি আমাদের "বিবেক কোমা" ভাঙাতে চেয়েছেন! 
অনুগ্রহ কেন! তিনি অনেক কিছু পাবার যোগ্য ছিলেন ।
প্রশ্নঃ তার কতোটুকু দিলেন?

আজ শোক!
যারা তাকে সম্মান যথাযথ দেখাননি, শ্রদ্ধা জানায়নি, খোঁজ রাখেনি-
তারাও শোকাহত!!!

আমার ক্ষোভ হয়,
দুঃখ হয়,
গুনীজনদের জীবদ্দশায় সম্মানিত না করে -
আর কতো করবো আমরা অভিনয়!

রমা চৌধুরীর প্রয়াণে আমার বানীঃ
"বিবেক জাগ্রত হোক! - এই ভাবনায়, 
গুনীজন সম্মানিত হোক জীবদ্দশায় ।"
--------------------------------------------------------
উৎসর্গঃ শ্রদ্ধেয় রমা চৌধুরী ।

সোমবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮

জীবন নদী

উথাল পাথাল জীবন নদী-
ছোট-বড় জলের ঢেউ!
তোরে ডাকি দয়াল মাঝি-
নাই যে আমার কেউ ।।

ভাঙ্গা দেহ তরী লইয়া
একলা একলা চরি,
তুই বাঁচাইলে বাঁচি, মওলা-
তুই মারলে মরি ।
প্রাণ বায়ুর কতো আয়ু
জানে না যে কেউ ।।

যেদিন তরী ডুবে যাবে
অতল দরিয়ায়,
সেদিন দয়াল মায়া করিস
শেষের জামানায় ।
তোর দয়া মায়া ছাড়া-
শান্তি পায় না কেউ ।।

বিবাহিতাদের আড্ডালোচনা

আমি নারীদের আড্ডায় পুরুষদের গল্প শুনেছি!


বিবাহিতাদের আড্ডালোচনায় জমে ওঠে- 
কার সাহেবের টাকা-পয়সা-সম্পদ-সম্পত্তি আছে কতোটা অঢেল,
সে নারীই হয়ে ওঠেন ঐ আড্ডার মধ্যমনি মডেল!


আবার শুনেছি- পুরুষের রূপকীর্তন: কার সাহেব বলিউডের "খান" নায়কদের হার মানায়,
অন্য রমনী গাল হা করে শোনে, যার সাহেব এমন সে নারী সৌভাগ্যবতী উপাধি পায়!


এমন আড্ডায় আশেপাশে থেকে শুরু করেন অন্য কেউ- তার সাহেব ভীষণ ক্ষমতাবান: অমুক-তমুক থাকে পিছনের কাতারে তার ইকতেদায়!
রমনীকুল সমীহ শুরু সে আপাকেও চাল-চলন-কথা-বার্তায়!


পুরুষদের গুনের গল্প তেমন শুনিনি আমি- বিবাহিতাদের আড্ডালোচনায় !
তাই, নারীর জীবনে যেমন পুরুষ "বর্তমান" তেমন রয়ে যায়!!
পরিবর্তিত হয়না আড্ডার বিষয়, পরিবর্তিত হয়না পুরুষ হৃদয় । সমাজ চিন্তাবিদ ডোবে হতাশার কবিতায়!!!

মোড়ল

ছলে বলে কলে কৌশলে-

এক খন্ড স্বপ্নকে তিন খন্ড করা,
এক খন্ড চেতনাকে তিন খন্ড করা,
এক খন্ড জাতিকে তিন খন্ড করা,
এক খন্ড ভুমিকে তিন খন্ড করা,
ইত্যাদি, ইত্যাদি । অর্থাৎ "এক"-কে করা তিন !
এসবইতো মোড়লের কাজ প্রতিদিন ।

আমেরিকা, রাশিয়া, চীন !

সোনামনি নাঁচে, গায়...

