সোমবার, ২৯ অক্টোবর, ২০১৮

সড়ক পথে হোক শৃংখলার জয়

আমার মূখেও পেট্রোল মবিলের কালি মেখে দে!
নিয়ে নে কিছুটা বিকৃত সুখ!!
তোরা জাতির মুখ কতো করলি ফর্সা-
এবার সবাই চোখ মেলে দেখুক!!!
বাহাদুরীর রূপ এই যদি হয়-
তবে বেশ, তবে বেশ!
গাড়ি চালা ইচ্ছে খুশি বেপরোয়া-
কিসের মানুষ, কিসের দেশ!!
------
মনেরেখো, শ্রমিকেরাও কিন্তু যাত্রী বটে!
তবে, নিরাপদ সড়কে ক্ষতি কি?
জানোতো, যেদিন দুঃখ নামে আপন ঘটে-
সেদিন বোঝা যায় তার জ্বালা কি!!
যাত্রী-শ্রমিক দ্বন্ধে সবার ক্ষতি-
অবুঝের দল আমরা বুঝবো কবে?
চলার পথে শান্তি না থাকলে-
তুমি-আমি কে বলো সুখে রবে?
------
অযৌক্তিক দাবীনামা কারও পক্ষেই উচিৎ নয়!
এসো, সুন্দরের পথে, সড়ক পথে হোক শৃংখলার জয় ।

জানেন দাদা, বড়লোকে কবিতাটা ভালোবাসে না!

জানেন দাদা, বড়লোকে কবিতাটা ভালোবাসে না !
অডিও ভিডিও লাইভ চ্যাটিং,
লং ড্রাইভ আউট গোয়িং,
রেস্টুরেন্টে ট্রিট, মিটিং
বইপড়ার সময়? ওটা তাদের মেলে না !
জানেন দাদা, বড়লোকে কবিতাটা ভালোবাসে না !

স‌্যোশাল মিডিয়া সেলফি ঢঙ
মনে বড় পশ্চিমা রঙ
আপলোডিং আর ডাউনলোডিং,
সাহিত্য সংস্কৃতিতে সময় বোরিং!
কবিতা? ওটা এ যুগে চলে না !
জানেন দাদা, বড়লোকে কবিতাটা ভালোবাসে না !

প্লেবয়, ভোগ, ফোর্বস এসবই বেশ
কতো মর্ডান, আপডেটেড !
সাহিত্য কাগজে আছে কি রেশ ?
ওসব বড় ব্যাক ডেটেড !
সাহিত্যপাতা? ওটাতে মন মাতে না !
জানেন দাদা, বড়লোকে কবিতাটা ভালোবাসে না !

তবে আমি যা মেনে চলি-
প্রশস্ত হৃদয়কে বড়লোক বলি ।
সংস্কৃতিমনা যারা- তারাই ভালো,
জগতে আনে- তারাই আলো ।
জানেন দাদা, এসব লোকে- 
কবিতা ভালো নাবেসে পারে না !

উত্তর হাওয়া

উত্তর হাওয়া

- সাকিব জামাল

মন বনে বইছে উত্তর হাওয়া-
ভালোবাসার পাতাযুগল যায় যায় ঝরে!
উষ্ণ সুখের সময় বদলে যাওয়া-
বিরহে দিন কাটে শীতলভরা ঘরে!


সবুজ সবুজ পাতা হলুদ হলুদ হয়
প্রেমের যতন চায় ফিরে ফিরে!
ভুলে ভুলে স্বজন দূরে দূরে রয়-
ফোটে না ফুল পাতাহীন নীড়ে।


তবু বেঁচে রয় শুকনো কাঠের গাছ-
বাতাসের দিক যদি আবার ঘোরে!
হয়তো হবে সেদিন অনুকুল বাস
বাসনায় মন অপেক্ষা যাতনায় পোড়ে!