আলতা রাঙা নুপুর পায়
সোনামনি নাঁচে, গায়,
মিস্টি মুচকি হেসে হেসে
কাজল কালো চোখ বাঁকায় ।।

আকাশ থেকে নামল বুঝি
ডানা কাটা পরী,
রঙিন প্রজাপতির মত
করছে ওড়াউড়ি ।
ফুলের মালা নিজে গেথে
পড়েছে তার গলায় ।।

ফুল বনে পাখির সনে
হয়েছে তার মিতালী,
সুরে সুরে খুশি মনে
শোনায় তারা গীতালী ।
আনন্দে তাই সোনামনি
মেতে ওঠে বন্ধুতায় ।।
--------------------------------------
উৎসর্গঃ আমার দুই মামনিকে ।

তোরে না দেখলে মাগো

তোরে না দেখলে মাগো
- সাকিব জামাল

তোরে না দেখলে মাগো 
দুঃখে পরান যায়, 
দিন যায় চলে, রাত যায় চলে 
কষ্টে বেদনায়।। 

জীবন যুদ্ধে নেমে আজ 
থাকি দূর পরবাসে, 
মিছে সুখ খুঁজে বেড়াই 
সে কি আর আসে? 
তোরে ছাড়া শান্তি নাই 
মাগো, এই দুনিয়ায়।। 

আঁচল ধরে পিছে পিছে 
ছেলেবেলার মতন, 
তোর কোলে মা লুকাতে চায় 
অসহায় এই মন! 
মুখোশ পড়ে ভালো থাকার 
বিদেশ ভীষণ দায়।। 

উৎসর্গঃ প্রবাসী ভাই-বোনদের।

আত্মত্যাগের কোরবানি

জিলহজ্ব মাসের দশ তারিখে এলো কোরবানি । 
আত্মত্যাগের শিক্ষা দিলেন আমার রব্বানি ।
আত্মশুদ্ধির শিক্ষা দিলেন আমার রব্বানি ।
জিলহজ্ব মাসের দশ তারিখে এলো কোরবানি ।

হুকুম দিলেন তিনি, প্রিয়ধন করো কোরবান
ইব্রাহীম ভাবে প্রিয় সে তো আপনও সন্তান,
রবের আদেশে ইসমাইলও হয়ে যায় রাজি
তাকওয়া দেখে খুশি হন প্রভু রব্বানি । 
হুকুম হলো মানুষ নয়, পশু দাও কোরবানি!
এ যে আমার মহান রবের মহা মেহেরবানি ।।

সচ্ছল হলে করো তুমি এ হুকুম পালন 
খোদার হক আদায় করো তুমি ঠিক মতন,
গরীবের দিকে তাকাও হে ধনী মুসলমান
মোহ ত্যাগ বাড়াবে তোমার তাকওয়া-ঈমান ।
পশুর সাথে মনের পশু যদি করো কোরবানি,
এনে দেবে সমাজে- সবার সুখের দিনখানি ।।

তুমি আমার বেদনাময়ী গো

নাও ছেড়ে দিয়েছি!
জোয়ার-ভাটায় যেদিক টানে টানুক- ভয় নেই,
বৈঠা শক্ত ধরেছি ।
সব জীবনই একলা একলা গো !
তুমি আমার বেদনাময়ী গো !

চলে যাও, মেনে নিয়েছি!
বিরহের ঢেউ বোঝেনা কেউ - বোঝে সেই,
যেজন প্রেমে ডুবেছি ।
সব জীবনই একলা একলা গো !
তুমি আমার বেদনাময়ী গো !

একলা মাঝি হয়েছি,
সঙ্গী ছিলো আমার নায়ে- স্মৃতিও নেই,
সবটুকুই ভুলে গিয়েছি !
সব জীবনই একলা একলা গো !
তুমি আমার বেদনাময়ী গো !