আমি ফানুস ওড়াবো

এই লক্ষী জোছনায়-
তোমার হৃদয়াকাশ
আমাকে কিগো চিরতরে
দান করা যায়?
আমি ফানুস ওড়াবো,
একটু ফানুস ওড়াবো ভালোবাসায় ।।

মন মন্দিরে আজ ইচ্ছেরা-
নিরলস শুধুই উড়ছে, 
দেবী ভেবে ভেবে তোমায়-
পুজারী মত চারপাশে ঘুরছে, 
ঢোল বাজিয়ে কিগো
রটিয়ে তবে দেয়া যায়?
আমি ফানুস ওড়াবো,
একটু ফানুস ওড়াবো ভালোবাসায় ।।

কথা দিলাম আমার ফানুস,
দেখে অবাক হবে সকল মানুষ!
প্রেমের আলো করবে দান
যতদিন এ জীবন রবে বহমান!
তবে কিগো জোছনাবতী
তাকাবে আমার পানে মনের মায়ায়?
আমি ফানুস ওড়াবো,
একটু ফানুস ওড়াবো ভালোবাসায় ।।

কী আছে তোর দাম?

সাধের যৌবন, সোনার দেহ-
কী আছে তোর দাম!
দম ফুরাইলে ভুইলা যাইব
মানুষ তোরই নাম ।।
কী আছে তোর দাম?


গাছে থাকা রঙিন ফুল 
কতো কদর পায়,
ঝরা ফুল পরে থাকে
খবর থাকে না হায় !
গান করা প্রেমের ভোমর
একদিন দেয় বিরাম ।।
কী আছে তোর দাম?


সুখ বসন্তে কত পাখি 
গায় সুরেরই গান !
শীত আইলে হইয়া যায়
সব নিমিষে অবসান ।
রঙ্গের মেলা ভঙ্গ হইলে
কারবারি কয় থাম ।।
কী আছে তোর দাম?

মানব জনম ক্ষণকালের
গোধুলি রাঙের খেলা,
ডুইবা গেলে সূর্য খানা 
সারা হইব বেলা ।
সাকিব জামাল কয়, শোন
কর সুপথে সৎ কাম ।।
কী আছে তোর দাম?

কী আছে তোর দাম | সাকিব জামাল

মঙ্গলবার, ২৩ অক্টোবর, ২০১৮

বাংলাদেশ ফুল

"বাংলাদেশ ফুল" সর্বক্ষেত্রে বিশ্বজুড়ে ফুটুক,
ছুটে চলুক জয়রথ বাঙালির, অবিরাম চলুক ।

একাত্তরে যে ফুল বাঁচিয়েছেন যুদ্ধ করে আমার পূর্বসুরী-
সে ফুলের সৌরভ সর্বত্র ছড়িয়ে দেবো আমরা উত্তরসূরী ।

নতুন প্রজন্মের এই প্রধান কাজ দেশ মাতার তরে -
শুধু দেশেই নয়, স্বপ্ন বড়: সুখ এনে দেবো বিশ্বের সবার ঘরে ।

সোনার বাংলার পতাকা উড়বে স্বগৌরবে বিশ্বের মাঝ-
"বাংলাদেশ ফুল" ফুটবে পুন:পুন - আসবে জয়ের তাজ ।

নিখাঁদ গুরু চাই

জীবন নদে ঢেউ উঠেছে
তুফানে ডুবে যাই ।
সাতার জানা, প্রেমের মানুষ
নিখাদ গুরু চাই ।
একটা নিখাঁদ গুরু চাই ।
আমি একটা নিখাঁদ গুরু চাই ।।

মোহনার মাঝে পথ হারাইয়া
হাবু ডুবু খাই 
মাঝি হইয়া গুরু এসে
নাওয়ে দাও ঠাই ।
সত্য পথে চলতে ফিরতে
নিখাঁদ গুরু চাই ।
একটা নিখাঁদ গুরু চাই ।
আমি একটা নিখাঁদ গুরু চাই ।।

একা একা সাধন মর্ম
বোঝার শক্তি নাই
বৈঠার টানে নাও ধাবরাইয়া
উল্টে পরে যাই ।
নাও বাওয়ার নিয়ম শিখতে 
নিখাঁদ গুরু চাই ।
একটা নিখাঁদ গুরু চাই ।
আমি একটা নিখাঁদ গুরু চাই ।।

আমি বারোমাস তোমায় ভালোবাসি, বাচ্চু ভাই!

হেমন্তের রৌদ্রোজ্জ্বল স্নিগ্ধ সকাল –
মনে হলো আঁধারে ঢেকে গেলো একটি নক্ষত্র পতনের খবরে ।
মনে পড়লো সবুজ ঘাসের ডগায় মুক্তোর মত রূপালী শিশিরও উবে যায় - সময় ফুরিয়ে গেলে ।
এ নিয়ম কেউ ভাঙতে পারেনা ঠিকই-
তবে দু:খবোধ জমা থাকে স্থায়ী রূপে ।
কান্নায় শুরু যে জীবনের । তা অন্যের কান্নায় শেষ করতে কজনে পারে ?
সফলতা এখানে তোমার।
তোমার প্রয়াণে- ঠিকই মনের আকাশে মেঘ জমে গেলো,
হৃদয়ে কান্নার জলধারা বহতা খরস্রোতা নদী ।
হয়তো যতদিন বেঁচে থাকবো - ততোদিন অনুভব করবো তোমার রূপালী গিটারের সুর । 
ভারাট কন্ঠে প্রেম -বিরহ - মানবিক এবং দেশের গান শুনবো । শুধু তুমি থাকবে বহুদূর !
হে ব্যান্ড গুরু, অসম্ভব রকম বেশি ভালো থেকো স্বর্গীয় ভালোবাসার জগতে ।
কথা দিলাম: ঐ নীল আকাশে মিটিমিটি চিরদিন-
আমি তারা গুনবো তোমার নামে!
আমি বারোমাস তোমায় ভালোবাসি, বাচ্চু ভাই !
--------------------------
উৎসর্গ : সদ্য প্রয়াত ব্যান্ডশিল্পী আইয়ুব বাচ্চুকে ।

অষ্টমীর বালিকা

চলছে পুজো... শুভ ক্ষণ, মহা অষ্টমীর দিন ।
বালিকা, মনে রেখো- তোমার কপালে সিঁদুর পড়াবো একদিন ।
কতোটা বসন্ত বুকে চাঁপা রেখে পেরিয়েছি কতো শরৎ একা-
অবশেষে পেমের দেবী সাধনাতৃপ্ত । হলো তোমার-আমার দেখা ।
শুভ ক্ষণ, মহা অষ্টমীর দিন ।
তোমাকেও দেবীর মত লেগেছে! চোখে মনে অন্তর কোনে কোনে-
মন্দির সাঁজিয়ে সপ্ত অর্ঘসমেত ঠায় দাড়িয়ে আছি লুকায়িত সপনে-  
তোমার কপালে সিঁদুর পড়াবো একদিন ।
অষ্টমীর বালিকা থেকে আমার প্রেমের রাধিকা হবে সেদিন ।।

নাকফুল

তোর নাকফুলের প্রতিফলিত আলোক,
হৃদয়ের গহীনে পৌঁছে দেয় প্রেমের সলক ।
বিরহ অন্ধকারাচ্ছন্ন মনঃ
উদ্দীপ্ত হয়- পূর্ণ জোছনাসমেত ।
পাঁকা ধানের রঙরূপ মুখশ্রী তোর-
দাগ কেটে দেয় যেন প্রশান্ত মহাসাগর!
বারবার আলোকছটায়-
প্রশান্ত নিয়ম ভাঙ্গে,
উত্তাল হয়,
একাকি নাবিক এই পথে চলতে পারে না!
চোখে ভর করে ক্লান্ত কৃষকের মত-
সোনালী ধান দ্রুত ঘরে তোলার বাসনা ।
ঐ একটি নাকফুলই যথেষ্টঃ
জীবন সুফলা করতে যে আলোর প্রয়োজন-
সে আলোর পূর্ণতারূপ!
নানা ঢঙে সই,
হোক তোর নাকফুলের আলো বিচ্ছুরণ ।

নীড় হারা এক পাখি

নীড় হারা এক পাখি
তীর হারা এক নায় ।
ঢেউয়ে জলে হেলে দোলে
ফিরবে কখন তীরের কোলে-
ও ও ও ও ভোলা মন
সময় বয়ে যায় ।।