শ্রাবণের জলধারা চোখের পাতায়

শ্রাবণের জলধারা ঝরে চোখের পাতায়,
হারানো সে দিন মন ফিরে পেতে চায় ।।


যেদিন তুমি-আমি ছিলাম যুগল আপন,
ভালোবাসায় মেতেছিলো দুজনেরই মন ।
আকাশে মেঘ ছিলো, ভয় ছিলো না,
বৃষ্টি এলে ছিলো- ভেজার বাহানা ।
কী দারুন সুখ ছিলো- সে শ্রাবণ বেলায়,
হারিয়ে গেছে সে শ্রাবণ- কোন অজানায় ।।


এখনো শ্রাবণ দিনে- ঐ বৃষ্টি এলে,
ভালোবেসে দাও কি তুমি- ডানা মেলে ?
ভেজা দেহে খালি পায়ে - ঐ নুপুর ধ্বনি,
কে শোনে বসে ঘাসে, কার চোখের মণি ?
জানিনা এসব আমি - রয়েছো কোথায়,
এমন শ্রাবণ কেন এলো আমার আঙিনায় ।।

ভালোবাসার ক্রম পরিনতি

ছিলো বিন্দুসম ।
অত:পর চোখে চোখ : মহা বিস্ফোরণ ।
প্রেমের সময়ের শুরু, সম্প্রসারিত হতে থাকে তোমার-আমার ভালোবাসার মহাবিশ্ব ।
ভালোবাসার নানা পরতে পরতে সৃষ্টি হতে থাকে-
রোমাঞ্চকর পৃথিবী, কামনার গ্রহপুঞ্জ, সীমানা বিহীন স্বপ্নের ছায়াপথ ।
ঠোট কামড়ে সৃষ্টি হয় উত্তেজক অবিনস্ত্য অবস্থা ।
কিছুদিন চলতে থাকে সময় স্থিতিশীল ।
তোমার-আমার ভালোবাসার মহাবিশ্ব স্থিতিশীল ।
হঠাৎ বিরহের বিচ্ছুরণ!
সংকোচন শুরু: তোমার-আমার প্রেম গ্রাস করে নেয় বিচ্ছিন্নতায়- কৃষ্ণগহ্বর ।
আবার বিন্দুসম ।

যে এখন আর আমার নাই

যে এখন আর আমার নাই
তারে খুঁজে লাভ কি?
মন বোঝাতে বসেছিলাম
মন বলে, দোষ কি ?
তারে খোঁজায় দোষ কি!

আমি বলি, পাগল মন
শোন কান খুলে শোন,
যে পাখি উড়ে যায়-
ফেরে না সে খাঁচায়,
এ আর বলো নতুন কি!

মন বলে, নাই উপায়-
প্রথম প্রেম ভোলা দায়!
সে পেরেছে, সে গিয়েছে-
ভুল বুঝে নীড় ছেড়েছে 
আমি ভুলতে পারি কি ?

শোকের কালো পতাকা

কালো পতাকা উড়ছে, দেখো কালো পতাকা উড়ছে।
শোকের মাসের দুঃখ নিয়ে উড়ছে, সে উড়ছে।
পিতা হারানোর বেদনা নিয়ে উড়ছে, সে উড়ছে।
কালো পতাকা উড়ছে, দেখো কালো পতাকা উড়ছে ।।

পচাত্তরে এ মাসে আঁধার নেমে ছিলো,
পাকিস্তানের চরেরা ঘাপটি মেরে ছিলো,
বত্রিশ নম্বর রক্তে রাঙালো যেদিন তারা,
বাঙালি জাতি হলো সেদিন স্বজন হারা,
সে কষ্ট বুকে নিয়ে- আজও বাঙালি ঘুরছে ।।
কালো পতাকা উড়ছে, দেখো কালো পতাকা উড়ছে ।।

রক্তে রক্তে ভিজে গেলো
বাংলা মায়ের বুক,
কলংকের বোঝা মাথায় নিয়ে
জাতি পায় না সুখ,
"কাঁদো বাঙালি কাঁদো" বলে মন- 
বিলাপ বানী আজও ছুড়ছে ।।
কালো পতাকা উড়ছে, দেখো কালো পতাকা উড়ছে ।।