কতো আশা পোষা মনে
তরী ভিরবে সুখের ক্ষনে ।
চার পাশে অথৈ জল
সুখের নামে দুখের ছল-
ও ও ও ও ভোলা মন
তীরে পৌছানো দায় ।।

একলা আসা একলা গমন
এরই নাম মানব জনম ।
মাঝখানে সব রঙ ঢঙ
কাজ কারবারি নানা সঙ-
ও ও ও ও ভোলা মন 
দুই দিনের দুনিয়ায় ।।

আফসোস


ফুলের পাপড়ি 'পরে শিশির বিন্দু বলে,
সময় যায় চলে,
প্রজাপতি কেন ডানা মেলে না-
রাত্রি বেলা শেষ ভাগে,
সূর্য ময়ূখ এসে তারে শোষনের আগে !
যথাযথ দাতা গ্রহীতায় জমতো সিক্ত সিক্ত ভালোবাসা ।
যার জন্য জমা প্রেম সে খোঁজ পায়না !
আফসোস বেশ-
রাত্রি শেষ ।
শোষক রশ্মি তার মত প্রেমে রামধনু সাজায় ।
ফুল বুকের নির্বাক শিশির বিন্দুর প্রাণ যায় যায় ।
বাস্তবতার ফেরে পরে-
লুকানো কামনা ফের লুকায় !
নি:শেষ হয় ।
যাকে চেয়েছিলো তাকে পায় নি!
যাকে পেয়েছে তাকে চায় নি !
তবুও জীবন চলে...
থেকে যায়:  জামদানি ঢাকা অতীত ইতিহাস!

রবিবার, ১৪ অক্টোবর, ২০১৮

ওবেদ আলীর পরিবারের পক্ষে আবেদন পত্র

করুণতম একটি ভুলে নি:স্ব ওবেদ আলীর পরিবার,
লেখালেখি করি বলে অনুভব করছি দায়বদ্ধতার ।
"মরিয়া প্রমাণ করিল - ওবেদ অালী ছিলো নির্দোষ ঢের"
মনে পড়ে রবী ঠাকুরের কাদম্বরী চরিত্র এত বছর পর ফের!
দু মুঠো ভাত নাই তাদের - মামলায় হলো সবই শেষ,
মৃত্যুতে ওবেদ আলী চিরমুক্তি পেলেও - পায়নি মুক্তি তার পরিবার । ভরা দু:খ ক্লেশ ।
এরপরেও ছেলে মেয়েরা শিক্ষিত হয়েছে বহু কষ্ট করে-
মানবিক বিবেচনায় অন্তত একটি সরকারি চাকরি চাই তাদের তরে ।
বেঁচে থাকার পথ হোক তাদের কিছুটা নিশ্চিত,
অনাকাঙ্ক্ষিত ভুলের মাসুল রাষ্ট্র দিক এভাবে কিঞ্চিত ।
ভুলের ছিলো নানা কারন থাক সেসব কথা- উদ্যোগ চাই এ শোক ভোলার, 
না ডোবে যেন তারা আরও হতাশায়-
"ওবেদ আলীর পরিবারের পক্ষে আবেদন পত্র" -এতটুকুই আমার,
তাদের একটু সুখের প্রত্যাশায় ।

বৃহস্পতিবার, ১১ অক্টোবর, ২০১৮

হাইকুগুচ্ছ

১.
দীঘল চুলে 
চৌম্বক আকর্ষণ 
প্রেমিক কূলে ।

২.
মনটা বলে 
বিরহ ধুয়ে ফেলি 
বরষা জলে ।

৩.
শীতের সনে 
প্রেমের গল্প জমে 
চাদরে মনে ।

৪.
তুমিই সুখ 
কুয়াশা তাড়ানো 
সূর্য ময়ূখ ।

৫.
নিরাশ প্রাণে 
মাছরাঙার ধ্যানে 
দৃঢ়তা আনে ।

আজ কিছু হতে চলেছে

সাঁঝেই দেখি আজ তার কেমন কেমন সাজ!
মরুমন বলে রাতে বৃষ্টি হতে পারে আজ!!
উষ্ণতা শীতলীকরনে সময় লাগে-
হয়তো গড়িয়ে তা গড়াতে পারে মধ্যরাতের ভাগে!
তবুও, হয় না জলের খেলা কতোদিন, কতোক্ষন,
ভেজে না যুগল পাখির নগ্ন পদ্মাসন!
সবুজ সবুজ অবুঝ অবুঝ জমিনের প্রাণে-
অপেক্ষা তার নুপুরধ্বনি শোনার ধ্যানে!
মন বলে সে আসতে পারে- ভেলা করে পবনে
মধ্যরাতে- তৃষ্ণার্ত প্রেমিকের কুঞ্জবনে!

যার কথা বলছিলাম, সে-
"বৃষ্টি" । বহুদিন সে আসেনা । 
মন বলেছে-
বোধহয়, আজ কিছু হতে চলেছে!
হিম হিম পরশ দিয়েছে দখিনা বাতাস,
দেখেছি, বেলা শেষে মেঘাচ্ছন্ন শরতের আকাশ!

তুমিময় রাতের সময়

হঠাৎ গভীর রাতে এখন যে কবিতা লিখি-
তুমিময় রাতের সময় !

স্মৃতিরা অজান্তে আঘাত হানে নিউরনে,
খুঁজে ফেরে অতীতসময় সুখবিলাসী মনে ।
স্মৃতির পাতা-
    উল্টে দেখি, উল্টে দেখি, উল্টে দেখি-
        তুমি, তুমি, তুমি ।
গভীর রাতে এখন-
প্রায়ই এমন হয়ঃ
তুমিময় রাতের সময় !

কখনো স্বরবৃত্তে দ্রুত লয়ে তোমাকে সাজাই,
পরক্ষণে মাত্রাবৃত্তে সুর তালে তোমাকে সাজাই,
আবার কখনো অক্ষরবৃত্তে মুক্তমনে তোমাকে সাজাই,
এভাবে তোমাকে কেন্দ্রে রেখে বৃত্তবন্দি হয়ে সময় গড়াই ।
হোক ছন্দে ছন্দে-
                 অথবা ছন্দহীন শব্দ চয়নে,
মনের সব স্বপ্নরা কথা বলে-
                 চেতনে, অবচেতনে !
গভীর রাতে এখন-
প্রায়ই এমন হয়ঃ
তুমিময় রাতের সময় !

মিথ্যে বলি না- দিনে ব্যস্ত রাখে আমায় ক্ষুধারা,
আর ব্যস্ততা সাধারণত আমি কেন্দ্রিকই হয় ।
তবে রাত্রিবেলার সব চিত্রায়নে তোমাকেই প্রতিমা গড়ি,
রাতজাগা পাখি হয়ে তোমার দেহ-মনের কবিতা পড়ি !
গভীর রাতে এখন-
প্রায়ই এমন হয়ঃ
তুমিময় রাতের সময় !

বেশি পোড়াতে নেই মন

মনমাটি উর্ব্বর জমিন- পলিমাখা বেশ,
যেমন খুশি তেমন ফসল জন্মাতে পারো- সবুজ দেশ ।
পরীক্ষায় পরীক্ষায় পুড়িয়ে পুড়িয়ে-
খাঁটি করতে করতে ইটে পরিনত হয় মনমাটি ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে !
ফলাফলঃ হিতে বিপরীত- বাড়ে আস্থাহীনতা ।
ভালোবাসাবৃক্ষের শিকড় ইটে গ্রোথিত হয় না!

বেশি পোড়াতে নেই মন ।
মনমাটি রূপ নিলে পোড়ামনে-
সম্পর্ক ভাঙন । একলা জীবন !

কবিতা

(আমার মতে)

কবিতা হলো :
                 জনকন্ঠ ।
            কালের কন্ঠ ।
সারা পৃথিবীকে আলোকিত করার প্রয়াসের-
           প্রথম আলো ।
অধিকারহারাদের-
    প্রতিদিনের সংবাদ ।
ইতিহাসের আলোকে-
                সমকাল । 
      এবং অতীতচিত্রের-
          যায় যায় দিন।
মানবাধিকার বাস্তবায়নের লক্ষ‌্যে, আম জনতার-
             ইনকিলাব ।
মানবসভ্যতার দীর্ঘ কথামালা ভরা পাতার যুগ-
               যুগান্তর ।
মানবতার কল্যাণ সাধনে চিরদিনের-
           মানবজমিন ।

ভালোবাসায় প্রাক্তন বলে কিছু নাই

আবার তোমায় কবিতা শোনাতে চাই ।
আমি জানি
           আমি মানি-
ভালোবাসায় প্রাক্তন বলে কিছু নাই ।।

কবিতার খাতায় বিরহের পাতায়-
লেগেছিলো যত দাগ
           মুছে যাক, সব মুছে যাক ।
নতুন করে আবার সেথায় আমি-
অবিরত প্রেমের কবিতা লিখতে চাই ।।
আমি জানি
           আমি মানি-
ভালোবাসায় প্রাক্তন বলে কিছু নাই ।।

ছন্দের পতন হয়েছিলো যখন -
সে সময়টুকু ভুলে যাও,
                    শতভাগ ভুলে যাও ।
এসো ফিরে, আবারও আমার নীড়ে-
ছন্দময় যুগল জীবন গড়তে চাই ।। 
আমি জানি
           আমি মানি-
ভালোবাসায় প্রাক্তন বলে কিছু নাই ।।

মনের ময়লা রঙ কয়লা

মনের ময়লা রঙ কয়লা
যায়না ধুইলে সাবানে,
কালো রঙ সাদা হয়
আত্মশুদ্ধির সাধনে ।।

কেমনে করবি সেই সাধন
ভেবে দেখ পাগল মন,
সময় মেপে চালাও তরী
পাবি না আর এই ক্ষণ ।
উড়াও পাল ভেবে ভেবে-
সত্যের মন পবনে ।।

ভুল রাস্তায় যে যায়
ফেরা বড় কঠিন,
অন্তর চক্ষু থাকলে খোলা
পাবি মন সুদিন ।
সচল করে বিবেক তোর
বসাও কাজীর আসনে ।।

তুমিই আমার বিষাদসিন্ধু!

তুমিই আমার বিষাদসিন্ধু!

- সাকিব জামাল

মরুভুমি হৃদয়ে- সাধনে, যতনে, মরুদ্যান গড়ার প্রয়াসে-
         বসন্তের পর বসন্ত ধরে-
বসেছিলাম একটি বৃক্ষ রোপন করে- ভালোবাসার!
ফুল ফুটবে, অলি উড়বে- গুনগুন গান শোনার প্রত্যয়ে-
           অপেক্ষার পর অপেক্ষায়-
বসেছিলাম বৃক্ষ তলে বাঁশির সুরে- তোমার আসার ।
নিশানে লেখাছিলো- বিজয়, হৃদয় দিয়ে হৃদয় জয়ের আশায়-
         বসে থকার পর বসেছিলাম-
তুমি এলেনা, ভালোবাসা এলোনা- এলো 'খুনিসময়'  সীমার!
বিষাদময় বিরহের কেতন ওড়ে, বিরহের উপখ্যান সৃষ্টির লক্ষ্যে-
      বৃক্ষের শিকড়ে নির্মম ছুরি চালায়-
বিষাদসিন্ধু আমার, রচিত হলো আজ- তোমার প্রতারণায়!

তুমিই আমার বিষাদসিন্ধু অনন্তকালের...

তোমার মনেই হলো আমার বনবাস

তোমার মনেই হলো আমার বনবাস,
ভয়ে থাকি সারাক্ষণ-
           বিরহ বাঘে খায় কখন,
ভালোবাসার ব্যর্থ চাষে- ফসল দীর্ঘশ্বাস ।।

তোমার মনেই হলো আমার বনবাস,
একলা দিন, একলা রাত-
         একাকীত্বের বিষ উৎপাত,
সাপিনী ছোবল মেরে- করে ফোঁসফাঁস ।।

তোমার মনেই হলো আমার বনবাস,
সীমাহীন দু:খের সনে, 
                 বাঁধা পড়েছি তোমার মনে,
এ জনমে হলোনা আর- ফুলবনে বাস ।।

তোমার মনেই হলো আমার বনবাস  ।।
তোমার মনেই হলো আমার বনবাস  ।।
তোমার মনেই হলো আমার বনবাস  ।।